এক্সপ্রেসিভ আর্ট (শারীরিক শিক্ষা)
ক্লাস-০৪: হ্যান্ডবল, ভলিবল ও ব্যাডমিন্টন
ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:
- হ্যান্ডবল কী? হ্যান্ডবলের উৎপত্তি কোথায় ও কত সালে?
- হ্যান্ডবলের মাঠের মাপ কত?
- হ্যান্ডবল খেলায় শাস্তি কী?
- ভলিবল খেলার কলাকৌশল বর্ণনা করুন।
- ব্যাডমিন্টন কী? ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টের মাপ কত?
- ব্যাডমিন্টন খেলার ফলাফল কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
হ্যান্ডবল কী? হ্যান্ডবলের উৎপত্তি কোথায় ও কত সালে?
হ্যান্ডবল একটি প্রাচীন খেলা। ১২ জন নিয়ে গঠিত দুটি দলের মধ্যে হ্যান্ডবল [Handball] খেলা হয়। এর বলটি তৈরি হয় চামড়া দিয়ে যা নিক্ষেপ করতে বা থামাতে প্রধানত হাত ব্যবহার করা হয় বলেই একে হ্যান্ডবল বলা হয়।
হ্যান্ডবল খেলাটির উৎপত্তি জার্মানিতে। গ্রিক কবি হোমারের ওডিসি মহাকাব্যে এই খেলাটির কথা উল্লেখ রয়েছে। ১৯০৪ সালে ডেনমার্কের শিক্ষক হোলজার নিয়েলসেন খেলাটির প্রবর্তন করেন।
হ্যান্ডবলের মাঠের মাপ কত?
হ্যান্ডবল খেলার মাঠের মাপ হলো- দৈর্ঘ্য ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ২০ মিটার। মাঠের উভয় দিকে গোল লাইনের ঠিক মাঝখানে গোল পোস্ট থাকে।
হ্যান্ডবল খেলায় শাস্তি কী?
হ্যান্ডবল খেলায় শাস্তি হলো ফ্রি থ্রো। ফ্রি দেওয়া হবে-
১. নিয়ম না মেনে খেলোয়াড় পরিবর্তন করলে।
২. গোলরক্ষক নিয়ম ভঙ্গ করলে।
৩. গোল সীমা আইন ভঙ্গ করলে।
৪. বল খেলার সময় আইন ভঙ্গ করলে।
৫. ইচ্ছাকৃতভাবে সাইড লাইন বা গোল লাইন অতিক্রম করলে।
৬. প্রতিপক্ষের সহিত অবৈধ আচরণ করলে।
৭. ত্রুটিপূর্ণ থ্রো-ইন করলে।
৮. ত্রুটিপূর্ণ থ্রো-অফ করলে।
৯. ত্রুটিপূর্ণ পেনাল্টি থ্রো করলে।
১০. ত্রুটিপূর্ণ ফ্রি থ্রো করলে।
১১. অপেশাদার বা অখেলোয়াড়োচিত আচরণ করলে।
১২. গোলরক্ষকর কাছে গোল সীমায় ব্যাক পাস করলে।
ভলিবল খেলার কলাকৌশল বর্ণনা করুন।
ভলিবল খেলার কলাকৌশল:
১। সার্ভিস বা পরিবেশন: ভলিবল খেলায় বিভিন্নভাবে সার্ভিস করা যায়। যেমন- আন্ডার আর্ম সার্ভিস, ওভার হ্যান্ড সার্ভিস।
২। পাস: সার্ভিসের মতো আন্ডার আর্ম পাস ও ওভার আর্ম পাস উভয়ভাবেই বল পাস করা যায়।
৩। বল স্ম্যাশ: দলের লম্বা খেলোয়াড়রা অথবা যে খেলোয়াড়রা বেশি লাফ দিতে পারে তারা প্রতিপক্ষের দিকে বলটি বসাতে বল স্ম্যাশ বা চাপ মারে। এটা করতে জালের উপর থেকে মুষ্ঠিবদ্ধ হাত সজোরে আঘাত করতে হয়।
