-আসাদুর রহমান
সহকারি শিক্ষক, শুক্রবাটী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
ধামইরহাট, নওগাঁ
শিশুর মনের কষ্ট দূর করে তাকে পড়াশোনায় মনোযোগী এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যতের উপযোগী করে গড়ে তোলা প্রতিটি বাবা-মা ও শিক্ষকের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। শিশুরা অনেক সময় তাদের মনের কষ্ট বা চাপ মুখে প্রকাশ করতে পারে না, যা তাদের পড়াশোনা এবং আচরণে প্রভাব ফেলে।
কার্যকর শিখনের উপায় আলোচনা করা হলো: পড়াশোনায় মন দেওয়ার প্রথম শর্ত হলো একটি শান্ত ও খুশি মন। তাই আগে তার মনের কষ্ট দূর করতে হবে।
বন্ধুর মতো কথা বলুন: শিশুকে প্রতিদিন কিছুটা সময় দিন যেখানে সে কোনো ভয় ছাড়াই নিজের মনের কথা বলতে পারে। তার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনুন, মাঝপথে থামিয়ে দেবেন না বা বকা দেবেন না।
ভয় ও ট্রমা চিহ্নিত করুন: শিশু স্কুলে কোনো বুলিং (উত্ত্যক্ত করা), শিক্ষকের অতিরিক্ত শাসন, নাকি পারিবারিক কোনো অশান্তির কারণে কষ্টে আছে—তা বোঝার চেষ্টা করুন। সমস্যা জানতে পারলে তা দূর করার পদক্ষেপ নিন।
নেতিবাচক তুলনা বন্ধ করুন: “অমুকের ছেলে/মেয়ে কত ভালো রেজাল্ট করেছে, তুমি পারো না”—এই ধরনের তুলনা শিশুর মনে তীব্র ক্ষোভ ও কষ্টের জন্ম দেয়। তাকে তার নিজের গতিতে এগোতে দিন।
ভালোবাসা ও আশ্বস্ততা: শিশুকে বোঝান যে পরীক্ষায় কম নম্বর পেলেও আপনার কাছে তার গুরুত্ব কমবে না।
পুরস্কার ও উৎসাহ: পড়াশোনা শেষ করলে তাকে তার প্রিয় কোনো কার্টুন দেখতে দেওয়া, গল্প শোনানো বা পছন্দের খাবার তৈরি করে দেওয়ার মতো ছোটখাটো পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখুন।
পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার: মনের সুস্থতার সাথে শরীরের গভীর সংযোগ রয়েছে। শিশুর যেন ৮ – ৯ ঘণ্টা ঘুম জরুরি।
একটি জরুরি কথা: শিশুর মন অত্যন্ত সংবেদনশীল। জোর করে বা শাসন করে সাময়িক মনোযোগ পাওয়া গেলেও দীর্ঘমেয়াদে তা ক্ষতি করে। তাই ধৈর্য ধরুন, তাকে সময় দিন এবং ভালোবাসার মাধ্যমে তার মনের কষ্ট দূর করুন।
