শিক্ষায় গবেষণা Archives - Page 2 of 2 - Proshikkhon

Posts Tagged "শিক্ষায় গবেষণা"

25Dec2019

History of Research

গবেষণার ইতিহাস বা বিকাশ

বিগত কয়েক দশকে সারা বিশ্বে নানান মাত্রায় প্রায় সব ক্ষেত্রেই উন্নয়নের বেশ অগ্রগতি হয়েছে। এই অগ্রগতির  অন্যতম প্রধান কারণ মানুষের নিরন্তর গবেষণা। বিশেষ করে বিজ্ঞান গবেষণার সাফল্যের জন্য প্রযুক্তির বিকাশ এত বেশি হয়েছে যে সারা বিশ্বকে ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ এখন বলা হয়।  গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল হতে শুর করে অষ্টাদশ শতকের দার্শনিক জন ডিউই পর্যন্ত সকলেই উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার সন্ধান করেছেন। যুগের উন্নয়নের সাথে সাথে মানুষ শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়নের নানার পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন। সুতরাং গবেষণার ইতিহাস বা বিকাশ সুদীর্ঘ। 

সারা পৃথিবীর প্রেক্ষাপটে গগবেষণার ইতিহাস বা বিকাশ বা সুত্রপাতকে তিনটি পর্যায়ে ভাগ করা যায়। যেমন-

১) গবেষণার প্রাচীনযুগ

২) গবেষণার মধ্যযুগ

৩) গবেষণার আধুনিকযুগ।

১) গবেষণার প্রাচীনযুগ:

গুহা মানবেরা তাদের নিজ প্রয়োজনে সুতা কাটার সূচনা করে। গুহার দেয়ালে দাগ কেটে রাখত, পশুদের ছবি এঁকে বর্ষা নিক্ষেপ করে অনুশীলন করত। প্রাচীন মানুষ তাদের মৌলিক চাহিদা পূরণের নিরন্তর অনুসন্ধান চালাত অন্ন, বস্ত্র ইত্যাদির জন্য। বলা যায় গবেষণার সূচনা তখন থেকেই শুরু হয়। তবে গবেষণা বলতে আমরা যা বুঝি তার সূচনা হয়েছে মূলত বিজ্ঞান গবেষণার হাত ধরেই। প্রাচীনকাল থেকেই যুগে যুগে মানুষ অন্মেষণ করেছে নতুন পদ্ধতি ও কৌশলের যা বিজ্ঞানের ইতিহাসের সাথে জড়িত। প্রাচীন মিশরীয় দলিলাদি জ্যোতির্বিজ্ঞান, গণিত ও ঔষধশাস্ত্রে অভিজ্ঞতাবাদী পদ্ধতি বর্ণনা করে। ষষ্ঠ শতাব্দীতে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক থেলিস প্রাকৃতিক অভ্যাসের অতি প্রাকৃতিক, ধর্মীয় ও পৌরাণিক ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেন, তিনি দাবি করেন যে প্রত্যেকটি ঘটনারই একটি প্রাকৃতিক কারণ থাকে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির জন্য অবরোহী যুক্তির (deductive reasoning) সূচনাটাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এরিস্টটলের হাতেই খুব সম্ভবত অভিজ্ঞতাবাদের জন্ম হয়েছিল, তিনি বিশ্বাস করতেন যে এই মাধ্যমে সর্বজনীন সত্য লাভ করা সম্ভব। যা প্রায় ১০০ বছর চলমান ছিল।

