ডিপিএড বাংলা (পিকে), অধ্যায়-০১ - Proshikkhon

ডিপিএড বাংলা (পিকে), অধ্যায়-০১

আজকের পাঠের আলোচ্যবিষয়:

  • শিশুর ভাষা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রের বিকাশ
  • শিক্ষণ ক্ষেত্র, ভাষা ও যোগাযোগ
  • সহায়ক শিখন সামগ্রী
  • শিখন-শেখানো প্রক্রিয়া
  • ভাষা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রের উন্নয়ন
  • ভাষা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রের উন্নয়নে শিক্ষকের করণীয়
  • শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন কৌশল

১. শিশুর ভাষা দক্ষতা বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কতটুকু গুরুত্বপূর্ণ?

অথবা, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শিখনভিত্তি হিসেবে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্ব বর্ণনা করুন।

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা হচ্ছে শিশুর প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শিখন ভিত্তি। বাংলাদেশে এ স্তরের শিশুর বয়স ৫+ এবং তাদের  বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী শারীরিক, মানসিক, আবেগিক, সামাজিক, বুদ্ধিবুতীয় ও ভাষাবৃত্তীয় বিকাশে সহায়তা করতে চারটি বিকাশের ক্ষে্ত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে ভাষা ও যোগাযোগ অন্যতম। ভাষা ভাবের বাহন, যােগাযোগের মাধ্যম। শিশু যখন প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আসে তখন সে ভাষার বেশ কিছু দক্ষতা অর্জন করে আসে। যেমন, মাতৃভাষায় কোনাে কিছু শুনে বুঝতে পারা ও কথা বলার মাধ্যমে তার আবেগ-অনুভূতি প্রয়োজনমতো প্রকাশ করতে পাৱা। প্রাক-প্রাথমিকে শিশুদের কোনাে কিছু শুনে বুঝতে পারা ও বলার দক্ষতাকে আরো শক্তিশালী করা, বর্ণমালার আনুষ্ঠানিক ধারণা প্রদানের মাধামে শিশুকে পড়তে ও লিখতে শেখার মৌলিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা, বর্ণমালার আনুষ্ঠানিক ধারণা প্রদানের মাধ্যমে শিশুকে পড়তে ও লিখতে শেখার মৌলিক দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্র প্রস্তত করা, আনন্দের সাথে অর্থপূর্শভাবে কোনাে বলা-পড়া-লেখার নানা কাজে শিশুকে সম্পৃক্ত করে শিশুর ভাষা-দক্ষতা বিকাশের জন্য প্রাক প্রাথমিক শিক্ষাক্রমে ভাষা ও যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ।

২. প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার্থী শিশুর ভাষা দক্ষতার উন্নয়নে বিভিন্ন শিখন সামগ্রীর পরিচয় দিন।

প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে শিশুর ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার  উন্নয়নের জন্য নানা ধরনের শিখন শেখানাে সামগ্রীর প্রয়োজন পড়ে । প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিতে শিশুরা লেখাপড়ার চেয়ে  নানা ধরনের কাজ, খেলা মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমেই বেশি শেখে।শিশুরা এই শ্রেণিতে নানা ধরনের খেলনা ও উপকরণ নেড়েচেড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া (Interaction ) মাধমে  নিজেরাই শেখে। সুতরাং এই পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ভাষা শিখনে যথােপযুক্ত শিখন শেখানাে সামগ্রী শিক্ষা উপকরণ, খেলনা ও সম্পূরক গঠন সামগ্রীর বিশেষ ভূমিকা রয়েছে ।

প্রাক-প্রাথমিক শিখন সামগ্রী:

ক) আমায় বই, প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা: এটি শিশুদের  উপযােগী একটি আকর্ষণীয় পুস্তক। এই বইতে শিশুদের রং করাযর অনুশীলনের জন্যা – ছবি, ছবির পড়া,  ছবিতে গল্প , বর্ণমালা পরিচিতি, বর্ণমালার ছড়া, শব্দ থেকে বর্ণ খুঁজে বের করা, খালি ঘরে বর্ণ লেখা, বর্ণ ও শব্দের মিল করা ইত্যাদি কাজ এ বইতে সন্নিবেশ  করা হয়েছে। এ কাজ মাধ্যমে শিক্ষা প্রাক-পঠন ও প্রাক-লিখন দক্ষতার উন্নয়ন  হবে বলে আশা করা যায় ।

