বিজ্ঞান (এসকে) Archives - Page 3 of 3 - Proshikkhon

Category "বিজ্ঞান (এসকে)"

16Jun2020

অধ্যায়-০২: পরিবেশের উপাদান ও পরিবেশ সংরক্ষণ

সেশন-২.১: পরিবেশের উপাদান, পরিবেশ পরিবর্তন ও পরিবেশ সংরক্ষণ

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

  • পরিবেশের অংশসমূহ বা উপাদানগুলোর নাম লিখুন।
  • উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারায় পরিবেশের পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করুন।
  • পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে কী বুঝায়?
  • পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা আলোচনা করুন।

পরিবেশের অংশসমূহ বা উপাদানগুলোর নাম লিখুন।

চারপাশের ভৌত অবস্থা, জলবায়ু ও প্রভাব বিস্তারকারী অন্যান্য জীব ও জৈব উপাদান ইত্যাদির সামষ্টিক রূপই হলো পরিবেশ। পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের দ্বারাই একজন ব্যক্তি বা প্রাণী এমনকি উদ্ভিদ প্রভাবিত হয়ে থাকে। এই প্রভাবকসমূহের মধ্যে থাকে প্রাকৃতিক এবং অপ্রাকৃতিক বা কৃত্রিম পারিপার্শ্বিক উপাদানসমূহ। পরিবেশের অংশসমূহ বা উপাদানগুলোর নাম নিম্নরূপঃ

  • বায়ুমণ্ডল (Atmosphere)
  • বারিমণ্ডল (Hydrosphere)
  • শিলামণ্ডল (Lithosphere)
  • জীবমণ্ডল (Biosphere)
  • মানবমণ্ডল (Anthrosphere)

উপরিউক্ত অংশগুলোর মধ্যে জীবমণ্ডল ও মানবমণ্ডল বাকি তিনটি অংশের উপর নির্ভর করে বেঁচে থাকে। আবার মানুষ তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দ্বারা বায়ুমণ্ডল, বারিমণ্ডল ও শিলামণ্ডলকে প্রভাবিত করে।

উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারায় পরিবেশের পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে আলোচনা করুন।

পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ ও প্রাণী বসবাস করে। এসকল উদ্ভিদ ও প্রাণী নানা কারণে পরিবেশের উপর নির্ভরশীল। পরিবেশের পরিবর্তনের সাথে সাথে উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবনধারায় ব্যাপক বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। সেগুলো হলো:

  • ঝড়, বন্যা এবং করার মতো প্রাকৃতিক কারণে এবং মানুষের বিভিন্ন কার্যকলাপের জন্য পরিবেশের ব্যাপক পরিবর্তন হচ্ছে।
  • পরিবেশের পরিবর্তনের ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণীর আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে।
  • এর ফলে উদ্ভিদ ও প্রাণী বিপন্ন বা বিলুপ্ত হচ্ছে।
  • পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কে সবচেয়ে বড় উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, বাংলাদেশ থেকে লাল শির ও জাভা গন্ডার এবং রাজ শকুন বিলুপ্ত হয়েছে। বর্তমানে তালি পাম গাছ ও রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রায় বিপন্ন।

পরিবেশ সংরক্ষণ বলতে কী বুঝায়?

পরিবেশে বিভিন্ন উদ্ভিদ, প্রাণী ও অন্যান্য উপাদান একে অন্যের প্রতি নির্ভরশীল। পরিবেশের কোনো একটি জড় বা জীব উপাদান যদি বৃদ্ধি বা হ্রাস পায় তাহলে পরিবেশের অন্য উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে কারণে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য রাখা খুব জরুরি। পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষাই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ। পরিবেশের ভারসাম্য প্রাকৃতিকভাবেই সংরক্ষিত হয়ে থাকে। তবে প্রধানত মানুষের নানান কর্মকাণ্ডই পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করে থাকে। পৃথিবীতে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী অস্তিত্বের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশের সংরক্ষণ অত্যাবশ্যক। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং স্বাস্থ্যসম্মতভাবে জীবনযাপন করতে হলে পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা দরকার।

পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে তা আলোচনা করুন।

পৃথিবীতে মানুষের দীর্ঘস্থায়ী অস্তিত্বের জন্য প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ অত্যাবশ্যক। পরিবেশ সংরক্ষণের মূলনীতি হলো পরিবেশের উপাদানগুলোর ভারসাম্য বজায় রাখা। পরিবেশ সংরক্ষণে নিম্নের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে।

জীব উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা:

কোন জীবই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়। প্রতিটি জীবই কোনো না কোনোভাবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে চলছে। যেমন- সাপ আমাদের কাছে বিষধর,ভয়ংকর কিন্তু সাপ ইঁদুর মেরে ফসল রক্ষা করে। মানুষ না জেনে অনেক জীবকে মেরে ফেলছে। অনেক জীবই পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের খেয়াল করতে হবে কোনো জীবই যাতে বিলুপ্ত হয়ে না যায়।

জড় উপাদানের ভারসাম্য রক্ষা:

আমরা আমাদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য পরিবেশকে নানাভাবে ব্যবহার করে থাকি। বিনা পরিকল্পনায় বিভিন্ন কাজ করতে গিয়ে পরিবেশের কোনো উপাদানকে কমিয়ে ফেলি বা বাড়িয়ে ফেলি,পরিবেশে  নতুন উপাদান যোগ করি। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। বিগত কয়েক শতাব্দীতে মানুষ অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়েছে। কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কীটনাশক, রাসায়নিক সার ইত্যাদি ব্যবহার করেছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে নির্গত বর্জ্য, ধোঁয়া এবং কৃষি ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সার ও কীটনাশক পরিবেশে যোগ হয়েছে। ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে।  জড় উপাদানের ভারসাম্য রক্ষায় নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি-

  • কলকারখানার বর্জ্য পরিশোধন করে তারপর পরিবেশে নির্গত করতে হবে
  • গৃহস্থালি বর্জ্য পদার্থ নির্দিষ্ট জায়গাতে ফেলতে হবে এবং তা পরিশোধন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের ব্যবস্থা করতে হবে ( যেমন- বর্জ্যকে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে কম্পোস্ট সারে পরিণত করা যায়)।
  • কৃষিতে রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। কীটনাশক, ছত্রাকনাশক ও আগাছানাশক ওষুধের ব্যবহার কমিয়ে সমন্বিত বালাইদমন ব্যবস্থা নিতে হবে।
  • জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে সৌর ও বায়ু শক্তি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে হবে।
  • স্বাভাবিকভাবে পচে না এমন দ্রব্যের (যেমন পলিথিন) পরিবর্তে পচনশীল দ্রব্য যেমন পাটজাত দ্রব্যের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
  • অপরিকল্পিত বৃক্ষ নিধন বন্ধ এবং বেশি করে গাছ লাগিয়ে বন সৃষ্টি করতে হবে।
  • পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব সম্বন্ধে জনসাধারণকে অবহিত করার মাধ্যমে পরিবেশকে দূষণমুক্ত রাখতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
12Jun2020

MCQ ও এর সমাধান

সঠিক উত্তরটি উত্তরপত্রে লিখুনঃ

১) পরিবেশের অর্থ

– সংকীর্ণ/ ক্ষুদ্র/সরু/ব্যাপক।

২) আমরা একই সঙ্গের কয়টি জগতে বাস করি?

– দুইটি/তিনটি/চারটি/পাঁচটি।

৩)পরিবেশের উপাদানগুলোকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়েছে?

– দুই ভাগে/তিন ভাগে/চার ভাগে/পাঁচ ভাগে।

৪) আমরা যে পরিবেশে বাস করি তাতে কয় ধরনের পরিবেশ রয়েছে?

– ২/৩/৪/৫।

৫)জীবের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়াকে কী বলে?

-নড়ন/ চলন/ প্রজনন/ শ্বসন।

৬) লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে নুয়ে পড়ে এর মাধম্যে জীবের কোন বৈশিষ্ট্য প্রকাশ পায়?

– দৈহিক বৃদ্ধি/ মৃত্যু/ অনুভূতি?খাদ্য গ্রহণ।

৭) কিসের উপস্থিতিতে সূর্যের আলোর সহায়তায় পানি ও কার্বন-ডাই অক্সাইড ব্যবহার করে উদ্ভিদ শর্করা খাদ্য গ্রহণ করে?

