অধ্যায়-০৬: আমাদের মহাবিশ্ব, আবহাওয়া এবং জলবায়ু
সেশন-৬.২: সূর্য ও সৌরজগত
ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:
৪) সৌরজগত কাকে বলে? সৌরজগতে গ্রহ, উপগ্রহ, ধুমকেতু, উল্কা ছাড়াও আর কী কী জ্যোতিষ্ক রয়েছে?
৫) গ্রহ ও উপগ্রহের বর্ণনা দিন। গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।
৬) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।
৭) নক্ষত্র থেকে কীভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়ে গ্রহ ও উপগ্রহে পৌঁছায়?
৪) সৌরজগত কাকে বলে? সৌরজগতে গ্রহ, উপগ্রহ, ধুমকেতু, উল্কা ছাড়াও আর কী কী জ্যোতিষ্ক রয়েছে?
সৌরজগতঃ
মহাকাশের অসংখ্য জ্যোতিষ্ক নিয়ে যে জগতের সৃষ্টি হয়েছে তাকে বিশ্বজগৎ বলে। সূর্য বিশ্বজগতের কোটি কোটি নক্ষত্রের মধ্যে একটি উজ্জ্বলতম নক্ষত্র।সংক্ষেপে সূর্য ও এর চতুর্দিকে ঘূর্ণনরত জ্যোতিষ্কমন্ডলীকে একত্রে সৌরজগত বলে। মহাকাশে সূর্যকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট গতিতে, নির্দিষ্ট দুরত্বে, একই সমতলে একইদিকে উপবৃত্তাকার কক্ষপথে ঘূর্ণনরত সকল গ্রহ, উপগ্রহ, গ্রহাণুপুঞ্জ, ধুমকেতু ও উল্কাপিন্ডের সমন্বয়ে সৌরজগত গঠিত হয়েছে। সৌরজগতে মোট ৮টি গ্রহ রয়েছে। যথাঃ বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস, নেপচুন।
সৌরজগতের অন্যান্য জ্যোতিষ্কঃ সৌরজগতে সূর্য, গ্রহ ও উপগ্রহ ছাড়াও অন্যান্য জ্যোতিষ্ক রয়েছে। যেমন- ধুমকেতু, উল্কা ও গ্রহাণু। সূর্যকে কেন্দ্র করে এরা স্বাধীনভাবে ঘুরছে। নিম্নে এদের সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-
- গ্রহের চেয়ে আকারে বেশ ছোট কঠিন শিলাময় বা ধাতব বস্তু- যাদের না গ্রহাণু। এদেরকে কখনো কখনো ক্ষুদ্র গ্রহও বলা হয়।
- ধুমকেতুসমূহও সৌরজগতের অংশ। এরা এমন ধরনের কঠিন পদার্থ দিয়ে তৈরি যারা তাপ পেলে সহজেই গ্যাসে পরিণত হতে পারে। যখন ধুমকেতুসমূহ সূর্যের কাছাকাছি যায় তখন সূর্যের তাপে গ্যাসীয় ও কঠিন পদার্থ নির্গত হয়ে আকাশে ছড়িয়ে যায়, যেটি ঝাঁটার মতো দর্শনীয় লেজে পরিণত হয়। পৃথিবী থেকে এদেরকে কখনো কখনো দেখা যায়। কোনো কোনো ধূমকেতু অনেক বছর পর পর পৃথিবীর আকাশে দৃশ্যমান হয়। যেমন –হ্যালির ধূমকেতু গড়ে ৭৬ বছর পরপর পৃথিবী থেকে দেখা যায়। এটি ১৯১১ সাথে এবং ১৯৮৬ সালে দেখা গেছে। আবার ২০৬২ সাথে দেখা যাওয়ার কথা।
- সূর্যের চারদিকে ঘূর্ণায়মান জ্যোতিষ্কসমূহের মধ্যে সবচেয়ে ছোট হলো উল্কাপিণ্ড। এ ক্ষুদ্র কঠিন পিণ্ড যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে পৌঁছায় তখন বায়ুর সংস্পর্শে এসে পুড়ে যায়। এ জন্য রাতের আকাশে অগ্নিগোলক ছুটে যেতে বা পড়ে যেতে দেখা যায়। কখনো কখনো বড় উল্কাপিণ্ড আধপোড়া অবস্থায় পৃথিবীপৃষ্ঠে পড়ে বড় গর্তের সৃষ্টি করে।
৫) গ্রহ ও উপগ্রহের বর্ণনা দিন। গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।
গ্রহঃ
গ্রহ বলতে জ্যোতির্বিজ্ঞানে মহাবিশ্বের এমন যেকোন বস্তুকে বোঝানো হয় যার কেবলমাত্র নিজের মহাকর্ষ বলের প্রভাবে গোলাকার রূপ ধারণ করার ক্ষমতা আছে, যার ভর তাপ-নিউক্লীয় বিক্রিয়া শুরু করে সূর্যের মত শক্তি উৎপাদনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই কোনো গ্রহ নিজে আলো বা তাপ নির্গত করে না। সূর্যকে কেন্দ্র করে ৮টি গ্রহ- বুধ, শুক্র, পৃথিবী, মঙ্গল, বৃহস্পতি, শনি, ইউরেনাস ও নেপচুন স্বাধীনভাবে ঘুরছে। পৃথিবী থেকে সূর্যের অন্যান্য গ্রহকে উজ্জ্বল দেখালেও এগুলো মূলত সূর্যের আলোতে আলোকিত। পৃথিবী থেকে সন্ধ্যায় পশ্চিম আকাশে সন্ধ্যাতারা রূপে এবং ভোরবেলায় শুকতারা রূপে যে তারাটি দেখা যায় সেটি মূলত শুক্র গ্রহ। গ্রহগুলো সাধারণত নির্দিষ্ট উপবৃত্তাকার পথে সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে।