খ) এসাে লিখতে শিখি : এ বইতে শিশুরা ছবিতে রং করবে বর্ণ/শব্দ ও চিত্র দাগ টেনে মেলাবে। এ কাজের মাধ্যমে শিশুরা বর্ণের সাথে পরিচিত হবে।

গ) বর্ণ ও সংখ্যা কার্ড : শিশুদেরকে বর্ণ ও সংখ্যার সাথে পরিচিতি ঘটানোসহ শ্রেণিকক্ষে ব্যবহারের জন্য এক সেট রঙ্গিন ও আকর্ষণীয় বর্ণকার্ড প্রস্তুত করা  হয়েছে।

ঘ) এক সেট গল্পের বই : রঙিন ছবিযুক্ত শিশুতােষ গল্পের মােট দশটি বই রয়েছে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের এসব বই থেকে গল্প শুনিয়ে বলার অনুশীলন করাবেন।  এতে শিশুর বলার মাধ্যমে সৃজনশীলতা  ও কল্পনা শক্তির বিকাশ ঘটবে।

ঙ) ছবি দেখে শিখি (ফ্লিপ  চার্ট) : মােট ১৩টি চার্ট রয়েছে । প্রতিটিই আকর্ষণীয় চিত্রযুক্ত। চা্টগলাে শিশুর নিকট-পরিবেশের সাথসম্পর্কযুক্ত। বিভিন্ন পারিবেশিক তথ্য জানার সাথে সাথে শিশুরা ঐ সম্পর্কে অন্যের সাথে বলা ও শােনার অনুশীলনের সুযােগ পাবে।

চ) ছড়ায় ছলে ব্যঞ্জনবর্ণ : আকর্ষণীয় চিত্র ও বর্ণ পাশাপাশি বয়েছে এবং এটি ছড়ায় ছন্দে মিল করে ব্যঞ্জনবর্ণ আয়ত্ব করার শিশুতােষ ব্যবস্থা।

ছ) ছড়ায় ছন্দে স্বরবর্ণ : আকর্ষণীয় চিত্র ও বর্ণ পাশাপাশি রয়েছে এবং ছড়ায়-ছন্দে মিল করে স্বরবর্ণ আয়ত্ত করার শিশুত্যে ব্যবস্থা।

৩. ভাষা ও মােগাযােগ দক্ষতা উন্নয়নে আপনি শিখন-শেখানাে কার্যক্রম কীভাবে পরিচালনা করবেন?  আলােচনা করুন।

শিশুর ভাষা ও যােগাযােগ দক্ষতার উন্নয়নের জন্য ভাষার কাজ এ অধ্যায় অন্যতম। এর মধ্যে আছে শােনা-বলা, প্রাক পঠন প্রাক-লিখন। শিখন শেখানাে কাজ কীভাবে পরিচালনা করবেন তার নির্দেশনা এখানে উল্লেখ করা হলাে:

শোনা ও বলা: শিখন-শেখানো পদ্ধতি:

১. নাম থেকে ধ্বনি শনাক্ত করার খেলায় শিক্ষক প্রথমে নিজের নাম বলে নামটি কোন ধ্বনি দিয়ে শুরু হয়েছে তা শিশুদের বলবো।

 ২. এরপর সবাইকে তাদের নাম বলতে কোন ধ্বনি দিয়ে তাদের নাম শুরু  হয়েছে তা জিজেস করবাে। সবার নামের ধ্বনি শুনব ভুল হলে শুধরে দেবাে।

৩. এরপর শিশুদের কার কার নাম একই ধ্বনি নিয়ে শুরু হয়েছে তা খুঁজে বের করতে বলবাে। যেমন-“লিপি ও লিমন শুরু হয়ে লি দিয়ে। এভাবে কিছুক্ষণ খেলাটি খেলবে। ৪. এবার শিক্ষক নিজের নামের ধ্বনি দিয়ে আর কী কী শব্দ হয় তার ২/১টি উদাহরণ দিবাে। অনুরূপভাবে শিশুদেরকেও তাদের নামের প্রথম ধ্বনি দিয়ে নতুন শব্দ বলতে বলবো।

প্রাক-গঠন: শিখন-শেখানাে পদ্ধতি:

প্রাক-প্রথমিক পর্যায়ে প্রাক্-গঠন বলতে ছবির গল্প পড়া, নাম পড়া, দেখে পার্থক্য বের করতে পারা, বর্ণমালা পরিচিতি ও পঠন, শব্দ পঠন ও প্রতীক পড়াকে বুঝায়। কাজটি করার ক্ষেত্রে একই ধরনের কিছু ছবি বা চিহ্ন বাের্ডে লিখবাে। যেমন-