– অক্সিজেন/ক্লোরোফিল/কার্বন-ডাই অক্সাইড/নাট্রোজেন।

৮) খাদ্য তৈরিতে উদ্ভিদ কী গ্রহণ করে?

-অক্সিজেন/কার্বন-ডাই অক্সাইড/হাইড্রোজেন/নাইট্রোজেন।

৯) জীব শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে কী গ্রহণ করে?

– অক্সিজেন/কার্বন-ডাই অক্সাইড/হাইদ্রোজেন/কার্বন।

১০) জীবদেহে খাদ্যকে কাজে লাগানোর পরে অপ্রয়োজনীয় বা বর্জ্য পদার্থ কোন প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে বের হয়ে যায়?

– রেচন/শ্বসন/প্রজনন/নড়ন।

১১) জীবের বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে কী বলে?

– রেচন/প্রজনন/শ্বসন/দৈহিক বৃদ্ধি।

১২) রেচন প্রক্রিয়ায় প্রস্রাবের মাধ্যমে কোন উপাদান বের হয়ে যায়?

– ফসফরাস/ইউরিয়া/নাইট্রোজেন/ সালফার।

১৩) জীবের জীবনকালকে কয় পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে?

-২/৩/৪/৫

১৪) উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে কেন?

– ক্লোরোফিল/অক্সিজেন/কার্বন-ডাই অক্সাইড/ফসফরাস।

১৫)সূর্যের আলোর শক্তি কোন প্রক্রিয়ায় উদ্ভিদ দেহে শর্করার মধ্যে সঞ্চিত হয়?

– রেচন প্রক্রিয়ায়/শ্বসন প্রক্রিয়ায়/সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায়।

১৬) প্রাণী ও উদ্ভিদ উভয়েই শ্বসনের মাধ্যমে কী ব্যবহার করে খাদ্য থেকে শক্তি উৎপাদন করে বেঁচে থাকে?

– কার্বন-ডাই অক্সাইড/ অক্সিজেন/ হাইড্রোজেন/নাইট্রোজেন।

১৭) সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াটি উদ্ভিদের কোন অঙ্গাণুতে ঘটে?

-ক্লোরোফিল/ক্লোরোপ্লাস্ট/মাইটোকন্ডিয়া

১৮) উদ্ভিদের কোনো একটি শ্রেণিতে কোনো সদস্যকে ভালোভাবে জানার জন্য জানতে হবে

– শ্রেণিবিন্যাস/শ্রেণিকরণ/বিন্যস্ত/শ্রেণিবদ্ধ।

১৯) বর্তমানে পৃথিবীতে উদ্ভিদের প্রজাতি সংখ্যা

– প্রায় পাঁচ লক্ষ/প্রায় সাত লক্ষ/ প্রায় ছয় লক্ষ/প্রায় চার লক্ষ।

২০) পুষ্পের উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?

-২/৩/৪/৫।

২১) অপুষ্পক উদ্ভিদ কত প্রকার?

-২/৩/৪/৫।

২২) সপুষ্পক উদ্ভিদ কত প্রকার?

-৩/২/৪/৬।

২৩) যে সকল উদ্ভিদের দেহকে মূল,কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না সে সকল উদ্ভিদকে কোন উদ্ভিদ বলে?- – মসবর্গ/সমাঙ্গবর্গ/ফার্নবর্গ/নগ্নবীজী।

২৪) সমাঙ্গবর্গ উদ্ভিদ কত শ্রেণিতে বিভক্ত?

– দুই/তিন/চার/ছয়।

২৫) কোনটি শৈবালের উদাহরণ?

– স্পাইরোগাইরা/মস/ফার্ন/মিউকর।

২৬) ব্যাঙের ছাতার অপর নাম কী?

– মিউকর/আগ্যারিকাস/ক্লোরেলা/স্পাইরোগাইরা।

২৭) ক্লোরোফিল নেই কোন উদ্ভিদে?

– আগ্যারিকাস/ক্লোরেলা/ফার্ন/মস।

২৮) কোন জাতীয় উদ্ভিদের দেহে মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে?

– মসবর্গ/ফার্নবর্গ/সমাঙ্গবর্গ/মিউকর।

২৯) ছায়াযুক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে কোন জাতীয় উদ্ভিদ সর্বাপেক্ষা উন্নত?

– মস/ঢেঁকিশাক/শৈবাল/ছত্রাক

৩০) কোনটি ছত্রাকের উদাহরণ?

– স্পাইরোগাইরা/মস/ ক্লোরেলা/মিউকর

৩১) বাসি,পচা রুটির উপর তুলার অংশের মতো একপ্রকার বস্তু জন্মায় এদেরকে বলে

– আগ্যারিকাস/মিউকর/ক্লোরেলা/সাইকাস।

৩২) কোনটি নগ্নবীজী উদ্ভিদ?

– ধান/গম/পাইন/তাল।

৩৩) আবৃতবীজী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?

-আম/জাম/তাল/পাইন।

৩৪)একবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?

– আম/জাম/তাল/পাইন।

৩৫) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ কোনটি?

– নারিকেল/ধান/গম/জাম।

৩৬) অমেরুদণ্ডী প্রাণীর উদাহরণ কোনটি?

– মাছ/ব্যাঙ/বাঘ/চিংড়ি

৩৭) মেরুদণ্ডী প্রাণীর উদাহরণ কোনটি?

– ঝিনুক/মশা/তেলাপোকা/মাছ

৩৮) অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?

– অন্তঃকঙ্কাল থাকে/ কোনো অন্তঃকঙ্কাল থাকে না/ হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের/মেরুদণ্ড আছে।

৩৯) মেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্য কোনটি?

– অন্তঃকঙ্কাল থাকে না/ সাধারণত লেজ থাকে না/ স্নায়ুরজ্জু থাকে/ হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের নয়।

৪০) বৈশিষ্ট্যেরে ভিত্তিতে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে?

– তিন ভাগে/দুই ভাগে/চার ভাগে/পাঁচ ভাগে।

৪১) কোনটি মৎস্যকুল শ্রেণির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য?

– ফুলকা আছে,ফুসফুস নেই/ত্বক নগ্ন/বুকে ভর দিয়ে চলে/ ফুসফুস দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়।

৪২) উভচর প্রাণীর উদাহরণ কোনটি?

– সালামান্ডার/ঘড়িয়াল/গিরিগিটি/গুঁইসাপ।

৪৩) স্তন্যপায়ী প্রাণীর উদাহরণ কোনটি?

– ইঁদুর/সারস/সালামান্ডার/গুঁইসাপ।

৪৪) কোন একটি নির্দিষ্ট স্থানে পরিবেশের জীব ও জড় উপাদানের মধ্যকার সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়াকে কী বলে?

– শ্রেণিবিন্যাস/খাদ্য শৃঙ্খল/বাস্তুসংস্থান/খাদ্যজাল।

৪৫) পরিবেশ অনুসারে বাস্তুসংস্থান কত প্রকার?

-৩/২/৪/৬

৪৬) বাস্তুসংস্থানের সজীব উপাদানকে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?

– দুইভাগে/তিনভাগে/চার ভাগে/পাঁচভাগে।

৪৭) পানিতে ভাসমান খুদে জীবদের কী বলে?

– প্লাংকটন/জুয়োপ্লাংকটন/ফাইটোপ্লাংকটন/বিয়োজক।

৪৮) পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণীদের কী বলে?

– প্লাংকটন/জুয়োপ্লাংকটন/ফাইটোপ্লাংকটন/বিয়োজক।

৪৯) সবুজ প্লাংকটন জাতীয় খুদে উদ্ভিদকে কী বলে?

– প্লাংকটন/জুয়োপ্লাংকটন/ফাইটোপ্লাংকটন/বিয়োজক।

৫০) উৎপাদকের উদাহরণ কোনটি?

– লার্ভা/জলজ কীটপতঙ্গ/পানিমরিচ/ঝিনুক।

৫১) খাদক স্তরকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে?

– দুইটি/তিনটি/চারটি/পাঁচটি।

৫২) প্রথম স্তরের খাদক কোনটি?

– ভাসমান খুদে পোকা/ছোট ছোট মাছ/ চিংড়ি/ব্যাঙ।

৫৩) দ্বিতীয় স্তরের খাদক কোনটি?

– সবুজ শেওলা/মশার শূককীট/ ছোট ছোট মাছ/ ভেটকি।

৫৪) একটি পুকুরে বিয়োজক হিসেবে কাজ করে কোনটি?

