প্রাথমিক বিজ্ঞান (পিকে); অধ্যায়-২ বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম - Proshikkhon

প্রাথমিক বিজ্ঞান (পিকে); অধ্যায়-২ বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম

ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান

অধ্যায়-০২: প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক

সেশন-২.১: বাংলাদেশের প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম কাঠামো, প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম বিশ্লেষণ এবং প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের বৈশিষ্ট্য

১) প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞানের শিক্ষাক্রম কাঠামো সম্পর্কে আলোচনা করুন।

প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম কাঠামো

যে কোন স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাক্রম কাঠামোতে বিজ্ঞান শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। প্রাথমিক শিক্ষা স্তরেরও এর ব্যতিক্রম নেই। সারাবিশ্বের মতো বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষাক্রম কাঠামোতেও বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শেখানোর মূল লক্ষ্য হলো তাদেরকে বৈজ্ঞানিকভাবে সাক্ষর করে গড়ে তোলা। শিশুর বেড়ে ওঠাকালীন সময়েই তার আশেপাশের জগৎ বা তার পরিবেশ নিয়ে নানা জিজ্ঞাসার জন্ম নেয়। যেমন-

  • আকাশে মেঘ কোথা থেকে আসে?
  • বৃষ্টি কোথা থেকে আসে?
  • ঘুড়ি কীভাবে, কেন আকাশে ওড়ে?
  • গাছের পাতা কেন সবুজ?
  • কেন ফুলে নানান রং ধরে?
  • গাছ কীভাবে খায়?
  • ঘরে ফ্যান ঘোরে কিভাবে?

এরকম নানান প্রশ্ন শিশুদের মনে সারাক্ষণ ঘুরপাক খায়। আর এসব প্রশ্নের উত্তর তার পরিবারের বড়দের দিতে হয়। এসব উত্তর কখনো সুস্পষ্ট বা কখনো অস্পষ্ট হয়ে থাকে শিশুর নিকট। অধিকাংশ সময় শিশুর কৌতূহল থেকেই যায় যা মেটাতে পারে কেবল বিজ্ঞান অধ্যয়নের মাধ্যমে।

শিশুকে এ পৃথিবীতে বাসযোগ্য করার জন্য বিজ্ঞান শিক্ষার বিকল্প নেই। শিক্ষার্থীরা বড় হয়ে তার জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রভাব অতুলনীয়।  অর্থাৎ ভবিষ্যৎ জীবনে বিজ্ঞান সাক্ষরতা সম্পন্ন মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থী নিজেকে তৈরি করবে বিজ্ঞান শেখার মাধ্যমে। এ কারণেই বিজ্ঞানকে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আবশ্যিক বিষয় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।

একটি শিক্ষাক্রমে চারটি আবশ্যকীয় উপাদান থাকে। যেমন-

১. শিখন উদ্দেশ্য :

প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, প্রান্তিক যোগ্যতা, বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা, প্রতি শ্রেণির জন্য অর্জন উপযোগী যোগ্যতা, শিখনফল এগুলোর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত শিখন উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২. বিষয়বস্তু :

শিখন উদ্দেশ্য অনুসারে যে বিষয়বস্তু শিখন শেখানোর মাধ্যমে অর্জিত হবে তার একটি তালিকা শিক্ষাক্রমে উল্লেখ করা থাকে।

৩. শিখন-শেখানো কার্যাবলি :

শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে বিভিন্ন পদ্ধতি ও কৌশল শিক্ষক তার পাঠের প্রয়োজেন প্রয়োগ করে থাকেন। নির্দিষ্ট স্তরে নির্দিষ্ট বিষয়ের জন্য নির্ধারিত শিখন উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য কীভাবে শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে তার নির্দেশনাও শিক্ষাক্রমে সন্নিবেশ করা থাকে।

৪. মূল্যায়ন:

কাঙ্খিত লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও যোগ্যতাগুলো যাচাই বা অর্জিত হয়েছে কী না তা মূল্যায়নের মাধ্যমে করা হয়। শিক্ষার্থীরা নির্দিষ্ট শিখন উদ্দেশ্যসমূহের মধ্যে কতটা অর্জন করতে পেরেছে সে সকল মূল্যায়ন কৌশলও শিক্ষাক্রমে গাইডলাইন থাকে।

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা যায় যে, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান শিখন নিশ্চিত করার জন্য একজন শিক্ষককে শিক্ষাক্রমের চারটি আবশ্যকীয় উপাদান সম্পর্কেই সম্যক ধারণা রাখতে হয়।

