এক্সপ্রেসিভ আর্ট (শারীরিক শিক্ষা); ক্লাস-৫ - Proshikkhon

এক্সপ্রেসিভ আর্ট (শারীরিক শিক্ষা); ক্লাস-৫

এক্সপ্রেসিভ আর্ট (শারীরিক শিক্ষা)

ক্লাস-০৫: এ্যাথলেটিক্স ও এর প্রকারভেদ, দৌড়, গোলক ও চাকতি নিক্ষেপ

ক্লাসের আলোচ্যবিষয়:

  • এ্যাথলেটিক্স কি? এ্যাথলেটিক্স কত প্রকার ও কী কী?
  • বিভিন্ন প্রকার দৌড়ের বর্ণনা দিন।
  • হার্ডলস কী?
  • স্টিপল চেজ কী?
  • গোলক নিক্ষেপের বর্ণনা দিন।
  • চাকতি নিক্ষেপের বর্ণনা দিন।

এ্যাথলেটিক্স কি? এথলেটিক্স কত প্রকার ও কী কী?

এ্যাথলেটিক্স (Athletics) শব্দটির অর্থ হলো ‘শরীরচর্চা’। এ্যাথলেটিক্স হলো এমন একটি ক্রীড়া ইভেন্ট যেখানে দৌড়, লাফানো, নিক্ষেপ করা এবং হাঁটা প্রতিযোগিতা হয়। এতে track and field, road running, cross country running, and race walking প্রতিযোগিতাগুলো সবচেয়ে বেশি লক্ষ করা যায়। আধুনিক অলিম্পিক প্রতিযোগিতায় সবচেয়ে সেরা ইভেন্ট হলো এ্যাথলেটিক্স। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এ্যাথলেটিক্স অত্যন্ত জনপ্রিয়। আমাদের দেশের বিদ্যালয়গুলোতে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ইভেন্টগুলো হলো এ্যাথলেটিকসের অংশ। এছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে এ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

এ্যাথলেটিকসের প্রকারভেদ:

এ্যাথলেটিক্স ইভেন্টসমূহকে ২ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

১. ট্র্যাক ইভেন্টস এবং

২. ফিল্ড ইভেন্টস।

১. ট্র্যাক ইভেন্টস: সাধারণত বিভিন্ন প্রকার দৌড় প্রতিযোগিতাগুলো এই ইভেন্টের অন্তর্ভূক্ত। দৌড়কে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

i) স্বল্প দূরত্বের দৌড় (Sprints): যেমন- ১০০/২০০/৪০০ মিটার স্প্রিন্ট, ১০০ মিটার হার্ডলস (পুরুষ), ১১০ মিটার হার্ডলস (মহিলা), ৪×১০০ মিটার রিলে দৌড়, ৪০০ মিটার হার্ডলস ইত্যাদি।

ii) মধ্যম দূরত্বের দৌড় (Middle Distance Run): যেমন- ৮০০/১৫০০ মিটার দৌড়, ৪×৪০০ মিটার হার্ডলস ইত্যাদি।

iii) দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় (Long Distance Run): যেমন- ৩০০০/৫০০০ মিটার দৌড়, ম্যারাথন দৌড়, ২০/৫০ কিলোমিটার হাঁটা ইত্যাদি।

২. ফিল্ড ইভেন্টস: ফিল্ড ইভেন্টস আবার ২ ভাগে বিভক্ত। যথা: ১) জাম্পিং এবং ২) থ্রোয়িং।

জাপিং বা লাফসমূহ:

  • দীর্ঘ লাফ,
  • উচ্চ লাফ,
  • ট্রিপল জাম্প,
  • পোলভল্ট।

থ্রোয়িং বা নিক্ষেপসমূহ:

  • লৌহ গোলক নিক্ষেপ,
  • চাকতি নিক্ষেপ,
  • বর্শা নিক্ষেপ,
  • হ্যামার নিক্ষেপ।

বিভিন্ন প্রকার দৌড়ের বর্ণনা দিন।

দৌড়কে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়। যথা:

১। স্বল্প দূরত্বের দৌড় (Sprints),

২। মধ্যম দূরত্বের দৌড় (Middle Distance Run),

৩। দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় (Long Distance Run)।

১। স্বল্প দূরত্বের দৌড় (Sprints):