-ব্যাঙ/শামুক/ক্ষুদিপানা/ব্যাকটেরিয়া।

৫৫) যে কোন বাস্তুসংস্থানে কতগুলো খাদ্যশৃঙ্খল থাকতে পারে?

– একটি/দুইটি/তিনটি/অনেকগুলো।

৫৬) কোন উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না?

-ক্লোরেলা/আগ্যারিকাস/মস/ঢেঁকিশাক

৫৭) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ কোনটি?

– নারিকেল/গম/ভূট্রা/শিম।

৫৮) নিচের কোন প্রবাহচিত্র খাদ্য শৃঙ্খলের নমুনা?

   ক) উদ্ভিদ-ঘাসফড়িং-মুরগি-মানুষ

   খ) ঘাসফড়িং-উদ্ভিদ-মানুষ-মুরগি

   গ) মুরগি-ঘাসফড়িং-উদ্ভিদ-মানুষ

    ঘ) উদ্ভিদ-মুরগি-ঘাসফড়িং-মানুষ।

৫৯) পুকুরের বাস্তুসংস্থানের দ্বিতীয় স্তরের খাদক কোনটি?

– ভাসমান ক্ষুদে পোকা/ মশার শূককীট/জুয়োপ্লাংকটন/ব্যাঙ।

০) মসবর্গীয় উদ্ভিদের ক্ষেত্রে নিচের কোনটি সঠিক?

– ক্লোরোফিলবিহীন/ উদ্ভিদের দেহকে কান্ড ও পাতায় ভাগ করা যায় না/ মূল থাকে/ মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।

MCQ প্রশ্নের সমাধান:

১) ব্যাপক, ২) দুইটি, ৩) দুই ভাগে, ৪) ২, ৫) চলন, ৬) অনুভূতি, ৭) ক্লোরোফিল, ৮) কার্বন-ডাই অক্সাইড, ৯) অক্সিজেন, ১০) রেচন, ১১) প্রজনন, ১২) ইউরিয়া, ১৩) দুই, ১৪) ক্লোরোফিল, ১৫) সালোক-সংশ্লেষণ, ১৬) অক্সিজেন, ১৭) ক্লোরোপ্লাস্ট, ১৮) শ্রেণিবিন্যাস, ১৯) প্রায় পাঁচ লক্ষ, ২০) ২, ২১) ৩, ২২) ২, ২৩) সমাঙ্গবর্গ, ২৪) ২, ২৫) স্পাইরোগাইরা, ২৬) অ্যাগারিকাস ২৭) অ্যাগারিকাস ২৮) মস বর্গ, ২৯) ঢেঁকিশাক, ৩০) মিউকর, ৩১)মিউকর, ৩২) পাইন, ৩৩) আম, ৩৪) তাল, ৩৫) জাম, ৩৬) চিংড়ি, ৩৭) মাছ, ৩৮) কোনো অন্তঃকঙ্কাল থাকে না, ৩৯) স্নায়ুরজ্জু থাকে, ৪০) ৫, ৪১) ফুলকা আছে ফুসফুস নেই, ৪২) সালামান্ডার, ৪৩) ইঁদুর, ৪৪) বাস্তুসংস্থান, ৪৫) ২, ৪৬) তিন ভাগে, ৪৭) প্লাংকটন, ৪৮) জুয়োপ্লাংকটন, ৪৯) ফাইটোপ্লাংকটন, ৫০) পানিমরিচ, ৫১) তিনটি, ৫২)ভাসমান খুদে পোকা, ৫৩) ছোট ছোট মাছ, ৫৪) ব্যাকটেরিয়া, ৫৫) অনেক গুলো, ৫৬)অ্যাগারিকাস, ৫৭) শিম, ৫৮) উদ্ভিদ-ঘাসফড়িং-মুরগি-মানুষ, ৫৯) ব্যাঙ, ৬০) মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে।

12Jun2020

অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ

সেশন-১.৫: বাস্তুসংস্থান

  • বাস্তুসংস্থান কাকে বলে? বাস্তুসংস্থান কত প্রকার ও কি কি?
  • একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের প্রবাহচিত্র অঙ্কন করুন।
  • একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান বর্ণনা করুন।
  • পুকুরে সবুজ শেওলা জাতীয় উদ্ভিদ না থাকলে কী সমস্যা হবে?
  • প্রকৃতিতে বাস্তুসংস্থানের কেন প্রয়োজন ব্যাখ্যা করুন।

বাস্তুসংস্থান কাকে বলে? বাস্তুসংস্থান কত প্রকার ও কি কি?

বাস্তুসংস্থানঃ

প্রকৃতির জড় ও জীব উপাদানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলেই পরিবেশে ভারসাম্য বিরাজ করছে। কোনো জিনিসই একেবারে ফি্রিয়ে যাচ্ছে না। প্রকৃতির বিভিন্ন প্রাকৃতিক চক্রের কাজের ফলেই এটা সম্ভব হচ্ছে। জড় পরিবেশের মূল উপাদান হচ্ছে মাটি,পানি,বায়ু,আলো ও তাপ। এ উপাদানগুলো জীবের আহার ও আশ্রয় যুগিয়ে থাকে। জীবের বেঁচে থাকার জন্য কোনো নির্দিষ্ট জায়গায় জীব ও জড়ের মধ্যে গড়ে ওঠে নানা রকম সম্পর্ক। কোনো একটি নির্দিষ্ট এলাকার পরিবেশে জীব ও জড় উপাদান এবং তাদের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার গতিময় পদ্ধতিকে বাস্তুসংস্থান বা ইকোসিস্টেম বলে।

পরিবেশ অনুসারে বাস্তুসংস্থান প্রধানত দুই রকম। যথা- জলজ বাস্তুসংস্থান এবং স্থলজ বাস্তুসংস্থান।

একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের প্রবাহচিত্র অঙ্কন করুন

একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের প্রবাহচিত্র নিম্নে দেখানো হলো:

ছক: একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান প্রবাহচিত্র

একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থান বর্ণনা করুন।

জলজ বাস্তুসংস্থানের একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো পুকুর। কারণ পুকুরে বসবাসকারী অজীব ও সজীব উপাদানের সম্পর্ক প্রত্যক্ষ করা যায় এবং ভালোভাবে বোঝা যায়। নিচে একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের বর্ণনা করা হলোঃ

১) জড় উপাদানঃ

জড় উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাটি, পানি, খনিজ লবণ, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন ও কার্বন-ডাই অক্সাইড। একটি পুকুরের বাস্তুসংস্থানের কার্যকারিতা এসব জড় উপাদানকে জীব উপাদান কেমন করে ব্যবহার করছে তার উপর নির্ভর করে।

২) সজীব উপাদানঃ

বাস্তুসংস্থানের সজীব উপাদানকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক। নিচে এদের সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো-

ক) উৎপাদকঃ

পুকুরের পানিতে ভাসমান ও কিনারায় অগভীর পানিতে জন্মে থাকা সবুজ উদ্ভিদ (যেমন- শেওলা, কচুরিপানা, ক্ষুদিপানা, টোপাপনা ও পানিমরিচ) পুকুরে বাস্তুসংস্থানের উৎপাদক। পানিতে ভাসমান খুদে জীবদের প্লাংকটন বলে। ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণীদের জুয়োপ্লাংকটন বলে। আর সবুজ প্লাংকটন জাতীয় খুদে উদ্ভিদকে বলে ফাইটোপ্লাংকটন। সবুজ জলজ শেওলা ও অন্যান্য জলজ উদ্ভিদ সালোক-সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য প্রস্তুত করে বেঁচে থাকতে পারে,তাই এদের উৎপাদক বলে।

খ) খাদকঃ

জলজ কীটপতঙ্গ, লার্ভা, মাছ, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙ, বক, গাংচিল, মাছরাঙা ইত্যাদি প্রাণী খাদক পর্যায়ভুক্ত। খাদক স্তরকে তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়। যথা-

প্রথম স্তরের খাদকঃ

উদ্ভিদভোজী বিভিন্ন প্রকার ভাসমান ক্ষুদে পোকা, মশার শূটকীট, আণুবীক্ষণিক প্রাণী, জুয়োপ্লাংকটন প্রভৃতি প্রথম স্তরের খাদক। এ খাদকগুলো নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। এরা সরাসরি উৎপাদককে ভক্ষণ করে বেঁচে থাকে।

