DPEd Course Structure
ডিপিএড কোর্স সম্পর্কে প্রত্যেক শিক্ষার্থী-শিক্ষকের ধারণা থাকা আবশ্যক। এই কোর্স কাঠামো সম্পর্কে ধারণা না থাকার কারণে কোর্সটি শিক্ষার্থীদের নিকট জটিল মনে হওয়ায় অনেকের মনে ভীতি সঞ্চার সৃষ্টি হতে পারে। ডিপিএড কোর্স কাঠামোটি সম্পর্কে পরিস্কার ধারণা থাকলে কোর্সটি সম্পন্ন করতে সহজ হবে। সেক্ষেত্রে ডিপিএড মূল্যায়নে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারবেন। নিম্নে এর সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করা হলো:
ডিপিএড কোর্স প্রবর্তন
- সি-ইন-এড কোর্স পরিবর্তন করে ডিপিএড কোর্স চালুর জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুপারিশক্রমে একটি জাতীয় পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়।
- এ কমিটির তত্ত্বাবধান ৪ জন (জাতীয় ও আন্তর্জাতিক) পরামর্শক কোর্সটির রূপরেখা বা ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়ন করেন।
- এই ফ্রেমওয়ার্ক অনুসারে ৭টি কোর্স সামগ্রী (রিসোর্স বুক ও ইন্সট্রাক্টর গাইড) এবং কোর্স পরিচালনার জন্য ৫টি গাইড বুক ও ম্যানুয়াল তৈরি করা হয়।
- ডিপিএড কোর্সটি ২০১২ সালের জুলাই মাস থেকে ৭টি পিটিআইতে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়।
নতুন শিক্ষকের প্রারম্ভিক যোগ্যতা উন্নয়নের জন্য ডিপিএড প্রশিক্ষণ কোর্স প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রচলিত সি-ইন-এড কর্মসূচি কাঠামো থেকে অনেকক্ষেত্রে ডিপিএড প্রশিক্ষণ কোর্সের তাৎপর্যপূর্ণ স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। পিটিআই-তে যেভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হয়, তার সংগে সক্রিয়ভাবে বাস্তব অনুশীলন সংযুক্ত করে ডিপিএড কোর্স সাজানো হয়েছে।
বর্তমান ডিপিএড কোর্সটি এমন এক রূপকল্পের আধারে ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শিশুরা একটি সামগ্রিক শিখন পরিবেশে সৃজনশীল ও সংগঠনবাদী শিক্ষণ দর্শনের আলোকে লেখাপড়া করবে এ লক্ষ্যে অনুচিন্তনমূলক অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে শিক্ষক-শিক্ষণ পরিচালিত হবে। অতপর: একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে উদ্ভূত একসেট মান (standards) ও যোগ্যতার (competencies) নিরিখে উপরে বর্ণিত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও মূল্যায়িত হয়। এভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকে বিদ্যালয়ের শিখনের সাথে বারংবার সম্পর্কিত করতে পারবে।
কর্মসূচি-কাঠামো অনুযায়ী পিটিআই-এ ও ট্রেনিং স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে বলে শিখনের মাঝে একটি যৌথক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটে যাবে, ফলে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে একটা সার্থক পরিবেশ তৈরি করবে।
ডিপিএড কোর্সের বৈশিষ্ট্য
- ডিপিএড কোর্সে ভর্তির জন্য প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের সর্বনিম্ন শিক্ষাগত যোগ্যতা হলো এইচএসসি।
- কোর্সটির মান নিয়ন্ত্রণ ও সার্টিফিকেট প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ আইইআর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (বর্তমানে নেপ, ময়মনসিংহ)।
- কোর্সটির মেয়াদ- ১৮ মাস।
- শিক্ষাবর্ষ শুরু জানুয়ারী মাস থেকে (২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত জুলাই মাস ছিল)।
- ২৩টি শিক্ষকমানসহ গাঠনিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের ব্যবস্থা রয়েছে।
- কোর্সটির ক্রেডিট ৯৬ ঘন্টা।
ক্রেডিট ঘন্টা
- কোর্সটির ক্রেডিট ৯৬ ঘন্টা। এর মধ্যে পিটিআইতে ৪৭.৫ ঘন্টা এবং প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ে ৪৮.৫ ঘন্টা। উল্লেখ্য যে, ১ ক্রেডিট ঘন্টা সমান ১৫ ঘন্টা।
- বিষয়ভিত্তিক (১২টি) কোর্স অনুসারে ক্রেডিট ঘন্টা:
- ৬টি বিষয়জ্ঞান (এসকে) কোর্স- ২০.৫ ঘন্টা।
- ৫টি শিক্ষণবিজ্ঞান (পিকে) কোর্স- ১৬ ঘন্টা।
- ১টি পেশাগত শিক্ষা কোর্স- ১১ ঘন্টা।
ডিপিএড কারিকুলামে টার্ম বিভাজন
সময়কাল: ১৮ মাস
পিটিআই এবং ট্রেনিং বিদ্যালয়: ১২ মাস (টার্ম-১ম, ২য় এবং ৩য়)
নিজস্ব বিদ্যালয়: ৬ মাস শিক্ষানবিশ (টার্ম-৪র্থ)
- ১ম টার্ম – ৪.৫ মাস
- ২য় টার্ম – ৩.৫ মাস
- ৩য় টার্ম – ৪ মাস
- ৪র্থ টার্ম – ৬ মাস
ডিপিএড কারিকুলামে অন্তর্ভূক্ত বিষয়সমূহ:
১। প্রোফেশন্যাল স্টাডিজ (৪টি খন্ড):
- ১ম খন্ড- শিশুর বিকাশ ও শিখন, শিশুর শৈশবকালিন বিকাশ ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা, প্রাথমিক শিক্ষা, শিক্ষক শিক্ষা এবং একীভূত শিক্ষা।
- ২য় খন্ড- শিখনতত্ত্ব ও শিখন শেখানো কৌশল, শিখন মূল্যায়ন, অ্যাকশন রিসার্চ, প্রতিফলন অনুশীলন, পাঠ সমীক্ষা ও মেন্টরিং।
- ৩য় খন্ড- ধর্ম ও মূল্যবোধ।
- ৪র্থ খন্ড- আইসিটি ও গ্রন্থাগার।
২। বাংলা বিষয়জ্ঞান এবং বাংলা শিক্ষণবিজ্ঞান
৩। ইংরেজি বিষয়জ্ঞান এবং ইংরেজি শিক্ষণবিজ্ঞান
৪। গণিত বিষয়জ্ঞান এবং গণিত শিক্ষণবিজ্ঞান
৫। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়জ্ঞান এবং শিক্ষণবিজ্ঞান
৬। প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়জ্ঞান এবং শিক্ষণবিজ্ঞান
বিষয়জ্ঞান-Subject Knowledge (SK) এবং শিক্ষণবিজ্ঞান-Pedagogycal Knowledge (PK) নামে পরিচিত।
৭। এক্সপ্রেসিভ আর্টস
- শারীরিক শিক্ষা
- চারু ও কারুকলা
- সংগীত
প্রশিক্ষণ বাস্তবায়নের সাথে সংশ্লিষ্ট অফিস
- প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর;
- জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমী (নেপ);
- এনসিটিবি;
- পিটিআই;
- ইউআরসি;
- প্রাথমিক বিদ্যালয়।


