ডিপিএড কোর্স পরিচিতি Archives - Proshikkhon

Posts Tagged "ডিপিএড কোর্স পরিচিতি"

19Mar2020

ডিপিএড প্রোগ্রাম কী? ডিপিএড কোর্স কাঠামো।

ডিপিএড প্রোগ্রাম:

নতুন শিক্ষকের প্রারম্ভিক যোগ্যতা উন্নয়নের জন্য ডিপিএড প্রশিক্ষণ কোর্স প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার একটি সুচিন্তিত পদক্ষেপ। বর্তমানে প্রচলিত সি-ইন-এড কর্মসূচি কাঠামো থেকে অনেকক্ষেত্রে ডিপিএড প্রশিক্ষণ কোর্সের তাৎপর্যপূর্ণ স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। পিটিআই-তে যেভাবে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালিত হয়, তার সংগে সক্রিয়ভাবে বাস্তব অনুশীলন সংযুক্ত করে ডিপিএড কোর্স সাজানো হয়েছে।

বর্তমান ডিপিএড কোর্সটি এমন এক রূপকল্পের আধারে ধারণ করা হয়েছে, যেখানে শিশুরা একটি সামগ্রিক শিখন পরিবেশে সৃজনশীল ও সংগঠনবাদী শিক্ষণ দর্শনের আলোকে লেখাপড়া করবে এ লক্ষ্যে অনুচিন্তনমূলক অনুশীলনের উপর ভিত্তি করে শিক্ষক-শিক্ষণ পরিচালিত হবে। অতপর: একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে উদ্ভূত একসেট মান (standards) ও যোগ্যতার (competencies) নিরিখে উপরে বর্ণিত কার্যক্রম নিয়ন্ত্রিত ও মূল্যায়িত হয়। এভাবে শিক্ষার্থীরা তাদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাকে বিদ্যালয়ের শিখনের সাথে বারংবার সম্পর্কিত করতে পারবে। কর্মসূচি-কাঠামো অনুযায়ী পিটিআই-এ ও ট্রেনিং স্কুলে অনুষ্ঠিত হবে বলে শিখনের মাঝে একটি যৌথক্রিয়ার প্রতিফলন ঘটে যাবে, ফলে শিক্ষার্থী ও প্রশিক্ষণার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে একটা সার্থক পরিবেশ তৈরি করবে।

ডিপিএড প্রোগ্রাম কাঠামো:

সময়কাল: ১৮ মাস

পিটিআই এবং ট্রেনিং বিদ্যালয় -১২ মাস (টার্ম-১ম, ২য় এবং ৩য়)

নিজস্ব বিদ্যালয়-৬ মাস শিক্ষানবিশ (টার্ম-৪র্থ)

১ম টার্ম – ৪.৫ মাস

২য় টার্ম – ৩.৫ মাস

৩য় টার্ম – ৪ মাস

৪র্থ টার্ম – ৬ মাস

কোর্সে বিষয়সমূহ (পিটিআই ভিত্তিক ১২টি কোর্স এবং বিদ্যালয় ভিত্তিক ২টি কোর্স)

১। প্রোফেশন্যাল স্টাডিজ

  • প্রাক প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিক্ষাক্রম      
  • মূল্যায়ন এবং শিক্ষণ
  • প্রাথমিক শিক্ষা এবং শিক্ষাক্রম   
  • ধর্ম এবং মূল্যবোধ
  • শিশুর বিকাশ এবং শিক্ষণ, ইনক্লুসিভ শিক্ষা
  • শিক্ষণ এবং এ্যাকশান রিসার্চ
  • শিক্ষণ পদ্ধতি   
  • আইসিটি মৌলিক জ্ঞান

২। বাংলা বিষয়জ্ঞান এবং বাংলা শিক্ষণবিজ্ঞান

৩। ইংরেজি বিষয়জ্ঞান এবং ইংরেজি শিক্ষণবিজ্ঞান

৪। গণিত বিষয়জ্ঞান এবং গণিত শিক্ষণবিজ্ঞান

৫। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়জ্ঞান এবং শিক্ষণবিজ্ঞান

৬। প্রাথমিক বিজ্ঞান বিষয়জ্ঞান এবং শিক্ষণবিজ্ঞান

৭। এক্সপ্রেসিভ আর্টস

  • শারীরিক শিক্ষা
  • চারু ও কারুকলা
  • সংগীত

19Mar2020

ডিপিএড (DPEd) কী? ডিপিএড কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

DPEd কী?

