বিষয়ভিত্তিক - Proshikkhon

বিষয়ভিত্তিক

23Jun2026

শিশুর মনের কষ্ট দূর করে তাকে পড়াশোনায় মনোযোগী এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রতিটি বাবা-মা ও শিক্ষকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। শিশুরা অনেক সময় তাদের মনের কষ্ট বা চাপ মুখে প্রকাশ করতে পারে না, যা তাদের পড়াশোনা এবং আচরণে প্রভাব ফেলে।

কার্যকর শিখনের উপায় আলোচনা করা হলো: পড়াশোনায় মন দেওয়ার প্রথম শর্ত হলো একটি শান্ত ও খুশি মন। তাই আগে তার মনের কষ্ট দূর করতে হবে।

বন্ধুর মতো কথা বলুন: শিশুকে প্রতিদিন কিছুটা সময় দিন যেখানে সে কোনো ভয় ছাড়াই নিজের মনের কথা বলতে পারে। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, মাঝপথে থামিয়ে দেবেন না বা বকা দেবেন না।

ভয় ও ট্রমা চিহ্নিত করুন: শিশু স্কুলে কোনো বুলিং (উত্ত্যক্ত করা), শিক্ষকের অতিরিক্ত শাসন, নাকি পারিবারিক কোনো অশান্তির কারণে কষ্টে আছে—তা বোঝার চেষ্টা করুন। সমস্যা জানতে পারলে তা দূর করার পদক্ষেপ নিন।

নেতিবাচক তুলনা বন্ধ করুন: “অমুকের ছেলে/মেয়ে কত ভালো রেজাল্ট করেছে, তুমি পারো না”—এই ধরনের তুলনা শিশুর মনে তীব্র ক্ষোভ ও কষ্টের জন্ম দেয়। তাকে তার নিজের গতিতে এগোতে দিন।

ভালোবাসা ও আশ্বস্ততা: শিশুকে বোঝান যে পরীক্ষায় কম নম্বর পেলেও আপনার কাছে তার গুরুত্ব কমবে না।

পুরস্কার ও উৎসাহ: পড়াশোনা শেষ করলে তাকে তার প্রিয় কোনো কার্টুন দেখতে দেওয়া, গল্প শোনানো বা পছন্দের খাবার তৈরি করে দেওয়ার মতো ছোটখাটো পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখুন।

পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার: মনের সুস্থতার সাথে শরীরের গভীর সংযোগ রয়েছে। শিশুর যেন ৮ – ৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।

একটি জরুরি কথা: শিশুর মন অত্যন্ত সংবেদনশীল। জোর করে বা শাসন করে সাময়িক মনোযোগ পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতি করে। তাই ধৈর্য ধরুন, তাকে সময় দিন এবং ভালোবাসার মাধ্যমে তার মনের কষ্ট দূর করুন।

20Dec2023

পরিমার্জিত ডিপিএড (বিটিপিটি) উপমডিউল-৪.১: ‍শিল্পকলা

বিটিপিটি সামষ্টিক মূল্যায়নঃ শিল্পকলা বিষয়ের গুরত্বপূর্ণ প্রশ্নাবলি

জ্ঞানমূলক প্রশ্ন: বিস্তৃত প্রশ্ন উত্তর ২টি হতে ১টি (৪*১)=৪ নম্বর

  • সৃজনশীলতা কী? শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে চারু ও কারুকলা চর্চা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
  • প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে শিল্পকলার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন।
  • চারু ও বিদ্যালয়ে শিল্পকলাসংশ্লিষ্ট কী কী বিষয় চর্চা করা হয় তার একটি তালিকা তৈরি করুন।
  • চারু ও কারুকলার কয়েকটি উপকরণের নাম উল্লেখ করুন।
  • শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে শিল্পকলার ভূমিকা ব্যাখ্যা করুন।
  • জাতীয় সংগীতের চরণ কয়টি? জাতীয় সংগীত গাইতে আলাদা ভক্তি শ্রদ্ধা প্রদর্শণ করা হয় কেন?
  • নৃত্যে শারীরিক কসরতের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন।
  • নৃত্য চর্চার মাধ্যমে কিভাবে দেশর প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করা যায়?
  • নাট্যকলা ও অভিনয় বিষয়ের মাধ্যমে শিশুর মধ্যে কীভাবে শৃঙ্খলা, শ্রদ্ধা ও মানবতাবোধ জাগ্রত করা সম্ভব?
  • নাটকের প্রধান উপাদানগুলো কী কী? 
  • নাট্যকলা চর্চার মাধ্যমে কীভাবে দেশর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা যায়?
24Sep2023

বাংলা : প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ

আলোচ্য বিষয়:

  • পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?
  • পড়ার অংশ কয়টি ও কী কী?
  • পড়তে শেখার সাথে পড়ার সম্পর্ক কী?
  • পড়ার মৌলিক উপাদান কোনগুলো?

