প্রাথমিক বিজ্ঞান (এসকে); অধ্যায়-৪ পদার্থ - Proshikkhon

প্রাথমিক বিজ্ঞান (এসকে); অধ্যায়-৪ পদার্থ

অধ্যায়-০৪: পদার্থ ও শক্তি

সেশন-৪.২: মৌলিক ও যৌগিক পদার্থ

৫) গঠনগত দিক থেকে পদার্থকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে? কী কী? এদের বর্ণনা দিন।

৬) মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

৭) পদার্থের আন্তঃআনবিক স্থান এবং আন্তঃআনবিক শক্তি কাকে বলে।

৮) অণু ও পরমাণু কাকে বলে?

৫) গঠনগত দিক থেকে পদার্থকে কত ভাগে ভাগ করা হয়েছে? কী কী? এদের বর্ণনা দিন।

গঠনগত দিক থেকে পদার্থকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা- মৌলিক পদার্থ ও যৌগিক পদার্থ।

মৌলিক পদার্থঃ

যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থের উপাদান কণিকা ছাড়া অন্য কোন পৃথক ধর্মের পদার্থের উপাদান কণিকা পাওয়া যায় না, তাদের মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন – এক টুকরো বিশুদ্ধ তামাকে ভাঙতে ভাঙতে এক সময় এমন ক্ষুদ্র অংশ পাওয়া যায় যে এ ক্ষুদ্র অংশকে আর খালি চোখে দেখা যায় না। তখনও খন্ডিত অংশগুলো তামারই হবে। অর্থাৎ তামা এমটি মৌলিক পদার্থ। অনুরূপভাবে, সোনা, রূপা, অক্সিজেন, হাইড্রোজেন, নিয়ন, আর্গন ইত্যাদি মৌলিক পদার্থ। বিজ্ঞানীরা এখন পর্যন্ত ১১৮টি মৌলিক পদার্থের সন্ধান পেয়েছেন।

যৌগিক পদার্থঃ

দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থের উপাদান কণিকা, নির্দিষ্ট ওজন অনুপাতে পরস্পর রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা যুক্ত হয়ে যে ভিন্ন ধর্মের পদার্থ উৎপন্ন করা,তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।

অন্যভাবে বলা যায়, যে সকল পদার্থকে ভাঙলে একের অধিক মৌলিক পদার্থ পাওয়া যায় তাদেরকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন- চকের এক টুকরোকে ভাঙতে ভাঙতে এক সময় এমন ছোট অংশ পাওয়া যাবে যে, সেগুলোকে আর খালি চোখে দেখা যাবে না। আর ভাঙা অংশগুলোতে চকের গুণ বা বৈশিষ্ট্য পাওয়া যাবে না। চকের পরিবর্তে ভাঙা অংশগুলোতে ক্যালসিয়াম, কার্বন ও অক্সিজেনের গুণ বা বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়। এখানে চক একটি যৌগিক পদার্থ। অনুরূপভাবে পানি,খাবার লবণ,চিনি ইত্যাদি যৌগিক পদার্থ। এগুলো প্রকৃতিতে যেমন পাওয়া যায় তেমনি কৃত্রিমভাবেও তৈরি করা যায়।

৬) মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

মৌলিক ও যৌগিক পদার্থের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপঃ

              মৌলিক পদার্থ           যৌগিক পদার্থ
১. যে পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে ওই পদার্থের উপাদান কণিকা ছাড়া অন্য কোনো পৃথক ধর্মের পদার্থের উপাদান কণিকা পাওয়া যায় না, তাদের মৌলিক পদার্থ বলে। ১. দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থের উপাদান কণিকা, নির্দিষ্ট ওজন অণুপাতে পরস্পর রাসায়নিক বিক্রিয়া দ্বারা যুক্ত হয়ে যে ভিন্ন ধর্মের পদার্থ উৎপন্ন করে তাকে যৌগিক পদার্থ বলে।
২. মৌলিক পদার্থের পরমাণুগুলোর প্রতিটির ভর এবং ধর্ম একই। ২. যৌগিক পদার্থের গঠনিকারী পরমাণুগুলোর ভর, ধর্ম সব আলাদা হয়।
৩. মৌলিক পদার্থের মৌলের অণু একই প্রকার পরমাণু দ্বারা গঠিত। ৩. যৌগিক পদার্থের যৌগের অণু বিভিন্ন প্রকার পরমাণু দ্বারা গঠিত।
৪. মৌলিক পদার্থের বহুরূপতা ধর্ম আছে। ৪. যৌগিক পদার্থের বহুরূপতা ধর্ম নেই।
৫. মৌলিক পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে পৃথক ধর্মের কোনো পদার্থ পাওয়া যায় না। ৫. যৌগিক পদার্থকে বিশ্লেষণ করলে পৃথম ধর্মের পদার্থি পাওয়া যায়।

৭) পদার্থের আন্তঃআনবিক স্থান এবং আন্তঃআনবিক শক্তি কাকে বলে।

পদার্থের আন্তঃআণবিক স্থানঃ

কোনো পদার্থকে অবিচ্ছিন্ন মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো পদার্থই অবিচ্ছিন্ন নয়, বরং বিচ্ছিন্ন। বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে পদার্থের অণুসমূহের মধ্যে ফাঁকা জায়গা থাকে। আর এই ফাঁকা স্থানকেই আন্তঃআণবিক স্থান বলে।

আন্তঃআনবিক শক্তিঃ

যে আকর্ষণশক্তির বলে অণুসমূহের পরমাণুগুলো পরস্পরের সাথে যুক্ত থাকে তাকে আন্তঃআণবিক শক্তি বলে।

৮) অণু ও পরমাণু কাকে বলে?

পরমাণুঃ কোনো মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম অবিভাজ্য কণা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে, তাকে পরমাণু বলে। পরমাণুতে মৌলিক পদার্থের সব ধর্ম বজায় থাকে । যেমন- কার্বন পরমাণুতে কার্বনের ধর্ম বিদ্যমান।

অণুঃ মৌলিক বা যৌগিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা স্বাধীনভাবে থাকতে পারে এবং যার মধ্যে পদার্থটির সমস্ত ধর্ম বজায় থাকে তাকে অণু বলে। যেমন- একটি অক্সিজেন অণু দুইটি অক্সিজেন পরমাণু দ্বারা গঠিত। তাই অক্সিজেনকে লেখা হয় O2 ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!