মনোবিজ্ঞান Archives - Proshikkhon

Posts Tagged "মনোবিজ্ঞান"

22Aug2019

বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিববর্তনে হরমোনের ভূমিকা

বয়ঃসন্ধির কারণসমূহ বর্তমান শতাব্দী শুরু আগেও সঠিকভাবে জানা যায় নি। অন্তঃক্ষরা গ্রহিন্থ সম্বন্ধে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা শুর হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কারণগুলো আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। সময় অতিক্রমের সাথে সাথে গ্রন্থি রস-নিঃসরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পরিণতি স্বরূপ যৌন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন এবং কর্মক্ষমতার উন্নতি সাধন হয়।

বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বয়ঃসন্দি হচ্ছে মেয়েদের বেলায় ডিম্বকোষের তথা জপায়ুসহ অন্যান্য অঙ্গসমূহের বৃদ্ধি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থি ও শুক্রবাহী কোসমসূহের বৃদ্ধি। নিম্নে বয়ঃসন্ধির কারণসমূহ বর্ণনা করা হলো:

) পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা:

    পিটিুইটারি গ্রন্থি থেকে অনেকগুলো হরমোন নিঃসৃত হয় এর মধ্যে দুই ধরনের রস হলো শরীর বর্ধক হরমোন এবং গোনডোট্রপিক হরমোন। দেহের উচ্চতা ও আকৃতি শরীর বর্ধক হরমোনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয় আর যৌন গ্রন্থি কর্মকান্ডের উপর প্রভাব রয়েছে গোনাডোট্রপিক হরমোনের। বয়ঃসন্ধির ঠিক পূর্বে গোনাডোট্রপিক হরমোনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌন-গ্রন্থির তৎপরতা বেড়ে যায় বলে যৌন পরিবর্তন শুর হয়। ফলিকল উদ্দীপক হরমোন স্ত্রী ডিম্বাশয়ের ফলিকল গঠন এবং পুরষ জনন কোষের পূর্ণতা লাভে সহায়তা করে।

    পিটুইটারি গ্রন্থি যেসব উদ্দীপক হরমোন নিঃসৃত করে যেমন, এড্রিনোকন্টিকোট্রপিক (ACTH), গোনাডোট্রপিক হরমোন এবং বৃদ্ধির হরমোন-সেগুলো অন্যান্য অধিকাংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং নিজেদের বৃদ্ধির সহায়ক হরমোনসমূহে উদ্দীপনার সঞ্চার করে। এসব হরমোনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন, অ্যাড্রিনল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল, এন্ড্রোজেন এবং যৌন হরমোনসমূহ। যেমন, পুরুষদের টেস্টোস্টেরন এবং মহিলাদের এস্ট্রোজেন উল্লেযোগ্য। হরমোনসমসূহের মিথস্ক্রিয়ার ফলে বয়ঃসন্ধি এবং শারীরবৃত্তীয় বিকাশ অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

) যৌন গ্রন্থির ভূমিকা:

    যৌন গ্রন্থির আকৃতি ও ক্ষমতার পরিবর্তন শুর হওয়ায় প্রাথমিক যৌন বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ লিঙ্গের আকৃতি বড় হয় ও সঠিক কর্মক্ষমতা অর্জন করে। যৌন গ্রন্থির মধ্যে মেয়েদের থাকে ডিম্বানু এবং ছেলেদের শুক্রাণু, কিন্তু জন্মের সময় গ্রন্থি কার্যক্ষম থাকে না। সয়ঃসন্ধিতে কার্যক্ষম হয়।

    বয়ঃসন্ধিাকালে যৌন গ্রন্থি পূর্ণতা লাভ করে এবং যৌন হরমোন বৃদ্ধি পায়। এ সময় এস্ট্রোজেন এন্ড্রোজেনের প্রভাবে বিভিন্ন যৌন বৈশিস্ট্য, যেমন-স্তন স্পষ্ট ও সুডৌল হওেয়া, শারীরিক গড়ন ও কন্ঠস্বরের পরিবর্তন, বগল ও যৌনাঙ্গের আশেপাশে লোম উদগমন, যৌনাঙ্গ বর্ধিত হওয়া, দাড়িগোঁফ গজানো প্রভৃতি বিকাশ লাভ করে। যৌন হরমোনের প্রভাবে বাল্যকালেই মেয়েরা মেয়েসুলভ এবং পুরুষরা পুরুষসুলভ আচরণ করতে সক্রিয় হয়ে উঠে।

) পিটুইটারি গ্রন্থি যৌন গ্রন্থির পরিপক্কতা:

