বিজ্ঞান (পিকে) Archives - Proshikkhon

Category "বিজ্ঞান (পিকে)"

25Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৭: প্রাথমিক বিজ্ঞানে পাঠ পরিকল্পনা

সেশন-৭.১: প্রাথমিক বিজ্ঞানে পাঠ সংগঠন ও পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন

১) প্রাথমিক বিজ্ঞানের পাঠ সংগঠন ও পাঠ পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?

প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ সংগঠন ও পাঠ পরিকল্পনাঃ

একটি পাঠকে ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষককে প্রথমেই ঐ পাঠটি নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা পরিকল্পনা করে নিতে হয়। একটি পিরিয়ডে একজন শিক্ষক কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করবেন তা নিয়ে তাকে বর্তমানে চিন্তা করতে হয় না কারণ শিক্ষক সহায়িকা ও শিক্ষক সংস্করণে পাঠ বিভাজন করে দেয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তা নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিজেদেরকেই একটি অধ্যায়কে নির্দিষ্ট সংখ্যক পাঠে বিভাজন করে নিতে হবে। এরপর প্রতিটি পাঠকে ধরে এক একটি পাঠ পরিকল্পনা করতে হবে। একটি পাঠের পরিকল্পনায় থাকে- শিক্ষার্থীরা ঐ পাঠের মধ্য দিয়ে কোন শিখনফল আর্জন করবে, শিখনফল অর্জনের জন্য কতটুকু বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হবে, শিক্ষার্থীরা কীভাবে শ্রেণিকাজে অংশগ্রহণ করবে, শিক্ষকের ভূমিকা কী থাকবে, কত সময় ধরে শ্রেণি কার্যক্রম চলবে, কী উপকরণ ব্যবহৃত হবে এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিখন মূল্যায়ন করা হবে ইত্যাদি। অর্থাৎ একটি পাঠ পরিকল্পনা হলো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট শিখনফল অর্জনের জন্য পাঠ পরিচালনা করার বিস্তারিত একটি লিখিত রূপরেখা।

২) প্রাথমিক বিজ্ঞানের একটি অনুসন্ধানভিত্তিক পাঠের পাঠ পরিকল্পনায় কী কী উপাদান থাকে?

প্রাথমিক বিজ্ঞানের একটি অনুসন্ধানভিত্তিক পাঠের পাঠ পরিকল্পনায় নিচের উপাদানগুলো থাকবে-

ক) পাঠ পরিচিতিমূলক তথ্য ( শিক্ষক সংস্করণে নেই তবে শিক্ষকের নিজস্ব পাঠ পরিকল্পনা থাকা দরকার)

খ) পাঠ শিরোনাম

গ) শিখনফল

ঘ) উপকরণ

ঙ) শিখন-শেখানো কার্যাবলি ( এখানে উল্লেখ থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর করণীয়)

  • শিক্ষার্থীদের পাঠের জন্য প্রস্তুতকরণ/ ওরিয়েন্টেশন/ প্রেষণা সঞ্চার ও আজকের পাঠের সাথে সংযোগ স্থাপন
  • শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিচিতি ও নির্দেশনা
  • শিক্ষার্থীদের কাজ চলাকালীন মূল্যায়ন কীভাবে হবে
  • শিক্ষার্থীদের কাজ শেষে শিখনফল সংশ্লিষ্ট মূল ধারণাসমূহ উপস্থাপন, আলোচনা বা পঠন

      চ) মূল্যায়ন ও পুনরালোচনা ( পরবর্তী পাঠের ব্যাপারে নির্দেশনাও থাকতে পারে)

৩) পাঠ পরিকল্পনার বিবেচ্য বিষয়সমূহ আলোচনা করুন।

পাঠ পরিকল্পনার বিবেচ্য বিষয়ঃ

পাঠ শিরোনামঃ

এতে সাধারণত একজন শিক্ষকের পাঠ পরিচিতিমূলক তথ্যসমূহ থাকে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের নাম, শিক্ষকের নাম, বিষয়, শ্রেণি, শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, সময় ও তারিখ।

শিখনফলঃ

শিখনফলসমূহ নির্বাচন করা হয়েছে শিক্ষাক্রম থেকে। এসসিটিবি কর্তৃক প্রণয়নকৃত শিক্ষক সহায়িকা/সংস্করণেও প্রতিটি পাঠের শিখনফল সন্নিবেশ করা হয়েছে। শিখনফলের পরেই দেয়া হয়েছে পাঠ পরিচালনায় কী কী উপকরণ দরকার হবে তার তালিকা।

শিখন-শেখানো কার্যাবলিঃ

শিখন-শেখানো কার্যাবলির শুরুতেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী বা প্রস্তুত করার জন্য শিখনবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথা। পাঠের এই অংশটিতে প্রেষণা সঞ্চার কিংবা ওরিয়েন্টেশনও ( ধারণা পরিবর্তন মডেল অনুসারে) বলা যেতে পারে।  শিখন-শেখানো কার্যাবলির পরেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়টি শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে যাতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে শিখতে পারে সে জন্য পাঠ্যপুস্তকে প্রতিটি পাঠ অনুসন্ধানভিত্তিক এপ্রোচে সংগঠিত করে উপস্থাপন করা আছে। একটি পাঠের অনুসন্ধানমূলক কাজ মূলত শিক্ষার্থীরাই করবে। তবে শিক্ষক পরিষ্কার নির্দেশনা দেবেন শিক্ষার্থীরা কী পরবে (পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, চিন্তা করে ছক পূরণ ইত্যাদি) এবং কীভাবে তা করবে (একক, দলগত ভাবে)। শিক্ষার্থীদের কাজ চলাকালীন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অর্জিত প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীদের কাজ শেষে শিক্ষক আজকের পাঠের মূল প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে পারেন তার এর উত্তর খুঁজে পেয়েছে কিনা। শিক্ষার্থীদের কাজ (কাজের ফল নিয়ে আলোচনাও থাকতে পারে) সমাপ্ত হলে শিক্ষক আজকের পাঠের মূল ধারণাসমূহ নিজে ব্যাখ্যা করতে পারেন কিংবা পাঠ্যপুস্তক থেকে শিক্ষার্থীদের পড়তে বলবেন।