পড়তে শেখা ও পড়ে শেখা: Learn to read and read to learn

পড়া/পঠন (Reading) বলতে কী বোঝায়?

বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্নগুলোকে চিনতে পারার মাধ্যমে পাঠোদ্ধার (Decoding) করতে পারা এবং অর্থ বুঝতে পারাই হচ্ছে পড়া।

পড়া বা পাঠ করা হচ্ছে একটি বহুমুখী প্রক্রিয়া যার সঙ্গে জড়িত আছে বর্ণ ও শব্দ চিনতে পারা, শব্দের অর্থ বুঝতে পারা, সাবলীলতা অর্জন এবং সম্পূর্ণ পাঠটির অর্থ উপলব্ধি করতে পারা।

পড়ার অংশ কয়টি ও কী কী?

[…]
29Jul2023

Co-curricular activities in child development

শিশুর বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা ও গুরুত্ব

সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ধারণা: একটা সময় ছিল যখন শরীরচর্চা, খেলাধুলা, সমাজসেবা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সময়ের অপচয় কিংবা শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা বলে ধারণা করা হতো। কালের বিবর্তনে এসব বিষয়গুলোকে নতুন নামকরন করা হয়েছে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম যা শিক্ষা ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর সর্বাঙ্গীন বিকাশের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। একজন শিক্ষার্থীর সম্পূর্ণ যোগ্য নাগরিক হতে হলে তার শারীরিক এবং মনোসামাজিক বিকাশ প্রয়োজন।
যে সব কার্যবলি শিশুর শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের পাশাপাশি তার শারীরিক এবং মনোসামাজিক বিকাশে সহায়ক এবং তার পরিপূর্ণ ব্যক্তিত্ব বিকাশে সহায়তা করে, শিক্ষাক্রমের সহযোগী সেই বিষয়গুলো বা কার্যাবলিসমূহকে সহশিক্ষাক্রমি কার্যক্রম বলে। মনোবিদ এইচ. এন. রিভলিন বলেন, যেসব কার্যাবলি শিক্ষার্থীর বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশের সাথে জীবনবিকাশের অন্য দিকগুলোকেও সার্থক করে তোলে, তাদেরকে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি বলে।

সহপাঠ্যক্রমিক কার্যাবলির গুরুত্ব

১। শিশুর দৈহিক এবং মনোসামাজিক বিকাশে সহায়তা করে।
২। সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুর গণতান্ত্রিক মনোভাব বিকাশে সহায়তা করে।
৩। সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুর সমাজ-জীবনের জন্য প্রস্তুত করে।
৪। শিশুর চাহিদাভিত্তিক বিকাশ গড়ে তোলে।
৫। শিশুকে আত্নবিশ্বাসী করে তোলে।
৬। শিশুর সহযোগিতা এবং সমবেদনামূলক মনোভাব গড়ে তোলে।
৭। শিশুকে আত্ননির্ভরশীল করে তোলে।
৮। শিশুকে পাঠের একঘেঁয়েমি দূর করতে সহায়তা করে।
৯। শিশুকে বিদ্যালয় নিয়মিত উপস্থিতির বিষয়ে আগ্রহী করে তোলে।
১০। শিশুর জীবনে শৃঙ্খলা স্থাপনে সহায়তা করে।
১১। শিশুর সামাজিক বৈশিষ্ট্য গঠনে সহায়তা করে।
১২। শিশুর বিভিন্ন প্রকার সৃজনশীল গুনের বিকাশে বিশেষভাবে সহায়তা করে।
১৩। শিশুর সেবামূলক মনোভাব বিকাশে সহায়তা করে।
১৪। সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি শিশুকে আনন্দ এবং তৃপ্ত করে।
১৫। এটি শিক্ষার্থীর জাতীয় সংহতি বা জাতীয়তাবোধের বিকাশে সহায়তা করে।
১৬। এটি শিশুকে সক্রিয়তাভিত্তিক শিখনে সহায়তা করে, ইত্যাদি।

বিদ্যালয় পর্যায়ে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমসমূহ

ক। বিতর্ক অনুষ্ঠান, কুইক কুইজ, নাচ-গান, নাট্যানুষ্ঠান ইত্যাদি।
খ। খেলাধুলা, বার্ষিক ক্রীড়া অনুষ্ঠান, ফুটবল এবং ক্রিকেট খেলা প্রতিযোগীতা, সাঁতার/কাবাডি/লুডু/ক্যারম/দাবা খেলা, স্কাউট/গালস গাইড/হুলদে পাখি ইত্যাদি।
গ। ফুলের বাগান, সবজি বাগান, ফলের বাগান, বৃক্ষরোপন সাপ্তাহ, মত্স চাষ ইত্যাদি।
ঘ। স্বাক্ষরতা সাপ্তাহ, শিক্ষা সাপ্তাহ পালন, উপজেলা পর্যায়ে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ইত্যাদি।
ঙ। বার্ষিক ম্যাগাজিন, দেয়ালিকা প্রকাশ, শিক্ষা সফর, জাতীয় এবং আন্র্—জাতিক দিবসসমূহ পালন ইত্যাদি।