  • শিশুদের ভালােভাবে দেখতে বলবাে ।
  • এবার শিশুদের জিজ্ঞেস করবাে- সৰগুলাে ছবিচিহ্ন একই রকম কি না? কোনাে শিশু না-বােধক উত্তর দিলে তাকে অন্য রকমটি খুঁজে বের করতে বলবাে। আলাদা দেখতে ছবিটি/চিহ্নটি কেন আলাদা তা জিজ্ঞেস করব। শিশুরা আলাদা দেখতে লেখাটি খুজে বের করতে না পারলে তাদের বিভিন্ন সংকেত দিয়ে সাহায্য করবো
  • এরপর আমার বই এর ২৬ ও ২৭ পৃষ্ঠার কাজটি শিশুদের করতে দিবাে। প্রথমে একই রকম দেখতে ছবি থেকে কোনটি আলাদা তা খুঁজে ৱেৰ করব। পরে ছবির মিল-অমিল বের করার কাজ করতে বলব। সবশেষে আমার বইয়ের ২৮ পৃষ্ঠার মিল-অমিল বের করার কাজ করাবো। তারপর লেখার নিচে আঙ্গুল দিয়ে গল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শোনাবো।
  • গল্পের  বইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি গল্পই ছবি ধৱে ধৱে শিশুরা কী দেখছে, কী বুঝতে পারছে তার ভিত্তিতে বলা যেতে পারে।
  • গল্প বলার সময় গল্পের ভাবের সাথে মিল রেখে গলার স্বরের উঠনামা, মুখের-চোখের অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গি  করবো।
  • গল্প  বলার সময় শিশুরা গল্পের কতটা আয়ত্ত করতে পেরেছে তা ছােট ছােট প্রশ্ন করে জেনে নেব। না বুঝে থাকলে ঐ অংশটিকে পুনরায় বলবো।
  • শিশুদের গল্প গুলো তাদের নিজের ভাষায় বলতে উৎসাহিত করবো।
  • আয়ত্তকৃত একটি গল্প বাছাই করে শিশুদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বলানো যেতে পারে।
  • গল্পের বর্ণনাকৃত চরিত্র গুলাে শিশুদের দিয়ে অভিনয় করানাে যেতে পারে। গল্পগুলো শিশুদের ভালভাবে আয়ত্ত করা হলে দলীয় ভাবে তাদের দিয়ে অভিনয় করানাে যেতে পারে।

৪.  প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিশুর গল্প বলার আপনি কোন কোন কৌশল অবলম্বন করবেন?

প্রাক-প্রাথমিক স্তরে শিশুদের গল্প বলার নিয়ম:

১। গল্প বলার সময় শিশুদের নিয়ে কাছাকাছি গােল হয়ে বসবো  এবং গল্পের পরিবেশ বা অাসর তৈরি করবো যাকে গল্প শুনতে সবাই আগ্রহী হয়।

২। গল্প বলার সময় একটু উঁচু জায়গায় বসবো  বা বইটি এ উচু করে ধরবাে যাতে সব শিশু বইটি দেখতে পায়

৩। গল্প বলার পূর্বে গড়টি ভালাে করে পড়ে ও বুঝে নেবাে। তারপর লেখার নিচে আঙ্গুল দিয়ে গল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শোনাবো

৪। গল্পের  বইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি গল্পই ছবি ধৱে ধৱে শিশুরা কী দেখছে, কী বুঝতে পারছে তার ভিত্তিতে বলার

৫।গল্প বলার সময় গল্পের ভাবের সাথে মিল রেখে গলার স্বরের উঠনামা, মুখের-চোখের অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গি  করবো।

৬। গল্প  বলার সময় শিশুরা গল্পের কতটা আয়ত্ত করতে পেরেছে তা ছােট ছােট প্রশ্ন করে জেনে নেব। না বুঝে থাকলে ঐ অংশটিকে পুনরায় বলবো:

৭। শিশুদের গল্প গুলো তাদের নিজের ভাষায় বলতে উৎসাহিত করবো:

৮। আয়ত্তকৃত একটি গল্প বাছাই করে শিশুদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে বলানো যেতে পারে;