মূল্যায়ন ও পুনরালোচনাঃ

আজকের পাঠের শিখনফল অর্জিত হলো কতটুকু তা জানতে শিক্ষক কিছু প্রশ্ন করবেন এবং এই প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পুরো পাঠের পুনরালোচনা সম্পন্ন হবে। এ পর্যায়ে এসে একটি পাঠের পরিকল্পনা শেষ হয়েছে শিক্ষক সংস্করণে।

৪) একটি নমুনা পাঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি দূষণের কারণ ও প্রভাব বর্ণনা করুন।

শ্রেণিঃ ৩য়                        

বিষয়ঃ প্রাথমিক বিজ্ঞান

পাঠের শিরোনামঃ পানি দূষণ

শিখনফলঃ ৩.২.১ পানীয় জল ও পানের অযোগ্য জল চিহ্নিত করতে পারবে।

                     ৩.৩.১ মানুষের জন্য পানির গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারবে।

উপকরণঃ পানি দূষণের চার্ট,পুকুর বা ডোবা, বোর্ড বই

শিখন শেখানো কার্যাবলি

প্রস্তুতি

ক) কুশল বিনিময়ঃ শিক্ষার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করব এবং শিখন সহায়ক নিয়াপদ পরিবেশ সৃষ্টি করব।

খ) পূর্বজ্ঞান যাচাই ও পাঠ ঘোষণাঃ  নিম্নের প্রশ্নের মাধ্যমে পূর্বজ্ঞান যাচাই করব।

      ১) আমরা স্বাদু পানি কোথা থেকে পাই?

      ২) কোন ধরনের পানি মানুষের জন্য নিরাপদ বা অনিরাপদ?

শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের উত্তর দেবে।

শিক্ষার্থীদের উত্তরের সূত্র ধরে বোর্ডে পাঠ শিরোনাম লিখব “পানি দূষণ” এবং শিক্ষার্থীদের পাঠ শিরোনাম খাতায় লিখবে।

০৭ মিনিট

 
 
 
 
 
 
স্থা
 
 
 
 

১) অনুসন্ধানে আমন্ত্রণঃ বোর্ডে পাঠের মূল প্রশ্ন লিখব-“ পানি কীভাবে দূষিত হয়? দূষিত পানির প্রভাবে কী হতে পারে?

·       শিক্ষার্থীরা মূল প্রশ্নের আলোকে উত্তর দেবে।

২) অনুসন্ধানঃ

·       বোর্ডে পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠা ২৮ এর ছকটি আঁকব এবং শিক্ষার্থীদের তা আঁকতে বলবো।

দূষিত পানিতে কী কী থাকে?

·       শিক্ষার্থীদের ৪/৫ টি দলে ভাগ করে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিদ্যালয়ের আশেপাশে ডোবা বা দূষিত পানির উৎসের কাছে নিয়ে যাব এবং দূষিত পানি পর্যবেক্ষণ করে তা ছকে লিখতে বলবো।

·       শিক্ষার্থীদের কার্য সম্পাদনে সহায়তা করবো।

·       পর্যবেক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসবো।

·       শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পানি দূষণের একটি চার্ট দেখাব। এবং

·       দলের মতামতের ভিত্তিতে বোর্ডের ছকটি পূরণ করব।

·       বোর্ডে আরও একটি ছক আঁকবো এবং শিক্ষার্থীদের তা খাতাতে আঁকতে বলবো।

কী কী কারণে পানি দূষিত হয়

দূষিত পানি পান করার জন্য কী কী রোগ হয়

৩) সারসংক্ষেপঃ শিক্ষার্থীদের পুনরায় জিজ্ঞাসা করবো “পানি কী কী কারণে দূষিত হয় এবং দূষিত পানি পান করলে বা ব্যবহার করলে আমাদের কী ধরনের রোগ হতে পারে?’’ দলের আলোচনার সাপেক্ষে বোর্ডে আঁকা ছকটি পূরণ করবো এবং পানি দূষণের কারণ ও এর প্রভাব সম্পর্কে সারসংক্ষেপ করবো।

৪) পাঠ্যপুস্তকের সাথে সংযোগ স্থাপনঃ তৃতীয় শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের পৃষ্ঠা ২৮ নীরবে পড়তে বলবো।

মিনিট

মূ
ল্যা
নিম্নের প্রশ্নের মাধ্যমে মূল্যায়ন করব:

ক) পানি দূষণের তিনটি কারণ উল্লেখ কর।

খ) মানুষ দূষিত পানি পান করলে কী রোগ হতে পারে?

১০ মিনিট

পাঠ সমাপ্তি ও শ্রেণিকক্ষ ত্যাগঃ বোর্ড পরিষ্কার করে শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করবো।

21Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৬: প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান শিখন মূল্যায়ন

সেশন-৬.১: শিখন মূল্যায়ন, শিখন ফল, শিখন কার্যাবলি ও মূল্যায়নের গঠনমূলক সম্পর্ক

১) মূল্যায়নের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে শিখনফল, শিখন কার্যাবলি ও মূল্যায়নের গঠন মূলক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করুন।

মূল্যায়ন হলো একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখনের অগ্রগতি সম্পর্কে  তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে  সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। শিক্ষক কোন  একটি কার্যকর প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের শিখন প্রত্যক্ষ করেন এবং এই প্রত্যক্ষন থেকে বোঝার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থীরা তাদের জন্য  পপরিকল্পিত কতটুকু শিখন অর্জন করেছে এবং কীভাবে তারা তাদের শিখনে উন্নয়ন ঘটাতে পারে।  এরপর শিক্ষার্থীকে প্রয়োজনীয় ফলাবর্তন দিয়ে থাকেন। সাধারণভাবে তিনটি উদ্দ্যেশ্যে মূল্যায়ন করা হয়। এগুলো হলো –

১) উদঘাটনমূলকঃ শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞান ও বিকল্প ধারণা উদঘাটন করা যাতে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিদ্যমান ধারণার উপর নতুন ধারণা নির্মাণ করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীদের বিকল্প ধারণা পরিমার্জন করতে পারেন।

