নিবন্ধ: কর্মচারী শিক্ষক ও রূপকল্প-২০৪১
বিখ্যাত পাকিস্তানি লেখক মরহুম আশফাক আহমেদ লিখেছেন, রোমে (ইতালি) ব্যস্ত থাকার কারণে আমি সময় মতো ফি জমা দিতে পারিনি, যার কারণে আমাকে আদালতে যেতে হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমি কথা শেষ করার আগে বিচারক বলেছিলেন – “A TEACHER IN THE COURT …!!”
এবং প্রত্যেকে উঠে দাঁড়াল এবং আমার কাছে ক্ষমা চেয়ে চালান বাতিল করে দিল, সেদিন আমি জানতে পারলাম সে দেশের সাফল্যের রহস্য!
উন্নত দেশগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সেরা ফলাফল অর্জনকারীদের নিয়োজিত করা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, দেওয়া হয় সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা। কারণ তারা জানে শিক্ষার মূল ভিত্তি তৈরি হয়ে থাকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে। আমরা উন্নত দেশ নই। ক্ষমতাসীন সরকারের দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনায় দেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর কাতারে এসে পৌঁছেছি। এটি নিঃসন্দেহে গৌরবময়। কিন্তু আমাদের মাতৃভূমি প্রিয় বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী।
এই শিক্ষকদের নেই কোন সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা, বরং তারা প্রতি মূহুর্তে হয় লাঞ্চিত এবং অপমানিত। দুঃখজনক হলেও সত্য যে, দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে শিক্ষকদের সম্মানী ভাতা প্রদানে বাংলাদেশ একেবারেই তলানিতে, এমনকি যুদ্ধ বিধ্বস্ত আ-ফ-গা-নি-স্তা-নে-র-ও নিচে। যা শিক্ষকদের অত্যন্ত হতাশ করেছে। উন্নত দেশগুলোর মত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান ও অর্থনৈতিক মর্যাদা দিতে না পারলেও অন্তত উন্নয়নশীল বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা অন্তত পক্ষে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করা উচিত, আবশ্যক বলা বাঞ্ছনীয়।
এখানে বলে রাখা ভালো, শিক্ষায় ও যোগ্যতায় এগিয়ে থেকেও মর্যাদায় অনেকের চেয়ে পিছিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। এখন যারা সহকারী শিক্ষক হচ্ছেন, তারা যোগ্যতায় স্নাতক বা স্নাতকোত্তর। কিন্তু মূল্যায়িত হচ্ছেন তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে। অথচ স্নাতক বা এর কম যোগ্যতায়ও বেশ কয়েকটি পেশায় দেয়া হচ্ছে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা।
সম্প্রতি সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে নতুন শিক্ষাক্রমের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং সেই শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাইলটিং কার্যক্রম শেষে বাস্তবায়ন শুরু করা হয়েছে। অথচ সেই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নকারীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক মর্যাদা সামান্যতম বৃদ্ধি পায়নি। এবারের পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য হচ্ছে –
০১। টেকশই উন্নয়ন
০২। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব
০৩। ২০৪১ রুপকল্প
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী হিসেবে মূল্যায়ন করে পরিমার্জিত শিক্ষাক্রমের লক্ষ্য কতটুকু অর্জিত হবে সে প্রশ্ন থেকেই যায়।
নিবন্ধ – মাহফুয রহমান
শিক্ষাকর্মী এবং ভূতপূর্ব ব্যাংক কর্মকর্তা