  • ১০০ মিটার স্প্রিন্ট,
  • ২০০ মিটার স্প্রিন্ট,
  • ৪০০ মিটার স্প্রিন্ট,
  • ১০০ মিটার হার্ডলস (পুরুষ),
  • ১১০ মিটার হার্ডলস (মহিলা),
  • ৪×১০০ মিটার রিলে দৌড়,
  • ৪০০ মিটার হার্ডলস।

২। মধ্যম দূরত্বের দৌড় (Middle Distance Run):

  • ৮০০ মিটার দৌড়,
  • ১৫০০ মিটার দৌড়,
  • ৪০০ মিটার হার্ডলস
  • ৪×১০০ মিটার রিলে দৌড়
  • ৪×৪০০ মিটার রিলে দৌড় ইত্যাদি।

৩। দীর্ঘ দূরত্বের দৌড় (Long Distance Run):

  • ২০০০ মিটার স্টিপল চেজ (১৮ বার হার্ডলস অতিক্রম ও ৫ বার পানিতে লাফ),
  • ৩০০০ মিটার স্টিপল চেজ (২৮ বার হার্ডলস অতিক্রম ও ৭ বার পানিতে লাফ),
  • ম্যারাথন দৌড় (২৬ মাইল ৩৮৫ গজ),
  • ২০ কিলোমিটার হাঁটা,
  • ৫০ কিলোমিটার হাঁটা।

হার্ডলস কী?

হার্ডলস হলো বেড় দৌড় প্রতিযোগিতা। এটি এ্যাথলেটিক্স ইভেন্টের অংশ। এই দৌড় প্রতিযোগীতায় প্রতিটি লেনে ১০টি বেড় বা হার্ডলস থাকে যাকে অতিক্রম করে দৌড় সম্পন্ন করতে হয়। হার্ডলস রেস ২ প্রকার হয়। যথা: ১. পুরুষ হার্ডলস ১১০ মিটার ও ৪০০ মিটার এবং ২. মহিলা হার্ডলস ১০০ মিটার ও ৪০০ মিটার।

স্টিপল চেজ কী?

হার্ডলস জাম্প ও ওয়াটার জাম্পের সমন্বয়ে যে রেস বা দৌড় প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হয়, তাকে স্টিপল চেজ বলা হয়। স্টিপল চেজ ২ ধরণের হয়। যেমন-

১. ২০০০ মিটার স্টিপল চেজ (১৮ বার হার্ডলস অতিক্রম ও ৫ বার পানিতে লাফ)।

২. ৩০০০ মিটার স্টিপল চেজ (২৮ বার হার্ডলস অতিক্রম ও ৭ বার পানিতে লাফ)।

গোলক নিক্ষেপের বর্ণনা দিন।

গোলক নিক্ষেপ:

গোলকটি অবশ্যই গোলাকার হতে হবে। এটি লোহা, তামা বা পিতলের তৈরি হবে। গোলকের ওজন পুরুষদের জন্য ৭.২৬ কেজি এবং মহিলাদের জন্য ৪ কেজি। গোলকটির বৃত্তের ব্যাস হবে প্রায় ৫ মিলিমিটার।

গোলক নিক্ষেপের কৌশল:

  • গোলকটি হাতের তালুতে না ধরে আঙ্গুলের গোড়াসহ সম্পূর্ণ আঙ্গুলের মধ্যে থাকবে।
  • বুড়ো আঙ্গুল ও কনিষ্ঠ আঙ্গুল গোলকের দুদিকে একটু ছড়িয়ে থাকবে যাতে পড়ে না যায়।
  • এরপর গোলকটি গলা ও কাঁধের মাঝখানে রাখতে হবে  এবং হাতের কনুই কিছুটা উঁচুতে থাকবে।
  • যে দিকে গোলকটি ছোড়া হবে তার বিপরীত দিকে মুখ করে দাঁড়াতে হবে।
  • ডান পা সামনে ও বাম পায়ের পাতাকে পিছনে নিয়ে ডান পায়ের গোড়ালির কাছে রাখতে হবে।
  • এরপর পাসহ শরীরকে পিছনে টেনে এনে শরীর পাশে ঘুরে আসবে।