পরীক্ষাভিত্তিক ও পরিমাপভিত্তিক কর্মপদ্ধতি আরব অঞ্চলের মুসলমান বিজ্ঞানীদের কর্মেই প্রথম পরিলক্ষিত হয় যা তাঁরা বিভিন্ন প্রতিযোগী প্রকল্পের মাঝে পার্থক্যকরণের জন্য ব্যবহার করেন, আল-হাসানের “বুক অব অপটিক্স”(১০২১)-এ বর্ণিত তাঁর পরীক্ষাগুলোর মধ্যে এর নিদর্শন দেখা যায়। সপ্তদশ ও অষ্টদশ শতকে আধুনিক বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির উদয় ঘটে। ফ্রান্সিস বেকন তাঁর নোভাম অরগানাম গ্রন্থে, যা এরিস্টটলের অরগানন এর অভিসন্দর্ভ, সহানুমান (syllogism) নামক এক পুরনো দার্শনিক প্রক্রিয়ার উন্নয়নের লক্ষ্যে এক নতুন ধরণের যুক্তির অবতারণা করেন। এরপর ১৬৩৭ সালে রনে দেকার্ত তাঁর ‘ডিসকোর্স অন মেথড’ গ্রন্থে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির পথপ্রদর্শক নীতিগুলোর অবকাঠামো প্রতিষ্ঠা করেন। আল-হাসান, বেকন এবং দেকার্তের লেখালেখির পাশাপাশি জন স্টুয়ার্ট মিলের কর্মকেও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ঐতিহাসিক উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে ধরা হয়।

২) গবেষণার মধ্যযুগ

অষ্টাদশ শতাব্দীতে Charles Darwin (1809) তাঁর ‘Theory of  the Species’ নামক বিখ্যাত গ্রন্থে গবেষণার নতুন দিক উম্মোচন করেন। এই পদ্ধতির কিছু সীমাবদ্ধতা দূর করার লক্ষ্যে চার্লস ডারউইন এক নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন করেন। তিনি আরোহ ও অবরোহ পদ্ধতির সমন্বয় করে যে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন সেখানে তিনিই প্রথম গবেষেণায় হাইপোথিসিসের (Hypothesis) কথা বলেন। পরবর্তীতে John Dewey (1859) বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সমস্যা সমাধানের ছয়টি ধাপ নির্ধারণ করেন। ঊনবিংশ শতাব্দীর অগ্রভাগে চার্লস স্যান্ডার্স পার্স এমন একটি ছক প্রস্তাব করেন যা বর্তমানের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির বিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ শিক্ষাক্ষেত্রে গবেষণার প্রয়োগ করেন। ১৮১৯ সালে উইলহেল্ম ওয়ান্ড প্রথম মনোবিজ্ঞানসম্মত গবেষণার অবহারণা করেন। ফ্রান্সিস গ্যালটন ও কার্ল পিয়ারসন ইংল্যান্ডে পরিসংখ্যানমূলক পদ্ধতি চালু করেন যা পরবর্তীতে গবেষণার জন্য অত্যন্ত ফলপ্রসূ হিসেবে পরিচিতি পায়। বিশ্বখ্যাত হার্বাড, কলম্বিয়া, মিসিগান ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গবেষণায় যথেষ্ট অবদান রাখে। ১৯৬৯ সালে আমেরিকার শিক্ষক সমিতি গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞানার্জনের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্টার সুপারিশ করে। ১৯৮৮  সালে ক্লার্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি. স্ট্যানলিহল ও ১৮৯০ সালে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের উইলিয়াম হার্পার গবেষণার উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এখান থেকেই আধুনিক গবেষণার যাত্রা শুরু বলা যায়।

