ডিপিএড বাংলা (পিকে), অধ্যায়-০৫ - Proshikkhon

ডিপিএড বাংলা (পিকে), অধ্যায়-০৫

অধ্যায়-০৫: শিখন-শেখানো কৌশল

আলোচ্য বিষয়:

১) ছবির গল্প পাঠে শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানোর ক্ষেত্রে কোন কোন কৌশল অবলম্বন করবেন তা সম্পর্কে আলোচনা।

২) শিশুদের বর্ণ শেখাতে আপনি কোন কোন কৌশল অবলম্বন করবেন?

৩) ছড়া ও কবিতা শিখন- শেখানোর কৌশল বর্ণনা করুন।

৪) শিশুদের ই,ঈ বর্ণ শেখানোর কৌশল গুলো লিখুন।

৫) শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন কৌশল বর্ণনা করুন।

৬) শিশুদের মধ্যে ভাষা অর্জনের ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয় কেন?

৭) কীভাবে ছড়ার পাঠ মূল্যায়ন করবেন?

৮) শোনা ও বলার ক্ষেত্রে শিশুরা কিভাবে বাধার সম্মুখীন হয় তা বলুন।

১) ছবির গল্প পাঠে শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানোর ক্ষেত্রে কোন কোন কৌশল অবলম্বন করবেন তা সম্পর্কে আলোচনা।

ছবিতে গল্প পাঠে শিক্ষার্থীদের শিখন-শেখানোর ক্ষেত্রে করণীয়ঃ

প্রস্তুতি পর্যায়:

১. শ্রেণীতে প্রবেশ করে সকলের সাথে কুশল বিনিময় করতে হবে।

২. এমন স্থানে বসতে বা দাঁড়াতে হবে যেন সকল শিক্ষার্থী দেখতে পায়।

৩. প্রথমে  শিক্ষককে আজকে গল্প শোনার আগ্রহ প্রকাশ করতে হবে। প্রশ্ন হবে, যেমন-

  • তোমরা কি বড়দের (মা-বাবা,নানা-নানি, দাদা দাদি ইত্যাদি) কাছ থেকে কোনো গল্প শুনেছ?
  • কী গল্প শুনেছ তা বলো ইত্যাদি।

৪. সকলের মনোযোগ আকর্ষণ করে ১/২জনের নিকট থেকে গল্প শোনার চেষ্টা করতে হবে।

৫. গল্প বলার পর প্রশংসা করা এবং আজকে একটি গল্প শোনাবো তা বলতে হবে।

উপস্থাপন পর্যায়:

১. বইয়ের ছবির দিক শিক্ষার্থীর সামনে রেখে এমনভাবে বইটি ধরতে হবে যেন সকলে তা দেখতে পায়।

২. কতিপয় প্রশ্নের মাধ্যমে ছবিতে কী আছে, কে কী করছে? গল্পের নাম কী হতে পারে? ইত্যাদি প্রশ্নের মাধ্যমে ধারণা প্রদানে সহায়তা করতে হবে। এক্ষেত্রে,শিক্ষার্থীদের প্রথমে পাশের জনের সাথে আলাপের সুযোগ দিয়ে পরে একাকী বলতে উৎসাহ দিতে হবে। ৩.পরবর্তী ছবি দেখিয়ে পরস্পর আলোচনা করে বলতে দিতে হবে। এজন্য এমনভাবে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন করতে হবে যেন,প্রশ্নের উত্তর ছবির নিচে লেখা বিবৃতি বা কাজের কাছাকাছি হয়।

৪. এভাবে সব ছবি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা গ্রহণ ও প্রদান  করতে হবে।

৫.পুনরায় শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে প্রাপ্ত ভাষা কাঠামো ব্যবহার করে ছবির ক্রমানুসারে গল্পটি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে ধারাবাহিকভাবে বলতে হবে। বলার সময় গল্পের কথা অনুযায়ী শারীরিক ভাষা, আবেগ ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে।

শিক্ষার্থীর অনুশীলন পর্যায়:

১. শিক্ষার্থীদের সংখ্যানুসারে সুবিধামতো কয়েকটি দলে ভাগ করে দলে বসার ব্যবস্থা করে দিতে হবে।এক্ষেত্রে প্রতি বেঞ্চে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের একটি করে দল হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। এতে সময় সাশ্রয় হবে এবং শ্রেণি ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন কম হবে।