প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য :

শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো “শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নৈতিক, মানবিক, নান্দনিক, আধ্যাত্মিক ও আবেগিক বিকাশ সাধন এবং তাদের দেশাত্ববোধে, বিজ্ঞানমনষ্কতায়, সৃজনশীলতায় ও উন্নত জীবনের স্বপ্নদর্শনে উদ্বুদ্ধ করা।”

প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের সাথে সরাসরি যুক্ত উদ্দেশ্যসমূহ :

প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে ১৩ টি উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ উদ্দেশ্যগুলোর মধ্যে তিনটি উদ্দেশ্য সরাসরি বিজ্ঞান শিক্ষার মাধ্যমে অর্জন করতে হবে। উদ্দেশ্য ৩টি হলো:

৩. বিজ্ঞানের নীতি-পদ্ধতি ও প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন, সমস্যা সমাধানে তার ব্যবহার এবং বিজ্ঞানমনষ্ক ও অনুসন্ধিৎসু করে গড়ে তুলতে সহায়তা করা।

১১. প্রকৃতি, পরিবেশ ও বিশ্বজগৎ সম্পর্কে জানতে ও ভালোবাসতে সহায়তা করা এবং পরিবেশ সংরক্ষণে উদ্বুদ্ধ করা।

১২. নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনে সচেষ্ট করা।

প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের সাথে সরাসরি সংশ্লিষ্ট প্রান্তিক যোগ্যতা:

প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে প্রাথমিক স্তরের জন্য ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা শেষে ২৯ টি যোগ্যতা অর্জন করবে। এই ২৯টি প্রান্তিক যোগ্যতার মধ্যে অন্তত ৯ টি প্রান্তিক যোগ্যতা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে বিজ্ঞানের সাথে সংশ্লিষ্ট। তবে দু’টি প্রান্তিক যোগ্যতা (৬ ও ৭ নং প্রান্তিক যোগ্যতা) পুরোপুরি বা সরাসরি বিজ্ঞানসংশ্লিষ্ট। যেমন-

৬. প্রকৃতির নিয়মগুলো জানার মাধ্যমে বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জন করা।

৭. বিজ্ঞানের নীতি ও পদ্ধতি এবং যৌক্তিক চিন্তার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের অভ্যাস গঠন এবং বিজ্ঞানমনষ্কতা অর্জন করা।

২. প্রাথমিক বিজ্ঞানের বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা কয়টি ও কী কী তা লিখুন।

প্রাথমিক বিজ্ঞানের বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা :

প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য নির্ধারিত বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা হলো ১৮টি। যোগ্যতাগুলো নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

১. পরিবেশ, পরিবেশের উপাদান, পরিবেশের পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে জেনে পরিবেশ সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া।

২. আমাদের পরিবেশে জড় ও জীব সম্পর্কে জানা।

৩. পরিবেশের উপাদান হিসেবে পানির গুর
ত্ব সম্পর্কে জেনে পানির যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা।

৪. পরিবেশের উপাদান হিসেবে মাটির গুর
ত্ব সম্পর্কে জেনে মাটির যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণ করা।

৫. পরিবেশের উপাদান হিসেবে বায়ুর গুর
ত্ব সম্পর্কে জেনে বায়ুর উপাদানের যথাযথ ব্যবহার করা ও দূষণ রোধ করা।

৬. পরিচিত প্রাকৃতিক ঘটনা ও তাদের কার্যকারণসহ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা জানা।

৭. বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পদ্ধতিসমুহ জানা ও অনুসন্ধিৎসা, মুক্তমানসিকতা, যৌক্তিক বিশ্লেষণ, প্রশ্ন উত্থাপন, সৃজনশীলতা ও কল্পনা ইত্যাদি মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে বিজ্ঞানমনস্কতা অর্জনকরা ও বিজ্ঞান চর্চায় অংশ নেওয়া।

৮. সুস্থ জীবনের জন্য সঠিকখাদ্য নির্বাচন ও গ্রহণ করা।

৯. রোগেরকারণ ও প্রতিরোধের উপায়সমুহ জানা এবং স্বাস্থ্য রক্ষার নিয়মগুলো জানা ও অনুসরণ করা।

১০. আমাদের জীবনে প্রযুক্তির ব্যবহার, বিকাশ ও প্রভাব জানা।

১১. আমাদের জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রভাব জানা এবং তা ব্যবহার করা।