৩) গবেষণার আধুনিক যুগ

Pierce (1839) বিভিন্ন ক্ষেত্রের অগ্রগতিকে ত্বরাম্বিত করেন। ‘How to make our ideas clear’ (১৮৭৮) গ্রন্থে পার্স একটি নৈর্ব্যক্তিকভাবে (objective) যাচাইযোগ্য পদ্ধতি প্রস্তাব করেন যার মাধ্যমে অনুমিত জ্ঞানের সত্যতা পরীক্ষা করা যাবে আরোহী ও অবরোহী যুক্তিকে ভিত্তি করে। এভাবে তিনি আরোহী ও অবরোহী যুক্তিকে প্রতিযোগী থেকে সহযোগীতে রুপান্তরিত করেন (অষ্টদশ শতকের মধ্যভাগে হিউমের সময় হতে আরোহী ও অবরোহী যুক্তিকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হত)। পার্স প্রকল্প পরীক্ষার পদ্ধতিও প্রস্তাব করেন যা এখনও ব্যবহৃত হচ্ছে। কার্ল পপার প্রমাণ ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। পপার মনে করেন জ্ঞান অন্বেষণের জগতে শুধু একটি পদ্ধতিই আছে তা হলো ‘Trial and Error’ । বিজ্ঞান, গণিত, দর্শন, শিল্প প্রভৃতি মানব মনের সৃষ্টি থেকে শুরু করে প্রাণের বিবর্তনও এই পদ্ধতি মেনে চলে। ১৯৩০ এর দিকে তিনি যুক্তি দেখান যে প্রায়োগিক তত্ত্বগুলোকে অবশ্যই মিথ্যা-প্রতিপাদনযোগ্য হতে হবে এবং আরোহী যুক্তি বলে আসলে কিছু নেই। পপারের মতে বিজ্ঞানের সব অনুমিতি আসলে প্রকৃতিগতভাবে অবরোহী।

গবেষণা সম্পর্কে অন্যান্য পোস্ট নিচে দেখুন:

25Dec2019

Materials and Features of Research

গবেষণার উপাদান ও বৈশিষ্ট্য

গবেষণার নানাবিধ উপাদান ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। একজন শিক্ষককে পেশাগত যোগ্যতা অর্জনের ক্ষেত্রে এমনকি নিজ প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে শিক্ষা গবেষণা পরিচালনা করতে হয়। যেমন- কেইস স্টাডি, অ্যাকশন রিসার্চ ইত্যাদি। নিম্নে গবেষণার উপাদান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো:

[…]
25Dec2019

Research : Concept and Definition

গবেষণা (Research) কাকে বলে?

গবেষণা (Research) হল সত্য অনুসন্ধানের বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া। যার সাধারণ অর্থ হল সত্য ও জ্ঞানের অনুসন্ধান। এর সমার্থবোধক শব্দ হল জিজ্ঞাসা, তদন্ত, অণ্বেষা, অনুসন্ধান, বিকিরণ এবং নিরুপুণ। গবেষণা হল জিজ্ঞাসার উত্তর অন্বেষণের লক্ষ্যে তদন্ত করা, অনুসন্ধানের মাধ্যমে তথ্যসংগ্রহ করা, সংগৃহীত তথ্যের বিশ্লেষণ করে জিজ্ঞাসার উত্তর বের করা। আমরা অন্যভাবে বলতে পারি যে, গবেষণা (Research) হল পুনঃসন্ধান অর্থাৎ, তুলনামূলক উন্নত পর্যবেক্ষণ করা, ভিন্ন প্রেক্ষিতে খোঁজা এবং বাড়তি জ্ঞানের সংযোজন করার সুশৃংখল ব্যবস্থা। কোন নির্দিষ্ট বিষয় সম্পর্কে প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের জন্যে বৈজ্ঞানিক ও সুসসংবদ্ব অনুসন্ধান হল গবেষণা (Research)। আরবীতে একে বাহস বলা হয় যার অর্থ হল মাটির ভিতর কোন কিছু তালাশ করা, খুঁজে বের করা ইত্যাদি।

প্রকৃতপক্ষে গবেষণা (Research) বৈজ্ঞানিক তথ্যানুসন্ধানের একটি আর্ট। ইংরেজীতে একে research বলা হয় যার বিভিন্ন অক্ষর দিয়ে বিভিন্ন বিষয়কে বুঝানো হয়ে থাকে। research শব্দটি দুটি শব্দ তথা re এবং search এর সমন্বয়ে গঠিত। re এর অর্থ হল পুনঃ পুনঃ আর search এর অর্থ হল অনুসন্ধান করা এবং কোনকিছু খুঁজে বের করা।

RESEARCH এর পূর্ণাঙ্গরূপ নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ

R-Rational of thinking

E-Expert and Exhautive treatment

S-Search for solution

E- Exactness

A-Analytical analysis of adequate data

R-Relationship of facts

C- Careful recording, critical observation, Constructive attitude

H- Honesty, Hard work.