৯। গল্পের বর্ণনাকৃত চরিত্র গুলাে শিশুদের দিয়ে অভিনয় করানাে যেতে পারে। গল্পগুলো শিশুদেরভ ভালভাবে আয়ত্ত করা হলে দলীয় ভাবে তাদের দিয়ে অভিনয় করানাে যেতে পারে।

৫. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার শিখন-শেখানাে প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ কী কী? আলােচনা করুন।

প্রাক-প্রাথমিক স্তরে ভাষা ও যোগাযোগের ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য তা সংশ্লিষ্ট শিখনফল অর্জনের জন্য শিশুদের সাথে বিভিন্ন কার্যক্রম  পরিচালনা করবো। ভাষা ও যােগাযােগ ক্ষেত্রের উন্নয়নের জন্য সৃজনশীল কাজ শিশুদের জন্য একটি বৈচিত্রময় অধ্যায়। এখানে ভষার উন্নয়নের সাথে সম্পর্কযুক্ত হলাে- ছড়া, গান, গল্প বলা ও অভিনয়। ভাষা ও যােগাযােগ ক্ষেত্রের সাথে সম্পর্কযুক্ত বিষয় কীভাবে শিশুদের সাথে নিয়ে শিখন শেখানাে কাজ পরিচালনা করবে তা আলােচনা করা হলাে:

ক) ছড়া শেখানোর নিয়ম:

১। শিশুদের ছড়া শেখানোর আগে প্রতিটি ছড়া ভালােভাবে নিজে আয়ত্ত করে নেবাে।

২। প্রথমে পুরাে ছড়াটি শিশুদের সামনে শুদ্ধ উচ্চারণে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে আকর্ষণীয়ভাবে কয়েকবার আবৃত্তি করবাে এবং সহজভাবে ছড়া অনুসাবে কথা বলে পরিবেশ তৈরি করবো, যাতে ছড়াটির প্রতি শিশুদের আগ্রহ তৈরি হয়।

৩। অতঃপর ছড়াটি দুই লাইন নিজে সুন্দরভাবে আবৃত্তি করবাে এবং শিশুদেরকে ও করতে বলবাে। প্রথমে দুই লাইন সবার আয়ত্ত হলে পরের দুই লাইন শেখাবো।

৪। এভাবে দুই লাইন দুই লাইন করে পুরাে ছড়াটি শেখাতে হবে;

৫। যেসব শিশ আগে ছড়াটি আয়ত্ত করতে পারবে তাদেরকে অন্য শিশুদের সামনে দাড় করিয়ে আবৃত্তি করতে উৎসাহ দিবাে

৬। ছড়াটি সব শিশু শিখে তারা হাততালি দিয়ে, অঙ্গভঙ্গি করে, নেচে নেচে, বিভিন্নভাবে ছড়াটি আবৃত্তি করবাে।

খ) গান শেখানোর নিয়ম:

১। শিশুদের গান শেখানাের আগে প্রতিটি গান নিজে ভালোভাবে আয়ত্ত করে  নেবাে।

২। প্রথমে পুরাে গানটি শিশুদের সামনে গাইবো এবং তারপর শিশুদের কাছে জানতে চাইবো যে গানটি তাদের ভালাে লেগেছে কি না।

৩। শিশুরা আগ্রহী হলে তাদের নিয়ে গোল হয়ে বলসো এবং গানটির প্রথম অংশ শিশুদের নিয়ে গাইবো। একটি অংশ শিশুরা ভালোভাবে আয়ত্ত করার পর পরবর্তী অংশ গাইবাে।

৪। শিশুদের নিয়ে হাততালি দিয়ে গান গাওয়া যেতে পারে। তাতে শিশুরা তালে ও ছন্দে গাইবে।

৫। এভাবে পুরাে গানটি শিশুদের নিয়ে গাইবাে;

৬। পুরাে গানটি শেখা হলে শিশুনেরকে একাকী ও দলে গাইতে উৎসাহ ও সহায়তা দেবাে

 ৭। গান গাওয়ার দলীয় প্রতিযোগিতার আয়োজন করা যেতে পারে।

গ) গল্প বলার নিয়ম:

১ । গল্প বলার সময় হদের নিয়ে কাাকাছি গোল হয়ে বসবো এবং গল্প বলার পরিবেশ বা আসর তৈরি করবো, যাতে গল্প শুনতে সবাই আগ্রহী হয়,

২। গল্প বলার সময় একটু উচুঁ  জাগায় বসবাে বা বইটি এক উচু করে ধরবাে, যাতে সব শিশু বইটি দেখতে পায়,

