অধ্যায়-০৩: খাদ্য ও পুষ্টি, প্রাথমিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি
সেশন-৩.৫: প্রাথমিক চিকিৎসা ও এর প্রয়োজনীয়তা এবং বিভিন্ন ধরণের দূর্ঘটনার কারণ, প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসা (প্রথম অংশ)
১) প্রাথমিক চিকিৎসা কাকে বলে? প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।
২) পানিতে ডুবে যাওয়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা কী? পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে একজন মানুষকে বাঁচানোর কী কী উপায় আছে লিখুন।
৩) প্রাণীর আঘাত/ কামড়, কারণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উপায়সমূহ লিখুন।
৪) পোকা-মাকড় এবং মাকড়সার কামড়-এর প্রাথমিক চিকিৎসা কী হতে পারে?
৫) কোনো ব্যক্তিকে সাপে কামড়ালে তাকে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবেন?
৬) কোন ব্যক্তি আগুনে পুড়ে গেলে সেক্ষেত্রে কী চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারে? আলোচনা করুন।
১) প্রাথমিক চিকিৎসা কাকে বলে? প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।
প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে একটা ব্যবহারিক এবং তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, যা আহত ব্যক্তির বা হঠাত করে শারীরিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির তাৎক্ষণিক চিকিৎসা, যাতে করে ঐ ব্যক্তির অবস্থার অবনতি না হয়। যেমন- পুড়ে যাওয়া, সাপে কামড়ানো, পা পিছলে পড়ে যাওয়া, গাড়ি দুর্ঘটনা, শ্বাসকষ্ট, পানিতে ডুবে যাওয়া, বিদ্যুৎস্পৃষ্টতা, কেটে যাওয়া, হাড় ভাঙা ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে রোগীকে সাময়িকভাবে সুস্থ বা বাঁচিয়ে রাখা যায়। অর্থাৎ প্রাথমিক চিকিৎসা হচ্ছে ডাক্তারী চিকিৎসার পূর্বে রোগী বা আহত ব্যক্তির অবস্থা যাতে খারাপের দিকে ন যায় বা অবনতি না ঘটে তার জন্য ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে যে চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাকেই প্রাথমিক চিকিৎসা বলে।
প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তাঃ
আকস্মিক কোন দুর্ঘটনায় বা রোগে, দুর্ঘটনা কবলিত ব্যক্তি বা রোগীকে মেডিকেল সাহায্য আসার পূর্ব পর্যন্ত যে সব সাহায্য সহযোগিতা দেওয়া হয় তাই প্রাথমিক চিকিৎসা। আঘাত জনিত কারণে যাতে রোগীর জীবন নাশ না হয় অথবা বড় ধরনের কোন ক্ষতি সাধন না হয় যে জন্যই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রয়োজন। প্রাথমিক চিকিৎসা দ্বারা রোগীর জীবন রক্ষা পায়। যেমন- আঘাতের কারণে অতিরিক্ত রক্ত পড়া বন্ধ করা যায়, ক্ষতস্থানকে বাইরের আঘাত বা সংক্রমন থেকে রক্ষা করা যায়। পট্টি লাগিয়ে আহত স্থান ঠিক রাখা যায়। অর্থাৎ আহত স্থানের প্রতিরক্ষা করা যায়।
অনেক সময় ছোটখাটো ইনজুরি বা আঘাত প্রাথমিক চিকিৎসার অভাবে মারাত্নক অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। যেমন- সাপে কাটা, রক্তপাত ইত্যাদির তাৎক্ষণিক বা প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া না হয় তাহলে চিকিৎসকের কাছে নিতে নিতে রোগী মারাও যেতে পারে।