তাহলে আমরা উপরোক্ত বিষয়াদীসমূহ বিশ্লেষণ করলে গবেষণার একটি সম্যক ধারনা সম্পর্কে অবহিত হতে পারি। The Advance learner Dictionary of Current English এ বলা হয়েছে যে, জ্ঞানের যে শাখায় নতুন তথ্য সংগ্রহের জন্যে ব্যাপক ও সযত্ন তথ্যানুসন্ধান তা হল গবেষণা।

গবেষণা (Research) এর সংজ্ঞা

রেডম্যান ও মরী বলেন, নতুন জ্ঞান আহরণের সুসংবদ্ব চেষ্টা-প্রচেষ্টা হল গবেষণা। 

গ্রীন বলেন, জ্ঞানানুসন্ধানের আদর্শিত বা মানসম্মত পদ্বতির প্রয়োগই গবেষণা। 

ইমাম রাগিব ইস্ফাহানি বলেন, বাহাস অর্থ হল উন্মুক্তকরণ এবং কোন কিছুর অনুসন্ধান করা। 

ম্যারি ম্যকডোনাল্ড বলেন, সুশৃংখলভাবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রচলিত জ্ঞানের সাথে বোধগম্য ও যাচাইযোগ্য জ্ঞানের সংযোজন হল গবেষণা।

ড. ইয়াহইয়া ওহায়ব বলেন, কঠিন যমিন বা পাথরে গর্ত খনন করা। সুসংবদ্ব অনুসন্ধান হল গবেষণা।

রবীঠাকুর বলেছেন, জানার মাঝে অজানার সন্ধান করছি। 

কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে এই গবেষণার কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। গবেষণার প্রতি উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ বলেন, আল্লাহ তোমাদের জন্যে নির্দেশ সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তোমরা চিন্তা-গবেষণা করতে পার। (সুরা-বাকারাঃ ২১৯)

রাস্ক বলেন, গবেষণা একটি বিশেষ অভিমত যা মানস কাঠামোর অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টিভঙ্গি, গবেষণা সেসব প্রশ্নের অবতারণা করা যাএর উদ্ঘাটন আগে কোনদিন হয় নাই, এবং সেই গবেষণার মাধ্যমে সেইসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যায়। 

সাইয়েদ শরীফ বলেন, দুটি বস্তুর ভিতর ইতিবাচক ও নেতিবাচক প্রভাবের দলীলের মাধ্যমে সম্পর্ক স্থাপনের নাম হল গবেষণা। 

ফানদালীন বলেন, উপস্থিত জ্ঞানের প্রবৃদ্বির লক্ষ্যে সুশৃংখল অনুসন্ধান বা পর্যালোচনা,যা উদ্বৃতি,প্রকাশ ও প্রচারের মাধ্যেম সম্পন্ন হয় তা হল গবেষণা। 

জন ডব্লিউ বেষ্ট বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্বতির প্রয়োগ দ্বারা বিশ্লেষণের আরও আনুষ্ঠানিক,সুসংবদ্ব ও ব্যাপক প্রক্রিয়াকে গবেষণা বলা হয়।

রিচার্ড গ্রিনেল বলেন, গবেষণা হল সাধারণভাবে প্রয়োগযোগ্য নতুন জ্ঞান সৃষ্টি যা করতে স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্বতি ব্যবহৃত হয়।   