২) গাঠনিকঃ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে ফলাবর্তন  বা ফিডব্যাক দেয়া যার  ভিত্তিতে শিখন শেখানো কার্যবলি এগিয়ে নেওয়া যায়।

৩) সামষ্টিকঃ শিক্ষার্থী শিখনফল কতটুকু অর্জন করেছে তা নির্নয় বা শিক্ষার্থীর পারদর্শিতার সনদ দেয়া বা পরবর্তী শ্রেণিতে অধ্যায়নের যোগ্যতার সনদ দেয়া।

এছাড়াও কোন শিক্ষা কার্যক্রম বা শিক্ষাক্রমের মূল্যায়নের জন্য ও শিক্ষার্থী মূল্যায়ন হয়ে থাকে।

শিখনফল, শিখন কার্যাবলি  ও মূল্যায়নের গঠনমূলক সম্পর্কঃ

একটি কার্যকর শিক্ষ ন শিখনের জন্য দরকার প্রত্যাশিত শিখনফল, শিখন কার্যাবলি ও মূল্যায়নের মধ্যে একটি স্বার্থক ও গঠনমূলক আন্তঃসম্পর্ক। শিক্ষক কে একটি পাঠের পরিকল্পনা করতে হয় এ  সম্পর্ক বজায় রেখে। শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনের জন্য শ্রেণি কার্যাবলি এমনভাবে পরিকল্পনা   করতে হয় যা শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত শিখনফল অর্জনের জন্য নতুন ধারণাব গঠন  শিক্ষক কে পরিকল্পনা করতে হয় তিনি কীভাবে শিক্ষার্থীদের শিখন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করবেন যা দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত শিখন অর্জিত হয়েছে তা যাচাই করা যাবে।

নিচের চিত্রটির মাধ্যমে আমরা বিষয়টিকে আরও পরিস্কারভাবে তুলে ধরতে পারবো।

শিখনফল, শিখন কার্যাবলি ও মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছ। এখানে শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা   করা হয়েছে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান উদঘাটন ও তার উপর ভিত্তি করে।

imaage

ডায়াগনস্টিক মূল্যায়নের কৌশলঃ

নিচে ডায়াগনস্টিক মূল্যায়নের বিভিন্ন কৌশল উল্লেখ করা হল–

১) উন্মুক্ত প্রশ্ন করাঃ উন্মুক্ত প্রশ্ন করন প্রক্রিয়াটি একটি শ্রেণিকক্ষে ব্যাপকভাবে  ব্যাবহৃত হয়। শিক্ষক এ ক্ষেত্রে   অনেকগুলো  প্রশ্ন পর্যায়ক্রমে করে শিক্ষার্থীদের কে আজকের পাঠের সাথে সংশ্লিষ্ট পূর্বজ্ঞানসমুহ প্রকাশের মাধ্যমে বর্তমান পাঠের সুযোগ করে দেন। এ সংযোগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক শিক্ষার্থীর পূর্বজ্ঞানের সাথে সাথে নতুন জ্ঞানের সংযোগ করেন।

 ২) চিত্রসহ পোস্টার প্রদানঃ এ কৌশলটিতে কোন বিষয়র উপরে ডায়াগনস্টিক মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি চিত্রসহ  পোস্টার তৈরি করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চিত্রগুলো সম্পর্কে অভিমত নেওয়া হয়। এতে বিষয় সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান বের হয়ে আসে। কখনো হয়তোবা এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ভ্রান্ত ধারণার প্রকাশ পায়।  এ চিত্রসহ প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে তাদের শিখনের প্রতি উদ্দিপ্ত করা হয়।

উপসংহারঃ পরিশেষে বলতে হয় মূল্যায়নের উদ্দেশ্য, শিখনফল, শিখন কার্যাবলি এবং মূল্যায়নের গঠনমূলক সম্পর্ক অতি নিবিড়। শিখনফলের ওপর ভিত্তি করে পঠন পাঠন কার্যাবলি পপরিচালিত হয়। আর মূল্যায়নের উদ্দেশ্যের উপর করে শিক্ষার্থীর অর্জন দক্ষতার গঠনমূলকমূল্যায়ন করা হ। যা শিক্ষার্থীর শিখন অঅগ্রগতি নির্ধারণ করে।

২. পরিবেশ পরিচিতি বিষয়ের মূল্যায়ন পদ্ধতির বর্ণনা দিন।

 প্রাথমিক স্তরে ১ম ও ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য পরিবেশ পরিচিতি সমাজ ও বিজ্ঞান বিষয়ে সমন্বিত শিক্ষক সহায়িকা প্রণয়ন করা হয়েছে। কেননা পরিবারের বাইরে নতুন পরিবেশে শিশুর শিক্ষা শুরু হয় তার চারপাশের পরিবেশ থেকে। আর এই পরিবেশের মধ্যে রয়েছে তার পারিবারিক, সামাজিক এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ। সমাজ ও প্রকৃতিকে পৃথক করে উপলব্ধি করার সামর্থ্য শিশু বয়সে গড়ে ওঠে না। তাই শ্রেণিকক্ষে পরিবেশ ও এর উপাদান সম্পর্কে শিশুকে শেখানো হয়।

১ম ও ২য় শ্রেণিতে পরিবেশ পরিচিতি (সমন্বিত) বিষয়টি অনুসরণে করে একজন শিক্ষককে পাঠ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়। এই বিষয়টির মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সমাজ, পরিবেশ, দেশ ও প্রকৃতির ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারবে, উপলব্ধি করবে এবং ক্ষেত্রবিশেষে তার জ্ঞান ও দক্ষতা প্রকাশ ও প্রয়োগ করতে সমর্থ হবে। পাঠদান কার্যক্রমটিকে সফল করার জন্য শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাঠের অগ্রগতি নিশ্চিত করার জন্য পাঠ চলাকালীন শিক্ষার্থীর শিখন মূল্যায়নের প্রয়োজন হয়।

১ম ও ২য় শ্রেণির পরিবেশ পরিচিতি বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ২ ভাবে মূল্যায়ন করা যায়। যথা:

১. ধারাবাহিক মূল্যায়ন (Continuous Assessment)

এবং (২) সামষ্টিক মূল্যায়ন (Summative Assessment)।

শিখন শেখানো কার্যাবলির সাথে সমন্বিত করে শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়ন খুবই কার্যকরি ব্যাপার। কেননা শিক্ষার্থীরা কী শিখছে, কীভাবে শিখছে, তাদের শিখন ফলপ্রসূ হচ্ছে কিনা, তা যাচাইয়ের মাধ্যমে শিখন অগ্রগতি সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক মূল্যায়নের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধারাবাহিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীকে ফিডব্যাক প্রদান ও পুনর্মূল্যায়ন করা সম্ভব।

অন্যদিকে সামষ্টিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শিখন সংঘটিত হয়েছে কিনা, শুধু তা যাচাই করা হয়। মূল্যায়নের জন্য সম্পূর্ণ একাডেমিক বছরকে তিনটি প্রান্তিকে বিভক্ত করা হয়েছে – ১ম প্রান্তিক, ২য় প্রান্তিক এবং ৩য় প্রান্তিক। প্রত্যেক প্রান্তিকে নির্দিষ্ট পাঠক্রমের ভিত্তিতে শিখনফল নির্ধারণ করে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা হবে।

৩. প্রাথমিক স্তরে পরিবেশ পরিচিতি বিষয়ের মূল্যায়নের ক্ষেত্র ও বিবেচ্য বিষয়সমূহ ব্যাখ্যা করুন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ১ম ও ২য় শ্রেণিতে অন্তর্ভূক্ত পরিবেশ পরিচিতি বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য ৩টি বৃহৎ ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। যথা:

১) বিষয়জ্ঞান,

২) সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা এবং

৩) সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ।

উল্লেখ্য যে, উপরোক্ত মূল্যায়ন ক্ষেত্র তিনটি শিক্ষাক্রম-২০১২ এর আলোকে নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিজ্ঞানমনষ্কতা কিংবা বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীদের এই তিন ক্ষেত্রেই শিখন আবশ্যক। এই তিনটি ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের শিখন কী ধরনের হতে পারে বা কী ধরনের সুনির্দিষ্ট আচরণ শিক্ষার্থীদের কাছে শিক্ষক প্রত্যাশা করতে পারেন, তা ‘বিবেচ্য বিষয়’ কলামে সংযোজন করা হয়েছে।

পরিবেশ পরিচিতি বিষয়ে ১ম-২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন মূল্যায়নের জন্য ২ ধরনের মূল্যায়ন পদ্ধতি রয়েছে। সেগুলো হলো:

 ক) মৌখিক মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং

খ) পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি।

প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের বিষয়জ্ঞান যাচাইয়ের জন্য মৌখিক পদ্ধতি এবং সামাজিক ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা এবং দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধ যাচাইয়ের জন্য পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

৪. প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য একটি মৌখিক ও লিখিত মূল্যায়ন চেকলিস্ট তৈরি করুন।

প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের মৌখিক মূল্যায়ন চেকলিস্ট:

১. আমাদের শ্রেণিকক্ষে কী কী আছে বল?

২. এগুলোর মধ্যে কোনগুলো মানুষের তৈরি বল?

৩. আমরা কীভাবে পরিবেশের শ্রেণিবিন্যাস করতে পারি?

৪. প্রাকৃতিক পরিবেশের ৫টি উপাদানের নাম বল।

৫. মানুষের তৈরি পরিবেশ কী?

প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের লিখিত মূল্যায়ন চেকলিস্ট:

১. পরিবেশকে কীভাবে শ্রেণিবিন্যাস করা যায়?

২. প্রাকৃতিক ও মানুষের তৈরি পরিবেশের মধ্যে ৩টি পার্থক্য লেখ।

৩. নিচের কোনগুলো প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদন?

চেয়ার, নদী, বাড়ি, ডিম, মাটি, আসবাবপত্র, গাছ, নৌকা, পাহাড়, জামা, বিদ্যালয়, ফুল।

 

৫. মূল্যায়ন কী? প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান বিষয়ে মূল্যায়নের গুরুত্ব বর্ণনা করুন।

মূল্যায়ন

মূল্যায়ন হলো এমন একটি কৌশল যার মাধ্যমে শিক্ষার সামগ্রীক উদ্দেশ্য বা শিখনফল অর্জনে শিক্ষার্থীরা কতটুকু এগিয়েছে তা নিরূপণ করা। এটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়াও বটে। মূল্যায়ন (Evaluation) শব্দটির আভিধানিক অর্থ হলো কোনো কিছুর মূল্য আরোপ করা। কোনো বিষয়ের উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীরা কতটুকু আয়ত্ত করতে পেরেছে তা নিরূপণের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, বিচার বিশ্লেষণ ও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন বলে।

প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান বিষয়ে মূল্যায়নের গুরুত্ব:

শিক্ষায় লক্ষ্য কতটুকু অর্জিত হল তা জানতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, প্রশাসক ও অভিভাবককে মূল্যায়ন সহায়তা করে থাকে। নিম্নে মূল্যায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হলো:

  • বিজ্ঞান বিষয়ক প্রেষণা সৃষ্টি করা।
  • বিজ্ঞান শিক্ষার লক্ষ্যকে ব্যাখ্যা ও সুস্পষ্টকরণে উত্তম মূল্যায়ন পদ্ধতির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
  • বিজ্ঞান ভীতি দূর করার পাশাপাশি মূল্যায়নকে শিক্ষার্থীদের নিকট আনন্দদায়ক করে তোলা।
  • শিক্ষার্থীর বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও দক্ষতা মূল্যায়ন করা।
  • প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা যাচাই কররে বৈজ্ঞানিক ধারণা পরিস্কারভাবে শিক্ষার্থীদের জানতে উদ্বুদ্ধ করা যায়।
  • শিক্ষার্থীর শিখন দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং শিক্ষার্থীর অর্জন ও অগ্রসরতা যাচাই করা।
  • ফলাবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে।
21Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৫: প্রাথমিক বিজ্ঞান শিখন শেখানো সামগ্রী