দ্বিতীয় স্তরের খাদকঃ

ছোট ছোট মাছ, চিংড়ি, ব্যাঙ, কিছু জলজ প্রাণী দ্বিতীয় স্তরের খাদক। এরা নিজেদের খাদ্য নিজেরা তৈরি করতে পারে না আবার উৎপাদককেও খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে না। এরা প্রথম স্তরের খাদকদের খেয়ে বেঁচে থাকে।

তৃতীয় স্তরের খাদকঃ

যেসব প্রাণী দ্বিতীয় স্তরের খাদক খেয়ে বেঁচে থাকে তারাই তৃতীয় স্তরের খাদক। যেমন- শোল, বোয়াল, চিতল, গজারসহ যেকোন ধরণের বড় মাছ, বক, চিল, ঈগল ইত্যাদি।

গ) বিয়োজকঃ

পুকুরের বসবাসকারী ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা বিয়োজকরূপে কাজ করে। বিয়োজক জীবিত অথবা মৃত প্রাণীদের আক্রমণ করে ও পচনে সাহায্য করে, ফলে উৎপাদকের ব্যবহার উপযোগী জৈব ও অজৈব রাসায়নিক পদার্থ পুনরায় সৃষ্টি হয়। এসব বিয়োজিত জৈব ও অজৈব পদার্থ উৎপাদকগুলো ব্যবহার করে থাকে।

পুকুরে সবুজ শেওলা জাতীয় উদ্ভিদ না থাকলে কী সমস্যা হবে?

যেকোন বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষায় বাস্তুতন্ত্রে বিদ্যমান সবগুলো প্রজাতির স্বাভাবিক অবস্থায় থাকা জরুরি। বাস্তুতন্ত্রের কোন একটি প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটা মানে সমগ্র বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া। একটি পুকুরে অজীব ও সজীব উপাদান রয়েছে। অজীব উপাদানের মধ্যে রয়েছে মাটি, পানি, খনিজ লবণ, অক্সিজেন, কার্বন-ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন। সজীব উপাদানের মধ্যে তিন ধরনের উপাদান রয়েছে। যথা- উৎপাদক, খাদক ও বিয়োজক। পুকুরের পানিতে ভাসমান ও কিনারায় অগভীর পানিতে জন্মে থাকা সবুজ শেওলা ও অন্যান্য উদ্ভিদ সালোক-সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য প্রস্তুত করে বেঁচে থাকতে পারে তাই এদের উৎপাদক বলে। প্রথম স্তরের খাদক( ভাসমান খুদে পোকা, মশার শূককীট, আণুবীক্ষণিক প্রাণী প্রভৃতি) নিজেদের খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে না। এরা সরাসরি উৎপাদককে ভক্ষণ করে বেঁচে থাকে। পুকুরে এই সবুজ শেওলা জাতীয় উদ্ভিদ না থাকলে প্রথম স্তরের খাদকদের খাদ্যাভাব দেখা দিবে। ফলে তাদের সংখ্যা হ্রাস পাবে। অন্যদিকে দ্বিতীয় স্তরের খাদক প্রথম স্তরের খাদককে খেয়ে জীবন ধারণ করে তাদের খাদ্য ঘাটতি দেখা দিবে এবং তাদের সংখ্যাও হ্রাস পাবে। এছাড়া পরিবেশে অক্সিজেন ও কার্বন-ডাই অক্সাইডের ভারসাম্য নষ্ট হবে যা সমগ্র জীবজগতের ক্ষতির কারণ হবে। ফলে খাদ্যশৃঙ্খল থেকে সবুজ শেওলা জাতীয় উদ্ভিদের অনুপস্থিতি ঘটলে বাস্তুতন্ত্রের একটি বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে এবং বাস্তুতন্ত্রের স্বাভাবিক খাদ্যশৃঙ্খলে বিপর্যয় দেখা দিবে।

প্রকৃতিতে বাস্তুসংস্থানের কেন প্রয়োজন ব্যাখ্যা করুন

প্রকৃতিতে বেঁচে থাকার জন্য জীব ও জড় উপাদানগুলো একে অন্যের উপর নির্ভর করে। জীব ও জড় পরিবেশের সম্বন্ধ নিবিড়। কোন একটি নির্দিষ্ট এলাকার পরিবেশে জীব ও জড় উপাদান এবং তাদের সম্পর্ক ও পারস্পরিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ার গতিময় পদ্ধতিতে বাস্তুসংস্থান তৈরি হয়। জীব ও জড় উপাদানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়ার ফলেই পরিবেশের ভারসাম্য বিরাজ করছে। প্রকৃতি থেকে কোন উপাদানই একেবারে ফুরিয়ে যাচ্ছে না। বিভিন্ন ধরনের বাস্তুসংস্থানের ফলেই তা সম্ভব হচ্ছে। পরিবেশে বাস্তুসংস্থান একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ একক। যেকোনো পরিবেশে বাস্তুসংস্থান মোটামুটিভাবে স্বনিয়ন্ত্রিত। প্রকৃতিতে যেকোনো জীবের সংখ্যা হঠাৎ করে বেশি বাড়তে পারে না।প্রতিটি জীব একে অন্যের উপর নির্ভরশীল। খাদ্যশৃঙ্খলের মাধ্যমে এরা পরস্পরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। সহজে এর কোনো একটি অংশ একেবারে শেষ হতে পারে না। কোনো একটি পরিবেশে বিভিন্ন স্তরের জীব সম্প্রদায়ের সংখ্যার অনুপাত মোটামুটিভাবে অপরিবর্তিত থাকে। পরিবেশে বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটলেও বহুদিন পর্যন্ত প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় থাকে। যেমন- সূর্য-ভাসমান উদ্ভিদ-ছোট মাছ-বড় মাছ। খাদ্যশৃঙ্খলটিতে ছোট মাছ কমে গেলে বড় মাছের খাদ্যাভাব দেখা দিবে এবং বড় মাছের সংখ্যা কমতে থাকবে। ছোট মাছ কমে গেলে ভাসমান সবুজ উদ্ভিদের পরিমান বেড়ে যাবে। আবার বড় মাছের সংখ্যা কমে গেলে ছোট মাছের সংখ্যা বেড়ে যাবে ও ভাসমান সবুজ উদ্ভিদের পরিমাণ কমতে থাকবে। এভাবে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য জীব ও জড় পরিবেশে বাস্তুসংস্থান প্রয়োজন।

বিয়োজক কী? বিয়োজকের ভূমিকা কী?

বিয়োজকঃ

পুকুরের বসবাসকারী ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া এবং ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পোকা বিয়োজকরূপে কাজ করে।

বিয়োজকের ভূমিকাঃ

বিয়োজক জীবিত অথবা মৃত প্রাণীদের আক্রমণ করে ও পচনে সাহায্য করে, ফলে উৎপাদকের ব্যবহার উপযোগী জৈব ও অজৈব রাসায়নিক পদার্থ পুনরায় সৃষ্টি হয়। এসব বিয়োজিত জৈব ও অজৈব পদার্থ উৎপাদকগুলো ব্যবহার করে থাকে।

নিচের বিচিন্ন জীবগুলো দিয়ে একটি খাদ্যজাল তৈরি করুন- মানুষ, খরগোশ, ব্যাঙ, সাপ, ময়ূর, বাঘ, হরিণ, গাছ, শামুক, পোকামাকড় ও গুঁইসাপ।

মানুষ, খরগোশ, ব্যাঙ, সাপ, ময়ূর, বাঘ, হরিণ, গাছ, শামুক, পোকামাকড় ও গুঁইসাপ জীবগুলো দিয়ে একটি খাদ্যজাল চিত্র নিম্নে দেখানো হলো:

চিত্র: খাদ্যজাল।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভূমিকা আলোচনা কর

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণীর ভূমিকাঃ

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। উদ্ভিদ ও প্রাণী উভয়ই আমাদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। উদ্ভিদ ও প্রাণীর থেকে আমরা আমাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য নানা রকমের উপাদান পেয়ে থাকি। উদ্ভিদ বায়ুতে অক্সিজেন ছাড়ে এবং বায়ু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে। উদ্ভিদের জন্যই বায়ুতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বাড়তে পারে না।

বায়ুতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের পরিমান বৃদ্ধি পেলে পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়, পরিবেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে মানুষসহ অন্যান্য প্রাণীর জন্যও তা মারাত্মক হয়। খনিজ লবন প্রাণীদেহের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান। উদ্ভিদ মাটি থেকে খনিজ লবন গ্রহণ করে দেহে জমা রাখে। প্রাণী উদ্ভিদজাত খাদ্য থেকে প্রয়োজনীয় খনিজ লবন সংগ্রহ করে। প্রাণীর মৃত্যুর পর খনিজ লবন আবার মাটিতে মিশে যায়। মাটি থেকে উদ্ভিদ পূনরায় খনিজ লবন গ্রহণ করে। এভাবে উদ্ভিদ ও প্রাণী পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে।