কেউ কেউ মনে করেন যে, যা সকলের কাছে অজানা তা জানার নাম গবেষণা নয়।বরং যেবিষয়ে সকলের অল্প জ্ঞান রয়েছে সেই বিষয়ে সম্যক জ্ঞান লাভের পদ্বতি হল গবেষণা।

পল ডি লিডি বলেন, গবেষণা একটি তীর্যক ও সামগ্রিক অনুসন্ধান বা পরীক্ষণ যার উদ্দেশ্য হিক নব উদ্ভাবিত তথ্যের আলোকে প্রচলিত সিদ্বান্তসমূহের সংশোধন করা হয়।  অর্থাৎ, গবেষণা হল নিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণের পদ্বতিগত ও নৈবর্ত্তিক বিশ্লেষণ ও রেকর্ডকরণ যা তত্ত্বের বিকাশের দিকে পরিচালিত করে।

আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না? [আনআমঃ৫০]

গবেষণা সম্পর্কে অন্যান্য পোস্ট নিচে দেখুন:

  • গবেষণা (Research) বলতে কী বুঝায়?
  • গবেষণার ইতিহাস বা বিকাশ বা সুত্রপাত
  • ঐতিহাসিক গবেষণা কী? ঐতিহাসিক গবেষণার উৎস ও সমালোচনা।
  • বর্ণনামূলক গবেষণা (Descriptive Research)
  • কর্মসহায়ক গবেষণা (Action Research)
  • কেইস স্টাডি (Case Study) কী? কেইস স্টাডি কীভাবে লিখবেন?
  • পরীক্ষণমূলক গবেষণার সুত্রাবলি
  • জরিপ গবেষণার প্রকারভেদগুলো
  • মৌলিক গবেষণা ও সামাজিক গবেষণার মধ্যে পার্থক্য
  • পরিমাণগত ও গুণগত গবেষণার মধ্যে পার্থক্য কী?
  • গবেষণা প্রস্তাবনা কী?
  • গবেষণা প্রতিবেদন কী?
25Dec2019

Background and Definition of Action Research

কর্মসহায়ক গবেষণার পটভূমি

কর্মসহায়ক গবেষণা সামাজিক গবেষণার একটি নবতর এবং অন্যতম সংযোজন কেননা এর নিজস্ব কিছু বৈশিষ্ট্য রয়েছে যা খুবই কার্যকরি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিংশ শতাব্দির চল্লিশ দশকে অ্যাকশন রিসার্চের যাত্রা শুরু হয়। Kurt Lewin-কে কর্মসহায়ক গবেষণার জনক বলা হয়।

১৯৫৩ সালে স্টিফেন কোরীর লেখা বই “Action Research to Improve School Practice” প্রকাশনার মধ্য দিয়ে শিক্ষায় প্রথম কর্মসহায়ক গবেষণা প্রয়োগের ধারাবাহিক ও পদ্ধতিগত প্রচেষ্টার সূচনা হয়।

[…]
25Dec2019

Steps of Case Study

পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণার বিকল্প নেই। উদাহরণস্বরূপ, আপনি যদি একজন শিক্ষক হয়ে থাকেন তাহলে নিশ্চয় লক্ষ্য করে থাকবেন কিছু কিছু শিক্ষার্থী পিছিয়ে পড়ে। মূলতে এসকল শিক্ষার্থীদের পিছিয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধান করতে কেস স্টাডি করা অত্যন্ত প্রয়োজন। কেস স্টাডি করার পর তা ধারাবাহিক ধাপ অনুসরণ করে লিখতে হয়।

কেস স্টাডি লেখার ধাপসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

[…]
25Dec2019

Research report

গবেষণা প্রতিবেদন কী?

