ডিপিএড কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য - Proshikkhon

ডিপিএড কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

ডিপিএড (DPEd) কী? ডিপিএড কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

DPEd কী?

ইংরেজি ‘DPEd’ শব্দ এর পূর্ণরূপ হল Diploma in Primary Education যার মেয়াদ ১৮ মাস । বাংলাদেশের প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের জন্য আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান ও বিভিন্ন শিক্ষাবিদগণের উদ্ভাবিত তত্ত্বের আলোকে যুগোপযুগী ধ্যাণ-ধারণার সমন্বয়ে প্রণীত কর্মসূচিই হল ডিপিএড। এই কর্মসূচি প্রাথমিক শিক্ষকদের নতুন নতুন ধ্যান ধারণার সাথে তাল মিলিয়ে যুগোপযোগী কর্মকেন্দ্রিক শিখন- শেখানো পদ্ধতির উম্মেষ ঘটানোর একটি উন্নতমানের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টার প্রথম ধাপ। পিটিআইসমূহে প্রচলিত পূর্বের সি-ইন-এড (Certificate in Education) প্রশিক্ষণের উপর ভিত্তি করে সক্রিয় বিদ্যালয় শিখন কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। সি-ইন-এড হলো প্রশিক্ষণ কিন্তু ডিপিএড হলো শিখন।

ডিপিএড কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ তাত্বিক জ্ঞান অর্জন করে শিক্ষা সম্পর্কিত গতানুগতিক ধ্যান ধারণা পরিহার করে সক্রিয়ভাবে শিখন কাজ পরিচালনায় অভ্যস্ত হবেন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গাঠনিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শতভাগ যোগ্যতাভিত্তিক শিখন নিশ্চিত হবে। ডিপিএড কর্মসূচিতে আইসিটি প্রয়োগ করে সকল স্তরে সম্পদের ব্যবহারের মাধ্যমে কাঙ্খিত পেশাগত দক্ষতার উন্নয়ন ঘটবে। অধ্যায় ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান সম্পর্কিত করে প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সকল কোর্স কম্পোনেন্ট এর বিস্তারিত সহায়ক সামগ্রীর সুষ্ঠু ব্যবহারের ভবিষ্যত পরিকল্পনা করতে সক্ষম হবেন।

ডিপিএড কর্মসূচির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য :

  • সক্রিয়তার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন কাজ পরিচালনা করার কৌশল রপ্ত করতে সহায়তা করা;
  • শিখনে সবোর্চ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার ও গাঠনিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন সুনিশ্চিত করা;
  • শিক্ষকের বিষয় জ্ঞানের জন্য নির্ভুল পরিকল্পনা, আন্তরিকভাবে শিক্ষাদান এবং যথাযথ মূল্যায়ন যা শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক স্তরের পাঠ্যসূচিকে কার্যকর করতে সহজতর করা;
  • বৈজ্ঞানিক শিখন জ্ঞান ও উপলব্ধিকে কাজে লাগাতে শিক্ষককে প্রাথমিক ও প্রাক-প্রাথমিক কারিকুলামের কাঠামো, পাঠ্যসূচি, যোগ্যতাসমূহ এবং মূল্যায়ন কৌশল সম্পর্কে জানতে সহায়তা করা;
  • শিখন চাহিদামাফিক উন্নয়নের এবং শিখন তত্ত্বের কার্যকরি ও দ্বিমূখী চর্চার জ্ঞান ও উপলব্ধি করতে সহায়তা করা।
  • শিক্ষার্থী-শিক্ষকগণ তাদের লব্ধ জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা প্রয়োগ এবং অন্যান্যদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞানকে চেতনায় পরিণত করতে সক্ষম করা;
  • অংশগ্রহণমূলক, সৃজনশীল ও মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান অর্জনে প্রস্তুত করতে অবশ্যই সক্ষম করে তোলা;
  • শিশুদের নিজস্ব শিখন আবশ্যকতা চিহ্নিত করতে ও জ্ঞানমূলক উন্নয়নের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে সক্ষম করে তোলা;
  • একীভূত শিক্ষার শিখন পরিবেশ প্রস্তুত করে ফলাবর্তন প্রদানে ধারণা প্রদান;
  • শিক্ষকের পেশাগতজ্ঞান, চর্চা, মূল্যবোধ এবং সর্ম্পক স্থাপন  বিষয়ে শিক্ষকদের যোগ্য করে তোলা;
  • বিষয়বস্তু অনুধাবন, শিখনফল, শিক্ষকযোগ্যতা, শিক্ষাদান কৌশল জানা ও প্রয়োগ করতে সক্ষম করে গড়ে তোলা।
Comments (2)

দয়া করে যদি কোন মন্তব্য করেন তবে আপনাদের মতামত অনুসারে পোস্ট দিতে সুবিধা হত।

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য আলাদা ভাবে লিখলে ভালো হত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!