অধ্যায়-০৪: পদার্থ ও শক্তি
সেশন-৪.৩: ধাতু ও অধাতু
ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:
৯) ধাতু ও অধাতু কাকে বলে?
১০) ধাতু ও অধাতুর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।
১১) দৈনন্দিক জীবনে ধাতুর কী কী কাজে লাগে উল্লেখ করুন।
১২) উপধাতু বা অপধাতু কাকে বলে?
৯) ধাতু ও অধাতু কাকে বলে?
ধাতুঃ
যে সকল মৌলিক পদার্থ সাধারণ অবস্থায় কঠিন, দৃঢ়, উজ্জ্বল বা চকচলে, ওজনে ভারী, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ করে এবং তাপ ও বিদ্যুৎ পরিবাহী সেই মৌলিক পদার্থকে ধাতু বলে। যেমন- লোহা, তামা, সোনা ইত্যাদি।
অধাতুঃ
যে মৌল অবস্থায় কঠিন, তরল বা গ্যাসীয়, ওজনে হালকা, যা উজ্জ্বল বা চকচকে, ভঙ্গুর, আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ উৎপন্ন হয় না, যা তাপ ও বিদ্যুৎ অপরিবাহী সেই মৌলগুলোকে অধাতু বলা হয়। যেমন- হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, সালফার, পানি, হিলিয়াম, নিয়ন, আয়োডিন ইত্যাদি।
১০) ধাতু ও অধাতুর মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।
ধাতু ও অধাতুর মধ্যকার পার্থক্য:
| ধাতু | অধাতু |
| ১. ধাতু সাধারণত উজ্জ্বল। | ১. অধাতু সাধারণত উজ্জ্বল ও চকচকে নয়। |
| ২. ধাতু সাধারণত শক্ত ও ওজনে ভারী। | ২. অধাতু সাধারণত ভঙ্গুর ও হালকা। |
| ৩. ধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয়। | ৩. অধাতুকে আঘাত করলে ঝনঝন শব্দ হয় না। |
| ৪. ধাতুকে পিটিয়ে তার আকার পরিবর্তন করা যায় ও লম্বা করা যায়। | ৪. অধাতুকে পিটিয়ে তার আকার পরিবর্তন করা যায় না। |
| ৫. ধাতু স্বাভাবিক উষ্ণতায় সাধারণত কঠিন। | ৬. অধাতু স্বাভাবিক উষ্ণতায় সাধারণত কঠিন বা গ্যাসীয়। |
১১) দৈনন্দিক জীবনে ধাতুর কী কী কাজে লাগে উল্লেখ করুন।
প্রকৃতিতে বিভিন্ন ধরনের ধাতু রয়েছে এবং প্রত্যেকটি ধাতুই আমরা কোনো না কোনো কাজে ব্যবহার করা থাকি। তবে সব চেয়ে বেশি ব্যবহৃত ধাতু -লোহা। দা, বটি, কুড়াল, ছুরি, কাঁচি, কোদাল, লাঙল, নিড়ানিসহ বিভিন্ন কৃষিজ, গৃহ ও শিল্পসামগ্রী, যন্ত্রপাতি, যানবাহন এগুলো লোহা থেকে তৈরি হয়। বিদ্যুৎ পরিবহনের জন্য তামার তার ব্যবহার করা হয়। হাঁড়ি-পাতিল এবং দরজা ও জানালার ফ্রেম তৈরিতে ব্যবহৃত হয় অ্যালুমিনিয়াম। টিনকে ঘরের চাল হিসাবে ব্যবহার করা হয়। সোনা মূল্যবান গহনা ও বিভিন্ন পদক তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
১২) উপধাতু বা অপধাতু কাকে বলে?
উপধাতুঃ
ধাতু এবং অধাতু ছাড়াও এমন কিছু মৌলিক পদার্থ আছে যাদের কিছু ধর্ম ধাতুর মতো আবার কিছু ধর্ম অধাতুর মতো। এসব মৌলকে উপধাতু বা অধাতু বলে। যেমন- আর্সেনিক, সিলিকন ইত্যাদি।