ইনজুরি সকলের জন্যই বিশেষ করে শিশুর জন্য বড় ধরনের একটি সমস্যা। শিশুরা সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা কবলিত হয়ে থাকে। কারণ স্বভাবতই তারা চঞ্চল, বেপরোয়া ও অবুঝ। বাংলাদেশে প্রতি বছর ইনজুরির কারণে প্রায় ৩০ হাজার শিশু মারা যায়। প্রায় ১৩ হাজার শিশু স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়ে যায় এবং প্রায় ১০ লক্ষ শিশু বিভিন্ন মাত্রার অসুস্থতায় ভোগে ( ধর ও মাসরেকী, ২০১০)। ইনজুরির ভয়াবহতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রয়োজন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসায় প্রশিক্ষিত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। কাজেই প্রাত্যহিক জীবনে জরুরী অবস্থার মুখোমুখি দাঁড়াবার আত্নবিশ্বাস লাভের জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা অপরিহার্য।
২) পানিতে ডুবে যাওয়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসা কী? পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে একজন মানুষকে বাঁচানোর কী কী উপায় আছে লিখুন।
পানিতে ডুবে যাওয়া রোগীর প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
পানিতে ডোবা রোগীর তাৎক্ষণিক চিকিৎসা দিলে তাকে বাঁচানো সম্ভব। এ ধরণের রোগীদের জন্য করণীয়:
• পানি থেকে ওঠানোর পর প্রথমেই শনাক্ত করতে হবে রোগীর জ্ঞান আছে কি না অথবা শ্বাস নিচ্ছে কি না। যদি রোগী শ্বাস না নেয় তাহলে তার মাথাটি বুক থেকে উঁচু করে রাখতে হবে এবং আধা মিনিট পর পর রোগীর মুখে মুখ লাগিয়ে ফুঁ দিয়ে শ্বাস দিতে হবে। মাঝে মাঝে রোগীকে শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় দিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে।
• আর যদি রোগীর জ্ঞান থাকে তবে নাক-মুখের পানি মুছে দিয়ে মাটিতে উপুড় করে শুইয়ে দিতে হবে। রোগির মাথা তার এক হাতের উপর রেখে কাত করে শুইয়ে দিতে হবে। দা৬তের ফাঁকে শক্ত কিছু একটা দিয়ে মুখ হাঁ করে রাখতে হবে। পরিষ্কার ও নরম কাপড় দিয়ে মুখ ও গলার ভিতর পরিষ্কার করে দিতে হবে।
• এবার রোগীর পেটের নিচে একটা বালিশ রেখে পিঠের দুই পাশে হাত রেখে কিছুক্ষণ পর পর জোরে জোরে চাপ দিতে হবে। কয়েকবার চাপ দেওয়ার পর মুখ দিয়ে পানি বেরিয়ে আসবে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস চালু হবে। যতশীঘ্র সম্ভব রোগীকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে অথবা ডাক্তার ডেকে আনতে হবে।
ডুবে যাওয়া থেকে বাঁচার উপায়সমূহঃ
- শিশুর বয়স ৪ বছর হলে সাঁতার শিখানো
- শিশুদের একা একা জলাশয়ের কাছে যেতে না দেওয়া। বড়রা সাথে থাকলেও শিশুর দিকে সবসময় নজন রাখা। কারণ মাত্র ২০ সেকেণ্ডে শিশু ডুবে যেতে পারে।
- বড় বালতি বা পাত্রে পানি ভরে না রাখা।
- গৃহপালিত পশুর খাবারের পাত্র মাটি থেকে উঁচুতে স্থাপন করা যাতে করে শিশু এর মধ্যে পড়ে না যায়।
- বাড়ির আশেপাশে ছোটবড় খানা-খন্দক, গর্ত ভরাট করে ফেলা।
- শিশুর কোমরে বা পায়ে ঝুমঝুমি বাঁধা, যাতে করে শব্দ শুনে বোঝা যায় যে শিশু কোথায় অবস্থান করছে।
৩) প্রাণীর আঘাত/ কামড়, কারণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রতিরোধের উপায়সমূহ লিখুন।
প্রাণীর আঘাত/ কামড়ঃ যখন কোনো প্রাণী দাঁত দ্বারা মানুষের শরীরের চামড়া কেটে ফেলে তাকেই প্রাণীর আঘাত বা কামড় বলে। প্রাণীর শিং বা পায়ের আঘাতেও শিশুরা বিপদে পড়তে পারে।প্রাণীর আঘাতে বা কামড়ে একটি কঠিন রোগ হয়, যার নাম ধনুষ্টংকর। কোনো অসুস্থ প্রাণীর কামড়ে রেবিস ও জলাতঙ্ক ধরনের রোগ হতে পারে।