উপগ্রহঃ
উপগ্রহ হচ্ছে এমন একটি বস্তু যা তার নিজস্ব কক্ষপথে পৃথিবী বা অন্য কোন গ্রহের চারদিকে ঘুরে। কোনো গ্রহের তুলনায় তার উপগ্রহ আকারে ও ভরে বেশ ছোট, তাই উপগ্রহ গ্রহের টানে তাকে কেন্দ্র করে ঘোরে। পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ চাঁদ। এটি পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে। এদের নিজস্ব কোন আলো নেই, সূর্যের আলো দ্বারা এরা আলোকিত হয়। সূর্যের আলো চাঁদের পৃষ্টে পড়ে প্রতিফলিত হয় বলে আমরা চাঁদকে আলোকিত দেখি। চাঁদ পৃথিবীর একমাত্র প্রাকৃতিক উপগ্রহ হলের পৃথিবীর চারপাশে মানুষ প্রেরিত ২৫০০-এর বেশি উপগ্রহ ঘুরছে। এদেরকে কৃত্রিম উপগ্রহ বলা হয়। এ উপগ্রহ গুলো বেতার ও টেলিযোগাযোগ, আবহাওয়া এবং তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রেরণ করা হয়। পৃথিবীর মতো অন্যান্য গ্রহেরও প্রাকৃতিক উপগ্রহ রয়েছে। মঙ্গলের ২টি, বৃহস্পতির ১৬টি, শনির ১৭টি, ইউরেনাসের ৪টি এবং নেপচুনের ১টি উপগ্রহ রয়েছে।
গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যকার পার্থক্য নিম্নে দেওয়া হলো:
| গ্রহ | উপগ্রহ |
| ১. যে সকল জ্যোতিষ্কের তাপ ও আলো নেই এবং মহাকর্ষ বলের প্রভাবে এরা সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তাদেরকে গ্রহ বলে। যেমন: পৃথিবী একটি গ্রহ। পৃথিবী একটি গ্রহ যা নক্ষত্র সূর্যের চারিদিকে ঘুরে। | ১. আকাশে যেসব বস্তু গ্রহের চারপাশে ঘুরে বেড়ায়, তারা হলো উপগ্রহ। পৃথিবী একটা গ্রহ। এ পৃথিবীকে ঘিরে যদি কেউ ঘোরে তাহলে সে পৃথিবীর উপগ্রহ। যেমন: চাঁদ পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে বেড়ায়। সেজন্য চাঁদ পৃথিবীর উপগ্রহ। |
| ২. গ্রহ উপগ্রহের চেয়ে বড় হয়। | ২. উপগ্রহ গ্রহের চেয়ে ছোট হয়। |
৬) গ্রহ ও নক্ষত্রের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ করুন।
| গ্রহ | নক্ষত্র |
| ১. যে সকল জ্যোতিষ্ক মহাকর্ষ বলের প্রভাবে সূর্যকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয় তাদেরকে গ্রহ বলে। | ১, যে সকল জ্যোতিষ্কের নিজস্ব আলো আছে তাদেরকে নক্ষত্র বলে। |
| ২. গ্রহের নিজস্ব কোন আলো বা তাপ নেই। | ২. নক্ষত্রের নিজস্ব আলো ও তাপ আছে। |
| ৩. গ্রহ নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে ঘূর্ণায়মান। | ৩. নক্ষত্র ছায়াপথে নিজ অক্ষে ঘূর্ণায়মান। |
| ৪. গ্রহ নক্ষত্রের চেয়ে ছোট | ৪. নক্ষত্র গ্রহ অপেক্ষা অনেক বড় |
| ৫. গ্রহে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হয় না। | ৫. নক্ষত্রে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়া সংঘটিত হয়। |
৭) নক্ষত্র থেকে কীভাবে শক্তি উৎপন্ন হয়ে গ্রহ ও উপগ্রহে পৌঁছায়?
মহাবিশ্বের একেকটি ছায়াপথের মধ্যে কোটি কোটি নক্ষত্র রয়েছে। আমাদের মিক্লিওয়ে ছায়াপথে ২০০ বিলিয়নের বেশি নক্ষত্র রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সূর্য। সূর্যের মতো সকল নক্ষত্রেরই নিজস্ব আলো আছে। নক্ষত্রগুলো আসলে গ্যাসের পিণ্ড। একটি নক্ষত্রে হাইড্রোজেনসহ অন্যান্য গ্যাস মহাকর্ষ বলের প্রভাবে একত্র হয়ে একটি পিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে। এ গ্যাসসমূহ নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমে তাপ ও আলোকশক্তি উৎপন্ন করে। উৎপন্ন তাপ ও আলোকশক্তি মহাশূন্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিকটবর্তী গ্রহ বা উপগ্রহে গিয়ে পৌঁছায়।