সেশন-৫.২: বিজ্ঞান শিখন-শেখানো কার্যক্রমে শিখনসামগ্রী ও শিক্ষাসহায়ক উপকরণের প্রয়োজনীয়তা, শিক্ষোপকরণ সনাক্ত, বিজ্ঞান শিখন শেখানো কার্যক্রমে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার  এবং স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যের উপকরণ তৈরি ও ব্যবহার

১) বিজ্ঞান শিখন-শেখানো কার্যক্রমে শিখনসামগ্রী ও শিক্ষাসহায়ক উপকরণের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।

বিজ্ঞানে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে শিখনসামগ্রী ও শিক্ষাসহায়ক উপকরণের প্রয়োজনীয়তাঃ

বর্তমান সময়ে শিখনের ধারণার সাথে সাথে শিখন উপকরণের প্রয়োজনীয়তার ধরন পরিবর্তন হয়েছে। বিজ্ঞান শিখনকে সহজবোধ্য,আকর্ষণীয় ও বৈচিত্রময় করার জন্য আগে বিভিন্ন প্রচলিত সহায়ক উপকরণ যেমন- ফ্লিপচার্ট, মডেল, পোস্টার ইত্যাদি ব্যবহার করা হতো। কিন্তু এখন এসবের বাইরেও বিজ্ঞান ক্লাসে শিখন উপকরণ ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য দাঁড়িয়েছে অনুসন্ধানমূলক কাজের মাধ্যমে কার্যকরী শিখন। বর্তমানে বিজ্ঞান শিখনের ব্যাপারে বলা হচ্ছে যে, শিক্ষক শিক্ষার্থীকে আক্ষরিক অর্থে সরাসরি কিছু শেখান না। বরং শিক্ষার্থী নিজেই তার পূর্বজ্ঞানের ভিত্তিতে নতুন নতুন শিখন অভিজ্ঞতার আলোকে তার পরিবর্তিত ধারণা গঠন করে। এই শিখন অভিজ্ঞতা তৈরির একটা কার্যকরী উপায় হলো তাকে ওই বিষয়সংক্রান্ত কোন অনুসন্ধানমূলক কাজে সম্পৃক্ত করা আর শিক্ষার্থীর জন্য এ ধরণের শিখন অভিজ্ঞতার সুযোগ করে দিতে প্রায় ক্ষেত্রেই বিভিন্ন ধরনের সহায়ক উপকরণের প্রয়োজন পড়ে। শিক্ষার্থীরা যখন নিজ হাতে কলমে পরীক্ষণ বা বাস্তব কোন কিছু পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শেখে তখন বিজ্ঞান শিখন বেশি কার্যকর হয়। তাই বিজ্ঞান পাঠপরিকল্পনায় শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানমূলক কাজ অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং প্রয়োজনবোধে পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি অন্যান্য উপকরণেরও সাহায্য নিতে হবে।

২) একজন শিক্ষক বিজ্ঞান শিখন-শেখানো কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ সনাক্ত করবেন কীসের ভিত্তিতে?

একজন শিক্ষককে শিখন-শেখানো কার্যক্রমে পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করতে হয়। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে অন্যান্য উপকরণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটা বড় চ্যালেঞ্জ সামনে চলে আসে, সেটা হলো- উপযুক্ত উপকরণ সনাক্ত এবং সংগ্রহ করা। শিখন-শেখানো কার্যক্রমে উপকরণ সনাক্তকরণের ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন-

  • কোন নির্দিষ্ট ইউনিট পড়ানোর সময় উপকরণ নির্বাচনের আগে শিখনফল এবং তার সাথে সংশ্লিষ্ট শিখন অভিজ্ঞতা নির্ধারণ করা জরুরি। অনেক সময় পাঠ্যপুস্তকে বিভিন্ন অনুসন্ধানমূলক কাজ এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের কথা উল্লেখ থাকে। কিন্তু এর বাহিরেও শিক্ষকের নিজস্ব সৃজনশীলতা কাজে লাগাতে হবে।
  • বিজ্ঞান শিক্ষার ক্ষেত্রে উপকরণ সনাক্ত করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে সেটা অনুসন্ধানমূলক শিখনকে সহায়তা করে কিনা। অনুসন্ধানমূলক শিখনের একটা বড় বৈশিষ্ট্য হলো শিক্ষার্থী নিজ হাতে কলমে পরীক্ষণ বা পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে কোন ঘটে যাওয়া ঘটনার কার্যকরণ নিজেই ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করবে। এক্ষেত্রে শিখন উপকরণ ব্যবহারে শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা থাকতে হবে।
  • শিক্ষককে প্রথমেই ভেবে দেখতে হবে শিখনফলের সাথে সম্পর্কিত কী কী অভিজ্ঞতার সাথে শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনে পরিচিত হবার সুযোগ আছে এবং শ্রেণিকক্ষে এরকম কী কী অভিজ্ঞতার সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। সেজন্য কী কী শিখন উপকরণ প্রয়োজন ।
  • যদি কোন উপকরণ সহজলভ্য না হয়, তাহলে বিকল্প কী উপকরণ ব্যবহার করা যেতে পারে তা ভেবে রাখতে হবে। ক্লাসের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সকল শিক্ষার্থীদের কথা মাথায় রেখে উপকরণের যথাযথ ব্যবহার সম্ভব কিনা তা যাচাই করতে হবে।
  • উপকরণ সব সময় শিক্ষকেই ঠিক করে দিতে হবে এমনটি কিন্তু নয়। শিক্ষার্থীদেরকেও উপকরণ সনাক্ত এবং সংগ্রহ করার দায়িত্ব দিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যদি নিজে উপকরণ সংগ্রহ বা তৈরি করে তবে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা যে শুধু বাড়বে তাই নয়, বরং শিখনের বিষয়বস্তুর সাথে নিজের সম্পৃক্ততা তৈরি হবে।

বিজ্ঞান শিখনের বেলায় উপকরণ নির্বাচনের দায়িত্ব শিক্ষার্থীদের উপরই ছেড়ে দেয়া উচিত। কারণ শিক্ষার্থী পরিকল্পিত অনুসন্ধান প্রক্রিয়া তখনই কার্যকর হবে যখন শিক্ষার্থী বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা কাজে লাগিয়ে নিজে কোন অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিকল্পনা করবে এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ নিজেই নির্বাচন করে কাজটি বাস্তবায়ন করবে।

