What is CEDAW? What has been said in the CEDAW Charter to eliminate discrimination against women?
সিডো সনদ
নারী ও পুরুষের মাঝে বিরাজমান সকল প্রকার বৈষম্য দূর করে সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালের ১৮ই ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মতিক্রমে ‘নারীর প্রতি সকল প্রকার বৈষম্য বিলোপ সনদ টি গৃহীত হয়। ইংরেজীতে একে বলা হয় Convention on the Elimination of All Forms of Discrimination Against Women যা সংক্ষেপে CEDAW (সিডো) নামে পরিচিত।
১৯৮০ সালের ১লা মার্চ থেকে এই সনদে স্বাক্ষর শুরু হয় এবং ১৯৮১ সালের ৩রা সেপ্টেম্বর থেকে সনদটি কার্যকর হয়। ১৯৯৯ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১৬৫টি রাষ্ট্র এই সনদ অনুমোদন করে স্বাক্ষর করেছে।
বাংলাদেশ এই দলিল অনুমোদন করে স্বাক্ষর করেছে ১৯৮৪ সালের ৬ই নভেম্বর। অনুমোদনকালে যদিও বাংলাদেশ সরকার ২, ১৩ (ক) এবং ১৬.১ (গ) ও (চ) ধারাগুলো আপত্তিসহ স্বাক্ষর করেছে। পরবর্তীতে আপত্তিগুলো প্রত্যাহার করার ব্যাপারে জাতীয় পর্যায়ে গঠিত রিভিউ কমিটির সুপারিশক্রমে ১৯৯৭ সালের ২৪শে জুলাই ১৩ (ক) ও ১৬.১ (চ) ধারাগুলো থেকে বাংলাদেশ তার আপত্তি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। তবে ধারা ২ এবং ১৬.১ (গ) থেকে আপত্তি প্রত্যাহার করে নেওয়ার বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিডো দলিলের মূল মর্মবাণী-
সমাজ ও সভ্যতার ক্রমবিকাশে যুগ যুগ ধরে নারী যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে, সেই ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতিদান, সকল ক্ষেত্রে নারী পুরুষের মধ্যে সমতা স্থাপন নিশ্চিত করণ এবং মানুষ হিসাবে নারীর সার্বিক উন্নয়ন ও বিকাশের জন্য অনুকুল পরিবেশ সৃষ্টি।
সিডো সনদ ধারা:
এই সনদে মোট ৩০টি ধারা রয়েছে। ধারা ১ থেকে ১৬ নারী-পুরুষের সমতা সংক্রান্ত, ধারা ১৭ থেকে ২২ সিডো এর বাস্তবায়ন সংক্রান্ত এবং ধারা ২৩ থেকে ৩০ সিডো এর প্রশাসন সংক্রান্ত। সিডো সনদের ধারা ১০ এ শিক্ষায় সম-অধিকারের কথা বলা হয়েছে। নিম্নে ধারা-১০ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো:
১. কর্মজীবন ও বৃত্তিমূলক নির্দেশনা, পল্লী ও শহারাঞ্চলে সকল ধরণের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একই শর্তাবলির সমতা বিধান করা;
২. একই বিদ্যালয়ে, একই শিক্ষাক্রমে, একই পরিবেশে, একই মানের শিক্ষকের দ্বারা শিক্ষালাভের সুযোগ;
৩. শিক্ষায় চিরাচরিত ধারণা দূরীকরণের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের জন্য সহ শিক্ষাক্রমিক কার্যাবলি;
৪. বৃত্তি ও অন্যান্য শিক্ষালাভেরে সুযোগ;
৫. বয়স্ক ও কর্মমূলক শিক্ষা প্রদানের মাধ্যমে বিরাজমান দুরত্ব হ্রাস করা;
৬. ছাত্রীদের ঝরে পড়া রোধ করা;
৭. খেলাধুলা ও শারীরিক শিক্ষায় নারী ও পুরুষের সমান সুযোগ সৃষ্টি করা;
৮. পরিবার পরিকল্পনা ও স্বাস্থ্য সেবা প্রদান ইত্যাদি।

