প্রাথমিক বিজ্ঞান (এসকে): অধ্যায়-১ খাদ্যজাল - Proshikkhon

প্রাথমিক বিজ্ঞান (এসকে): অধ্যায়-১ খাদ্যজাল

অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ

সেশন-১.৪: উদ্ভিদ ও প্রাণীর পারস্পারিক নির্ভরশীলতা এবং জীবের আবাসস্থল, খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল

  • পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল।
  • জীবের আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থল কাকে বলে?
  • খাদ্যজাল ও খাদ্যশৃঙ্খল কী? উদাহরণ দিন।

পরিবেশে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে অপরের উপর নির্ভরশীল

জীব পরিবেশের প্রধান উপাদান হলো উদ্ভিদ ও প্রাণী। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এরা একে অপরের থেকে ভিন্ন। কিন্তু বেঁচে থাকার জন্য এরা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। উদ্ভিদ ও প্রাণীর নির্ভরশীলতা নিচে ব্যাখ্যা করা হলোঃ

  • প্রাণী শ্বাসকার্যে উদ্ভিদের ত্যাগ করা অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং উদ্ভিদ খাদ্য তৈরির জন্য প্রাণীর ত্যাগ করা কার্বন-ডাই অক্সাইড গ্রহণ করে।
  • উদ্ভিদ তার খাদ্য তৈরি, বৃদ্ধি, পরাগায়ন ও বীজের বিস্তরণের জন্য প্রাণীর উপর নির্ভরশীল। অপরদিকে উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশ যেমনঃ ফলমূল, কান্ড ও শাখা প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে।
  • প্রাণীর মৃতদেহ এবং মলমূত্র মাটিতে মিশে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি করে যা উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য একান্ত প্রয়োজন।
  • উদ্ভিদ অনেক প্রাণীর আবাসস্থল এবং অনেক প্রাণী উদ্ভিদের পরাগায়নে সাহায্য করে। এর ফলে নতুন উদ্ভিদের সৃষ্টি হয়।

উদ্ভিদ ও প্রাণী বিভিন্নভাবে একে অপরের ওপর নির্ভরশীল। এদের একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না। এমন কি পরিবেশে  কোন একটি উপাদান কম-বেশি হলে পরিবেশের অন্য উপাদান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে উদ্ভিদ ও প্রাণী একে উপরের উপর নির্ভরশীল।

জীবের আবাসস্থল ও আশ্রয়স্থল কাকে বলে?

আবাসস্থলঃ উদ্ভিদ যে জায়গায় জন্মে এবং প্রাণী যে বিশেষ জায়গায় বাস করে তাই তার আবাসস্থল।

আশ্রয়স্থলঃ আশ্রয়স্থল হল প্রাণীর জন্য একটি নিরাপদ স্থান যা তাকে আক্রমণকারী প্রাণী বা বিরূপ আবহাওয়া থেকে রক্ষা করে।

খাদ্যশৃঙ্খল ও খাদ্যজাল কী? উদাহরণ দিন

খাদ্যশৃঙ্খলঃ

খাদ্য শক্তি উৎপাদক থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্তরের খাদকের মধ্যে প্রবাহিত হলে সেই প্রবাহকে একসাথে খাদ্য শৃংখল বলে। অন্যভাবে বলা যায়, সবুজ উদ্ভিদ খাদ্য উৎপাদন ও সংরক্ষণ করে। এই সবুজ উদ্ভিদকে খায় ছোট ছোট প্রাণী। আবার ছোট প্রাণীকে খায় বড় প্রাণী। এভাবে পরিবেশে খাদ্য ও খাদকের মধ্যে যেসব ধারাবাহিকতা বিদ্যমান তাকেই খাদ্যশৃঙ্খল বলে। যেমন ধরি, আজ সকালে আমি একটি ডিম খেয়েছি। ডিমটি এসেছে মুরগি থেকে। মুরগি শস্যদানা খেয়ে বেড়ে উঠেছে এবং ডিম পেড়েছে। শস্যদানা তৈরি হয়েছে উদ্ভিদে সূর্যের আলোকে ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে আমরা একটি সরল সম্পর্ক পেলাম। উদ্ভিদ-মুরগি-মানুষ। এটি একটি খাদ্যশৃঙ্খল।

খাদ্যজালঃ


বাস্তুতন্তে বেশ কয়েকটি খাদ্য শৃঙ্খল একত্রিত হয়ে যে জালের মতো গঠন তৈরি করে তাকে খাদ্যজাল বলে। বাস্তুতন্ত্রের খাদ্য শৃঙ্খলে একই খাদক বিভিন্ন স্তরে স্থান পেতে পারে। আর এ কারণেই এই সকল খাদ্য শৃঙ্খলগুলো একত্রে দেখতে জালের মতো মনে হয়। যেমন: উদ্ভিদ-ঘাসফড়িং-মুরগি-মানুষ।

চিত্র: খাদ্যজাল

উপরের উদাহরণটির ক্ষেত্রেই একটি ঘাসফড়িং উদ্ভিদের পাতা খেতে পারে। মুরগি ঘাসফড়িং খেতে পারে। আবার মানুষ ডিম না খেয়ে শস্যদানা খেতে পারে। এভাবে কয়েকটি খাদ্যশৃঙ্খলের সমন্বয়ে একটি খাদ্যজাল পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!