৩। গল্প বলার  পূর্বে গল্পটি ভালাে করে পড়ে ও বুঝে নিবাে। তারপর গল্পের নিচে আঙ্গুল দিয়ে গল্পটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত শোনাবো,

৪। গল্পের বইয়ের ক্ষেত্রে প্রতিটি গল্পই ছবি ধরে ধরে শিশুরা কী দেখছে, কী বুঝতে পারছে তার ভিত্তিতে বলবাে,

৫। গল্প বলার সময় গল্পের ভাবের সাথে মিল রেখে গলার স্বরের উঠানামা, মুখের চোখের অভিব্যক্তি ও অঙ্গভঙ্গি করবো।

৬। গল্প বলার সময় শিশুরা গল্পের কতটুকো আয়ত্ত করতে পেরেছে তা হােট ছোেট প্রশ্ন করে জেনে নেবো। না বুঝে থাকলে ঐ অংশটিকে পুনরায় বলবো,

৭। আয়ত্তকৃত  একটি গল্প বাছাই করে শিশুদের নিয়ে ধাৱাবাহিকাবে বলানাে যেতে পারে,

৮। গল্পগুলো শিশুদের ভালভাবে আয়ত্ত করা হলে দলীয়ভাবে শিশুদের দিয়ে অভিনয় করানাে যেতে পারে,

৯। শিশুদের গল্পগুলো তাদের নিজের ভাষায় বলতে উৎসাহিত করবো।

ঘ) অভিনয় করানোর নিয়ম:

১। প্রথমে শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী দলে ভাগ করে নেবো।

২। অভিনয়ের জন্য গল্পের বই থেকে যে কোনাে একটি গল্প অথবা কোনাে থিম বা বিষয় বাছাই করে শিশুদেরকে বুঝিয়ে দেবাে।

৩। শিশুদেরকে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে বলবাে, প্রয়োজনে ঘটনাটা সহজ ভাষায় বুঝিয়ে দিবাে। কী উপকরণ লাগবে, কে কোন বিষয়ে অভিনয় করবে তা শিশুদের আলােচনা করতে দিবাে এবং প্রয়ােজন অনুযায়ী সহায়তা দেবো।

৪। শিশুদের সংলাপগুলাে তৈরি করতে সহয়তা করবো শিশুরা নিজেদের ভাষায় সংলাপ বলবে। সংলাপ মুখস্থ করানাের প্রয়াাজন নেই।

৫। শিশুর প্রস্তুতির জন্য সময় বরাদ্দ করবো।

৬। অভিনয়ের জন্য উপকরণ সংগ্রহে শিক্ষক সহায়তা করবো।

৭। রিহার্সেল বা মহড়া করাবাে। তবে স্বতঃস্ফুর্ত অভিনয়ে উৎসাহিত করবো।

৮। এরপর শিক্ষক একেক দলকে অভিনয় করার জন্য আহবান জানাবে;

৯। মুক্ত অভিনয়কে উৎসাহিত করা এবং পর্যায়ক্রমে চ্যালেঞ্জিং করার জন্য অভিনয়ের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবাে।

১০। বিভিন্ন ধরনের অভিব্যক্তি নিয়ে মুকাভিনয়ের আয়ােজন রা যেতে পারে।

১১। সবাইকে উৎসাহ দিয়ে কাজ শেষ করাবাে।

৬. প্রাক লিখনে শিক্ষকের করণীয় কী?

প্রাক লিখনে শিক্ষকের করণীয়:

১) শিশুদের লেখার দক্ষতা বিকাশের প্রা্থমিক ধাপ হিসেবে শিশুদের ইচ্ছেমতো আঁকতে দেবাে। এর মাধ্যমে তাদের ঠিকভাবে পেনসিল ধরার দক্ষতা যেমন বাড়বে তেমনি তাদের মুক্তচিন্তা করার দক্ষতা ও বাড়বে

