অধ্যায়-০২: প্রাথমিক শিক্ষাস্তরের শিক্ষাক্রমে বাংলা বিষয়
আজকের পাঠের আলোচ্যবিষয়:
- বাংলা শিখন শেখানোর উদ্দেশ্য,
- বাংলা বিষয়ের প্রান্তিক যোগ্যতা,
- আবশ্যকীয় শিখনক্রম,
- বিষয়বস্তুতে শিখনফলের প্রতিফলন
১. প্রাথমিক শিক্ষা স্তরের বাংলা শিখন শেখানোর উদ্দেশ্য বর্ণনা করুন।
শিশু তার মাতৃভাষা অর্জন করা সহজাতভাবে।পারিবারিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে তা পরিপুষ্ট হয়। শিশুর শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা, স্বাচ্ছন্দ্য ও সাবলীলভাবে পড়া, সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ভাবে লেখায় সাহায্য করা,শব্দ সম্ভার সমৃদ্ধ করা, বাক্য গঠনে তাকে দক্ষ করে তোলা- এ সবই ভাষা শিখন- শেখানোর সাথে সম্পর্কযুক্ত। শিক্ষাক্রমভিত্তিক ভাষা- শিক্ষা শিক্ষার্থীকে ভালোভাবে আত্মপ্রকাশে এবং জীবন ও পরিবেশ উপলব্ধিতে সহায়তা করে। আমাদের দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলা বিষয় ছাড়া অন্যান্য বিষয় শেখার মাধ্যমে বাংলা। তাই বাংলা ভাষায় দক্ষতা অর্জন তার জীবনে ব্যবহারিক বিদ্যা সহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের অনুকূল ভিত্তি প্রস্তুত করে দেয় একই সঙ্গে ভাষিক দক্ষতা শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে এবং স্বদেশ ও বিশ্ব, সমাজ ও সংস্কৃতি, সাহিত্য শিল্প ইত্যাদি সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে।
ভাষা শেখার ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা শেষ করার সঙ্গে এই চারটি দক্ষতা অর্জন করতে পারবে এমন প্রত্যাশায় স্বাভাবিক। অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা ভাষা জ্ঞান এর ক্ষেত্রে তার যেটুকু জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জিত হবে তা দিয়ে সে জীবনে বাংলা ভাষা যথাযথভাবে ব্যবহার করতে সক্ষম হবে। দৈনন্দিন জীবনে চিঠি পত্র লেখা, দরখাস্ত করা, দলিল-দস্তাবেজ পড়া, সরকারি বিজ্ঞপ্তি পড়ে বুঝতে পারা, ফরম পূরণ করা ইত্যাদি তাঁর পক্ষে তখন কঠিন হবে না। এছাড়াও আনন্দ- বিনোদন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান লাভের জন্য প্রয়োজনীয় বই ও পত্র-পত্রিকা ব্যবহার তার পক্ষে সম্ভব হবে। এভাবে অর্জিত ভাষা জ্ঞান তার আত্মপ্রত্যয় ও কর্ম দক্ষতা অর্জনের পক্ষে সহায়ক হবে। শিশুর কল্পনা, আত্মপ্রকাশ ও সৃজনশীলতা বিকাশের প্রধান মাধ্যম হলো তার মাতৃভাষা বাংলা ।প্রত্যাশা করা যায় যে, প্রাথমিক শিক্ষা শেষে বাংলা ভাষা দক্ষতা বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে শিশুরা আত্মপ্রকাশের সচেষ্ট হবে।
প্রাথমিক স্তরে অর্জিত ভাষা জ্ঞান ও ভাষা দক্ষতা শিক্ষার্থীর পরবর্তী স্তরের শিক্ষা লাভের ভিত্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