12Jun2020

অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ

সেশন-১.৪: উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পারিক নির্ভরশীলতা এবং জীবের আবাসস্থল, খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল

  • পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
  • জীবের আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থল কাকে বলে?
  • খাদ্যজাল ও খাদ্যশৃঙ্খল কী? উদাহরণ দিন।

পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল

জীব পরিবেশের প্রধান উপাদান হলো উদ্ভিদ ও প্রাণী। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এরা একে অপরের থেকে ভিন্ন। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদ ও প্রাণীর নির্ভরশীলতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলোঃ

  • প্রাণী শ্বাসকার্যে উদ্ভিদের ত্যাগ করা অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য প্রাণীর ত্যাগ করা কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
  • উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরি, বৃদ্ধি, পরাগায়ন ও বীজের বিস্তরণের জন্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল। অপরদিকে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ যেমনঃ ফলমূল, কান্ড ও শাখা প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
  • প্রাণীর মৃতদেহ এবং মলমূত্র মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে যা উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজন।
  • উদ্ভিদ অনেক প্রাণীর আবাসস্থল এবং অনেক প্রাণী উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে। এর ফলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।

উদ্ভিদ ও প্রাণী বিভিন্নভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এদের একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। এমন কি পরিবেশে  কোন একটি উপাদান কম-বেশি হলে পরিবেশের অন্য উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে উপরের উপর নির্ভরশীল।

জীবের আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থল কাকে বলে?

আবাসস্থলঃ উদ্ভিদ যে জায়গায় জন্মে এবং প্রাণী যে বিশেষ জায়গায় বাস করে তাই তার আবাসস্থল।

আশ্রয়স্থলঃ আশ্রয়স্থল হল প্রাণীর জন্য একটি নিরাপদ স্থান যা তাকে আক্রমণকারী প্রাণী বা বিরূপ আবহাওয়া থেকে রক্ষা করে।

খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল কী? উদাহরণ দিন

খাদ্যশৃঙ্খলঃ

খাদ্য শক্তি উৎপাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের খাদকের মধ্যে প্রবাহিত হলে সেই প্রবাহকে একসাথে খাদ্য শৃংখল বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে। এই সবুজ উদ্ভিদকে খায় ছোট ছোট প্রাণী। আবার ছোট প্রাণীকে খায় বড় প্রাণী। এভাবে পরিবেশে খাদ্য ও খাদকের মধ্যে যেসব ধারাবাহিকতা বিদ্যমান তাকেই খাদ্যশৃঙ্খল বলে। যেমন ধরি, আজ সকালে আমি একটি ডিম খেয়েছি। ডিমটি এসেছে মুরগি থেকে। মুরগি শস্যদানা খেয়ে বেড়ে উঠেছে এবং ডিম পেড়েছে। শস্যদানা তৈরি হয়েছে উদ্ভিদে সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে আমরা একটি সরল সম্পর্ক পেলাম। উদ্ভিদ-মুরগি-মানুষ। এটি একটি খাদ্যশৃঙ্খল।

খাদ্যজালঃ


বাস্তুতন্তে বেশ কয়েকটি খাদ্য শৃঙ্খল একত্রিত হয়ে যে জালের মতো গঠন তৈরি করে তাকে খাদ্যজাল বলে। বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃঙ্খলে একই খাদক বিভিন্ন স্তরে স্থান পেতে পারে। আর এ কারণেই এই সকল খাদ্য শৃঙ্খলগুলো একত্রে দেখতে জালের মতো মনে হয়। যেমন: উদ্ভিদ-ঘাসফড়িং-মুরগি-মানুষ।

চিত্র: খাদ্যজাল

উপরের উদাহরণটির ক্ষেত্রেই একটি ঘাসফড়িং উদ্ভিদের পাতা খেতে পারে। মুরগি ঘাসফড়িং খেতে পারে। আবার মানুষ ডিম না খেয়ে শস্যদানা খেতে পারে। এভাবে কয়েকটি খাদ্যশৃঙ্খলের সমন্বয়ে একটি খাদ্যজাল পাওয়া যায়।

10Jun2020

অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ

সেশন-১.৩: প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস

  • উদাহরণসহ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করুন।
  • অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে? অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখুন।
  • মেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে? মেরুদণ্ডী প্রাণীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।
  • মেরুদণ্ডী প্রাণীকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে? প্রত্যেকটি শ্রেণির উদাহরণসহ শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।
  • মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যগুলো লিখুন।

উদাহরণসহ প্রাণীর শ্রেণিবিন্যাস করুন।

প্রাণীজগতের শ্রেণিবিন্যাসঃ

পৃথিবীতে অসংখ্য বিচিত্র ছোট বড় প্রাণী বাস করে। এদের মধ্যে রয়েছে নানা রকম মিল ও অমিল। এই বৈচিত্র্যময় প্রাণীকূলে রয়েছে অণুবীক্ষণিক প্রাণী, অ্যামিবা থেকে শুরু করে বিশাল আকারের তিমি। প্রাণীর বিভিন্নতা নির্ভর করে পরিবেশের বৈচিত্র্যের উপর। ভিন্ন ভিন্ন পরিবেশ ও বাসস্থানে প্রাণীবৈচিত্র্য ভিন্ন রকম হয়। বিশাল এই প্রাণীজগৎ সম্পর্কে জানা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। সহজে সু-শৃঙ্খলভাবে বিশাল প্রাণীজগৎকে জানার জন্য এর বিন্যস্তকরণ প্রয়োজন, আর বিন্যস্ত করার পদ্ধতিকে শ্রেণিবিন্যাস বলে। শ্রেণিবিন্যাস প্রাণীজগৎকে জানার পথ সহজ করে দিয়েছে। প্রাণীজগতের প্রত্যেকটি প্রাণীকে দুইটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-

) অমেরুদণ্ডী প্রাণী এবং

) মেরুদণ্ডী প্রাণী

) অমেরুদণ্ডী প্রাণী:

যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড নেই তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- তেলাপোকা, কেঁচো, চিংড়ি, ঝিনুক, কাঁকড়া, মাছি ইত্যাদি।

অমেরুদণ্ডী প্রাণীর নয়টি প্রধান উপপর্ব রয়েছে। যথা- ১) পরিফেরা, ২) নিডেরিয়া, ৩) প্লাটিহেলমিন্থেস, ৪) নেমাটোডা, ৫) মোলাস্কা, ৬) অ্যানিলিডা, ৭) অর্থোপোডা, ৮) একোটাপ্রোকটা, ৯) একাইনোডার্মাটা।

) মেরুদণ্ডী প্রাণীঃ

যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড তাছে তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- গরু, ছাগল, ঘোড়া, হাতি, বানর, সিংহ, মাছ, মানুষ ইত্যাদি।

মেরুদণ্ডী প্রাণীর ৩টি উপপর্ব ও ৫টি শ্রেণি রয়েছে।

অমেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে? অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখুন।

অমেরুদণ্ডী প্রাণীঃ যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড নেই তাদের অমেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- তেলাপোকা, কেঁচো, চিংড়ি, ঝিনুক, কাঁকড়া, মাছি ইত্যাদি ।

অমেরুদণ্ডী প্রাণীর বৈশিষ্ট্যঃ অমেরুদণ্ডী প্রাণীর কতগুলো বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সাধারণত এদের-

ক) মেরুদণ্ড নেই,

খ) কোনো অন্তঃকঙ্কাল থাকে না,

গ) চোখ সরল প্রকৃতির বা পুঞ্জাক্ষী,

ঘ) হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের নয়,

ঙ) সাধারণত লেজ থাকে না।

মেরুদণ্ডী প্রাণী কাকে বলে? মেরুদণ্ডী প্রাণীর কয়েকটি বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন

মেরুদণ্ডী প্রাণীঃ যেসব প্রাণীর শিরদাঁড় বা মেরুদণ্ড তাছে তাদের মেরুদণ্ডী প্রাণী বলে। যেমন- গরু, ছাগল, ঘোড়া, হাতি, বানর, সিংহ, মাছ, মানুষ ইত্যাদি।