শিশুর শারীরিক বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

যেসব শরীর চর্চার কার্যাবলি শিশুর/শিক্ষার্থীর দেহ, মন এবং কর্মদক্ষতাসহ নানান সামাজিক গুণাবলির বিকাশ ঘটায়, সেগুলোই শিশুর শারীরিক বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম বলে পরিচিত।
যেমন, ফুটবল খেলা, ক্রিকেট খেলা, কাবাডি খেলা, ক্যারম খেলা, ব্যায়াম ইত্যাদি।

শারীরিক বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রমের ভূমিকা

১। এটি শিশুর শারীরিক জড়তা নিরসন করে।
২। শিশুর আনন্দ লাভ করতে সহায়ক।
৩। সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম শিশুর বিনোদনের একটি কার্যকর কৌশল।
৪। এটি শিশুর পেশি সঞ্চালনে দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
৫। এটি শিশুর মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
৬। এটি শিশুর শরীর এবং চলাচলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে শেখায়।
৭। এতে শিশুর সূক্ষ্ম এবং স্থুল পেশির সঞ্চালনের দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।
৮। এতে শিশুর কল্পনা বিকাশে সাহায্য করে।
৯। এর মাধ্যমে শিশু তার চোখের এবং হাতের কাজের সমন্বয় করতে পারে।
১০। এটি শিশুকে ঝুঁকি নিতে এবং সেই ঝুঁকি মোকাবেলা করতে শেখায়।

শিশুর মনো-সামাজিক বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম

যেসব সহশিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি শিশুর বুদ্ধিভিত্তিক বিকাশ ও বিকাশের সম্প্রসারণে এবং সামাজিক গুণাবলি বিকাশে সাহায্য করে, সেই সব কার্যাবলৈকে মনো-সামাজিক সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম বলে।
যেমন, শিক্ষা সাপ্তাহ পালন, বৃক্ষরোপণ সাপ্তাহ, হাত ধোঁয়া দিবস পালন, বার্ষিক ম্যাগাজিন, দেয়ালিকা প্রকাশ, শিক্ষা সফর, জাতীয় এবং আর্ন্তজাতিক দিবসসমূহ পালন ইত্যাদি।

মনো-সামাজিক বিকাশে সহশিক্ষাক্রমিক কার্যক্রম ভূমিকা

১। সবার সাথে মিলেমিশে খেলতে পারবে।
২। সহযোগিতার মনোভাব বাড়াবে।
৩। দ্রুত সিন্ধান্ত নেবার দক্ষতা বাড়াবে।
৪। অন্যের আচরণ অনুকরণ করতে পারবে।
৫। অন্যের সাথে ভাগ করতে শিখবে।
৬। শিশু তার প্রতিদিনের কাজকর্ম ঠিক মতো করতে শিখবে।
৭। শিশু সবার সাথে মিশতে শিখবে।
৮। নিজের আবেগ, আনন্দ, রাগ বুঝতে এবং প্রকাশ করতে শিখবে।
৯। সহপাঠীর সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করতে পারবে।
১০। সহপাঠী, শিক্ষক এবং অন্যান্যদের সাথে কার্যকরী যোগাযোগ করতে শিখবে।
১১। সহপাঠী, শিক্ষক এবং অন্যান্যদের প্রতি মূল্যবোধ প্রদর্শন করতে পারবে।
১২। নিজের এবং সহপাঠীর উপর আস্তা এবং বিশ্বাস তৈরি করতে শিখবে।
১৩। অন্যরে চিন্তা, অনুভূতি, মতামত এবং চাহিদার প্রতি সম্মান রেখে নিজের অনুকূলে মত প্রকাশ করা বা সিদ্ধান্ত জানাতে পারবে।
১৪। সুস্পষ্ট এবং দৃঢ়ভাবে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে পারবে।
১৫। অন্যের সাথে অসচেতনভাবে কাজ করার প্রবণতা হ্রাস পাবে।

সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রম অনুশীলন

১। বিতর্ক প্রতিযোগীতা

১ম বক্তা: পক্ষদলের প্রথম বক্তা বিষয়টৈকে সুন্দরভাবে সংজ্ঞায়ন করবেন, বিষয়ের পক্ষে দলের অবস্থান স্পষ্ট করবেন এবং সম্ভাব্য ১/২টি যুক্তি খন্ডন করবেন। অন্যদিকে বিপক্ষ দলের প্রথম বক্তা পক্ষদলের প্রথম বক্তার দেয়া সংজ্ঞায়নের মেনে নেয়া অংশ বাদে যদি প্রয়োজন হয় বাকী মূল শব্দগুলোর সংজ্ঞায়ন করবেন। বিষয়ের বিপক্ষে দলের অবস্থান স্পষ্ট করবেন এবং ১ম বক্তার ২/৪টি যুক্তি খন্ডন করবেন।
২য় বক্তা: পক্ষদলের ২য় বক্তা বিপক্ষ দলের ১ম বক্তার দেয়া দলীয় কৌশল এবং অবস্থানের ব্যাখ্যা করবেন এবং তা খন্ডন করে বিভিন্ন তথ্য, তত্ত্ব, যুক্তি এবং উদাহরণের মাধ্যমে ১ম বক্তার মতো তার দলের পক্ষে বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করবেন। অন্যদিকে বিপক্ষ দলের ২য় বক্তাও পক্ষদলের ২য় বক্তার ন্যায় তার দলের বিষয়টিকে আরও স্পষ্ট করবেন।
দলনেতা: পক্ষদলের দলনেতা তার প্রথম ও ২য় বক্তার বক্তব্যের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে বিভিন্ন তথ্য, তত্ত্ব, যুক্ত ও উদাহরণ দিয়ে বিষয়টৈকে আরো স্পষ্ট করবেন। অন্যদিকে বিপক্ষ দলের দলনেতাও তার দলের পক্ষে বিষয়টিকে প্রমাণ করে যাবেন।
যুক্তিখন্ডন পর্ব: পক্ষ দলের দলনেতা বিপক্ষ দলের তিনজন বক্তার প্রদত্ত যুক্তিগুলোর মধ্যে গুর“ত্বপূর্ণ যুক্তিগুলো ধরে ধরে খন্ডন করে তাদের যুক্তিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করবেন। অন্যদিকে বিপক্ষ দলের দলনেতাও পক্ষদলের প্রদত্ত যুক্তিগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ যুক্তিগুলো খন্ডন করে তাদের যুক্তিকে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করবেন।
মডারেটর: বিতর্কের সময় নির্ধারণ করে দিবেন। প্রত্যেক বক্তাকে ৩-৫ মিনিট কওে (১মিনিট পূর্বে সতর্ক সংকেত বাজাতে হবে) এবং যুক্তি খন্ডন পর্বে উভয় দলের দলনেতাকে ২ মিনিট করে সময় দিবেন। (১.৫মিনিট পূর্বে সংকেত বাজাতে হবে। প্রত্যেক বক্তার সংজ্ঞায়ন, উচ্চারণ, বাচনভঙ্গি, তথ্য, তত্ত্ব, এবং উদাহরণ প্রদান করে যুক্তি প্রয়োগ এবং খন্ডন ইত্যাদি বিষয়ে নম্বর প্রদান করবেন।

২। দেয়ালিকা তৈরি

দেয়ালিকা হলো কোনো উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রবন্ধ, কবিতা, গল্প, ছড়া, কৌতুক, অংকন ইত্যাদির সমন্বিত একটি সাময়িকপত্র। এটি মাসিক, ত্রৈমাসিক, ঋতুভিত্তিক, ষন্মাসিক, বার্ষিক হতে পারে। এটি শিক্ষকের নেতৃত্বে তৈরি হয়ে থাকে এবং প্রতিষ্ঠান প্রধান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক দেয়ালিকার মাঝ বরাবর বা একপাশে সম্পাদকীয় লিখে দিবেন। দেয়ালিকায় প্রবন্ধের পাশে গল্প, গল্পের পাশে স্মৃতিকথা বা ছড়া বা কবিতা, প্রবাদ-প্রবচন, শিক্ষণীয় হাস্যরস, কৌতুক ইত্যাদি শিরোনাম দিয়ে লিখবেন। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন আঁকাআঁকি বা বিভিন্ন কালারের কলমের ব্যবহার করা যাবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক অবশ্যই বানানের প্রতি বিশেষ নজর দিবেন। স্পষ্ট এবং সুন্দর হাতের লেখা হবে।

৩। গল্প বলার প্রতিযোগিতা

শিক্ষক গল্প বলার প্রতিযোগিতা আয়োজনের ঘোষণা দিবেন। সেখানে কি কি ধরণের গল্প বলা যাবে তার লিস্ট দিবেন। কত শব্দের মধ্যে গল্পটি বলতে হবে সেটা নির্ধারণ করে দিবেন। গল্পে কোনো ধরণের সামাজিক রীতিনীতির বিরোধী বিষয়বস্তু থাকবে না। গল্পের মাধ্যমে কাউকে গালি, বিদ্র“প বা আক্রমণ করা যাবে না। প্রত্যেক প্রতিযোগিকে গল্পে কি কি বিষয় বিবেচনায় নেয়া হবে সেই জন্য র“ব্রিক দিবেন। সেরা গল্পকার নির্ধারণ করবেন।

৪। বৃক্ষরোপণ সপ্তাহের আয়োজন

বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন সপ্তাহে কি কি আয়োজন করা যায় তা তালিকা তৈরি করবে। কি কি ধরণের বৃক্ষরোপন করা হবে তার তালিকা তৈরি করবে। কতগুলো বৃক্ষরোপন করবে তার তালিকা করবে। কোন স্থানে কি ধরণের গাছ লাগবে তার তালিকা প্রণয়ন করবেন। গাছে নিরাপত্তার জন্য কি কি পদক্ষেপ নিবে তার তালিকা করবে।