গবেষণা প্রতিবেদন হলো গবেষণা দলিল যা রচিত না হলে গবেষণা অসম্পূর্ণ থেকে যায়। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরেজমিনে অনুসন্ধানের পর সংগৃহীত তথ্যাবলির সুষ্পষ্ট ও সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনাই হলো গবেষণা প্রতিবেদন। সমস্যা চিহ্নিত করে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করে ধারাবাহিকভাবে লিপিবদ্ধ ও বাঁধাই করে কর্তৃপক্ষের নিকট জমাদানের প্রক্রিয়াই হল গবেষণা প্রতিবেদন।

আমিনুজ্জামান (S.M. Aminuzzaman) এর মতে- “প্রতিবেদন হচ্ছে কোনা অনুসন্ধানের ফললের আনুষ্ঠানিক বর্ণনা, যাতে থাকে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক গবেষণালব্ধ সত্যনিষ্ঠ অনুসন্ধান জ্ঞানের নির্দেশনা।”

পিটার লিটল (Petter Littele) এর মতে- ” গবেষণা প্রতিবেদন হলো গবেষণার চূড়ান্ত ফল, যাতে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ ও অনুসন্ধানের মাধ্যমে প্রাপ্ত কোন কিছুর বিবরণ থাকে এবং বিবরণের সাথে সুপারিশ ও উপসংহার যুক্ত হয়।”

মানসম্মত প্রতিবেদনের বৈশিষ্ট্য

  • চিন্তা ও ভাষা উভয় দিক থেকে সুস্পষ্ট থাকা;
  • গবেষণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন প্রত্যয়সমূহের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও ব্যবহারের মধ্যে সঙ্গতি বজায় রাখা;
  • প্রতিবেদনে পরিভাষাসমূহ (Terminology) যা গবেষক কর্তৃক অত্যন্ত সতর্কতার সহিত ব্যবহার এবং সেগুলোর সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা প্রদান করা;
  • সুনির্দিষ্ট সমস্যা নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা;
  • ভাষার ব্যবহারে সাবলীলতা বজায় রাখা;
  • অধ্যায়ভিত্তিক প্রতিবেদন উপস্থাপনা করা;
  • যথাযথ ও প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সন্নিবেশ করা;
  • উদ্ধৃতি ও পাদটীকার ব্যবহার করা;
  • প্রতিবেদনের আকার বড় বা ছোট সেদিকে নজর না দিয়ে যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকু লেখা;
  • প্রতিবেদনের বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া।

গবেষণা প্রতিবেদন কাঠামো

ক) প্রারম্ভিক অংশ:

১. শিরোনাম

২. গবেষক ও প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা

৩. মূখবন্ধ ও কৃতজ্ঞতা স্বীকার

৪. সূচিপত্র

খ) মূল অংশ:

১. ভূমিকা:

১.১. গবেষণা সমস্যা ও বিষয়বস্তু

১.২. গবেষণার উদ্দেশ্যাবলি

১.৩. অনুমিত সিদ্ধান্ত

২. গবেষণা পদ্ধতি:

২.১. নমুনা

২.২. উপাত্ত সংগ্রহের উপকরণ ও টুলস

২.৩. গবেষণার নকশা ও প্রক্রিয়া

৩. ফলাফল

৪. সুপারিশমালা

৫. সারাংশ

গ) নির্দেশিকা:

১. প্রাসঙ্গিক গ্রন্থপঞ্জি

২. পরিশিষ্ঠ

৩. ইনডেক্স।

গবেষণা সম্পর্কে অন্যান্য পোস্ট নিচে দেখুন:

25Dec2019

Research Proposals

গবেষণা প্রস্তাবনা কী?

গবেষণা প্রস্তাবনা হলো যখন কোন ক্ষেত্র নিয়ে গবেষণা পরিচালনা করা হয় তার একটি পরিকল্পিত কাঠামো। প্রস্তাবিত গবেষণার বিভিন্ন ধাপে সুলিখিত প্রবন্ধকে গবেষণার প্রস্তাবপত্র (Research Proposal) বলা হয়। গবেষণার পূর্বে গবেষক কর্তৃক যে খসড়া পরিকল্পনা যা ভবিষ্যৎ কাজের জন্য করা হয়, তাকেই গবেষণা প্রস্তাবনা বলে।

Research Proposal is the blue print of future activities of a research.