১২. মহাবিশ্বের নানা বস্তু, তাদের বৈশিষ্ট্য ও তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক জানা।

১৩. আবহাওয়া ও জলবায়ু, এদের আন্তঃসম্পর্ক এবং নিয়ামক সম্পর্কে জানা।

১৪. জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যাসহ অন্যান্য প্রতিকূলতা ও দুর্যোগ সম্পর্কে জানা এবং তা মোকাবেলায় দক্ষ ও আত্মপ্রত্যয়ী হওয়া।

১৫. দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধ জেনে নিরাপদে জীবন যাপন করা।

১৬. বিভিন্ন ধরনের পদার্থ ও শক্তি সম্পর্কে জানা।

১৭. বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ সম্পর্কে জেনে এর যথাযথ ব্যবহার ও সংরক্ষণে সচেষ্ট হওয়া।

১৮. মানুষের মৌলিক চাহিদা ও পরিবেশের ওপর জনসংখ্যার প্রভাব এবং জনসম্পদের গুরুত্ব সম্পর্কে জানা।

৩. শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী প্রান্তিক যোগ্যতা কী? প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগ্য যোগ্যতা সম্পর্কে আলোচনা করুন।

শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা:

শিক্ষাক্রম-২০১২ অনুসারে প্রাথমিক স্তরের ১২ টি বিষয়ের জন্য শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা নির্ধারণ করা আছে। বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতার শ্রেণিভিত্তিক এই বিভাজনই হলো শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা বা আবশ্যকীয় শিখনক্রম । কোনো কোনো প্রান্তিক যোগ্যতা কোনো একটি নির্দিষ্ট শ্রেণিতে শুরু হয়ে ঐ শ্রেণিতে অর্জন শেষ হয়। যেমন- প্রাথমিক বিজ্ঞানের ১ নং যোগ্যতাটির শুরু ১ম শ্রেণিতে এবং অর্জন শেষ হবে ৪র্থ শ্রেণিতে। আবার ৮ নং যোগ্যতাটির শুরু ১ম শ্রেণিতে এবং অর্জন শেষ হবে ৫ম শ্রেণিতে।

প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা:

প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়টির জন্য বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণিতে শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিচের ছকটি লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে, পূর্বে আলোচিত বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা থেকে বিভিন্ন শ্রেণিতে অর্জন উপযোগী যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।

শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতা ছক:

বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতা ১ম শ্রেণি ২য় শ্রেণি ৩য় শ্রেণি ৪র্থ শ্রেণি ৫ম শ্রেণি
২.আমাদের পরিবেশে জড় ও জীব সম্পর্কে জানা।   ২.১ নিকট পরিবেশে কাদের জীবন আছে ও কাদের জীবন নেই তা চিনতে পারবে। ২.২ নিকট পরিবেশের জড় বস্তু  ও জীবের যত্ন নিতে পারবে। ২.১ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিকট পরিবেশের জড় বস্তু  ও জীব চিনতে পারবে। ২.২ বেঁচে থাকার জন্য উদ্ভিদের পানি ও আলো প্রয়োজন তা বুঝতে পারবে। ২.৩ বেঁচে থাকার জন্য প্রাণীর খাদ্য প্রয়োজন তা বুঝতে পারবে। ২.১ জীব ও জড়ের পার্থক্য বুঝতে পারবে। ২.২ উদ্ভিদ ও প্রাণী চিনতে পারবে। ২.৩ বেঁচে থাকার জন্য প্রাণী কীভাবে উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল তা জানবে ২.১ বিভিন্ন জীব বিভিন্ন পরিবেশে বসবাস করে তা বুঝতে পারবে। ২.২ উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য জানবে।       ×
৮.সুস্থ জীবনের জন্য সঠিক খাদ্য নির্বাচন ও গ্রহণ করা। ৮. ১. খাদ্যের নাম জানা ও খাদ্যের স্বাদ অনুযায়ী শ্রেণিকরণ করতে পারা। ৮.১. স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করবে। ৮.২. আমরা কোন খাবার কাঁচা ও কোন খাবার রান্না করে খাই তা জানবে। ৮.৩. খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানবে। ৮.১. পুষ্টি কী তা জানবে। ৮.২. পুষ্টি অনুযায়ী খাদ্যের শ্রেণিবিভাগ করতে ও সুষম খাদ্য সম্পর্কে জানতে পারবে। ৩. মৌসুমী ফল ও সবজির খাদ্যগুণ সম্পর্কে জানতে পারবে। ৪. পুষ্টিগুণ অনুযায়ী দেশি ও বিদেশি খাদ্যের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই তা বুঝতে পারবে। ৮.১. বিভিন্ন ধরনের ভিটামিন, এসবের উৎস ও গুরত্ব সম্পর্কে জানবে। ৮.২. সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জানবে। ৮.৩. সহজলভ্য ও স্বল্পমূল্যের দেশীয় সুষম খাদ্য নির্বাচন করতে জানবে। ৮.৪. খাদ্যের বিভিন্ন উৎস সম্পর্কে জানবে। ৮. ১. বয়স অনুযায়ী পরিমিত খাদ্য গ্রহণের গুরুত্ব উপলব্ধি করবে। ৮.২. বজ্ঞানিক পদ্ধতিতে খাদ্য সংরক্ষণ সম্পর্কে জানতে পারবে ৮.৩. খাদ্যে কৃত্রিম রং ব্যবহার ও রাসায়নিক দ্রব্যের ব্যবহার করে খাদ্য সংরক্ষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পারবে। ৪. জাঙ্ক ফুড (Junk Food) গ্রহণের অপকারিতা সম্পর্কে জানবে।