৫। বিজ্ঞানমেলার আয়োজন

বিজ্ঞানমেলার আয়োজনের জন্য সময় নির্ধারণ করে দিবেন। আমন্ত্রণপত্র তৈরি করবেন। কত স্টল দেয়া যাবে তার জন্য প্রয়োজনী স্থান বাছাই করবেন। বিচারক কমিটি গঠন করবেন। বিচারকার্যের জন্য র“ব্রিক নির্ধারণ করে দিবেন। মেলায় প্রথম, দ্বিতীয় ইত্যাদি ঘোষণা করবেন।

তথ্যসূত্র:

১। https://www.classghar.com/2022/08/write-the-characteristics-co-curricular-activities.html
২। http://debatejudo.blogspot.com/p/blog-page_7.html
৩। শিশুর বিকাশ ও খেলাভিত্তিক শিখন বিষয়ক বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ সহায়িকা (জানুয়ারি ২০২৩); ডিপিই, প্রাগম এবং ব্র্যাক আইইডি

12Jul2023

Ways to develop teachers’ professional skills

পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের উপায়

প্রশিক্ষণ পেশাগত উন্নয়নের অন্যতম মাধ্যম৷ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীগণের জ্ঞান আচরণে পরিবর্তন সাধিত হয়৷ প্রশিক্ষণ হতে পারে শিক্ষকের বিষয়ভিত্তিক বা শিক্ষকগণের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য৷ আবার প্রশিক্ষণের মেয়াদের ভিত্তিতেও প্রশিক্ষণ বিভিন্ন রকমের হতে পারে৷ শিক্ষকের পেশাগত উন্নয়নের উপায় হিসেবে চাকুরিপূর্ব প্রশিক্ষণ, চাকুরিকালীন প্রশিক্ষণ ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন সবচেয়ে জনপ্রিয় কার্যকর উপায়৷ পেশাগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে অর্থাত্ একজন আদর্শ শিক্ষক গড়ে তোলার জন্য এখানে পেশাগত উন্নয়নের উপায় সম্পর্কে আলোচনা করা হলো

[…]
11Jul2023

Individuality and intelligence of the child

শিশুর ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য ও বুদ্ধিমত্তা এবং বুদ্ধিমত্তার ধরণ অনুযায়ী শিখন আচরণে করণীয়      

শিশুর বুদ্ধিমত্তার ধরণ

গার্ডনারের মাল্টিপল ইন্টিলিজেন্স (Multiple Intelligences) থিওরি বা বহুমাত্রিক বুদ্ধিমত্তা-

হাওয়ার্ড আর্ল গার্ডনার ১১ জুলাই, ১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহন করেন। তিনি পেশায় একজন আমেরিকান ডেভেলপমেন্টাল সাইকোলোজিস্ট। ১৯৮৩ সালে হাওয়ার্ড আর্ল গার্ডনার তার বই ” ফ্রেমস অফ মাইন্ড” এ প্রথম “একাধিক বুদ্ধিমাত্রার তত্ত্ব (Theory of Multiple Intelligences)” উপস্থাপন করেছিলেন। এর মধ্যে ৭টি বুদ্ধিমত্তা অন্যতম। যেমন-

[…]
10Jul2023

Skills required in the teaching profession

একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে আপনার কী কী দক্ষতা থাকা প্রয়োজন?

সুন্দর বাচনিক দক্ষতা ও দৃষ্টি বিনিময়:

  • শিক্ষকের সুন্দর বাচনিক দক্ষতা ও শিক্ষার্থীদের সাথে সঠিক দৃষ্টি বিনিময় বা Eye Contact শিক্ষার্থীদের পাঠে আগ্রহী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেক শিক্ষকের উচ্চারণে আঞ্চলিকতার প্রভাব বা কোন মুদ্রাদোষ থাকে যা শিক্ষার্থীদের কাছে তার পাঠকে হাস্যরসে পরিণত করে। এর ফলে শ্রেণিকর্যক্রম ব্যহত হয় এবং শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিখন ব্যহত হয়।
  • শিক্ষার্থীদের সাথে শিক্ষকের সঠিক Eye Contact – এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী শিক্ষকের কাছে তার গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারে। কাজেই শিক্ষার্থীর শ্রেণিকক্ষে মনোযোগিতা বা অমনোযোগিতা নির্ভর করে শিক্ষকের সাথে শিক্ষার্থীদের সঠিক Eye Contact – এর ওপর।
  • শিক্ষক যখন পড়াবেন বা যখন প্রশ্ন করবেন তখন অবশ্যই শিক্ষার্থীদের সাথে সঠিক Eye Contact -এর মাধ্যমে তা করতে হবে।
  • আঞ্চলিকতা পরিহারপূর্বক সুন্দর বাচনিক দক্ষতা ও সঠিক Eye Contact -এর কৌশলসমূহ রপ্ত করার জন্য শিক্ষকগণকে সবসময় পেশাগত প্রশিক্ষণ ও অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে অর্জন করতে হয়।

নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন:

[…]
9Jul2023

Curriculum in learning behavior

শিক্ষার্থীর শিখন আচরণে শিক্ষাক্রম, পাঠ্যপুস্তক ও সহায়কশিখন-শেখানো সামগ্রী

শিখন আচরণ কী ?