এতে গবেষণা শিরোনাম, উদ্দেশ্য, অনুমিত সিদ্ধান্ত, বাজেট, সময় বন্টন ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। এককথায়, প্রস্তাবিত গবেণষণার বিভিন্ন ধাপের সুলিখিত প্রবন্ধ বা রচনাকে গবেষণা প্রস্তাবপত্র বলা হয়।

গবেষণা প্রস্তাবের উদ্দেশ্য

১. গবেষণা সম্পর্কে অগ্রিম ধারণা লাভ করা যায়। যেমন- গবেষণার সমস্যা সম্পর্কে ধারণা প্রদান।

২. গবেষণার অস্পষ্টতা কিংবা ক্রটি চিহ্নিত করা যায়। যেমন- গবেষণায় কিছু ভূল বা ত্রুটি কিংবা অস্পষ্টতা থাকা খুবই স্বাভাবিক যা প্রস্তাবপত্র দেখে তা দূরীকরণে সাহায্য করা।

৩. গবেষণায় উত্থাপিত প্রশ্নের সঠিক ধারণা লাভ করা।

৪. গবেষণায় ব্যবহৃত চলকগুলোর নিয়ন্ত্রণ করা।

৫. গবেষণার কার্যকারিতা যাচাই করা।

গবেষণা প্রস্তাবনা কাঠামো

একটি গবেষণা প্রস্তাবনায় সাধারণত তিনটি অধ্যায় লক্ষ্য করা যায়। যথা-

১. প্রথম অধ্যায়: ভূমিকা।

২. দ্বিতীয় অধ্যায়: সাহিত্য পর্যালোচনা।

৩. তৃতীয় অধ্যায়: গবেষণা পদ্ধতি।

গবেষণা প্রস্তাবনার একটি কাঠামো নিম্নে দেখানো হলো:

১. শিরোনাম

২. ভূমিকা

৩. যৌক্তিকতা

৪. সাহিত্য পর্যালোচনা

৫. উদ্দেশ্য

৬. থিসিস সংগঠন

৭. সীমাবদ্ধতা

৮. অনুমিত সিদ্ধান্ত

৯. গবেষণার ব্যবহৃত পদসমূহের সংজ্ঞা

১০. গবেষণা পদ্ধতি

১০.১. তথ্যানুসন্ধান পদ্ধতি

১০.২. এলাকা নির্বাচন

১০.৩. নমুনায়ন ও নমুনা নির্বাচন

১০.৪. উপাত্ত সংগ্রহ

১০.৫. উপাত্ত বিশ্লেষণ

১১. ফলাফল ও সুপারিশমালা

১২. সময়

১৩. বাজেট

১৪. উপসংহার

১৫. তথ্যপঞ্জি।

গবেষণা সম্পর্কে অন্যান্য পোস্ট নিচে দেখুন:

25Dec2019

Hypothesis

অনুমিত সিদ্ধান্ত কী?

অনুমিত সিদ্ধান্ত হলো গবেষণার প্রধান টুলস বা যন্ত্র। কোন গবেষক গবেষণার প্রাক্কালে প্রাথমিকভাবে যে সম্ভাব্য বা সিদ্ধান্ত প্রদান করেন তাকেই অনুমিত সিদ্ধান্ত (Hypothesis) বলা হয়। গবেষণার বিষয়বস্তু বা সমস্যার কারণ অনুসন্ধানে যে অনুমিত সিন্ধান্ত গ্রহণ করা হয় তাকেই সাধারণত ‘হাইপোথিসিস’ বলে। সাধারণভাবে জ্ঞানের উপর ভিত্তি করে অনুমিত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

[…]

Ad

error: Content is protected !!