প্রাণীর আঘাতের কারণঃ বিভিন্ন কারণে প্রাণী হিংস্র হয়ে উঠে এবং মানুষকে আঘাত করে থাকে।
• কুকুর, বিড়াল ও অন্যান্য পোষা প্রাণীদের উত্ত্যক্ত করা।
• গৃহপালিত পশু বিশেষ করে গরু, মহিষ, ঘোড়া ইত্যাদির কাছে শিশুদের যাওয়া।
• বাড়ির আশেপাশে ঝোঁপঝাড় বা জঙ্গল থাকা।
• অনেক সময় ঘরের কোনায় রাখা পাতিল/ পাতে খেলার ছলে হাত দেওয়া। এ ধরনের পাত্রে সাপ আশ্রয় নিতে পারে।
প্রাণীর কামড়ের প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
• আঘাতের স্থান সাবান পানি দ্বারা ভালোমতো ধুতে হবে, কমপক্ষে পাঁচ মিনিট সময় নিয়ে তা করতে হবে।
• রক্তপাত বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে।
• জীবাণুমুক্ত ব্যান্ডেজ অথবা কাপড় দ্বারা আঘাতের স্থান বাঁধতে হবে।
• যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ মতো চিকিৎসা নিতে হবে। অনেক সময় টিটিনাসের ইনজেকশন নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে।
• কুকুর বা সাপ কামড়ালে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রাণীর আঘাত প্রতিরোধের উপায়সমূহঃ
• শিশুরা বিড়াল, কুকুর ও অন্যান্য পোষা প্রাণীকে যাতে উত্ত্যক্ত না করে সে দিকে লক্ষ রাখা।
• গৃহপালিত প্রাণীদের নির্দিষ্ট স্থানে রাখা।
• এলাকায় পাগল কুকুর থাকলে তাকে মেরে ফেলাই শ্রেয়।
৪) পোকা-মাকড় এবং মাকড়সার কামড়-এর প্রাথমিক চিকিৎসা কী হতে পারে?
এদের কামড়ে সাধারণত কামড়ের স্থানে ব্যথা হয়। অবশ্য এলার্জির কারণে এ ব্যথা ছড়িয়ে পড়তে পারে। মাকড়সার কামড় ভয়াবহ হতে পারে তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
প্রাথমিক চিকিৎসা:
• কামড়ের স্থান ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।
• এরপর ঠাণ্ডা পানি দিয়ে ধুতে হবে। একটুকরা ভিজা কাপড় দ্বারা চাপ দিয়ে রক্তপাত বন্ধ করতে হবে।
• যদি জ্বর এবং সংক্রামক কিছু দেখা দেয় তাহলে চিকিৎসকের সাহায্য নিতে হবে।
৫) কোনো ব্যক্তিকে সাপে কামড়ালে তাকে কীভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করবেন?
কোনো ব্যক্তিকে সাপে কামড়ালে নিম্নের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। যেমন:
• উক্ত ব্যক্তিকে মেঝেতে শুইয়ে দিতে হবে এবং নড়াচড়া করতে নিষেধ করতে হবে।
• কাপড় বা ব্যান্ড দিয়ে ক্ষতস্থানের চারদিকে ২-৪ ইঞ্চি উপরে বেঁধে দিতে হবে। কিন্তু কো-জয়েন্টের চারদিকে নয়। তবে এ বাঁধন কোনোমতেই শক্ত বা টাইট করে বাঁধা যাবে না।
• যতদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে বা চিকিৎসককে ডেকে আনতে হবে। সাপের কামড়ের রোগীকে ওঝার কাছে কখনোই নেওয়া যাবে না।
৬) কোন ব্যক্তি আগুনে পুড়ে গেলে সেক্ষেত্রে কী চিকিৎসা গ্রহণ করা যেতে পারে? আলোচনা করুন।
সচরাচর মানুষ যেসব দুর্ঘটনার শিকার হয়, তার অন্যতম পুড়ে যাওয়া। বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ যেমন-কেরোসিন, পেট্রল, এসিড, ক্ষার, বোমা বিস্ফোরণ, তেজস্ক্রিয় পদার্থ, গরম পানি, গ্যাস ইত্যাদি শরীর পুড়ে যাওয়ার কয়েকটি বড় কারণ। শরীরের কোনো অংশ পুড়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে পারলে পরবর্তী সময়ে ক্ষতির পরিমাণ কম হয়।