২) শিক্ষক শিশুদের এসাে লিখতে শিখি খাতা ও পেনসিল দেবেন। শিশুরা এসাে লিখতে শিখি খাতার ১-১৪ পৃষ্ঠায় ইচ্ছেমতাে ছবি আঁকবে।  এক্ষেত্রে খেয়াল রাখবো যাতে শিশুরা স্বাধীনভাবে নতুন নতুন আঁকার বিষয় নির্বাচন করতে পারে, খাতার পাতা ভরে আঁকে এবং সঠিকভাবে পেনসিল ধরতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় শিশুদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবাে। যদি শিশু ইচ্ছেমতাে আঁকার। বিষয় নিজে নিজে নির্বাচন করতে না পারে, তবে তাকে ছােট ছোট পরামর্শ দিবাে, যেমন । তুমি ফুল আঁকতে পারো,  পাখি আঁকতে পারো, তোমার স্কুল বা বাড়ির ছবি আঁকতে পারো ইত্যাদি। মনে রাখতে হবে, ফুল-পাখি ইত্যাদি সঠিকভাবে আঁকা মূল লক্ষ্য নয়, মূল লক্ষ্য হলাে শিশুদের তাদের ইচ্ছামতোে আঁকতে সহায়তা  করা।

৩) কদিন পর শিশুদের খাতা, পেনসিলের সঙ্গে রং-ও দেবেন। শিশুরা খাতায় ইচ্ছেমতাে ছবি আঁকবে ও রং করবে।

৪) শিশু ছবি আকার পর ছবিটি দেখবো, ছবি সম্পর্কে প্রশ্ন করবাে (যেমন- তুমি কী একেছো?), তারপর শিশুকে ছবিটির একটি নাম দিতে বলবো নামটি ছবির নিচে লিখে দিবো পর্যায়ক্রমে সকল শিশুর ছবি দেখে ছবির নাম দেওয়ার কাজটি নিশ্চিত করবো তবে একদিনে নয়।

৫) ধীরে ধীরে হদির নাম দেওয়া ও লেখার কাজটি শিক্ষক শিশুদেরকে করতে উৎসাহিত করবে। এখানে উল্লেখ্য, শিশু তার নিজের মতো করে ছবির নাম দেবে ও আঁকিবুকি করে লিখকে এ প্রক্রিয়াকে উৎসাহিত করবে।

৭. ভাষা ও যোগাযোগ ক্ষেত্রের উন্নয়নে মৌখিক ও সাংকেতিক ভাব বিনিময়ের দিকগুলাে উল্লেখ করুন।

পাঠের সফলতা নির্ভর করে শিশুর সাথে শিক্ষকের সহজ ও সাবলীলভাবে ভাব বিনিময়ের ওপর। ভাব বিনিময় দুভাবে হতে পারে। যথা:

১. মৌখিক এবং

২. সাংকেতিক।

মৌখিক ভাব বিনিময়ের সময়ে কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ রাখতে হবে। যেমন

১. ছােট ছােট বাক্য বলা

২. সহজ ভাষা ব্যবহার করা

৩. প্রমিত চলিত রীতিতে কথা বলা ।

৪. সহজ নির্দেশনা প্রদান করা

৫. স্পষ্টভাবে বলা

৬. আঞ্চলিকভাবে প্রমিত ভাষা দিয়ে প্রতিস্থাপিত করা

৭. বিশেষ শব্দকে ভেঙে বলা

৮. অর্থ বলা

৯. ভাষাগত সামর্থ্য বুঝে সাড়া দেওয়া

১০. ছবি/বস্তু/উপকরণ দেখিয়ে প্রকাশ করতে দেওয়া

১১. ভাষা প্রকাশের ক্ষেত্রে বিভিন্ন আঙ্গিক ব্যবহার করা

১২. খুব উঁচু স্বরে কথা না বলা

১৩. খুব নিচু স্বরে কথা না বলা

১৪. ধীরে ধীরে কথা বলা

১৫. কথার ভাবের সাথে মিল রেখে কণ্ঠস্বরের ওঠানামা ঠিক রাখা

১৬. শিশুদের কথা বলার মাঝখানে কথা না বলা

১৭. শিশুদের এমন প্রশ্ন করা, যেখানে চিন্তা করার সুযােগ থাকে।

মৌখিক নয় এমন ক্ষেত্রে ভাব বিনিময়ের লক্ষণীয় দিকগুলাে হলো:

১. শিশুদের সাথে চোখে চোখে যােগাযােগ রাখা

২. শিশুদের সাথে হাসিখুশি থাকা

৩. শিশুদের সামনে আন্তরিকভাবে বসা

৪. শিশুদের কাছাকাছি যাওয়া

৫. হাত, মাথা ও নাড়াচাড়ার মধ্যে একটি সমন্বয় রক্ষা করা

৬. কথার ভাবের সাথে অঙ্গভঙ্গি ঠিক রাখা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!