পরবর্তীতে প্রতি শ্রেণির প্রতিটি অর্জন উপযোগী যোগ্যতা থেকে শিখনফল ও বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা হয়েছে পরবর্তী ছকটিতে (বিস্তৃত শিখনক্রমের অংশ) দেখা যাচ্ছে যে, শিক্ষকেরা নির্ধারিত শিখনফল অর্জনের জন্য নির্ধারিত বিষয়বস্তুকে শ্রেণিকক্ষে উপস্থাপন করবেন তার একটি নির্দেশনাও দেওয়া আছে। তাহলে আমাদের এতক্ষণের আলোচনা থেকে আমরা একটি প্রবাহচিত্র আঁকতে পারি।


৪. প্রাথমিকভাবে শিক্ষাক্রমে পরিবেশ পরিচিতি বিজ্ঞান বিষয়ের অন্তর্ভুক্তির যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করুন।

প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম বিশ্লেষণ

আমরা অনেকেই হয়তো শিক্ষাক্রম দেখি কেবল বিষয়বস্তু খোঁজার জন্য। কিন্তু কেবল বিষয়বস্তু থেকে কোন শ্রেণিতে বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। আমরা এখন দেখব শিক্ষাক্রম বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে কী ধারণা দেয়। আমরা যদি প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যটি বিবেচনা করি তাহলে দেখা যাবে এখানে স্পষ্ট করে বলা আছে যে, প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের “বিজ্ঞানমনষ্কতায়” উদ্বুদ্ধ করা। আমরা যদি প্রাথমিক স্তরের প্রান্তিক যোগ্যতা ও প্রাথমিক বিজ্ঞানের বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতাগুলো দেখি তাহলেও দেখব বিজ্ঞানমনষ্কতা অর্জন একটি মূল যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা আছে। এর সাথে রয়েছে প্রকৃতির নিয়মগুলো জানা (অর্থাৎ বিজ্ঞানের জ্ঞান), শিক্ষার্থীর জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে (স্বাস্থ্য, পরিবেশ, পুষ্টি, প্রাকৃতিক সম্পদ, প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার, জনসংখ্যা) তা প্রয়োগ করতে জানা, বিজ্ঞানের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন ও বিজ্ঞানের মূল্যবোধ অর্জন করা এবং বিজ্ঞানের প্রক্রিয়া বিষয়ক যোগ্যতা অর্জন করা। কোন শিক্ষার্থী যখন এসব যোগ্যতা অর্জন করে তাকে আমরা বৈজ্ঞানিকভাবে সাক্ষর বলি। তাহলে দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রাথমিক স্তরে বিজ্ঞান শিক্ষাক্রম শিক্ষার্থীদের বৈজ্ঞানিকভাবে সাক্ষর করে তোলার লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে। নিম্নে প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়ের জন্য নির্ধারিত ১৮টি বিষয়ভিত্তিক প্রান্তিক যোগ্যতাসমূহ ভালভাবে বিশ্লেষণ করি তাহলে এদেরকে কয়েকটি বৃহৎ ধারণা, থিম বা ফোকাসে ভাগ করতে পারবো। এই বৃহৎ ধারণা, থিম বা ফোকাস এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলো নিম্নে ব্যাখ্য করা হলো :