২. প্রত্যেক দলে একটি করে বই ব্যবহার করে ছবির ক্রমানুসারে একেক জনকে গল্প নিজের ভাষায় দলের অন্যদের শোনাতে বলতে হবে।

৩. অনুশীলন পর্যায়ে এটি নিশ্চিত করতে হবে যেন সকল শিক্ষার্থীর এককভাবে একাধিকবার ছবি দেখে গল্প বলার সুযোগ পায়।

৪. প্রতি দলে গল্পের ওপর অভিনয় করার জন্য চরিত্র বন্টন করে দিতে হবে।

৫. প্রত্যেক দলকে অভিনয় করিয়ে অভিনয়ের বিষয়বস্তু অন্যদের বলতে সহায়তা করতে হবে।

মূল্যায়ন পর্যায়

১. ছবির ক্রম ঠিক রেখে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে গল্প বলতে দিতে হবে।এক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থীকে সুযোগ দেওয়ার জন্য ছবির ওপর ভিত্তি করে ধারাবাহিকভাবে গল্প বলতে দিতে হবে।এ পর্যায়ে শিক্ষার্থীর বলা কতিপয় শব্দের উচ্চারণ সঠিকভাবে বলতে সহায়তা করতে হবে।

২.গল্পের ওপর ভিত্তি করে ছোট ছোট প্রশ্ন করতে এবং উত্তর বলতে দিতে হবে।

২) শিশুদের বর্ণ শেখাতে আপনি কোন কোন কৌশল অবলম্বন করবেন?

শিশুদের বর্ণ শিখন শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার কৌশল সমূহ:

১. যথাসময়ে শ্রেণীকক্ষে প্রবেশ করে শিশুদের সাথে কুশল বিনিময় করা।

২. প্রয়োজনে আসন বিন্যাস করে পাঠের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা।

৩. শিশুরা মজা পায় এমন একটি বিষয় এর মাধ্যমে আবেগ সৃষ্টি করা।

৪. নিচের অনুরূপ কাজের মাধ্যমে পূর্ব জ্ঞান যাচাই করা-

  • বোর্ডে পূর্বে শেখা কয়েকটি বর্ণ কোন বর্ণের উচ্চারণ ধ্বনি কি তা বলতে বলা।
  • এমন কয়েকটি শব্দ বলতে বলা যার প্রথম বর্ণটি বোর্ডে লিখিত বর্ণ দিয়ে শুরু হয়েছে।

৫. শিক্ষণীয় বর্ণের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছবি পর্যায়ক্রমে প্রদর্শন করা এবং শিশুদের একাকী চিন্তা করে ও দলে আলোচনা করে ছবিতে কে কী দেখতে পাচ্ছে তা কয়েকজনকে বলতে বলা।

৬. ছবির সাথে মিল করে ছড়ায় ছন্দে যেমন ইট আনি, ইলিশ কিনি, ঈগল ওড়ে, ঈশান কোণে ইত্যাদি বলা এবং শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ২/১ বার বলতে বলা।

৭. ইটের ছবির পাশে  ‘ইট আনি’ বাক্য কার্ডটি প্রদর্শন করে এর  থেকে ইট শব্দ আলাদা করে বর্ণ উচ্চারণের ক্ষেত্রে মূলধ্বনি চর্চা করানো।যেমন -ইট- ই ট। এর ই বর্ণের মূল ধ্বনির চর্চা করানো।

৮. অনুরূপভাবে ই বর্ণের ওপর কাজ করানো। সাথে সাথে ই এবং ঈ বর্ণের ধ্বনির প্রকৃত উচ্চারণ অনুশীলন করানো।

৯. এমন কয়েকটি শব্দ বলতে বলা যার প্রথম বর্ণটি যথাক্রমে শেখা বর্ণ দিয়ে শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে পাঠের অন্তর্গত শব্দ দুটি ছবির মাধ্যমে সনাক্ত করিয়ে নতুন শব্দের অনুসন্ধানে শিশুদের দলগতভাবে কাজ করতে বলা।

১০. কয়েকজন শিশুকে শেখা বর্ণের ধ্বনির উচ্চারণ করতে দিয়ে পাঠ যাচাই করা।

১১. ই বা ঈ বর্ণ দুটির ধ্বনি উচ্চারণে অসুবিধা আছে এরূপ শিশুদের চিহ্নিত করে পারগ শিশু দিয়ে কোন পুনঃশিখন নিশ্চিত করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!