মেরুদণ্ডী প্রাণীর কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-

১) মেরুদণ্ড আছে,

২) অন্তঃকঙ্কাল  থাকে,

৩) হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের,

৪) পাখনা বা অয়া দুই জোড়ার অধিক হয় না,

৫) ফুস্ফুস বা ফুলকার সাহায্যে শ্বাসকার্‍্য চালায়,

৬) চোখ সরল প্রকৃতির,

৭) হোমিনিড গ্রুপের সদস্যসহ আরো কয়েকটি মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ নেই। এছাড়া অন্যান্য প্রাণীর লেজ থাকে।

মেরুদণ্ডী প্রাণীকে কয়টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে? প্রত্যেকটি শ্রেণির উদাহরণসহ শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করুন।

মেরুদণ্ডী প্রাণীর শ্রেণিবিভাগ ও তাদের শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ

বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মেরুদণ্ডী প্রাণীদের পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১) মৎস্যকুল ২) উভচর ৩) সরীসৃপ ৪)পক্ষীকুল ৫) স্তন্যপায়ী

উদাহরণসহ প্রত্যেকটি শ্রেণির শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হলো-

১) মৎস্যকুলঃ

সকল মাছ এ শ্রেণিভুক্ত। এরা মিঠা ও লোনা পানিতে বাস করে। যেমন- রুই, ইলিশ, কাতল, বোয়াল, পুটি ইত্যাদি।

শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ

ক) ফুলকা আছে, ফুসফুস নেই।

খ) দেহে জোড় ও বিজোড় পাখনা আছে এবং তা দিয়ে সাঁতার কাটে।

গ) ফুলকার সাহায্যে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়।

ঘ) শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।

ঙ) ডিম পাড়ে, ডিম ফুটে বাচ্চা হয়।

২) উভচরঃ

যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী জীবনচক্রের একটি সময় জল এবং স্থল উভয় স্থানে বাস করে তাদের উভচর প্রাণী বলে। যেমন- সোনা ব্যাঙ, গেছো ব্যাঙ, সালামন্ডার ইত্যাদি।

শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ

ক) ত্বক নগ্ন, আঁইশ, লোম, পালক কিছুই নেই।

খ) দুই জোড়া পা আছে। পায়ের আঙুলে নখ নেই।

গ) ছোট অবস্থায় ফুলকা থাকে। পরিণত ব্যাঙে ফুলকা লুপ্ত হয়ে ফুসফুস গঠিত হয়।

ঘ) ঘাড় নেই, মাথা দেহের সঙ্গে যুক্ত।

ঙ) ব্যাঙ জিহ্বা দিয়ে শিকার ধরে খাবার গিলে খায়।

চ) শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।

৩) সরীসৃপঃ

যেসব প্রাণী বুকে ভর দিয়ে এবং এর পাশাপাশি আঁইশের সাহায্যে অথবা পা-এর সাহায্যেও চলে তাদেরকে সরীসৃপ বলে। যেমন- সাপ, কচ্ছপ, কুমির, টিকটিকি, গিরগিটি ইত্যাদি।

শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ

ক) এরা বুকে ভর দিয়ে চলে।

খ) এদের ত্বক আঁইশ না অন্য কোন শক্ত আবরণে ঢাকা থাকে।

গ) সাপসহ আরো কিছু সরীসৃপের পা নেই। বাকিরা পা বিশিষ্ট,এদের আঙুলে নখ থাকে।

ঘ) এরা ডিম পাড়ে। কোনো কোনো সাপ সরাসরি বাচ্চা প্রসব করে।

ঙ) এরা ফুসফুস দিয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস চালায়।

চ) এরা শীতল রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।

৪) পক্ষীকুলঃ

যে সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর পালক আছে তাদেরকে আমরা পাখি বলি। যেমন- কাক, কোকিল, টিয়া, মুরগি, হাঁস ইত্যাদি।

শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ

ক) এদের প্রায় সবাই উড়তে পারে।

খ) দেহ পালক দিয়ে ঢাকা।

গ) মুখে শক্ত ঠোঁট আছে কিন্তু দাঁত নেই।

ঘ) দুইটি পা ও দুইটি ডানা আছে।

ঙ) ফুসফুস ও বায়ুথলি আছে।

চ) এদের বড় হাড়্গুলো ফাঁপা ও হালকা।

ছ) উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।

৫) স্তন্যপায়ীঃ

যেসব মেরুদণ্ডী প্রাণী সন্তান প্রসব করে ও সন্তানরা মায়ের দুধ পান করে তাদেরকে স্তন্যপায়ী প্রাণী বলা হয়। যেমন- মানুষ, কুকুর, বিড়াল, ছাগল, গরু, ইঁদুর, বাদুড় ইত্যাদি।

শনাক্তকারী বৈশিষ্ট্যঃ

ক) দেহে লোম থাকে।

খ) সন্তান প্রসব করে ও সন্তানেরা মায়ের দুধ পান করে।

গ) সাধারণত চতুষ্পদী তবে তিমি ও ডলফিনের মতো কারো কারো পা নেই। শুধু মানুষ দ্বিপদী।

ঘ) বহিঃকর্ণবিশিষ্ট।

ঙ) আঙুলে নখ থাকে।

চ) উষ্ণ রক্তবিশিষ্ট প্রাণী।

মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীর মধ্যে পার্থক্যগুলো লিখুন।

মেরুদণ্ডী ও অমেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে পাথর্ক্য নিম্নরূপঃ

মেরুদণ্ডী প্রাণী অমেরুদণ্ডী প্রাণী
১. এদের মেরুদণ্ড আছে। ১. এদের মেরুদণ্ড নেই।
২. অন্তঃকঙ্কাল আছে। ২. অন্তঃকঙ্কাল  নেই।
৩. হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের। ৩. হৃৎপিণ্ড উন্নত ধরনের নয়।
৪. মানুষ ছাড়া সকল মেরুদণ্ডী প্রাণীর লেজ থাকে। ৪. সাধারণত লেজ থাকে না।
৫. চোখ সরল প্রকৃতির। ৫. চোখ সরল প্রকৃতির বা একটি চোখের মধ্যে অনেকগুলো চোখ থাকে যেটি পুঞ্জাক্ষি।
৬. উদাহরণঃ কৈ মাছ, ব্যাঙ, কুমির, বিভিন্ন ধরনের পাখি, মানুষ ইত্যাদি। ৬. উদাহরণঃ অ্যামিবা, কেঁচো, শামুক, মাছি  ইত্যাদি।
10Jun2020

অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ

সেশন-১.২: উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস

  • উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসসহ ছক প্রণয়ন করুন।
  • উদাহরণসহ উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস করুন।
  • অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? ৩টি করে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করুন।
  • অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে ৫টি পার্থক্য লিখুন।
  • একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসসহ ছক প্রণয়ন করুন।

উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস:

উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস হলো বিচিত্র উদ্ভিদরাজিকে (পাঁচ লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদকে) সহজে, অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিক ভাবে জানার জন্য একটি বিন্যাস পদ্ধতি।নিম্নে ছকের মাধ্যমে উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস দেয়া হলো-

উদাহরণসহ উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস করুন

উদাহরণসহ উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস:

ফুলের উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে প্রধানত দুই শ্রেণিতে  বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন-

১) অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং

২) সপুষ্পক উদ্ভিদ

) অপুষ্পক উদ্ভিদঃ

এদের ফুল হয় না। ফুল হয় না বলে এদের বীজ ও ফল হয় না। রেণু দিয়ে এদের বংশ বৃদ্ধি ঘটে। যেমন- স্পাইরোগাইরা,অ্যাগারিকাস,ক্লোরেলা ইত্যাদি।

উদ্ভিদের মূল,কাণ্ড ও পাতার উপর ভিত্তি করে অপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-ক) সমাঙ্গবর্গ,  খ) মসবর্গ এবং গ) ফার্ণবর্গ।

ক) সমাঙ্গবর্গঃ

যেসব উদ্ভিদের দেহকে মূল,কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না সেসব উদ্ভিদকে সমাঙ্গবর্গ উদ্ভিদ বলে। এ দলের উদ্ভিদ্গুলো এককোষী বা বহুকোষী এবং ক্লোরোফিলযুক্ত বা ক্লোরোফিলবিহীন হয়ে থাকে। এদের কোন  পরিবহণ তন্ত্র নেই। খাদ্য তৈরির সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদকে পুনরায় দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১) শৈবাল এবং ২) ছত্রাক