(১) পরিবেশ ও এর উপাদান : পরিবেশ, পরিবেশের উপাদান, জীব ও জড়, পরিবেশের উপাদান পানি, মাটি ও বায়ু, পরিবেশের উপাদানসমূহের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক, পরিবেশ দূষণ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ;

(২) বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ, বিজ্ঞানের প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিজ্ঞানমনষ্কতা অর্জন: পরিচিত/ স্থানীয় প্রাকৃতিক ঘটনা ও তাদের কার্যকারণসহ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা, বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধানের পদ্ধতিসমূহ জানা ও অনুসন্ধিৎসা, খোলামনষ্কতা, যৌক্তিক বিশ্লেষণ, প্রশ্ন উত্থাপন, সৃজনশীলতা ও কল্পনা ইত্যাদি মূল্যবোধ অর্জনের মাধ্যমে বিজ্ঞানমনষ্কতা অর্জন;

(৩) সুস্থ, সবল ও নিরাপদ জীবন যাপন : খাদ্য, স্বাস্থ্যবিধি এবং জীবনের নিরাপত্তা ও প্রাথমিক চিকিৎসা;

(৪) আমাদের জীবনে প্রযুক্তি : আমাদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য প্রযুক্তি;

(৫) আমাদের মহাবিশ্ব ও পৃথিবী;

(৬) আবহাওয়া, জলবায়ু ও জলবায়ু পরিবর্তন;

(৭) পদার্থ ও শক্তি এবং

(৮) জনসংখ্যা ও প্রাকৃতিক সম্পদ।

৫. প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করুন।

প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষাক্রম আলোকে প্রণীত প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ্যপুস্তকের বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নে বর্ণনা করা হলো :

  • অধ্যায় নম্বর ও অধ্যায়ের শিরোনামের পরপরই সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত একটি টপিক বোল্ড করে দেওয়া হয়েছে।
  • টপিকের নিচেই আলোচ্য বিষয়টি সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত ভূমিকা দেওয়া হয়েছে। এর পরপরই টপিক সম্পর্কিত একটি চিত্র দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য।
  • এরপর নম্বর দিয়ে চিহ্নিত আরেকটি শিরোনাম ও এর পরপর ঐ শিরোনামের বিষয়ের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ একটি প্রশ্ন রাখা হয়েছে। প্রশ্নের পরে তার উত্তর নেই; রয়েছে কাজ। একটু লক্ষ করলেই বোঝা যাবে কাজটি সম্পাদনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই আগে দেওয়া প্রশ্নটির উত্তর খুঁজবে। প্রদত্ত কাজটিতে শিক্ষার্থীরা পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা স্মরণ করে এবং পরবর্তীতে প্রাপ্ত তথ্য ও জ্ঞান আলোচনা ও বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে প্রদত্ত প্রশ্নটির উত্তর বের করার চেষ্টা করবে।
  • কাজটি শেষে আলোচ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট কিছু ধারণা সারসংক্ষেপ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।  ধারণাসমূহ উপস্থাপন করা হয়েছে সংক্ষেপে কিন্তু প্রয়োজনের রঙিন চিত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এ পর্যায়ে এসে একটি পাঠ শেষ হয়।
  • সংশ্লিষ্ট ধারণাসমূহ উপস্থাপনের পর আবার সংখ্যা দ্বারা চিহ্নিত আরেকটি শিরোনাম এবং এই শিরোনামের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি মূল প্রশ্ন। অর্থাৎ আরেকটি পাঠ শুরু হলো এখান থেকে। এভাবে পরবর্তী পাঠগুলোকেও পূর্বের পাঠটির মত করেই সাজানো হয়েছে।
  • এভাবে প্রাথমিক বিজ্ঞান (তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি) বইটির প্রতিটি অধ্যায়কে প্রথমে কয়েকটি পাঠে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি পাঠ একটি নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা ধারা অনুসরণ করে উপস্থাপন করা হয়েছে।
  • প্রতিটি পাঠ অনুসন্ধানভিত্তিক শিখন নীতি অনুসরণ করে তৈরি করা হয়েছে। এটি বর্তমান সময়ে প্রাথমিক পর্যায়ে বিজ্ঞান শিখন-শেখানোর সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য এপ্রোচ যেখানে শিক্ষার্থীদের একটি প্রশ্ন দেওয়া হবে, শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে ঐ প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করবে। এই এপ্রোচে বিজ্ঞানের জ্ঞান শেখার দিকে যেমন গুরুত্ব দেওয়া হয় তেমনি বিজ্ঞানের জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা অর্জনের দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!