প্রি-নেটাল ও নিও-নেটাল পিরিয়ড
প্রি–নেটাল (Prenatal Period)
গর্ভধারণের পর থেকে জন্মগ্রহণ পর্য্ন্ত সময়কালকে গর্ভাবস্থা বা Prenatal Period বলা হয়। অর্থাৎ গর্ভধারণের মূহুর্ত থেকে এ পর্যায় শুরু হয় এবং ভুমিষ্ঠ হবার সাথে সাথে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। মাতৃগর্ভ অর্থাৎ যখন থেকে মানব সন্তানের ভ্রুণ জন্ম হয় তখন থেকে ৯ মাস বা ২৮০ দিন পর্য্ন্ত এই ধাপ বিস্তৃত। এই সময়কালে বৈশিষ্ট্য হলো:
- বংশগতসূত্রে সঞ্চারিত গুণাবলী নির্ধারিত হয়ে যায়।
- বংশগতি গুণাবলির উপর পারিপার্শ্বিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে যা অন্য কোন সময় দেখা যায় না।
- গর্ভধারণের মূহুর্তেই একটি ভ্রুণ ছেলে না মেয়ে হবে তা নির্ধারিত হয়ে যায়।
- জীবনের অন্যান্য বয়সের চেয়ে দেহের বৃদ্ধি ও বিকাশ দ্রুত বিকাশ হয়।
নিওনেটাল পিরিয়ড (Neonatal Period)
শিশু ভূমিষ্ট হবার সাথে সাথে নিওনেটাল পিরিয়ড শুরু হয়। শিশুর জন্মের মূহুর্ত থেকে ২ বছর বা ২৪ মাস পর্য্ন্ত সময়কাল হলো নিওনেটাল পিরিয়ড। এ সময়কালা ২ ভাগে বিভক্ত। এই সময়ে শিশু একটি ভিন্নতর পরিবেশের সাথে সঙ্গতি বিধান করার সময় অনেক অসুবিধার সম্মুখীন হয়। মাত্র ৪ মাস বয়সেই শিশুর ওজন জন্মের ওজনের দ্বিগুণ হয়ে যায়। এই সময় শিশুর হাঁড়ের সংখ্যাও বৃদ্ধি পেতে শুরু করে যা বয়োঃসন্ধিকাল পর্য্ন্ত চলে। যথা:
১. আঁতুরকাল বা Infancy ।
২. প্রাক-শৈশবকাল বা Babyhood ।
১. আঁতুরকাল:
শিশু জন্মের সময় থেকে পরবর্তী ২ সপ্তাহ বা ১৪ দিন পর্য্ন্ত সময়কাল হলো আঁতুরকাল। শিশুর অন্যান্য বিকাশমূলক স্তরের চেয়ে এই সময়কাল সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত।
২. প্রাক-শৈশব:
জন্মের ২ মাস হতে ২৪ মাস সময়কাল হলো প্রাক-শৈশব। শিশুর বিকাশমূলক স্তরে এই সময়কালে দ্রুত শারীরিক বৃদ্ধি ঘটে। প্রাক-শৈশবে শিশু নতুন পরিবেশের সাথে পরিচিত হয় এবং নতুন নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে চলার উপযুক্ত হয়। শিশুর অভিযোজন ক্ষমতা, ভাষার বিকাশ, হাঁটতে শেখা ইত্যাদিসহ নানা ধরণের গুরুত্বপূর্ণ বিকাশ এই প্রাক-শৈশবকালীন ঘটে।
