প্রাথমিক বিজ্ঞান (এসকে); অধ্যায়-০৭ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি - Proshikkhon

প্রাথমিক বিজ্ঞান (এসকে); অধ্যায়-০৭ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

অধ্যায়-০৭: বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি

সেশন-৭.১: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কী? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করুন।

) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্য বিজ্ঞানীরা কী কী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ধাপ অনুসরণ করে? ধাপসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করুন।

৩) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

৪) প্রযুক্তি কীভাবে বিজ্ঞানের জ্ঞানকে ব্যবহার করে?

১) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কী? বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সম্পর্ক উদাহরণ দিয়ে প্রমাণ করুন।

বিজ্ঞান:

বিজ্ঞান হল পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা থেকে প্রাপ্ত বা পরীক্ষালব্ধ তথ্যপ্রমাণ দ্বারা সমর্থিত জ্ঞান যার মাধ্যমে প্রকৃতি

ও প্রকৃতিতে ঘটা ঘটনাবলীকে ব্যাখ্যা করা যায়। আধুনিক বিজ্ঞানের ধারণা অনুযায়ী, বিজ্ঞান হচ্ছে সুনির্দিষ্ট যৌক্তিক ও প্রামাণ্য পদ্ধতি বা পদ্ধতি সমষ্টি, যা এই মহাবিশ্বের ও প্রকৃতির নিয়মাবলী, নীতিমালা ইত্যাদি অনুসন্ধান করে, উদ্ঘাটন করে, আবিষ্কার করে। প্রকৃতি ও মহাবিশ্ব কিভাবে কাজ করে, কিভাবে স্বতঃস্ফূর্তভাবে পরিচালিত হয়, সে নিয়মগুলো প্রামাণ্য উপায়ে উদ্ঘাটন করে মানুষের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার প্রক্রিয়াই বিজ্ঞান।

প্রযুক্তি:

প্রযুক্তি হচ্ছে বিজ্ঞানের ব্যবহারিক রূপ। বিজ্ঞানের আবিষ্কৃত তথ্যকে কাজে লাগিয়ে মানুষের নানাবিধ প্রয়োজন মেটানোর জন্য উদ্ভাবিত বিভিন্ন যন্ত্র, উপকরণ এবং ব্যবস্থাই হল প্রযুক্তি। মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে কিংবা জীবনকে সহজতর করার জন্য বিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবিত সকল সরঞ্জাম ও ব্যবস্থা প্রযুক্তির অন্তর্ভুক্ত।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরস্পর সম্পর্কযুক্ত:

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উদ্দেশ্য ভিন্ন হলেও তারা পরস্পর নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। এগুলোর একটিকে বাদ দিয়ে অন্যটির উন্নয়ন বা অগ্রগতি সম্ভব নয়। প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে যেমন বিজ্ঞানের নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করা সম্ভব, ঠিক তেমনি নতুন নতুন প্রযুক্তি আবিষ্কারের জন্যও দরকার বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের প্রয়োগ ও ব্যবহার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির পাশাপাশি পথচলাই আমাদের জীবনকে সহজ ও সুন্দর করে তুলেছে। প্রযুক্তি ছাড়া যেমন বিজ্ঞানকে ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয়, ঠিক তেমনি বিজ্ঞান ছাড়া প্রযুক্তির উদ্ভাবনও সম্ভব নয়।

তাই বলা যায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি পরস্পরের পরিপূরক।

২) বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের জন্য বিজ্ঞানীরা কী কী বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা ধাপ অনুসরণ করে? ধাপসমূহের ব্যাখ্যা প্রদান করুন।

চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার মধ্য দিয়ে আমরা প্রকৃতিক ঘটনা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে কৌতুহল বোধ করি। প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেন। যার মধ্যে নিম্নোক্ত ধাপসমূহ রয়েছে। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ৬টি ধাপ রয়েছে। ধাপগুলো হলো:

১. পর্যবেক্ষণ, ২. প্রশ্নকরণ, ৩. অনুমান, ৪. পরীক্ষণ, ৫. সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ৬. বিনিময়।