১) শৈবাল:

বাড়ির পাশে আবদ্ধ জলাশয়ে,জমে থাকা বৃষ্টির পানি, নর্দমা, কলের পাড়ে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে সবুজ জাতীয় উদ্ভিদকে শৈবাল বলে। এদের দেহে সালোক সংশ্লেষণের বর্ণ কণিকা থাকে। এরা স্বভোজী। সূর্যালোক এদের জন্য অপরিহার্য। এরা এককোষী বা বহুকোষী হয়ে থাকে। যেমন- স্পাইরোগাইরা ও ক্লোরেলা।

২) ছত্রাক:

পঁচা, স্যাঁতসেঁতে জায়গা ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো ও বাসি, পচা রুটির উপর তুলার অংশের মতো একপ্রকার বস্তু দেখা যায়, এদেরকে ছত্রাক বলে। এদের দেহে সালোক সংশ্লেষণের বর্ণকণিকা ক্লোরোফিল থাকে না, তাই এরা বর্ণহীন। এরা পরভোজী বা মৃতভোজী। সূর্যালোক এদের জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন-অ্যারিকাস ও মিউকর।

খ) মসবর্গঃ

এই জাতীয় উদ্ভিদের দেহে কাণ্ড ও পাতাকে পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায়। আর সুগঠিত মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। দেহে ক্লোরোফিল থাকার জন্য নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে। এরা ছায়াযুক্ত স্যাঁতসেঁতে মাটি, পুরানো দেয়াল ও ছাদে, পুরানো গাছের কান্ড ইত্যাদির উপর জন্মে। যেমন- মস।

গ) ফার্নবর্গঃ

এসব উদ্ভিদের দেহ, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। এ জাতীয় উদ্ভিদ নিজেরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এরা স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত স্থান এবং পুরানো দেয়ালে  জন্মে। ছায়াযুক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে এরা সর্বাপেক্ষা উন্নত। যেমন- ঢেঁকিশাক।

২) সপুষ্পক উদ্ভিদঃ

যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। এদের দেহকে মুল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। বীজের গঠনের উপর ভিত্তি করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে দুই ভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- ক) নগ্নবীজী উদ্ভিদ এবং খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ।

ক) নগ্নবীজী উদ্ভিদঃ

এসব উদ্ভিদের সত্যিকার ফুল হয় না অর্থাৎ এদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না। গর্ভাশয় থাকে না বলে এদের ফল হয় না আর ফল হয় না বলে বীজ নগ্ন অবস্থাতে থাকে। যেমন-সাইকাস, পাইন গাছ।

খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদঃ

যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয়, ফল হয় এবং বীজ ফলের মধ্যে আবৃত অবস্থায় থাকে তাদেরকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে। সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে এরা সর্বাপেক্ষা উন্নত শ্রেণির। যেমন-আম, জাম, পেয়ারা ইত্যাদি। আবৃতবীজী উদ্ভিদ আবার দুই প্রকার। যথা-১) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ এবং ২)একবীজপত্রী উদ্ভিদ

১) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ:

যেসব উদ্ভিদের বীজে দুইটি বীজপত্র থাকে তাকে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। যেমন-আম, জাম, বাদাম, শিম, ছোলা প্রভৃতি।

২) একবীজপত্রী উদ্ভিদ:

যে উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে, সেই উদ্ভিদকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলা হয়। উদাহরণ- ধান, গম, ভুট্টা, নারকেল ইত্যাদি।

অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? ৩টি করে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করুন।

অপুষ্পক উদ্ভিদঃ

এদের ফুল হয় না। ফুল হয় না বলে এদের বীজ ও ফল হয় না। রেণু দিয়ে এদের বংশ বৃদ্ধি ঘটে। যেমন-

i) স্পাইরোগাইরা,

ii) অ্যাগারিকাস,

iii) ক্লোরেলা ইত্যাদি।

সপুষ্পক উদ্ভিদঃ

যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। এদের দেহকে মুল,কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়।  যেমন-

i) পাইন,

ii) ধান,

iii) শিম ইত্যাদি।

অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে ৫টি পার্থক্য লিখুন।

অপুষ্পক ও সপুষ্পক উদ্ভিদের পার্থক্য দেওয়া হলো:

অপুষ্পক সপুষ্পক
১. এদের ফুল ও ফল হয় না। ১. এদের ফুল ও ফল হয়।
২. এ ধরনের উদ্ভিদের মূল,কাণ্ড ও পাতা নেই। ২. এ ধরনের উদ্ভিদের মূল,কাণ্ড ও পাতা আছে।
৩. অপুষ্পক উদ্ভিদ সাধারণত নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। ৩. সপুষ্পক উদ্ভিদ সাধারণত নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে।
৪. এসব উদ্ভিদের মূল মাটির গভীরে যায় না। ৪. এসব উদ্ভিদের মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে।
৫. এরা আকার-আকৃতিতে ছোট ও নরম। ৫. এরা আকার-আকৃতিতে বড় ও শক্ত।

একবীজপত্রী  দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

কবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য:

একবীজপত্রী দ্বিবীজপত্রী
১) যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে তাকে একবীজ পত্রী উদ্ভিদ বলে। ১) যেসব উদ্ভিদের বীজে দুইটি বীজপত্র থাকে তাকে দ্বিবীজপত্রী  উদ্ভিদ বলে।
২) প্রধান মূল থাকে। ২) গুচ্ছমূল থাকে।
৩) ধান, গম, ভুট্টা প্রভৃতি একবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ। ৩) ছোলা, মটর, শিম, প্রভৃতি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ।
৪) একবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজের খোসা ছাড়ানো খুব সহজ নয়। ৪) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজের খোসা ছাড়ানো অপেক্ষাকৃত সহজ।
8Jun2020

অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ

সেশন-১.১: পরিবেশ ও পরিবেশের উপাদান, জীব ও জড়ের বৈশিষ্ট্য এবং উদ্ভিদ ও প্রাণীর বৈশিষ্ট্য ও পার্থক্য

  • পরিবেশ কাকে বলে? পরিবেশের উপাদানগুলো কী কী? পরিবেশের উপাদান গুলোকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?
  • জীব কাকে বলে? জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখুন।
  • ‘বেঁচে থাকার জন্য মানুষ জড়বস্তুর উপর নির্ভরশীল’ কথাটির স্বপক্ষে আপনার যুক্তি তুলে ধরুন।
  • প্রাণী ও উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য লেখ।

পরিবেশ কাকে বলে? পরিবেশের উপাদানগুলো কী কী? পরিবেশের উপাদান গুলোকে কয় ভাগে ভাগ করা যায়?

পরিবেশঃ

উদ্ভিদ, প্রাণী ও মানুষের সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য যে পারিপার্শ্বিক অবস্থার প্রয়োজন, সে অবস্থাকে পরিবেশ বলে। পরিবেশ শব্দটির উৎপত্তি জার্মান শব্দ environ থেকে, যার অর্থ en অর্থে in  অর্থাৎ মধ্যে এবং ‘viron’ অর্থে ‘circuit’ অর্থাৎ ‘পরিবেষ্টন’। অর্থাৎ পরিবেশ বলতে পরিবেষ্টনকারী পারিপার্শ্বিক অবস্থাকে বুঝায়। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বলতে বোঝায় প্রকৃতির সমস্ত দান, যেমন-পাহাড়-পর্বত, নদী, বন-জঙ্গল, কীটপতঙ্গ, পানি, মাটি, বাতাস, জীবজন্তু ও মানুষ।

বিজ্ঞানীরা বিভিন্নভাবে পরিবেশের সংজ্ঞা দিয়েছেন। যেমন- ১৯১৪ সালে আর্মস নামক এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স গ্রন্থে বলা হয়েছে- “ জীব সম্প্রদায়ের পারিপার্শ্বিক জৈব এবং প্রাকৃতিক অবস্থাকে পরিবেশ বলে।

আর্মস যাকে জৈব অবস্থা বলেছেন, পরিবেশ বিজ্ঞানী বট্‌কিন ও কেলার তাকেই সাধারণভাবে জৈব কারণ বলেছেন। তেমনি অজৈব কারণ আর প্রাকৃতিক অবস্থা প্রায় একই জিনিস।