ইংরেজি ‘DPEd’ শব্দ এর পূর্ণরূপ হল Diploma in Primary Education যার মেয়াদ ১৮ মাস । বাংলাদেশের প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিভিন্ন শিক্ষাবিদগণের উদ্ভাবিত তত্ত্বের আলোকে যুগোপযুগী ধ্যাণ-ধারণার সমন্বয়ে প্রণীত কর্মসূচিই হল ডিপিএড। এই কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন নতুন ধ্যান ধারণার সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী কর্মকেন্দ্রিক শিখন- শেখানো পদ্ধতির উম্মেষ ঘটানোর একটি উন্নতমানের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার প্রথম ধাপ। পিটিআইসমূহে প্রচলিত পূর্বের সি-ইন-এড (Certificate in Education) প্রশিক্ষণের উপর ভিত্তি করে সক্রিয় বিদ্যালয় শিখন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সি-ইন-এড হলো প্রশিক্ষণ কিন্তু ডিপিএড হলো শিখন।

ডিপিএড কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ তাত্বিক জ্ঞান অর্জন করে শিক্ষা সম্পর্কিত গতানুগতিক ধ্যান ধারণা পরিহার করে সক্রিয়ভাবে শিখন কাজ পরিচালনায় অভ্যস্ত হবেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গাঠনিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক শিখন নিশ্চিত হবে। ডিপিএড কর্মসূচিতে আইসিটি প্রয়োগ করে সকল স্তরে সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্খিত পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন ঘটবে। অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান সম্পর্কিত করে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সকল কোর্স কম্পোনেন্ট এর বিস্তারিত সহায়ক সামগ্রীর সুষ্ঠু ব্যবহারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন।

ডিপিএড কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :

  • সক্রিয়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন কাজ পরিচালনা করার কৌশল রপ্ত করতে সহায়তা করা;
  • শিখনে সবোর্চ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার ও গাঠনিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন সুনিশ্চিত করা;
  • শিক্ষকের বিষয় জ্ঞানের জন্য নির্ভুল পরিকল্পনা, আন্তরিকভাবে শিক্ষাদান এবং যথাযথ মূল্যায়ন যা শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যসূচিকে কার্যকর করতে সহজতর করা;
  • বৈজ্ঞানিক শিখন জ্ঞান ও উপলব্ধিকে কাজে লাগাতে শিক্ষককে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক কারিকুলামের কাঠামো, পাঠ্যসূচি, যোগ্যতাসমূহ এবং মূল্যায়ন কৌশল সম্পর্কে জানতে সহায়তা করা;
  • শিখন চাহিদামাফিক উন্নয়নের এবং শিখন তত্ত্বের কার্যকরি ও দ্বিমূখী চর্চার জ্ঞান ও উপলব্ধি করতে সহায়তা করা।
  • শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ তাদের লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রয়োগ এবং অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞানকে চেতনায় পরিণত করতে সক্ষম করা;
  • অংশগ্রহণমূলক, সৃজনশীল ও মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান অর্জনে প্রস্তুত করতে অবশ্যই সক্ষম করে তোলা;
  • শিশুদের নিজস্ব শিখন আবশ্যকতা চিহ্নিত করতে ও জ্ঞানমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সক্ষম করে তোলা;
  • একীভূত শিক্ষার শিখন পরিবেশ প্রস্তুত করে ফলাবর্তন প্রদানে ধারণা প্রদান;
  • শিক্ষকের পেশাগতজ্ঞান, চর্চা, মূল্যবোধ এবং সর্ম্পক স্থাপন  বিষয়ে শিক্ষকদের যোগ্য করে তোলা;
  • বিষয়বস্তু অনুধাবন, শিখনফল, শিক্ষকযোগ্যতা, শিক্ষাদান কৌশল জানা ও প্রয়োগ করতে সক্ষম করে গড়ে তোলা।

Ad

error: Content is protected !!