Importance of Writing
লেখার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা
ভাষার দক্ষতা বৃদ্ধিতে লেখা দক্ষতা অন্যতম। লেখার মাধ্যমে মানুষ নিজের চিন্তা, চেতনা, আবেগ, অনুভূতি ইত্যাদি খুব সহজে প্রকাশ করতে পারে। কিছুকাল আগেও লেখা ছিল সমাজের কতিপয় বিশিষ্টজনের নিজস্ব একটি বিষয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যায় লেখার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রথমত লিখন জ্ঞানের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করে: কোনো কিছু লিখতে হলে অবশ্যই লেখার বিষয় সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকতে হবে। তাকে তথ্যানুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং যুক্তিসঙ্গতভাবে তথ্য উপস্থাপন করতে হবে। এগুলো সবই তার শিখনকে প্রভাবিত করে। কী লেখা হয়েছে বা কতটুকু লেখা হয়েছে এটাই মূল বিচার্য বিষয় নয়, এর সব কিছুই শিক্ষার্থীকে বিস্তৃত পরিসরে ভাবতে সাহায্য করে। তাই ‘শিক্ষকের উচিৎ নবতর সৃষ্টিতে, আবিস্কারে এবং তার চিন্তার বহিঃপ্রকাশের জন্য লেখার সুযোগ সৃষ্টি করা’।
দ্বিতীয়ত লিখন সমালোচনামূলক ও বিশ্লেষণমূলক চিন্তনে সহায়তা করে: সৃজনশীল লেখার ক্ষেত্রে লেখককে প্রচুর গবেষণা যেমন করতে হয়, তেমনি গবেষণাধর্মী লেখাও তাকে পড়তে হয়। লেখার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতার স্বচ্ছন্দ প্রকাশ ঘটে। লিখতে গিয়ে শব্দের বিচিত্র প্রয়োগে সে যত্নশীল হতে পারে এবং চিন্তার গ্রন্থনায়ও সে কুশলতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়।
তৃতীয়ত লিখন প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করে: শিক্ষার্থীর বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন – বিদ্যালয় থেকে জ্ঞান আহরণ, নির্দেশনা প্রতিপালন, তথ্য বিশ্লেষণ, অন্যকে প্রেষণা প্রদানে সার্থক লেখা বিশেষ ভূমিকা পালন করে’. ৩। অধিকন্তু, বিভিন্ন ধরনের লিখন অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের লেখা পড়ে সমালোচনামূলক পাঠক হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে পারে।
চতুর্থত লিখন বুদ্ধিবৃত্তিক নৈপুন্যে ও ব্যক্তিস্বাধীনতা সৃষ্টিতে সহায়তা করে: লেখা শেখানোর সময় শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কতিপয় নিয়ম-শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এই শৃঙ্খলাই কোন লেখা ভালো, কোনটা গ্রহণযোগ্য, কোনটা প্রকাশযোগ্য ইত্যাদি নির্ধারণ করে দেয়, এমনকি লেখকেরও ওই লেখা নিজের কাছে একটি বিশেষ বিষয় হিসেবে পরিগণিত হয়। এটি তার ভাবনারাশিকে সুসংহত করে এবং ভাষার কাঠামোগত বিন্যাসের প্রতি সচেতন করে তোলে।
শিশুর ক্ষেত্রে লেখার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যবহ। নিম্নে লেখার গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করা হলো:
- হাতের লেখা শিশুর ভাষাজ্ঞানের বিকাশে বিশেষভাবে সাহায্য করে।
- লেখা শিশুর মনের ভাবনাকেও সুসংহত করে এবং ভাষার কাঠামোগত বিন্যাসের প্রতি সচেতন করে তোলে।
- শিশুর পরিচ্ছন্ন রুচিবোধের বিকাশে লেখা সহায়তা করে।
- হাতের লেখা শিশুর চিন্তা, কল্পনা ও জ্ঞানের ক্ষেত্রকে সম্প্রসারিত করে।
- লেখার মাধ্যমে শিশুর দেহ ও মন সমন্বিতভাবে কাজ করে। ফলে, শিশুর একাগ্রতা ও মনোনিবেশের শক্তি বাড়ে।
- লেখার নিয়মিত অনুশীলন শিশুর মাংসপেশীর সঞ্চালনে সহায়তা করে
- সঠিকভাবে বর্ণ ও যুক্তবর্ণ লিখতে সহায়তা করে এবং যথাযথ যতিচিহ্ন ব্যবহার করতে সহায়তা করে। সঠিক আকৃতিতে ‘কার’ ও ‘ফলা’ চিহ্ন লিখতে সহায়তা করে।
- শুদ্ধ বানান আয়ত্ত করতে সাহায্য করে।
- সাধু ও চলিত রীতিতে ক্রমাগত অনুশীলনে সহায়তা করে।
- বিমূর্ত ধ্বনিকে মূর্ত করে তোলে।
- শিশুর মধ্যে সৌন্দর্যবোধ সৃষ্টি করে।
- লিখিত বিষয়বস্তু সহজে স্মৃতিতে ধারণ করতে সহায়তা করে।
- ভাবের আদান প্রদান বা অন্যের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করতে সহায়তা করে।
- কোনো বিষয়বস্তুর মর্ম অনুধাবন করে নিজের ভাষায় লিখতে সহায়তা করে।
- পাঠ্যপুস্তকের কোনো গল্প বা কবিতার আলোকে নতুন কোনো গল্প বা কবিতা লিখতে অনুপ্রণিত করে।