শিখন আচরণ-যা ব্যক্তি কোন না কোন ভাবে শেখে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে তার প্রয়োজন মেটায়। যে শরীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় একজন মানব শিশু তার অর্জিত জ্ঞানের প্রকাশ বা প্রয়োগ করে সেটাই শিখন আচরণ। মানব শিশু জন্মের পর থেকে প্রতিনিয়ত নানানভাবে নানান কৌশলে শিখছে এবং মৃর্ত্যু পর্যন্ত কখনো চেতন কিংবা অবচেতনভাবে শিখেই চলেছে।

[…]
8Jul2023

Child Brain Development

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ

প্রারম্ভিক বছরের সার্বিক বিকাশের ওপর মস্তিষ্কের গঠন নির্ভর করে। সাধারণভাবে মস্তিষ্ককে দুভাগে ভাগ করা হয়- ডান মস্তিষ্ক এবং বাম মস্তিষ্ক। বাম মস্তিষ্ক যেমন যুক্তি-তর্ক, ঘটনার বর্ণনা, গণিত, ভাষা দক্ষতা, চিন্তা, ডানদিকের দৃষ্টি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। আবার ডান মস্তিষ্ক সংগীত, কাজের ধারাবাহিকতা, সৃজনশীলতা, কল্পনা শক্তি, শ্রবণ, বামদিকের দৃষ্টি ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে।

মস্তিষ্কের বিকাশ:

শিশুর জীবনের প্রথম পাঁচ বছর পর্যন্ত মস্তিষ্কের বিকাশ সবচেয়ে বেশি হয়। মস্তিষ্কের নিউরণের সংযোগ সৃষ্টিতে এবং বৃদ্ধির জন্য শিশুকে উদ্দীপনা (আদর করা, কথা বলা, হাসা, ছড়া, খেলা করা) প্রদান করতে হবে। বিভিন্ন উদ্দীপনা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে সংযোজিত হতে সহায়তা করে। একটি শিশুর মস্তিষ্ক পূর্ণতা পায় দুইদিক থেকে যেমন-

আকৃতিগত বৃদ্ধির মাধ্যমে:

আকৃতিগত বৃদ্ধির মাধ্যমে মস্তিষ্কের কোষের (neuron) সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।

সংযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে:

একটি নিউরনের সাথে আরেকটি ও একাধিক নিউরণের সংযোগ বৃদ্ধি পায় এবং অন্তজাল তৈরি হয় (neural connection & network formation)।  মস্তিষ্কের একটি কোষ সর্বোচ্চ ১৫,০০০ কোষের সাথে সংযোগ করতে পারে। শিশুর  ৩ বছর বয়সের মধ্যে ৭০-৮০% এবং ৫ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ১০০% সংযোগ স্থাপিত হয়। তাই এই বয়সে যত বেশি পারস্পারিক ক্রিয়া (Interaction) ঘটে তত বেশি সংযোগ তৈরি হয়।

এভাবে শিশুর মাধ্যমে মস্তিষ্ক পূর্ণতা লাভ করে। তাই নিউরণের সংযোগ ঘটাবার সর্বোত্কৃষ্ট সুযোগ (windows of opportunities) হলো জন্ম থেকে ৫ বছর বয়সকাল।আবার, এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তা হারিয়ে যায় অর্থাৎ এটি ‘ব্যবহার না করলে হারিয়ে ফেলবে’ (use it or lose it) প্রক্রিয়ায় কাজ করে ৫-৬ বছর বয়সের পর নতুন সংযোগ তৈরি না হলেও সংযোগের স্থায়ীত্বের জন্য শিশুর ৮ বছর বয়স পর্যন্ত পারস্পারিক ক্রিয়ামুলক যত্ন (interactive care) চালিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মস্তিষ্কের বিকাশের কিছু মৌলিক তথ্য

