Man-origin (RACE) theory
নরগোষ্ঠীর উৎপত্তির সঠিক কারণ নির্ণয় বেশ কঠিন কাজ। নরগোষ্ঠীর উদ্ভব সম্পর্কে ২টি প্রধান তত্ত্বের পরিচয় পাওয়া যায়। সেগুলো হল-
১. বহু-উৎস তত্ত্ব (Theory of Poly-genesis)
২. একক-উৎস তত্ত্ব (Theory of Mono-genesis)
ভিন্ন ভিন্ন পূর্ব পুরুষ থেকে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীর উদ্ভব তত্ত্বকে বলা হয় বহু উৎস তত্ত্ব। পক্ষান্তরে একই পূর্বপুরুষ, একই উৎস থেকে সব নরগোষ্ঠীর উদ্ভব তত্ত্বকে বলা হয় একক-উৎস তত্ত্ব।
১. বহু-উৎস তত্ত্ব (Theory of Poly-genesis):
বহু-উৎস তত্ত্বের সমর্থকদের মতে, আধুনিক নরগোষ্ঠীসমূহ পরস্পর বংশসূত্রে আবদ্ধ নয়। তাই, নরগোষ্ঠীগুলো পরস্পর অনাত্মীয় ও অসম্পর্কযুক্ত। বহু উৎস তত্ত্ব অনুযায়ী আধুনিক চারটি প্রধান নরগোষ্ঠীর উৎপত্তি হয়েছে ৪টি ভিন্ন ভিন্ন পুরুষ বা উৎস থেকে। যথা-
ক) রোডেশীয় মানব (Rhodesian Man) থেকে নিগ্রো নরগোষ্ঠীর (Negro-Race) উদ্ভব।
খ) নিয়ান্ডারথাল (Neanderthal) থেকে প্রথমে ক্রো-ম্যাগনন (Cro-Magnon) এবং তা থেকে ককেশীয় নরগোষ্ঠীর (Caucasoid-Race) উদ্ভব।
গ) পিকিং মানব (Peking Man) থেকে মঙ্গোলয়েড নরগোষ্ঠীর (Mongoloid-Race) উদ্ভব।
ঘ) জাভা মানব (Java Man) থেকে অস্ট্রালয়েড নরগোষ্ঠীর (Australoid-Race) উদ্ভব।
২. একক-উৎস তত্ত্ব (Theory of Mono-genesis):
একক-উৎস তত্ত্ব অনুসারে সব নরগোষ্ঠী একই পূর্ব পুরুষ বা উৎস থেকে উদ্ভব ও বিকশিত হয়েছে। যদি আমরা ধরে নেই যে, ৪টি প্রধান নরগোষ্ঠীর উৎস একই পূর্বপুরুষ তা হলে প্রশ্ন হল কেমন করে একই পূর্ব পুরুষ থেকে আগত মানুষগুলোর মধ্যে এত দৈহিক বিভিন্নতা কেন?
অর্থাৎ পূর্ব পুরুষের সন্তানেরা কিভাবে বিভিন্ন নরগোষ্ঠীতে বিভক্ত হল-
নৃ-বিজ্ঞানীর নরগোষ্ঠীর উদ্ভব ও বিভিন্নতা প্রসঙ্গে যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা নিম্নরূপ:
ক) ভৌগলিক উপাদানের প্রভাব: পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু তথা গোটা ভৌগলিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রভাব বিভিন্ন নরগোষ্ঠী রূপায়নে যথেষ্ট প্রভাব রেখেছে। যেমন- শীতপ্রধান অঞ্চলের মানুষজন সারাক্ষণ গরম ও মোটা কাপড় পরে থাকে। ফলে তাদের চামড়ার রঙ শ্বেতকায় এবং গ্রীষ্ম প্রধান অঞ্চলে এর বিপরীত অবস্থার কারণে অনাবৃত দেহের চামড়ার রঙ কৃষ্ণকায় হয়ে থাকে।
খ) প্রাকৃতিক ও সামাজিক বিছিন্নতার প্রভাব।
গ) সংকরায়ণ প্রক্রিয়ার প্রভাব।
ঘ) মিউটেশনের প্রভাব।
ঙ) প্রাকৃতিক নির্বাচনের প্রভাব।
চ) আর্থ-সামাজিক উপাদানের প্রভাব।