৩) বিজ্ঞান শিখন-শেখানো কার্যক্রমকে ফলপ্রসূ করতে আইসিটি ব্যবহারের গুরুত্ব আলোচনা করুন।

বিজ্ঞান ক্লাসে এটা মাথায় রাখা অত্যন্ত জরুরি যে শিখন উপকরণ যাই হোক না কেন, তা যেন বিজ্ঞান শিখনকে কার্যকরী করতে সহায়তা করে অর্থাৎ অনুসন্ধানমূলক কাজে উৎসাহিত করে। এক্ষেত্রে আইসিটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আইসিটি বললেই কম্পিউটার, প্রজেক্টর ইত্যাদি ডিভাইসের প্রসঙ্গ চলে আসে। সম্প্রতি বাংলাদেশের স্কুলগুলোতেও এসব প্রযুক্তিগত সুবিধা পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞান ক্লাসে প্রযুক্তির ব্যবহার বিভিন্নভাবে হয়ে থাকে। যেমন- চাঁদের দশা পরিবর্তন ক্লাসরুমে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়, কাজেই শিক্ষক এই সংক্রান্ত একটা এনিমেটেড ভিডিয়ো ক্লিপ তার পাঠ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। একই ভাবে অণু,পরমাণূর গঠন, সৌরজগতের গ্রহসমূহ, পদার্থের রাসায়নিক পরিবর্তন ইত্যাদি অনেক বিষয়ই ক্লাসরুমে সরাসরি পর্যবেক্ষণযোগ্য নয়। এসব বিষয় আলোচনায় এনিমেটেড ভিডিয়ো, স্থিরচিত্র, ডায়াগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার অনেক সময় আলোচনা সহজ হয়। আবার শিক্ষার্থীর অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় সাহায্য নিতেও আইসিটি টুল কাজে আসতে পারে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনুসন্ধান কাজের উপাত্ত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, উপস্থাপন ইত্যাদি সকল ধাপেই সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেতে পারে। ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরি এর একটি ভালো উদাহরণ। অনেক সময় স্কুলে বাস্তব উপকরণের অভাবে, নিরাপত্তাজনিত ঝুকি বা অন্যান্য কারণে হাতে কলমে অনেক পরীক্ষণ করা সম্ভব হয় না। ভার্চুয়াল ল্যাবরেটরি অনেক ক্ষেত্রে এই ধরণের পরীক্ষণের সুযোগ করে দিতে পারে, যাতে শিক্ষার্থী নিজেই চলক পরিবর্তন করে ফলাফল পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়।

৪) স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যের উপকরণ কাকে বলে? স্বল্পমূল্য শিক্ষা উপকরণ তৈরির গুরুত্ব বা মূল্য সম্পর্কে আলোচনা করুন।

স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যের উপকরণঃ শিক্ষক ও শিক্ষার্থী স্বল্পমূল্য বা বিনামূল্যে বিভিন্ন উপকরণ সংগ্রহ করে নিজ হাতে বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি বা মডেল বা শিক্ষার উপকরণ তৈরি করতে পারেন। এসব উপকরণকে স্বল্পমূল্য বা স্বল্পমূল্যের উদ্ভাবনীমূলক বা বিনামূল্যে ঘরোয়াভাবে প্রস্তুত উপকরণ বলে। এরকম উপকরণ তৈরির সকল উপাদানই আশেপাশের পরিবেশ ও কম্যুনিটি থেকে সংগ্রহ করা হয়। বিদ্যালয় ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বাড়ি বা পরিবেশ থেকে ফেলে দেওয়া অব্যবহার্য কোন জিনিস বা স্থানীয় বাজার থেকে খুবই অল্প দামের জিনিসপত্র কিনে এ ধরনের যন্ত্রপাতি ও উপকরণ তৈরি করা হয়। তবে এই ধরনের যন্ত্রপাতি তৈরিতে দরকার শিক্ষক- শিক্ষার্থীর আগ্রহ ও সৃজনশীলতা।

স্বল্পমূল্য শিক্ষা উপকরণ তৈরির গুরুত্ব বা মূল্যঃ স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যের শিক্ষা উপকরণের কয়েক ধরনের মূল্য রয়েছে। এগুলো নিম্নরূপঃ