  • মস্তিষ্কের নিউরণের সংখ্যা বৃদ্ধির অতি গুরুত্বপূর্ণ সময় হলো মায়ের গর্ভে থাকাকলীন অবস্থায় এবং সংযোগ বৃদ্ধি ও অন্তজাল তৈরির সময় হলো জন্মের পর।
  • নিউরণের মধ্যে সংযোগ স্থাপন ও অন্তজাল তৈরি ছাড়া মস্তিষ্ক কাজ করতে পারে না।
  • সংযোগ স্থাপন ও অন্তজাল তৈরির পূর্বশর্ত হল নিউরণগুলোর উদ্বীপ্তকরণ (stimulation)।
  • শিশুর সাথে মিথস্ক্রিয়া (interaction) করা ও করার সুযোগ করে দেওয়া নিউরণগুলোকে উদ্দীপ্ত করার একমাত্র উপায়।
  • মস্তিষ্কের এক এক অংশ এক এক ধরনের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে, তাই মস্তিষ্কের সব অংশের নিউরণগুলোকেই উদ্বীপ্ত (stimulate) করা প্রয়োজন।
  • শিশু তার পাঁচটি ইন্দ্রিয়ই ব্যবহার করার সুযোগ পায় এমনভাবে মিথস্ক্রিয়া করলে মস্তিষ্কের সব অংশের নিউরণ উদ্দীপ্ত (stimulated) হয়ে সার্বিকভাবে নিউরণের মধ্যে সংযোগ স্থাপিত হবে ও অন্তজাল তৈরি হবে।
তথ্যসূত্র: Experiences Build Brain Architecture, Center on the Developing Child by Harvard University

নমুনা চিত্র:  মস্তিষ্কের গঠন ও এর বিভিন্ন অংশের সুনির্দিষ্ট কাজ

মস্তিষ্কের বাম ও ডান অংশ:

  • মস্তিষ্ক এর দুই অংশ সমান, আকৃতিগতভাবে দুই অংশ একই রকম, কার্যকারিতা অনুযায়ী দুই অংশ ভিন্ন, দুই অংশই সংযুক্ত।
  • মস্তিষ্ক এর বাম অংশ: যৌক্তিক চিন্তা ও ভাষা পরিচালনা, গণিতে দক্ষতা, ডান দিকের দৃষ্টিক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ কাজ করে।
  • মস্তিষ্ক এর ডান অংশ: স্থান, অবস্থান ও শ্রবণ ধারণা পরিচালনা, সঙ্গীত ও সৃজনশীলতা, বাম দিকের দৃষ্টিক্ষেত্র নিয়ন্ত্রণ করে।

মস্তিষ্ক এর বিকাশ:

  • দুইভাবে হয়- আকৃতিগত বৃদ্ধি, সংযোগ বৃদ্ধি
  • আকৃতিগত বৃদ্ধি: মস্তিষ্ক এর কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি।
  • সংযোগ বৃদ্ধি: একটির সাথে কয়েকটি ও একাধিক নিউরণের সংযোগ বৃদ্ধি এবং অন্তজাল তৈরি ।

একটি কোষ সবোর্চ ১৫০০০ কোষের সাথে সংযোগ করতে পারে।

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশ বিকাশে মা-বাবা, শিক্ষক ও বড়দের করণীয়

শিশু মায়ের গর্ভে থাকাকালীন অবস্থায় মায়ের খাদ্য, পুষ্টি ও প্রয়োজনীয় চিকিত্সা সর্বোপরি মায়ের ভালো থাকা শিশুর মস্তিষ্কের কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাই শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তার জন্য জন্মের পূর্ব থেকেই মায়ের যত্ন নিতে হবে। জন্মের পর থেকেই শিশু শেখার জন্য প্রস্তুত থাকে।

পরিবারে মা-বাবা ও অন্যান্য সদস্য ও শিক্ষকের সঠিক পরিচর্যা, যত্ন ও উদ্দীপনামূলক কাজের মাধ্যমে শিশুর মস্তিষ্কের কোষের সংযোগ বৃদ্ধি পেতে থাকে। নার্চারিং কেয়ার ফ্রেমওয়ার্কে প্রদত্ত ৫টি উপাদানের সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তা করা যেতে পারে। শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়তার জন্য মা-বাবা, শিক্ষক ও তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের কিছু দায়িত্ব কর্তব্য রয়েছে। যেমন-

  • শিশুর জন্য পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করা
  • শিশুকে উদ্দীপনা প্রদান করা যেমন-
  • শিশুর সাথে কথা বলা, চোখে চোখ রাখা, হাসা
  • শিশুকে জড়িয়ে ধরা, আদর ও ভালোবাসা দেওয়া
  • শিশুর প্রয়োজন অনুযায়ী সাড়া দেওয়া অর্থাৎ শিশুর অঙ্গভঙ্গি, ইশারা, মুভখঙ্গি ইত্যাদি দেখে তাকে সাহায্য করা (সংবেদনশীল যত্ন নেওয়া)
  • প্রারম্ভিক শিখনের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া। যেমন- শিশুর সাথে ছড়া, খেলা করা, খেলার মাধ্যমে প্রাক-গাণিতিক, পরিবেশ-বিজ্ঞানের ধারণা দেওয়া, গান করা ও গল্প শোনানো ইত্যাদি
  • ইতিবাচক ও নিরাপদ শিখন পরিবেশ তৈরি করা
  • বিদ্যালয়ের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা
  • পর্যাপ্ত পরিমান বয়সোপযোগী খেলনা ও উপকরণ রাখা
  • নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা রাখা
  • সৃজনশীলতার বিকাশে বিভিন্ন কাজে শিশুকে উত্সাহিত করা
  • শিশুর প্রারম্ভিক শৈশব ও শৈশবে পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ামূলক যত্ন ও উদ্দীপনা (interactive care & stimulation) দেওয়ার মূলনীতি হলো-
  • প্রতিদিন বারবার করা (Everyday Repeatedly)
  • বয়স অনুযায়ী করা (Age Appropriate) 
  • নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশে করা (Safe & Enabling Environment)
  • বিভিন্নভাবে (Multiple Ways) যাতে শিশু তার পঞ্চইন্দ্রিয় ও হাত-পা ব্যবহার করার সুযোগ পায়
  • ছেলে-মেয়ে শিশুর সাথে সমানভাবে করা।  

