কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ ১১ টি লক্ষণ ও প্রতিকার - Proshikkhon

কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ ১১ টি লক্ষণ ও প্রতিকার

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা | 11 important symptoms and remedies for kidney disease

Health Tips | কিডনি রোগের গুরুত্বপূর্ণ ১১ টি লক্ষণ ও প্রতিকার

কিডনি আমাদের শরীরের খুবই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। শরীর থেকে অনাবশ্যক দ্রব্য বা পদার্থ মূত্র হিসাবে শরীর থেকে বের করে রক্তের পরিশোধন করতে এবং শরীরে ক্ষার এবং অম্লের ভারসাম্য বজায় রাখে। এইভাবে কিডনি শরীরকে স্বচ্ছ এবং সুস্থ রাখে। আমাদের নিজেদের অবহেলা বা বিভিন্ন কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আশঙ্কার বিষয় হলো আমাদের দেশে কিডনি বিকলতার হার দিন দিন বেড়ে চলেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী দেশে দুই কোটি মানুষ কোননা কোন ভাবে কিডনি রোগে ভুগছে (তথ্যসূত্র: BBC)। কিডনি যে কোন ভাবে  তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারানোই মূলত কিডনি রোগ।এর মধ্যে কিছু কিডনি রোগ আছে, সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসার অভাবে কিডনি ফেইলুর হয়ে যায়। সময়মতো চিকিৎসা করা না হলে কিডনি রোগের শেষ পরিণতি দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিডনি ফেইলুরের অন্যতম কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিস রোগ।

আপনার কিডনি রোগ হয়েছে কিনা জানবেন কীভাবে?

কিডনি রোগের বেশকিছু লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন আপনার এই জটিল রোগটি হয়েছে কিংবা হতে চলেছে। নিচে গুরুত্বপূর্ণ ১১টি লক্ষণ সম্পর্কে বর্ণনা করা হল:

কিডনি রোগের লক্ষণ:

১) প্রস্রাবে পরিবর্তন

কিডনি রোগের একটি বড় লক্ষণ হলো প্রস্রাবে পরিবর্তন হওয়া। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাব বেশি হয় বা কম হয়। বিশেষত রাতে এ সমস্যা বাড়ে। প্রস্রাবের রঙ গাঢ় হয়। অনেক সময় প্রস্রাবের বেগ অনুভব হলেও প্রস্রাব হয় না।

২) প্রস্রাবের সময় ব্যাথা

কিডনি সমস্যার একটি বিশেষ লক্ষণ প্রসাবের সময় ব্যাথা হওয়া। এসময় ইউনিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (Urinary Tract Infection) হতে পারে। ফলে প্রসাবের সময় ব্যাথা ও জ্বালাপোড়া অনুভূত হতে পারে। যখন এ সমস্যাটি কিডনিতে ছড়িয়ে যায় তখন ব্যাকপেইন হতে পারে এবং জ্বর হয়।

৩) প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া

কোন কোন ক্ষেত্রে প্রস্রাবের সাথে রক্ত যেতে দেখা যায় যেটি অত্যন্ত বিপদজনক হতে পারে। এরকম লক্ষ্য করার সাথে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪) ত্বকে দাগ হওয়া

কিডনি যখন তার স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে পারেনা তখন রক্তে  বর্জ্য পদার্থ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ত্বকে চুলকানি, দাগ বা বিভিন্ন ধরণের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে।

৫) বমি বা বমি বমি ভাব

কিডনি রোগের আরেকটি লক্ষণ বমি বমি ভাব অর্থাৎ কোন কোন ক্ষেত্রে বমিও হতে পারে।

৬) ছোট ছোট শ্বাস

কিডনি রোগীদের রক্তশূন্যতা দেখা দিতে পারে। কিডনির সাথে শরীরের অন্যান্য প্রধান অঙ্গগুলো সম্পর্কিত যার ফলে ফুসফুসে পানি বা তরল পদার্থ (Fluid) জমা হয়। এসকল কারণে শ্বাস-প্রশ্বাস বা নিঃশ্বাসে সমস্যা হয়, তাই শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।

৭) দেহে ফোলা ভাব

কিডনির কাজ হল শরীর থেকে বর্জ্য এবং বাড়তি পানি বের করে দেওয়া। কিডনী তার স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারালে শরীরের বাড়তি পানি বের করতে পারে না। যার ফলে শরীরে ফোলাভাব তৈরি করে।

৮) মনোযোগ দিতে অসুবিধা হওয়া

লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ার কারণে মস্তিষ্কে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। এতে কাজে মনোযোগ দিতে অসুবিধা হয়।

৯) সবসময় শীত বোধ হওয়া

আপনি কী গ্রীষ্মকালেও শীত অনুভব করছেন? অনেক সময় কিডনি রোগিরা গরমকালে শীতবোধ করে থাকেন বলে গবেষণায় পাওয়া যায়। সুতরাং সবসময় শীত বোধ করাটাও কিডনি রোগের আরেকটি লক্ষণ।

১০) মাংসপেশিতে খিঁচুনি হলে

কিডনির কর্মক্ষমতা নষ্ট হলে শরীরের ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা এবং মাংসপেশিতে খিল লাগার সমস্যা দেখা দেয়। যেমন- ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের মাত্রা কমে গেলেও মাংসপেশিতে খিল লাগার সমস্যা দেখা দেয়।

এছাড়াও মাথা ঘোরা, কোমর ও পায়ে ব্যাথা হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ গুলো ও দেখা দিতে পারে।

প্রতিকার:

বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কিডনি রোগের প্রাথমিক কোন লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় না। তাই উপরোল্লিখিত লক্ষণগুলো বুঝার পাশাপাশি বছরে অন্তত একবার হলেও কিডনী টেস্ট করাতে হবে বিশেষ করে আপনার বয়স যদি ৪০ পার হয়ে যায়। কেননা ৪০ বছর বয়সের পর মানুষের শারীরিক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো দূর্বল হতে থাকে। আর যাদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে তাঁদেরতো আরও বেশি সচেতন হতে হবে। কিডনির সুস্থতা যাচাইয়ের জন্য বেশকিছু টেস্ট রয়েছে। যেমন-

  • প্রসাবের আমিষ বা অ্যালবুমিন টেস্ট।
  • মাইক্রোস্কোপিক-অ্যালবুমিন টেস্ট মাইক্রোস্পিক পরীক্ষা।
  • রক্তের সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা।
  • GFR (গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট) বা CCR (ক্রিয়েটিনিন ক্লিয়ারেন্স রেট) টেস্ট। জিএফআর ৯০–এর ওপর হলে আপনি নিশ্চিন্ত। আর ১৫-এর নিচে নেমে গেলে শেষ পর্যায়ে। কিডনি কতখানি আক্রান্ত, তা সবচেয়ে ভালো বোঝা যায়।
  • আলট্রাসাউন্ট টেস্ট (কিডনির আকার-আকৃতি, মূত্রতন্ত্র, সিস্ট, পাথর, টিউমার ইত্যাদি জানার জন্য)।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!