প্রাথমিকভাবে পুড়ে যাওয়া তিন ধরনের। পুড়ে যাওয়ার মাত্রা অনুযায়ী এ ভাগ করা হয়েছে। ফার্স্ট ডিগ্রি বা প্রথম বা স্বল্প মাত্রার পোড়া, সেকেন্ড ডিগ্রি বা দ্বিতীয় বা মধ্যম মাত্রার পোড়া, থার্ড ডিগ্রি বা তৃতীয় বা মারাত্মক মাত্রার পোড়া। চিকিৎসাও নির্ভর করে কোন মাত্রায় পুড়েছে তার ওপর।
প্রথম স্তরের/মাত্রার পোড়াঃ
শুধু চামড়ার উপরিভাগ পুড়ে গেলে তাকে প্রাথমিক মাত্রার পোড়া বলা হয়। সাধারণভাবে যাকে সামান্য পোড়া বলে। এ ক্ষেত্রে চামড়া লাল হয়ে যায়, সামান্য ফুলতে পারে বা ব্যথাও পেতে পারে, তবে ফোস্কা পড়ে না।
দ্বিতীয় স্তরের/মাত্রার পোড়াঃ
বেশি পুড়লে বা দ্বিতীয় স্তরের পোড়া চামড়ার গভীর পর্যন্ত পুড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বেশি লাল দাগ দেখা যায় ও ফোস্কা পড়ে, খুব বেশি ফুলে যায় এবং ব্যথাও বেশি হয়।
প্রথম ও দ্বিতীয় স্তরের পোড়ার প্রাথমিক চিকিৎসা নিম্নরূপ-
• পোড়া স্থানে ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হবে বা পোড়া স্থানটি ঠাণ্ডা পানিতে (বরফ নয় কিন্তু) রাখতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত জ্বালাপোড়া না কমে। প্রাথমিক স্তরের পোড়ার জন্য ১৫-২০ মিনিট সময় যথেষ্ট কিন্তু দ্বিতীয় স্তরের পোড়ার ক্ষেত্রে ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে পানি ঢালতে হবে।
• পরে মুছে শুকিয়ে নিয়ে তাতে জীবাণুমুক্ত গজ বা ব্যান্ডেজ (তুলা নয়) দিয়ে ঢেকে দিতে হবে, যাতে জীবাণুর সংক্রমণ না হয়।
• যদি খুব বেশি জায়গা জুড়ে পুড়ে যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া একান্ত জরুরি।
• ডিম, টুথপেস্ট, মাখন এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের মলম ব্যবহার করা যাবে না।
তৃতীয় মাত্রার পোড়া ( খুব বেশি মাত্রার পোড়া):
এ স্তরের পোড়া খুবই মারাত্নক। এ ক্ষেত্রে চামড়ার পুরা স্তর, চামড়ার নিচে মাংসপেশি ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে বা অতিরিক্ত পানিশূন্যতার কারণে শকে চলে যেতে পারে।
প্রাথমিক চিকিৎসাঃ
এ ধরনের পোড়ার ক্ষত্রে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রোগীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে। তবে তার আগে পোড়া জায়গায় ঠাণ্ডা পানি ঢালতে হবে। রোগীর শ্বাসকার্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
রাসায়নিক পোড়াঃ
রাসায়নিক উপাদানের সংস্পর্শে কোনো ব্যক্তির শরীর পুড়ে যেতে পারে। যেমন বাগানের ব্যবহৃত দ্রব্যাদি যেমন সার, ব্লিচ, এমোনিয়া এবং আরো অনেক রাসায়নিক উপাদান সাবধানে ব্যবহার না করলে ব্যক্তির শরীর পুড়ে তার শরীর মারাত্নাকভাবে পুড়ে যেতে পারে। এসিড সন্ত্রাসের কারণেও কারো শরীর পুড়ে যেতে পারে। রাসায়নিক পদার্থের কারণে শরীর পুড়ে গেলে নিম্নের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে-
• পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি দিয়ে পুড়ে যাওয়া স্থানটি কমপক্ষে ১৫ মিনিট ধরে ধুতে হবে। ক্ষতস্থানে কাপড়ের টুকরা থাকলে তা সরিয়ে ফেলতে হবে।
• পুড়ে যাওয়া স্থানটি জীবাণুমুক্ত ড্রেসিং সামগ্রী দ্বারা ঢাকা দিতে হবে।
• দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যেতে হবে অথবা চিকিৎসককে ডেকে আনতে হবে।
