অভীক্ষার ধারণা - Proshikkhon

অভীক্ষার ধারণা

What is a test? Characteristics and Importance

অভীক্ষার ধারণা : অভীক্ষা কী? অভীক্ষা বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব

শিক্ষাক্ষেত্রে মূল্যায়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীর চিন্তন দক্ষতার বিভিন্ন স্তরেরর পরিমাপ/মূল্যায়ন করা যায়।এই প্রশ্ন হলো শিক্ষার্থীর আচরণগত দিকসমূহের পরিমাপের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রশ্ন করা ও উত্তর প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর অর্জিত জ্ঞানের পরিমাপের মাধ্যমে দক্ষতা মূল্যায়নের জন্য বিষয়ভিত্তিক অভীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

অভীক্ষা কী?

অভীক্ষা হলো একসেট প্রশ্নের সমষ্টি, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অর্জিত জ্ঞান বা পারদর্শিতা যাচাই করা হয়ে থাকে।  অভীক্ষা বলতে কতকগুলো প্রশ্নগুচ্ছ বা সুসংগঠিত পদ যা কাঠিন্যের মান অনুসারে সাজানো থাকে। মূলত অভীক্ষার মাধ্যেম একজন শিক্ষার্থী বা ব্যক্তির পারদর্শিতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে অবগত হওয়া যায়। অভীক্ষা হলো শিক্ষার্থীর আচরণগত দিকসমূহের পরিমানের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া বা কৌশল।

শিক্ষার্থীর পারদর্শিতা বা মানসিক বৈশিষ্ট্য পরিমাপের জন্য কে․শলগুলোকে কাজে লাগিয়ে শিক্ষামূলক অভীক্ষা (educational test) প্রণয়ন করা হয়। সুতরাং শিক্ষার্থীর শিখন আচরণ পরিমাপের জন্য যে অভীক্ষা নির্মাণ করা হয় সেই অভীক্ষা কতগুলো প্রশ্ন/ উদ্দীপকের (stimulus) সমষ্টি মাত্র। এই প্রশ্নগুলোই (test item) শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিক্রিয়া বা আচরণ সৃষ্টি করে। প্রয়োজনীয় প্রতিক্রিয়া সৃষ্টিকারী অভীক্ষাপদ/ উদ্দীপক (test item) বা প্রশ্নের সমষ্টিকে বলা হয় অভীক্ষা। এই অভীক্ষা পদ গুলো ভাষামূলক বা নির্দিষ্ট কর্মভিত্তিক হতে পারে। শিক্ষামূলক অভীক্ষায় কতগুলো অভীক্ষা পদ এক জাতীয় থাকে। পরিমাপের বিশেষ প্রয়োজনে অভীক্ষার মধ্যে এই সমজাতীয় পদ বা প্রশ্নগুলোকে একত্রে দলবদ্ধ রাখা হয়।  অভীক্ষার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকা আবশ্যক।

অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য:

১. অভীক্ষার যথার্থতা (validity)

২. অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা (reliability),

৩. অভীক্ষার নৈর্ব্যক্তিকতা (objectivity),

৪. অভীক্ষার আদর্শায়ন (standardization) এবং

৫. অভীক্ষার পরিমিততা (economy)।

১) অভীক্ষার যথার্থতা :

যে গুণ বা বৈশিষ্ট্য পরিমাপ করার জন্য অভীক্ষাটি তৈরি করা হয়েছে অভীক্ষাটি যদি শুধু তাই পরিমাপ করে, তবে অভীক্ষাটি যথার্থ বলা যায়। মোট কথা যে পরিমাপের জন্য অভীক্ষাটি গঠন করা হয়েছে তা যথাযথভাবে পরিমাপ করতে পারছে কিনা, তাকে বুঝায়।  American Education and Psychological Association এবং National Council on Measurement and Evaluation. যৌথভাবে যে সংজ্ঞা দিয়েছেন তা হলো-কোন অভীক্ষালব্ধ স্কোর থেকে সু-নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তগ্রহণের যথোপযুক্ততা, অর্থপূর্ণতা ও কার্যোপযোগিতা হল যথার্থতা।

অর্থাৎ যে সুনির্দিষ্ট বৈশিষ্ট্য পরিমাপের জন্য অভীক্ষাটি প্রয়োগিত হয়েছে, প্রকৃতপক্ষে অভীক্ষাটি কতটা তা পরিমাপ করতে পারছে, তার মাত্রাই হলো অভীক্ষার যথার্থতা।

বিষয়টি একটি উদাহরণের মাধ্যমে পরিস্কার করা যেতে পারে। যেমন, ভূগোলের প্রাকৃতিক অংশের উপর শিক্ষার্থীদের অধীত জ্ঞানের মাত্রা নির্ণয়ের জন্য শিক্ষককে উহার রাজ‣নতিক বা অর্থ‣নতিক অংশ হতে প্রণীত অভীক্ষার দ্বারা পরীক্ষা গ্রহণ করলে চলবে না। কারণ, এরূপ অভীক্ষার দ্বারা শিক্ষার্থীদের ভূগোলের প্রাকৃতিক অংশের উপর অধীত জ্ঞানের মাত্রা নির্ণয়ই যথার্থ হবে।

২) অভীক্ষার নির্ভরযোগ্যতা:

নির্ভরযোগ্যতা বলতে বোঝায় অভীক্ষাটির পরিমাপ কতটা নির্ভুল বা নিখুঁত। একই অভীক্ষা অল্পদিন পর পর অন্ততঃ দুবার ঔ একই শিক্ষার্থীর উপর ব্যবহার করে বিচারের ফল যদি একই রকম হয়, অর্থাৎ এদের মধ্যে সহসম্পর্ক উ‪চ হয় তবে অভীক্ষাটি নির্ভরযোগ্য।