    যৌন গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনকে পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন গোনডোট্রপিক হরমোন উদ্দীপিত করে কিন্তু যৌন গ্রন্থির রস আবার পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন বর্ধক হরমোনোর উপর প্রভাব বিস্তার করে অর্থাৎ বর্ধক হরমোনের পরিমাণ হ্রাস করে। হরমোনের কর্মকান্ডের এরূপ মিথস্ক্রিয়ার ফলে দৈহিক বৃদ্ধি ধীর গতিসম্পন্ন হয়। যতদিন মানুষের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা বজায় থাকে অর্থাৎ মহিলাদের ঋতুস্রাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ দুটি গ্রন্তির পারস্পারিক প্রভাব একইরকম থাকে। মহিলারা ঋতুবন্ধের বয়সে প্রবেশ করলে এবং পুরুষদের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লুপ্ত হলে এরকম পারস্পরিক প্রভাব কমে আসে।

22Aug2019

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি

যে নিঃসারক কলা তথা গ্রন্থির ক্ষরণ সরাসরি রক্ত প্রবাহে নিক্ষিপ্ত হয় তাদের অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি বা Endocrine gland বলে। অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিতে কোন নালী থাকে না বিধায় এদের অনালী বা নালীবিহীন (Ductless) গ্রন্থিও বলা হয়। মানবদেহে মোট ১৪টি অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি আছে।

 যেমন- থাইরয়েড গ্রন্থি (Thyroid gland), পিটুইটারি গ্রন্থি (Pituitary gland), আইলেটস অব ল্যাঙ্গারহান্স (Islets of Langerhans), অ্যাডরিনাল গ্রন্থি (Adrenal gland), হাইপোথ্যালামাস গ্রন্থি(Hypothalamus gland) ইত্যাদি।

অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির বৈশিষ্ট্য

  • হরমোন বা প্রাণরস তৈরি করে।
  • হরমোন পরিবহনের জন্য কোন নালী নেই।
  • ব্যাপন পক্রিয়ার মাধ্যমে হরমোন রক্তের প্রবাহে নির্দিষ্ট অঙ্গে পৌঁছায়।
17Aug2019

প্রি-নেটাল ও নিও-নেটাল পিরিয়ড

প্রিনেটাল (Prenatal Period)

গর্ভধারণের পর থেকে জন্মগ্রহণ পর্য্ন্ত সময়কালকে গর্ভাবস্থা বা Prenatal Period বলা হয়। অর্থাৎ গর্ভধারণের মূহুর্ত থেকে এ পর্যায় শুরু হয় এবং ভুমিষ্ঠ হবার সাথে সাথে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। মাতৃগর্ভ অর্থাৎ যখন থেকে মানব সন্তানের ভ্রুণ জন্ম হয় তখন থেকে ৯ মাস বা ২৮০ দিন পর্য্ন্ত এই ধাপ বিস্তৃত। এই সময়কালে বৈশিষ্ট্য হলো:

  • বংশগতসূত্রে সঞ্চারিত গুণাবলী নির্ধারিত হয়ে যায়।
  • বংশগতি গুণাবলির উপর পারিপার্শ্বিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে যা অন্য কোন সময় দেখা যায় না।
  • গর্ভধারণের মূহুর্তেই একটি ভ্রুণ ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারিত হয়ে যায়।
  • জীবনের অন্যান্য বয়সের চেয়ে দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশ দ্রুত বিকাশ হয়।

নিওনেটাল পিরিয়ড (Neonatal Period)

          শিশু ভূমিষ্ট হবার সাথে সাথে নিওনেটাল পিরিয়ড শুরু হয়। শিশুর জন্মের মূহুর্ত থেকে ২ বছর বা ২৪ মাস পর্য্ন্ত সময়কাল হলো নিওনেটাল পিরিয়ড। এ সময়কালা ২ ভাগে বিভক্ত। এই সময়ে শিশু একটি ভিন্নতর পরিবেশের সাথে সঙ্গতি বিধান করার সময় অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হয়। মাত্র ৪ মাস বয়সেই শিশুর ওজন জন্মের ওজনের দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই সময় শিশুর হাঁড়ের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যা বয়োঃসন্ধিকাল পর্য্ন্ত চলে। যথা:

       ১. আঁতুরকাল বা Infancy ।

২. প্রাক-শৈশবকাল বা Babyhood ।

১. আঁতুরকাল:

শিশু জন্মের সময় থেকে পরবর্তী ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর্য্ন্ত সময়কাল হলো আঁতুরকাল। শিশুর অন্যান্য বিকাশমূলক স্তরের চেয়ে এই সময়কাল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত।

২. প্রাক-শৈশব:

জন্মের ২ মাস হতে ২৪ মাস সময়কাল হলো প্রাক-শৈশব। শিশুর বিকাশমূলক স্তরে এই সময়কালে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। প্রাক-শৈশবে শিশু নতুন পরিবেশের সাথে পরিচিত হয় এবং নতুন নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার উপযুক্ত হয়। শিশুর অভিযোজন ক্ষমতা, ভাষার বিকাশ, হাঁটতে শেখা ইত্যাদিসহ নানা ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ এই প্রাক-শৈশবকালীন ঘটে।

Ad

error: Content is protected !!