  • অর্থনৈতিক মূল্যঃ একজন শিক্ষককে বা একটি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণির জন্য অনেক উপকরণ তৈরি অথবা সংগ্রহ করতে হয়। আমাদের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে অনেক বিদ্যালয়েই উপকরণ সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট অর্থ পাওয়া যায় না। এই সমস্যা সমাধানের উপায় হলো স্বল্প মূল্যের তৈরি বা হাতে তৈরি উপকরণ। এই ধরনের উপকরণ তৈরি করা হয় ফেলে দেওয়া বা অব্যবহৃত জিনিসপত্র থেকে বা অল্পদামে স্থানীয় বাজার থেকে কিনে। প্লাস্টিক বা কাঁচের বোতল ও অন্যান্য পাত্র, ব্যবহৃত ব্যাটারি, ব্যবহৃত কাঠ, নষ্ট বাল্ব, তারকাঁটা ইত্যাদি থেকে এমন উপকরণ তৈরি করা যেতে পারে যা অনেক দামি উপকরণের পরিবর্তে ব্যবহার করা যায় । এতে বিদ্যালয়ের অর্থের সাশ্রয় হয়।
  • শিক্ষাগত মূল্যঃ স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যের উপকরণ তৈরি ও ব্যবহারের শিক্ষাগত মূল্য অনেক। প্রথমত উপকরণ তৈরিতে ও সংগ্রহে শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হলে শিক্ষার্থীর শিখন বেশি শক্তিশালী হয়। যেমন- শিক্ষার্থী নিজে পানির মডেল তৈরি করলে পানির অণুর গঠন ও আকৃতি সম্পর্কে শিক্ষার্থীর কোন রকম দ্বিধা থাকে না। দ্বিতীয়ত, শিক্ষার্থী সরাসরি এ কাজে যুক্ত হয় বলে শিক্ষার্থী রসায়ন শিখন প্রক্রিয়াতে নিজেকে একাত্ন করতে পারে, শেখাকে নিজের বলে মনে করে এবং স্ব-শিখনে উদ্বুদ্ধ হয়। তৃতীয়ত, শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে কিছু তৈরির দক্ষতা ও সৃজনশীলতা বিকশিত হয়। বিজ্ঞানের ধারণা ব্যবহার করে ব্যবহার উপযোগী কোন যন্ত্র তৈরি করা বিজ্ঞান শিক্ষার অন্যতম উদ্দেশ্য। সবশেষে, শিক্ষার্থী নিজ হাতে কোন বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি তৈরি করে ব্যবহার করলে বিজ্ঞান শেখার প্রতি আর আগ্রহ ও আস্থা বৃদ্ধি পায়।
  • সামাজিক মূল্যঃ স্বল্পমূল্য ও বিনামূল্যের উপকরণ তৈরিতে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একসাথে কাজ করেন। এর ফলে কাজের প্রতি বা কায়িক শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি হয়। শিক্ষার্থী ও শিক্ষক একসাথে কাজ করলে সহযোগিতামূলক মানসিকতা ও দক্ষতা তৈরি হয়। আবার ফেলে দেওয়া উপকরণ ব্যবহার করে কোন কিছু তৈরি করা হলে বিভিন্ন জিনিসপত্রের পুনঃব্যবহার ও পুনরুৎপাদনে শিক্ষার্থীদের মানসিকতা, সচেতনতা ও দক্ষতা তৈরি হয়য়। এটি পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য সহায়ক।

21Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৫: প্রাথমিক বিজ্ঞান শিখন শেখানো সামগ্রী

সেশন-৫.১: বিজ্ঞান শিখন-শেখানো কার্যক্রমে শিক্ষা উপকরণের ধারণা, শিক্ষা উপকরণের প্রকারভেদ, নির্বাচন ও ব্যবহারের নীতিমালা

১) শিখন সামগ্রী বলতে কী বোঝায়? বিজ্ঞনের শিখন শেখানো কার্যক্রমে শিক্ষা উপকরণের প্রকারভেদ বর্ণনা করুন।

শিক্ষাক্রমের অন্তর্গত বিষয়বস্তু ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে উপস্থাপনের জন্য যে সকল বাহন বা মাধ্যম ব্যবহার করা হয় তাই শিখন সামগ্রী। প্রকৃতপক্ষে একজন শিক্ষক তার পাঠ উপস্থাপনের জন্য বিভিন্ন ধরনের শিখন শেখানো সামগ্রীর প্রয়োজন উপলব্ধি করেন। শিখন শেখানো সামগ্রী একদিকে যেমন শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিক্ষার দিকে মনোযোগী করে অন্য দিকে শিক্ষকের জন্য শিক্ষন কাজ সহজতর হয়ে উঠে। যেমন- লিখিত সামগ্রী অর্থাৎ পাঠ্য পুস্তক, শিক্ষক সহায়িকা, রেফারেন্স বই ইত্যাদি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে তোলে।

শিক্ষা উপকরণের প্রকারভেদঃ

শিক্ষার্থীর শিখনকে স্থায়ী ও সার্থক করার জন্য শিক্ষক বিভিন্ন ধরনের শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করে থাকেন। তবে শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার শুরু হওয়ার পর শুধুমাত্র চক বোর্ডকে কেন্দ্র করেই শ্রেণিতে শিখন কাজ পরিচালনা করা হতো। বর্তমানে শিক্ষা উপকরণ ব্যবহারের ব্যাপ্তি পেয়েছে। তাই শিক্ষা উপকরণ বিভিন্ন রূপ লাভ করেছে।

বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর কাজে ব্যবহৃত উপকরণগুলোকে বিভিন্ন বিবেচনায় শ্রেণিবিভাগ করা যায়। যেমন-

সংগ্রহের উৎস হিসেবে উপকরণ ৩ প্রকার। যথা:

১. বাণিজ্যিক উপকরণঃ

[…]
20Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৪: প্রাথমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষণ কৌশলসমূহ

সেশন-৪.৩: অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞান শিখন, অনুসন্ধানমূলক কাজের ধরণ ও বৈশিষ্ট্য এবং শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিজ্ঞান শিখন-শেখানো- প্রয়োজনীয়তা, পরিচালনা

১. অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞান শিখন কী?  অনুসন্ধানভিত্তিক বিজ্ঞান শিখনের গুরুত্ব আলোচনা করুন।

অনুসন্ধানকিত্তিক বিজ্ঞান শিখন:

অনুসন্ধান এমন একটি প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা কােন একটি বিষয়, সমস্যা   ইস্যু সম্পর্কে সম্যক ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করেন বা ঐ সমস্যার সমাধান খোঁজেন। তবে অনুসন্ধান কেবল বিজ্ঞানীরাই করেন না প্রতিটি মানুষের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অনুস্ধানের দরকার হয়, তাই প্রত্যেকরই অনুসন্ধান করার দক্ষতা অর্জন আবশ্যক।

[…]
19Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৪: প্রাথমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষণ কৌশলসমূহ

সেশন-৪.২: ৫ই মডেল, পিওই ও সহযোগিতামূলক শিখন এবং দলীয় কাজ- গুরুত্ব, বাস্তবায়ন কৌশল

১. 5E মডেল বর্ণনাপূর্বক দেখান যে, এটি শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণের ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর মডেল।

অথবা, বিজ্ঞান ক্লাসকে কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য 5E মডেলের গুরুত্ব উল্লেখপূর্বক প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের যে কোনো একটি পাঠ/বিষয়বস্তু উল্লেখপূর্বক 5E মডেলের ব্যবহার করে আপনি কীভাবে শিখন-শেখানো কার্যাবলি পরিচালনা করবেন তা বিস্তারিত লিখুন।