নির্ভরযোগ্যতা অনেক কারণে হ্রাস পেতে পারে। যেমন, অভীক্ষার ভাষা অস্পষ্ট হলে নির্ভরয়োগ্যতা মাপা কঠিন হয়; প্রশ্ন সংখ্যা কম হলে অনেক আচরণ পরিমাপ করা যায়না; অভীক্ষায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস করে।

অভীক্ষাপত্রে প্রশ্নের কাঠিন্যের মান বিচার না করে এলোমেলো সাজালে নির্ভরযোগ্যতা হ্রাস পাবে। অভীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীও মানসিক প্রস্তুতি না থাকলেও নির্ভরযোগ্যতা কমবে।

৩) অভীক্ষার নৈর্ব্যক্তিকতা:

এটি হলো অভীক্ষাটির প্রস্তুতি, প্রয়োগ ও নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে পরীক্ষকের ব্যক্তিগত প্রভাব পড়বে না। অভীক্ষাটি নিরপেক্ষভাবে পরিমাপ করতে হবে। যদি কোনো অভীক্ষার আওতায় পরীর্ক্ষাথীদরে মূল্যায়ন করার প্রক্রযি়ায় পরীক্ষকরে ব্যক্তগিত প্রভাব পড়ে তাহলে তাকে নর্ব্যৈক্তকি অভীক্ষা বলা যাবে না এবং ওই অভীক্ষা সু-অভীক্ষা বলে ববিচেতি হবে না।

৪) অভীক্ষার আদর্শায়ন:

কোন অভীক্ষার গঠন, প্রয়োগ ও ফলাফল ব্যাখ্যার মধ্যে সঙ্গতিবিধানের ক্ষেত্রে যে কৌশল অনুসরণ করা হয়, তাকে আদর্শায়ন বলে। আদর্শায়িত অভীক্ষার একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো এর একটি আদর্শ মান বা নম্বর নির্ণয় করা হয় এবং এ মানের নিরিখে ফলাফলের ব্যাখ্যা করা হয়।

৫) অভীক্ষার পরিমিততা:

এটি বলতে বোঝায় অভীক্ষাটির গঠন, প্রয়োগ এবং নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব কম সময়, অর্থ ও পরিশ্রম ব্যয় করা। যে অভীক্ষার প্রয়োগে ও ফলাফল প্রদানে অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয় সে অভীক্ষার পরিমিততা কম বলা চলে।

অভীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব

শিক্ষার্থীর যোগ্যতা মূল্যায়নের জন্য প্রত্যেক শিক্ষককে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে অভীক্ষা প্রণয়নে দক্ষতা অর্জন আবশ্যক। অভীক্ষাটি কী উদ্দেশ্য পূরণের জন্য তৈরি করা হবে তা মাথায় রেখেই প্রশ্ন প্রণয়ন করতে হয়। নিম্নে অভীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্য ও গুরুত্ব উল্লেখ করা হল:

১. শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা অর্জনের প্রমাণ করতে অভীক্ষার মাধ্যমে  দরকার হয়।

২. তৈরিকৃত মানদন্ডের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের কৃতকার্যতার মাত্রার সাথে শিক্ষকের শিক্ষাদানগত নৈপুণ্যের মাত্রা নিরূপণ করা হয়। সাধারণত জাতীয়ভাবে গৃহীত পরীক্ষায় অভীক্ষা গঠনে ব্যবহৃত প্রশ্নপত্রকে এই মানদন্ডরূপে অভিহিত করা হয়।

৩. শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যত জীবনে উ‪চ্চতর শিক্ষা বা পেশাগত বিষয়ের উপর কৃতকার্যতা সম্বন্ধে পূর্বভাস প্রদান করা, কোন কোন শিক্ষার্থী উ‪চতর শিক্ষা গ্রহণে উপযোগী হবে, কোন কোন শিক্ষার্থী কী ধরনের পেশা গ্রহণ দ্বারা ভবিষ্যতে পরিমিত উন্নতিলাভে সক্ষম হতে পারবে অভীক্ষার সাফল্য স্কোর বা ফলাফল হতে এ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

৪. মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের প্রতি উৎসাহিত করা।

৫. পরবর্তী শিক্ষা জীবনে প্রবেশের প্রমাণপত্রসহ যথার্থভাবে পরিচালিত করা।

৬. পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিজের শিক্ষাদান পদ্ধতিতে পরিলক্ষিত দোষত্রুটির মাত্রা নিরূপণ করার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে পেশাগত উন্নতি করতে পারেন।

অভীক্ষা ও পরীক্ষার মধ্যে পার্থক্য:

অভীক্ষা পরীক্ষা
১. অভীক্ষা হলো একগুচ্ছ প্রশ্ন। ১. পরীক্ষা অভীক্ষার প্রায়োগিক রূপ।
২. এর কার্য পরিসর সংকীর্ণ। ২. এর কার্য পরিসর বিস্তৃত।
৩. এর প্রয়োগ সময়সীমা কম। ৩. এর প্রয়োগ সময়সীমা বেশি।
৪. এটি বিশেষ উদ্দেশ্যে প্রণীত। ৪. এটি সাধারণ উদ্দেশ্যে প্রণীত।
৫. এটি সনদমূখী নয়। ৫. এটি সনদমূখী।
৬. এর প্রণয়ন এবং প্রয়োগকর্তা হলেন শ্রেণী শিক্ষক। ৬. এর প্রণয়ন গ্রহণকর্তা শ্রেণী শিক্ষক হতে পারেন আবার নাও হতে পারেন।
error: Content is protected !!