গোলক নিক্ষেপের নিয়মাবলী:

  • গোলকটি নির্ধারিত সেক্টরের মধ্যে নিক্ষেপ করতে হবে।
  • ৮ জন প্রতিযোগী হলে সবাই ৬টি করে নিক্ষেপ করার সুযোগ পাবে।
  • ৮ জনের বেশি প্রতিযোগি হলে হলে প্রথমে ৩টি করে নিক্ষেপ করে বাছাই করতে হবে। বাছাইকৃত প্রতিযোগীগণ আরও তিনটি করে নিক্ষেপ করার সুযোগ পাবে।
  • নিক্ষেপ শেষে বৃত্ত স্পর্শ করা যাবে না।
  • গোলকটি মাটিতে না পড়া পর্যন্ত বৃত্ত থেকে বের হওয়া যাবে না।
  • নাম ডাকার ৯০ সেকেন্ডের ভিতর নিক্ষেপ করতে হবে।

চাকতি নিক্ষেপের বর্ণনা দিন।

চাকতি নিক্ষেপ:

ডিসকাস বা চাকতি হলো গোলাকার একটি চাকতি। এটি এ্যাথলিটিকসের অন্যতম একটি জনপ্রিয় ফিল্ড ইভেন্ট। চাকতির ভেতরের অংশ কাঠের এবং বাইরের অংশ লোহা বা লোহা জাতীয় পদার্থ দ্বারা তৈরি হবে।  পুরুষদের জন্য চাকতির ওজন ২ কেজি এবং মহিলাদের জন্য এর ওজন ১ কেজি। চাকতি নিক্ষেপের সার্কেলের ব্যাস ২.৫ মিটার। বৃত্তের চারিদিকে লোহার রিং মাটিতে বসানো থাকবে। বৃত্তটি কংক্রিটের ও খসখসে হবে।

চাকতি নিক্ষেপের কৌশল:

  • প্রথমে বিপরীত হাতে চাকতিটি রাখতে হবে।
  • মসৃণ পিঠ উপরে থাকবে।
  • যে হাতে নিক্ষেপ করা হবে সে হাতের মধ্যের তিন আঙ্গুলের প্রথম ভাঁজে ডিসকাসকে আঁকড়িয়ে ধরতে হবে।
  • বৃদ্ধ ও কনিষ্ঠ আঙ্গুলের সাহায্যে সার্পোট নিতে হবে।
  • আঙ্গুলগুলো ফাঁকা করে রাখতে হবে।

চাকতি নিক্ষেপের ধাপসমূহ:

চাকতি নিক্ষেপের ধাপ হলো ৩ টি । যথা:

১. সুইং: বৃত্তের ভিতর দাঁড়িয়ে চাকতিটিকে শক্তভাবে ধরে প্রতিযোগি তার সুবিধামতো সুইং দিবে।

২. টার্ন: চাকতি নিক্ষেপের আগে খুব জোরে ১১/১২ পাক ঘুরে ছুড়বে।

৩. নিক্ষেপ: ঘোরার সাথে সাথে পায়ের উপর ভর করে নিক্ষেপ করতে হয়। নিক্ষেপের পর এক পায়ের উপর শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে হয়।

চাকতি নিক্ষেপের নিয়মাবলি:

  • প্রতিযোগির নাম ডাকার ১ মিনিট বা ৬০ সেকেন্ডের মধ্যে চাকতি নিক্ষেপ করতে হবে।
  • বৃত্তের ভিতর থেকে চাকতি নিক্ষেপ করতে হবে।
  • নিক্ষেপের পর পিছনের অংশ দিয়ে বের হতে হবে।
  • চাকতিটি সেক্টরের মধ্যে পড়তে হবে।
  • চাকতিটি শূন্যে থাকা অবস্থায় বৃত্ত থেকে বের হওয়া যাবে না।
  • সার্কেলের চতুর্দিকের লোহার রিং এর উপরে স্পর্শ করা যাবে না।
  • নিক্ষেপের সময় বৃত্তের বাইরের ভূমি স্পর্শ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!