২. প্রাথমিক স্তরের প্রান্তিক যোগ্যতা বাংলা বিষয়ের প্রান্তিক যোগ্যতাগুলো লিখুন।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে ভাষাসংশ্লিষ্ট যে উদ্দেশ্য নির্ধারিত রয়েছে তা হলো, ভাষা ও যোগাযোগ দক্ষতার বিকাশ এবং নিজেকে প্রকাশ করতে সহায়তা করা। উদ্দেশ্যের আলোকে বাংলা বিষয়ের প্রান্তিক যোগ্যতা হলো হলো বাংলা ভাষার মৌলিক দক্ষতা অর্জন এবং জীবনের সর্বক্ষেত্রে তা কার্যকর ভাবে ব্যবহার করা। বাংলা বিষয়ে নিম্নলিখিত প্রান্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
শোনা:
১. বাংলা ভাষার গঠন- বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা লাভ করা।
২. ছড়া,কবিতা ,রূপকথা ,গল্প ইত্যাদি শ্রুতিগ্রাহ্য সাহিত্য শুনে বুঝতে পারা ও আনন্দ লাভ করা।
৩. কথোপকথন, বর্ণনা ইত্যাদি শ্রুতিগ্রাহ্য বিষয়ে শুনে বুঝতে পারা।
বলা:
১. বাংলা ভাষার গঠন -বৈশিষ্ট্য সম্পর্কিত ধারণা প্রয়োগ করে কথা বলতে পারে।
২. ছড়া,কবিতা, রূপকথার ,গল্প, কথোপকথন, বর্ণনা ইত্যাদি বুঝিয়ে বলতে পারা।
৩. সহপাঠী ও অন্যদের সঙ্গে প্রমিত উচ্চারণে কথা বলতে পারা।
৪. বিভিন্ন বিষয়ে মতামত প্রদান ও অনুভূতি ব্যক্ত করতে পারা।
পড়া:
১. স্পষ্ট , শুদ্ধ ও প্রমিত উচ্চারণে সাবলীলভাবে পড়তে পারা।
২. ছড়া,কবিতা, রূপকথা, গল্প, কথোপকথন, বর্ণনা ইত্যাদি পড়ে বুঝতে পারা।
৩. হাতের লেখা ও মুদ্রিত লেখা পড়তে পারা।
লেখা:
১. স্পষ্ট ,পরিচ্ছন্ন ও শুদ্ধভাবে লিখতে পারা।
২. ছড়া, কবিতা, রূপকথা, গল্প, কথোপকথন, বর্ণনা ইত্যাদি বিষয়বস্তু ও মূল ভাব বুঝে লিখতে পারা।
৩. পর্যবেক্ষণ ,অভিজ্ঞতা ও মনোভাব ইত্যাদি শুদ্ধ অস্পষ্ট ভাবে নিজের ভাষায় লিখে প্রকাশ করতে পারে।
৪. সাধারণ চিঠি ও দরখাস্ত লিখতে পারা এবং ফরম পূরণ করতে পারা।
৩. প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে ভাষার সাথে সম্পর্কযুক্ত উদ্দেশ্যটি কি- তা বলুন।
প্রাথমিক স্তরের শিক্ষাক্রমে ভাষার সাথে সম্পর্কযুক্ত উদ্দেশ্যসমূহ:
- শিশুর শুদ্ধ উচ্চারণে কথা বলা,
- স্বাচ্ছন্দে ও সাবলীল ভাবে পড়া,
- সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন ভাবে লেখা সাহায্য করা,
- শব্দভাণ্ডার সমৃদ্ধ করা,
- বাক্য গঠনে তাকে দক্ষ করে তোলা।
৪. প্রাথমিক স্তরে বাংলা বিষয়ের প্রান্তিক যোগ্যতা কয়টি? ভাষা দক্ষতা অনুযায়ী এর সংখ্যা কয়টি ও কী কী?
প্রাথমিক স্তরে বাংলা বিষয়ের প্রান্তিক যোগ্যতা ১৪ টি। ভাষা দক্ষতা অনুযায়ী এর সংখ্যা ৪ টি । যথা:
১. শোনা,
২. বলা,
৩. পড়া ও
৪. লেখা।
৫. আবশ্যকীয় শিখনক্রম কি?
সাধারণভাবে বলা যায়, যে শিখন গুলো শিশুর চাহিদা ও সামর্থ্য অনুযায়ী অবশ্যই পাঠ করতে হয় তাকে আবশ্যকীয় শিখনক্রম বলে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সকল শিশু প্রণীত শিখনক্রম গুলোর মাধ্যমে পুরোপুরি ও আবশ্যকীয় যোগ্যতাগুলো অর্জনের সুযোগ পায়। এজন্য এর শিখনক্রম গুলোকে আবশ্যকীয় শিখনক্রম বলা হয়। যেমন-বাংলা একটি আবশ্যকীয় শিখনক্রম।