৪। বল ব্লক: সাধারনত দলের লম্বা খেলোয়াড়রা বল ব্লক করে থাকে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দলের চাপ ঠেকাতে বল ব্লক করা হয়।
ভলিবল খেলার নিয়ম-কানুন বর্ণনা করুন।
ভলিবল খেলার নিয়ম-কানুন:
ভলিবল খেলার নিয়ম-কানুন অন্যান্য খেলার মত ভলিবল খেলায়ও টস হয়, টস বিজয়ী দল হয় সার্ভিস করবে বা কোর্ট পছন্দ করবে। একজন করে রেফারী, আম্পায়ার, স্কোরার এবং দুজন লাইন জাজ দ্বারা খেলা পরিচালনা করা হয়। খেলা চলাকালীন বলকে বিপক্ষের কোর্টে পাঠানোর জন্য একদল সর্বাধিক তিনবার বলটিতে স্পর্শ বা আঘাত করতে পারবে। একজন খেলোয়াড় পরপর দুইবার বলে স্পর্শ করতে পারবে না। সার্ভিস করার সময় একবারেই বলকে বিপক্ষের কোর্টে পাঠাতে হবে। পূর্বে শুধু হাত ব্যবহার করা হলেও বর্তমানে শরীরের যে কোনো অংশ দিয়ে বলে আঘাত করা যায়। সার্ভিসের বল যদি নেট স্পর্শ করে বিপক্ষ কোর্টে যায় তাহলে সঠিক বলে ধরা হয়।
ব্যাডমিন্টন কী? ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্টের মাপ কত?
ব্যাডমিন্টন:
ব্যাডমিন্টন একপ্রকার র্যাকেট খেলা। খেলাটি একক বা দ্বৈতভাবে খেলা যায়। ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য নেট দ্বারা বিভক্ত একটি আয়তাকার কোর্ট প্রয়োজন হয়। ভারত কর্মরত ইংরেজ সৈন্যরা ছুটিতে বাড়ি গিয়ে ব্যাডমিন্টন নামক জায়গায় একত্র হয়ে খেলাটি শুরু করেন। সে থেকে সে জায়গার নাম অনুসারে ব্যাডমিন্টন খেলার নাম করণ হয়। পরবর্তীকালে দেশে দেশে এ খেলার প্রচলনের ফলে সকল বয়সের ও শ্রেণির নারী-পুরুষ ব্যাডমিন্টন খেলায় জড়িয়ে পড়ে।
ব্যাডমিন্টন খেলার কোর্ট-এর মাপ:
ব্যাডমন্টিন খেলা সিঙ্গেল ও ডাবলসের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় ফলে কোর্টের মাপেও পার্থক্য রয়েছে। যেমন-
সিঙ্গেল কোর্ট সাইজ: দৈর্ঘ্য ১৩.৪১ মিটার (৪৪ ফুট, প্রস্থ ৫.১৮ মিটার (১৭ ফুট)।
ডাবলস কোর্ট সাইজ: দৈর্ঘ্য ১৩.৪১ মিটার (৪৪ফুট, প্রস্থ ৬.১০ মিটার (২০ ফুট)।
ব্যাডমিন্টন খেলার ফলাফল কীভাবে নির্ণয় করা হয়?
ব্যাডমিন্টন একক ও দ্বৈত উভয় খেলায় ২১ পয়েন্টে গেম নির্ধারিত হয়। তবে পয়েন্ট ব্যবধান ২ থাকতে হবে। যেমন- ২০-২২, ২১-২৩ অথবা ২১-১৮। তবে সর্বোচ্চ ৩০ পয়েন্টের মধ্যে যে বা যে দল আগে ৩০ পাবে সে বা সে দল বিজয়ী হবে।