পরিবেশের উপাদানঃ

আমাদের চারপাশের বিভিন্ন ভৌতিক, রাসায়নিক ও জৈবিক প্রকরণের সামগ্রিক মিথস্ক্রিয়ায় গড়ে ওঠে আমাদের পরিবেশ। আমরা চারপাশে যা দেখি যেমন-বাড়িঘর, রাস্তাঘাট, মাটি, পানি, বায়ু, নদীনালা, গাছপালা, জীবজন্তু, পোকামাকড় ইত্যাদি সবই আমাদের পরবেশের এক একটি উপাদান।

পরিবেশের উপাদানের প্রকারভেদঃ

পরিবেশের উপাদানগুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

১) প্রাকৃতিক বা ভৌত পরিবেশ এবং

২) মানবসৃষ্ট বা সামাজিক পরিবেশ।

জীব কাকে বলে? জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহ লিখুন।

জীব:

জীববিজ্ঞানের ভাষায় যার জীবন আছে তাকে জীব বলে। যেমনঃ মানুষ,পশু,পাখি,জীবজন্তু,পোকামাকড়। কতগুলো বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে এদেরকে জীব বলা হয়-নড়ন ও চলন, অনুভূতি, খাদ্য গ্রহণ, বৃদ্ধি,শ্বসন, প্রজনন বা বংশবৃদ্ধি, রেচন ও মৃত্যু।

জীবের বৈশিষ্ট্যসমূহঃ

কতকগুলো বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে মানুষ, পশু, পাখি, জীবজন্তু, পোকামাকড়, গাছ এদের জীব বলা হয়। যেমন-

১) নড়ন ও চলন:

জীব নড়াচড়া করে। জীবের এ নড়াচড়াকে নড়ন বলে। জীবের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাওয়াকে চলন বলে। প্রাণীর চলন সহজে দেখা যায় কিন্তু উদ্ভিদের চলন দেখা যায় না। উদ্ভিদ মাটিতে এক স্থানে স্থির থাকলেও এদের দেহের অংশবিশেষ যেমন-শিকড়, ডালপালা, আকর্ষী ইত্যাদি নড়াচড়া করে আণুবিক্ষণিক খাদ্য গ্রহণ, বাসস্থানের সন্ধান, আত্নরক্ষা ইত্যাদির জন্য জীবকে নড়াচড়া করতে দেখা যায়।

২) অনুভূতিঃ

জীব সাড়া দেয় অর্থাৎ তাদের অনুভূতি আছে। যেমন-শিশু পড়ে যেয়ে ব্যথা পেলে কান্না করে, লজ্জাবতীর পাতা স্পর্শ করলে নুয়ে পড়ে, শামুককে স্পর্শ করলে দেহকে খোলসের ভিতরে গুটিয়ে নেয়। অনুরূপভাবে জীব আলো ও তাপের উপস্থিতি বুঝতে পারে।

৩) খাদ্য গ্রহণঃ

জীব খাদ্য গ্রহণ করে এবং তা থেকে প্রয়োজনীয় শক্তি উৎপাদন করে।উদ্ভিদ সালোক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করে।কিন্তু প্রাণী নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। প্রাণী খাদ্য গ্রহণের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল।

৪) বৃদ্ধিঃ

গাছপালা,মানুষ,পশু-পাখি সকলেই ছোট থেকে ধীরে ধীরে বড় হয়। দেহের আকার ও ওজন বৃদ্ধি পায়। জীবের এরূপ আকার এবং ওজন বেড়ে যাওয়াকে বৃদ্ধি বলে। যেমন-উদ্ভিদ্দের ক্ষেত্রে প্রথমে বীজ থেকে চারা তারপর বড় গাছে পরিণত হওয়া।আবার জন্ম থেকে শিশু বড় হয়ে পূর্ণ বয়স্ক মানুষে পরিণত হওয়া।

৫) শ্বসনঃ

শ্বসন একটি বিপাকীয় ক্রিয়া। এ প্রক্রিয়া চলাকালে প্রতিটি জীব পরিবেশ থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে ও কার্বন ডাই অক্সাইড ত্যাগ করে।শ্বসন প্রতিটি জীবের গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট । শ্বসন ছাড়া কোন জীব বেঁচতে পারে না।

৬) প্রজনন বা বংশবৃদ্ধিঃ

প্রজনন জীবের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। জীবের বংশবৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে প্রজনন বলে। প্রজননের মাধ্যমে জীবনের ধারা বজায় থাকে।

৭) রেচনঃ

শক্তি এবং বৃদ্ধির প্রয়োজনে জীব খাদ্য গ্রহণ করে । খাদ্যদ্রব্যগুলোর পরিপাক এবং বিপাক এর কালে কিছু অপ্রয়োজনীয় পদার্থ সৃষ্টি করে । অপ্রয়োজনীয় এবং ক্ষতিকর বস্তুগুলো একটি বিশেষ প্রক্রিয়ায় দেহ থেকে নিষ্কাষিত হয় । এই প্রক্রিয়াকে রেচন বলে। যেমন-মানুষ রেচন প্রক্রিয়ায় প্রস্রাবের মাধ্যমে ইউরিয়া বের করে দেয়।

৮) মৃত্যুঃ

জীব চিরদিন বেঁচে থাকে না।বেশিরভাগ জীবের জীবনকাল সীমিত। জীবের জীবনকাল জন্মের মাধ্যমে শুরু হয়ে মৃত্যুর মাধ্যমে শেষ হয়।

‘বেঁচে থাকার জন্য মানুষ জড়বস্তুর উপর নির্ভরশীল’ কথাটির স্বপক্ষে আপনার যুক্তি তুলে ধরুন।

বেঁচে থাকার জন্য মানুষ জড়বস্তুর উপর নির্ভরশীল:

পরিবেশে কোন জীবই এককভাবে বেঁচে থাকতে পারে না। বেঁচে থাকার জন্য জীব বিভিন্নভাবে তার চারপাশের পরিবেশের উপর নির্ভর করে। পরিবেশের সকল অজীব বা জড় উপাদানের সাথে জীব উপাদানসমূদের সবসময়ই পারস্পরিক ক্রিয়া,আদান-প্রদান চলছে। উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণীর মতো মানুষও বেঁচে থাকার জন্য জড় বস্তুর উপর নির্ভরশীল।জড় বস্তুর উপর মানুষের নির্ভরশীলতার কয়েকটি উদাহরণ দেয়া হলো:

  • মানুষ শ্বাস গ্রহণের জন্য বায়ু থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে।
  • মানুষ বেঁচে থাকার জন্য পানি পান করে।
  • মানুষের বেঁচে থাকার জন্য পুষ্টি ও খাবার প্রয়োজন।
  • ফসল ফলানো ও বাসস্থান তৈরির জন্য মানুষের মাটি প্রয়োজন।
  • জীবন যাপনের জন্য মানুষের বাসস্থান,আসবার,পোশাক,যন্ত্রপাতি ইত্যাদির প্রয়োজন হয়।
  • দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজে মানুষ সূর্যের আলো ব্যবহার করে। যেমন- সৌরবিদ্যুৎ  জড় বস্তুর উপর মানুষের নির্ভরশীলতার উপরিউক্ত উদাহরণ থেকে বলা যায় যে মানুষ বেঁচে থাকার জন্য জড় বস্তুর উপর সম্পূর্ণরূপে নির্ভরশীল।

প্রাণী  উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য লেখ

উদ্ভিদ ও প্রাণীর মধ্যে পার্থক্য:

প্রাণী উদ্ভিদ
১. প্রাণীর অঙ্গ প্রত্যঙ্গ আছে। ১. উদ্ভিদের কোন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ নেই।
২. প্রাণী চলাফেরা করতে পারে। ২. উদ্ভিদ চলাফেরা করতে পারে না।
৩. প্রাণী নিজের খাদ্য নিজে তৈরী করতে পারে না। 
খাদ্যের জন্য উদ্ভিদের উপর নির্ভরশীল হতে হয়।
৩. উদ্ভিদ নিজের খাদ্য নিজেই তৈরী করতে পারে।
৪. এরা দেখতে পায়, শুনতে পায়, গন্ধ নিতে পারে। ৪. এরা দেখতে পায় না, শুনতে পায় না, গন্ধ নিতে পারে না।
৫. নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত প্রাণী বৃদ্ধি পায়। ৫. মৃত্যুর আগ পর্যন্ত উদ্ভিদ বৃদ্ধি পায়।
৬. উদ্ভিদের কোষ প্রাচীর আছে। ৬. প্রাণীর কোষ প্রাচীর নেই।

Ad

error: Content is protected !!