শিশু ও শিশুর বৈশিষ্ট্য - Proshikkhon

শিশু ও শিশুর বৈশিষ্ট্য

Child and its characteristics

শিখনের বিভিন্নতা শিশুদের নানান অভিজ্ঞতা অর্জনে সহায়তা করে৷ শিক্ষক শিশু ও শিশুর বৈশিষ্ট্য অথবা শিশুর ভিন্নতা অনুসারে কৌশল প্রয়োগ করে  শিখনে সহায়তা দিলে শিশুদের শিখন প্রাণবন্ত ও কার্যকর হয়৷ শিশুর পূর্ব অভিজ্ঞতা ও নিজ পছন্দের শিখন কৌশল প্রয়োগ করার সুযোগ পেলে সে শিখনে আগ্রহী ও তৎপর হয়৷ সুতরাং, শিখন শেখানো কার্যাবলি পরিচালনার সময় শিক্ষক শিশুদের শিখনের ধরন সম্পর্কে জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ নিম্নে শিশু ও শিশুর বৈশিষ্ট্য অনুসারে সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো :

শিশু কে?

শিশু হলো অফুরন্ত সম্ভাবনাময় মানবসত্তা। শিশু শব্দটি শুনলেই প্রথমত তার অবয়বগত বা শারীরিক যেমন-শরীর, চেহারা, আকার-আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য এবং দ্বিতীয়ত, তার বিকাশ বা গুণগত দিক অর্থাৎ মন, দক্ষতা ও আচরণিক বৈশিষ্ট্যসমূহ আমাদের বিবেচনায় আসে।

‘শিশু’ কথাটি মনে আসতেই আমাদের কাছে কিছু শব্দ ও ছবি ভেসে আসে৷ শিশু সম্পর্কে আমাদের কাছে (১) অবয়বগত বা শারীরিক দিক (শরীর, চেহারা, আকার-আকৃতিগত বৈশিষ্ট্য) এবং তার (২) মানসিক দিক (মন, দক্ষতা ও আচরণিক বৈশিষ্ট্য) বিষয়টি বিবেচনায় আসে৷

বাংলাদেশ শিশু নীতি (২০১১) অনুযায়ী প্রদত্ত শিশু সম্পর্কিত সংজ্ঞা অনুসারে –  ‘শিশু বলতে আঠারো বছরের নিচের বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিকে বুঝায়।’

জাতিসংঘ শিশু অধিকার নীতিমালায় (UNCRC, ১৯৮৯) শিশুদের বয়স, অধিকার ও আমাদের করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এ সনদের আলোকে (সনদ নং-১) ‘১৮ বছরের নিচে সব মানব সন্তানকে শিশু বলা হবে, যদি না শিশুর জন্য প্রয়োজ্য আইনের আওতায় ১৮ বছরের আগেও শিশুকে সাবালক বিবেচনা করা হয়।’

এছাড়াও মনোবিজ্ঞানীগণ এবং বিকাশ বিশারদগণও জন্ম থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সময়কে শিশু বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন।

আমাদের দেশের মোট জনগোষ্ঠির প্রায় অর্ধেকই (৪৭%) শিশু। ডেমোগ্রাফিকস অব বাংলাদেশ এর তথ্য অনুযায়ী দেশের জনগোষ্ঠির ৩৩.৪% হলো ০-১৪ বছরের শিশু। এই বিরাট শিশু জনগোষ্ঠিকে সার্বিকভাবে বিকশিত করার জন্য বিশ শতক পরবর্তীকালে আইন ও বিভিন্ন বিধিবিধান দিয়ে অধিকতর সুরক্ষিত ও তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে। কারণ অদূর ভবিষ্যতে এরাই দেশ পরিচালনায় বিভিন্ন কর্মকান্ডে নিয়োজিত হবে। আর তাই পৃথিবীর সব দেশই শিশুর সঠিকভাবে বেড়ে ওঠার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করছে।

শিশু একটি পূর্ণাঙ্গ মানবসত্তা

একসময়, শিশুদের ফাঁকা কলসির সাথে তুলনা করা হতো৷ তাদের মতে, ‘শিশু হলো ফাঁকা কলসি (empty vessel) সদৃশ’৷ বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে ধীরে ধীরে তাদের ধারণা বাড়তে থাকে ও পরিপক্কতা পায়৷ আবার কেউ কেউ মনে করতেন শিশুরা খালি স্লটে (blank slate), ল্যাটিন ভাষায় যাকে বলা হয় tabula rasa যার অর্থ, শিশুরা কিভাবে বেড়ে উঠবে তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করে তার পরিবেশের ওপর৷

বাংলাদেশ মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত বাংলাদেশ শিশু নীতি (২০১১) অনুয়ায়ী ‘শিশু বলতে আঠারো বছরের নিচের বাংলাদেশের সকল ব্যক্তিকে বুঝাবে’ (‘Children’ shall include all individuals under 18 years) ।

শিশুর বৈশিষ্ট্য

শিশুর সাধারণ বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ :

  • সব শিশু এক রকম নয়৷ প্রতিটি শিশুই অপর শিশু থেকে আলাদা৷ প্র্যেকের নিজস্ব সত্তা রয়েছে৷
  • শিশুদের পছন্দ, চাহিদা ও শিখনের ধরন আলাদা আলাদা হয়৷
  • শিশুরা নিজেদের মতো করে পৃথিবী দেখে, বড়দের মতো করে নয়৷
  • শিশুদের মনোযোগ খুবই ক্ষণস্থায়ী৷ কোনো কিছুতে বেশিক্ষণ মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না৷
  • শিশুরা খেলা, খেলনা ও নানা রকম কাজ বেশি পছন্দ করে৷
  • সাধারণত শিশুরা চঞ্চল ও সৃজনশীল হয়৷
  • শিশুরা সাধারণত আনন্দপ্রিয় ও কৌতূহলী হয়৷
  • শিশুরা সাধারণত আত্মকেন্দ্রিক/অন্তর্মুখী হয়৷
  • শিশুদের প্রধান দুটি চাহিদা হলো :

-ভালোবাসা পাওয়া ও বড়দের কাছে গ্রহণীয় হওয়া৷

-অনুসন্ধান করা, নানা রকম কাজ করা ও নিজস্ব সত্তাকে প্রকাশ করা৷

শিশুর বয়ঃক্রম

  • নবজাতক : মাস (প্রথম ২৮ দিন);
  • ইনফ্যান্ট : (১ থেকে ১২ মাস);
  • টডলার : (১২ থেকে ৩৬ মাস);
  • প্রি-স্কুলার : (৩ বছর থেকে ৬ বছর);
  • প্রাইমারি : (৬ বছর থেকে ১০ বছর);
  • বয়ঃসন্ধিকাল : (১১ বছর থেকে ১৮ বছর)।

error: Content is protected !!