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ধাপসমূহের ব্যাখ্যা:

ধাপসমূহ ধাপসমূহের ব্যাখ্যা
পর্যবেক্ষণ আমাদের চারপাশের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করার মধ্য দিয়ে আমরা প্রাকৃতিক ঘটনা কিংবা নিজের পছন্দের কোনো বিষয় সম্পর্কে কৌতুহল বোধ করি।
প্রশ্নকরণ যখন আমরা কোনো কিছু দেখি, শুনি বা পড়ি আমাদের মনে এ সম্পর্কিত নানা প্রশ্ন আসতে পারে। এ সকল প্রশ্ন থেকে এমন একটি প্রশ্ন বেছে নেই যার উত্তর পর্যবেক্ষণ বা পরীক্ষণের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব।
অনুমান পূর্ব অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে প্রশ্নটির সম্ভাব্য উত্তর ঠিক করি এবং খাতায় লিখি। এটিই অনুমান।
পরীক্ষণ অনুমানটি সঠিক কি না তা যাচাই করার জন্য একটি পরীক্ষার পরিকল্পনা করি। পরীক্ষাটি করার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহ করি। পরীক্ষাটি সম্পাদন করি। তথ্য সংগ্রহ করে পরীক্ষার ফলাফল লিপিবদ্ধ করি।
সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করি এবং ফলাফলের সারসংক্ষেপ করি। ফলাফলটি অনুমানের সাথে মিলেছে কিনা তা যাচাই করি।
বিনিময় প্রাপ্ত ফলাফল ও সিদ্ধান্ত অন্যের সাথে বিনিময় করি।

৩) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য লিখুন।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য:

বিজ্ঞান প্রযুক্তি
১. বিজ্ঞান হলো প্রযুক্তি-সম্পর্কিত জ্ঞান। বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে প্রাকৃতিক ঘটনাকে ব্যাখ্যা এবং বর্ণনা করে। ১. প্রযুক্তি হলো আমাদের জীবনের বাস্তব সমস্যা সমাধানের জন্য বিজ্ঞানের জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ।
২. প্রযুক্তিকে তৈরিতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রয়োগ করা হয়। যেমন- বিজ্ঞানীরা মহাকাশ নিয়ে গবেষণা করে এ সম্পর্কে আমাদের ধারণা বা জ্ঞান সৃষ্টি করেছেন। ২. বৈজ্ঞানিক জ্ঞানকে আমাদের জীবনের মানোন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি যেমন- রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, মোবাইল ফোন এবং বৈদ্যুতিক বাতি উদ্ভাবনে কাজে লাগানো হয়।
৩. বর্তমান সময়ে প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বিজ্ঞান বিরাট ভুমিকা রাখছে। কারণ প্রকৃতি সম্পর্কে জানলে প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ বা পরিবর্তন করা সহজ হয়ে যায়। ৩. প্রাচীনকালে প্রযুক্তি উদ্ভাবিত হয়েছে বিজ্ঞানের তেমন জ্ঞান অর্জন না করেই। যেমন- মানুষ দেখেছে পাথরকে ঘষলে তা ধারালো হয়, সেটি দিয়ে কোনো কিছু কাটা যায়। এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের জ্ঞান দরকার হয়নি।

৪) প্রযুক্তি কীভাবে বিজ্ঞানের জ্ঞানকে ব্যবহার করে?

প্রযুক্তি বিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষের জীবন মান উন্নয়নে বিভিন্ন পণ্য, যন্ত্রপাতি এবং পদ্ধতির উদ্ভাবন করে। যেমন- বিজ্ঞানীরা বিদ্যুৎ, মহাকাশ, সমুদ্র ইত্যাদি নিয়ে গবেষণা করে এ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞান সৃষ্টি করেন।  এই বৈজ্ঞানিক জ্ঞাননির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিভি, ফ্রিজ, ফ্যান, ইন্টারনেট ইত্যাদি যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!