এই মূলনীতিসমূহ বুঝার সুবিধার্থে নিচে কয়েকটির উদাহরণ দেওয়া হলো। যেমন-

বয়স অনুযায়ী:

খাবার পানি রাখার জন্য যদি মাটির কলসি ব্যবহার করতে হলে প্রথমে মাটির কলসি তৈরি করতে হবে। মাটির কলসি তৈরির প্রক্রিয়া হলো:  প্রথমে মাটি পানি দিয়ে মিশিয়ে মন্ড তৈরি করে তারপর কলসির আকৃতি বানিয়ে কয়েকদিন রোদে শুকানো, তারপর আগুনে পুড়িয়ে আবার কয়েকদিন রোদে শুকালে পানি রাখা যাবে। এই প্রক্রিয়ায় কেউ যদি রোদে শুকানোর পরই পানি রাখে তাহলে কলসিটি কিছুক্ষণ পর গলে যাবে। তেমনি শিশুর বয়স অনুযায়ী ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত কোনোকিছু চাপিয়ে দিলে তা শিশুর জন্য ক্ষতিকর হবে।

নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ:

শিশুকে খেলনা কিনে দিয়ে খেলনাটি বাক্সে রেখে দিলে বা শিশুকে অন্ধকার ঘরে রেখে দিলে শিশুটি কিন্তু খেলনাটি ব্যবহার করতে পারবে না বা খেলতেও পারবে না। অথবা খেলনা দিয়ে শিশুকে ধমক দিয়ে খেলতে বললে শিশুটি আনন্দ নিয়ে খেলবে না। মাননিক দিক থেকে সে ভালো থাকবে না এবং খেলনা ব্যবহার করতে উত্সাহিত হবে না।

পঞ্চইন্দ্রিয় ও হাত-পা ব্যবহার করার সুযোগ:  

মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ বিভিন্ন কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রণ করে। যেমন- দেখা পিছনের দিকের নিচের অংশ, শোনা-বলা  নিচের অংশের মধ্যভাগ, স্পর্শ (অনুভব) করা পিছনের দিকের উপড়ের  অংশ, চলন ক্ষমতা  উপড়ের দিকের (তালুর) মধ্যভাগ, চিন্তা/যুক্তি/সমস্যার সমাধান/সিদ্ধান্ত গ্রহণ তালুর সামনের দিক ও কপালের পিছনে উপড়ের অংশ, পরিকল্পনা ও অনুশীলন করা  সামনের দিকের নিচের (কপালের পিছনের) অংশ। তাই শিশুকে শুধু দেখতে বা শুনতে দিলে তার মস্তিষ্কের  যে অংশটুকু দেখা ও শোনা নিয়ন্ত্রণ করে প্রধানত সেই অংশের কোষগুলো সক্রিয় হবে ও সেগুলোর মধ্যে সংযোগ তৈরি হবে। অন্য অংশের কোষগুলো সরাসরি সক্রিয় হবে না এবং সেগুলোর মধ্যে পুরাপুরি সংযোগ তৈরি হবে না। তাই শিশুকে এমনভাবে উদ্দীপনা ও পারস্পরিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ামূলক যত্ন দিতে হবে যাতে মস্তিষ্কের সব অংশের কোষগুলোই উদ্দীপ্ত ও সক্রিয় হয়ে সংযোগ তৈরি করতে পারে। আর এজন্য শিশুকে এমনভাবে পারস্পারিক ক্রিয়ামুলক যত্ন দেওয়া যাতে সে তার পাঁচটি ইন্দ্রিয় যথা: চোখ, কান, নাক, জিহ্বা ও ত্বকের যথাযথ ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

তথ্যসূত্র:

  1. Experiences Build Brain Architecture, Center on the Developing Child by Harvard University
  2. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল, পরিমার্জিত ও সংশোধিত: মার্চ ২০১৪, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর

ভিডিও লিংক: Experiences Build Brain Architecture

Load More
Comments (1)

একজন আয়ার দ্বায়িত্ব ও কর্তব্য কি??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!