বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিববর্তনে হরমোনের ভূমিকা - Proshikkhon

বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিববর্তনে হরমোনের ভূমিকা

বয়ঃসন্ধিকালের শারীরিক পরিববর্তনে হরমোনের ভূমিকা

বয়ঃসন্ধির কারণসমূহ বর্তমান শতাব্দী শুরু আগেও সঠিকভাবে জানা যায় নি। অন্তঃক্ষরা গ্রহিন্থ সম্বন্ধে বিভিন্ন ধরনের গবেষণা শুর হলে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এর কারণগুলো আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে। সময় অতিক্রমের সাথে সাথে গ্রন্থি রস-নিঃসরণের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। পরিণতি স্বরূপ যৌন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের গঠন এবং কর্মক্ষমতার উন্নতি সাধন হয়।

বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় বয়ঃসন্দি হচ্ছে মেয়েদের বেলায় ডিম্বকোষের তথা জপায়ুসহ অন্যান্য অঙ্গসমূহের বৃদ্ধি এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রস্টেট গ্রন্থি ও শুক্রবাহী কোসমসূহের বৃদ্ধি। নিম্নে বয়ঃসন্ধির কারণসমূহ বর্ণনা করা হলো:

) পিটুইটারি গ্রন্থির ভূমিকা:

    পিটিুইটারি গ্রন্থি থেকে অনেকগুলো হরমোন নিঃসৃত হয় এর মধ্যে দুই ধরনের রস হলো শরীর বর্ধক হরমোন এবং গোনডোট্রপিক হরমোন। দেহের উচ্চতা ও আকৃতি শরীর বর্ধক হরমোনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হয় আর যৌন গ্রন্থি কর্মকান্ডের উপর প্রভাব রয়েছে গোনাডোট্রপিক হরমোনের। বয়ঃসন্ধির ঠিক পূর্বে গোনাডোট্রপিক হরমোনের পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় যৌন-গ্রন্থির তৎপরতা বেড়ে যায় বলে যৌন পরিবর্তন শুর হয়। ফলিকল উদ্দীপক হরমোন স্ত্রী ডিম্বাশয়ের ফলিকল গঠন এবং পুরষ জনন কোষের পূর্ণতা লাভে সহায়তা করে।

    পিটুইটারি গ্রন্থি যেসব উদ্দীপক হরমোন নিঃসৃত করে যেমন, এড্রিনোকন্টিকোট্রপিক (ACTH), গোনাডোট্রপিক হরমোন এবং বৃদ্ধির হরমোন-সেগুলো অন্যান্য অধিকাংশ অন্তঃক্ষরা গ্রন্থিকে উদ্দীপিত করে এবং নিজেদের বৃদ্ধির সহায়ক হরমোনসমূহে উদ্দীপনার সঞ্চার করে। এসব হরমোনসমূহের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন, অ্যাড্রিনল গ্রন্থি থেকে কর্টিসল, এন্ড্রোজেন এবং যৌন হরমোনসমূহ। যেমন, পুরুষদের টেস্টোস্টেরন এবং মহিলাদের এস্ট্রোজেন উল্লেযোগ্য। হরমোনসমসূহের মিথস্ক্রিয়ার ফলে বয়ঃসন্ধি এবং শারীরবৃত্তীয় বিকাশ অনুষ্ঠিত হতে থাকে।

) যৌন গ্রন্থির ভূমিকা:

    যৌন গ্রন্থির আকৃতি ও ক্ষমতার পরিবর্তন শুর হওয়ায় প্রাথমিক যৌন বৈশিষ্ট্য অর্থাৎ লিঙ্গের আকৃতি বড় হয় ও সঠিক কর্মক্ষমতা অর্জন করে। যৌন গ্রন্থির মধ্যে মেয়েদের থাকে ডিম্বানু এবং ছেলেদের শুক্রাণু, কিন্তু জন্মের সময় গ্রন্থি কার্যক্ষম থাকে না। সয়ঃসন্ধিতে কার্যক্ষম হয়।

    বয়ঃসন্ধিাকালে যৌন গ্রন্থি পূর্ণতা লাভ করে এবং যৌন হরমোন বৃদ্ধি পায়। এ সময় এস্ট্রোজেন এন্ড্রোজেনের প্রভাবে বিভিন্ন যৌন বৈশিস্ট্য, যেমন-স্তন স্পষ্ট ও সুডৌল হওেয়া, শারীরিক গড়ন ও কন্ঠস্বরের পরিবর্তন, বগল ও যৌনাঙ্গের আশেপাশে লোম উদগমন, যৌনাঙ্গ বর্ধিত হওয়া, দাড়িগোঁফ গজানো প্রভৃতি বিকাশ লাভ করে। যৌন হরমোনের প্রভাবে বাল্যকালেই মেয়েরা মেয়েসুলভ এবং পুরুষরা পুরুষসুলভ আচরণ করতে সক্রিয় হয়ে উঠে।

) পিটুইটারি গ্রন্থি যৌন গ্রন্থির পরিপক্কতা:

    যৌন গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনকে পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন গোনডোট্রপিক হরমোন উদ্দীপিত করে কিন্তু যৌন গ্রন্থির রস আবার পিটুইটারি গ্রন্থিতে উৎপন্ন বর্ধক হরমোনোর উপর প্রভাব বিস্তার করে অর্থাৎ বর্ধক হরমোনের পরিমাণ হ্রাস করে। হরমোনের কর্মকান্ডের এরূপ মিথস্ক্রিয়ার ফলে দৈহিক বৃদ্ধি ধীর গতিসম্পন্ন হয়। যতদিন মানুষের সন্তান উৎপাদনের ক্ষমতা বজায় থাকে অর্থাৎ মহিলাদের ঋতুস্রাব বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এ দুটি গ্রন্তির পারস্পারিক প্রভাব একইরকম থাকে। মহিলারা ঋতুবন্ধের বয়সে প্রবেশ করলে এবং পুরুষদের সন্তান উৎপাদন ক্ষমতা লুপ্ত হলে এরকম পারস্পরিক প্রভাব কমে আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!