শিখনের তাত্ত্বিক দিকগুলো শ্রেণিকক্ষে অনুশীলনের মাধ্যমে শিক্ষকরা নানা ধরনের মডেল ব্যবহার করে থাকলেও বিজ্ঞান শিক্ষার 5E মডেল একটি আধুনিক মডেল। 5E মডেল প্রাথমিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে একটি খুবই কার্যকর মডেল। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শিখনের জন্য যেমন তাদের নিবিড়ভাবে নিয়োজিত রাখার উৎসাহ পায়, ঠিক তেমনি তাৱা শিখনকে নতুন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে প্রয়োগ করারও সুযোগ পায়। এই মডেল পাঁচটি ভিন্ন কিন্তূ সম্পর্কযুক্ত ধাপে সজ্জিত। নিচে তাদের আলাদা আলাদা করে বর্ণনা দেওয়া হলো:

ক) Engage বা নিবিড়ভাবে জড়িত করা: শুরুতেই শিক্ষক ঐ পাঠের টপিক বা বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট ও শিক্ষার্থীদের জীবনঘনিষ্ঠ কোনো ঘটনা উপস্থাপন করে সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন আহবান করে তাদেরকে বিষয়ের প্রতি আগ্রহী ও কৌতুহলী করে তোলা হয়। শিক্ষক পাঠের বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান যাচাই করেন, শিক্ষার্থীদের জন্য শিখন টার্গেট ও মূল্যায়ন নাজিল নির্ধারণ করেন।

[…]
19Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০৪: প্রাথমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষণ কৌশলসমূহ

সেশন-৪.১: ব্রেইনস্টর্মিং, কনসেপ্ট ম্যাপিং বা ধারণা মানচিত্র এবং মাইন্ডম্যাপিং

১. ব্রেইন স্টর্মিং কী? এটি কীভাবে কাজ করে?       

ব্রেইন স্টর্মিং:

ব্রেইন স্টর্মিং হলো একটি কৌশল, যার দ্বারা শিক্ষক কোনো বিষয়ে শিক্ষাথীদের বিষয় সংশ্লিষ্ট পূর্বজ্ঞানের ধারনা সমূহ সংগ্রহ কাতে পারেন। এটি একটি সৃজনশীল ও সমস্যা সমাধান কৌশল। এটি মূলত কোনো পাঠ শুরুর পূর্বে শিক্ষার্থীদেরপূর্বজ্ঞান যাচাইয়ে ব্যবহৃত হয়। 

ব্রেইন স্টর্মিং যেভাবে কাজ করে:

[…]
15Sep2020

অধ্যায় ৩: শিক্ষার্থীর বিজ্ঞান শিখন: সাম্প্রতিক তত্ত্বসমূহ

সেশন-৩.১: গঠনবাদী শিখনতত্ত্ব, সামাজিক-সাংস্কৃতিক শিখনতত্ত্ব বা সামাজিক গঠনবাদ তত্ত্ব এবং ধারণা পরিবর্তন মডেল

১) গঠনবাদী শিখনতত্ত্ব কাকে বলে ? গঠনাবাদী শিখনতত্ত্বে মূল কথাগুলো কী?

গঠনবাদী শিখনতত্ত্ব

শিশুদের পূর্ব-জ্ঞান সম্পর্কিত গবেষণার ফসল হলো গঠনবাদী শিখনতত্ত্ব। কোন ধারণা বা অর্থ গঠনে অর্থাৎ শিক্ষার্থীর শিখনে শিক্ষার্থীর নিজের ভূমিকাকেই গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। এখানে তার শিক্ষক, সহপাঠী, পরিবার বা সমাজের ভূমিকাকে গুরুত্ব দেয়া হয়নি। মূলত একেই ব্যক্তিগত গঠনবাদ বলা হয়।

[…]
15Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০২: প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক

সেশন-২.১: বাংলাদেশের প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম কাঠামো, প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম বিশ্লেষণ এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের বৈশিষ্ট্য

১) প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞানের শিক্ষাক্রম কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করুন।

প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম কাঠামো

যে কোন স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম কাঠামোতে বিজ্ঞান শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরেরও এর ব্যতিক্রম নেই। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাক্রম কাঠামোতেও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শেখানোর মূল লক্ষ্য হলো তাদেরকে বৈজ্ঞানিকভাবে সাক্ষর করে গড়ে তোলা। শিশুর বেড়ে ওঠাকালীন সময়েই তার আশেপাশের জগৎ বা তার পরিবেশ নিয়ে নানা জিজ্ঞাসার জন্ম নেয়। যেমন-

[…]
15Sep2020

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০১: প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষার লক্ষ্য

সেশন-১.১: প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষার লক্ষ্য, বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, বিজ্ঞানের জ্ঞান ও অনুসন্ধানের প্রকৃতি

১) বিজ্ঞান কী? প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিজ্ঞান শিক্ষার লক্ষ্য আলোচনা করুন।

অথবা, বিজ্ঞান কী? কোন লক্ষ্যকে সামনে রেখে আপনি শ্রেণিতে বিজ্ঞান শেখাবেন? কেন সে লক্ষ্য অর্জন করতে হবে বিজ্ঞানমনস্কতা ও বৈজ্ঞানিক সাক্ষরতার মধ্যে সম্পর্ক লিখুন।

অথবা, বিজ্ঞান কী? শিক্ষার্থীরা কেন বিজ্ঞান শিখবে? আলোচনা করুন।

বিজ্ঞান হলাে প্রকৃতি ও প্রকৃতিতে ঘটা ঘটনাবলি সম্পর্কিত জ্ঞান। অবশ্যই এই জ্ঞান পরীক্ষা – নিরীক্ষা হতে প্রাপ্ত অথবা পরীক্ষা-নিরীক্ষা দ্বারা সমর্থিত। অন্যভাবে বলা যায়, বিজ্ঞান হলাে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত বা পরীক্ষা নীরিক্ষা দ্বারা সমর্থিত জ্ঞান যার মাধ্যমে প্রকৃতি ও প্রকৃতিতে ঘটা ঘটনাবলিকে ব্যাখ্যা করা যায় ।

বিজ্ঞান শিক্ষার লক্ষ্যঃ

[…]

Ad

error: Content is protected !!