প্রাথমিক গণিত (পিকে); অধ্যায়-৫ আবিষ্কার পদ্ধতি - Proshikkhon

প্রাথমিক গণিত (পিকে); অধ্যায়-৫ আবিষ্কার পদ্ধতি

অধ্যায়-০৫: গণিত শিক্ষাদান পদ্ধতি

পাঠ-৫.২: আবিষ্কার পদ্ধতি (Heuristic Method)

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

১. আবিষ্কার পদ্ধতি উদাহরনসহ ব্যাখ্যা করুন।

২. গণিত শিক্ষাদানে আবিষ্কার পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করুন।

১. আবিষ্কার পদ্ধতি কাকে বলে?

আবিষ্কার বা Heuristic কথাটি এসেছে গ্রীক শব্দ থেকে। শব্দটির অর্থ হল আমি আবিষ্কার করি (I find out)। এই কথাটির মধ্যেই আবিষ্কার পদ্ধতির অর্থ নিহিত রয়েছে। যে কোন কার্যকর পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেরা আবিষ্কার করে বলেই এই পদ্ধতিকে আবিষ্কার পদ্ধতি বলা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীদের নিজেদের সমাধান খুঁজে বের করতে দেওয়া হয় এবং শিক্ষার্থীকে এ কাজে নিয়োজিত থেকে তথ্য সংগ্রহ করা, সমস্যা সমাধানের জন্য হাইপোথেসিস নির্ধারণ করতে হয়।

আবিষ্কার পদ্ধতির প্রধান বৈশিষ্ট্য হল শিক্ষার্থীকে কোন কিছু বলে দেওয়া হবে না, সে নিজে তার প্রতি ও আগ্রহ অনুযায়ী সমস্যা নির্বাচন করবে ও তার সমাধান করবে। তবে শিক্ষকও নিষ্ক্রিয় থাকবেন না বরং তিনি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে এমন একটি সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করবেন যাতে শিক্ষার্থীরা  নিজেরাই স্বতঃস্ফুর্তভাবে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে উৎসাহিত হবে, উপযুক্ত নিয়ম ও সূত্র ব্যবহার করে সমস্যা সমাধান করবে।

এই পদ্ধতি বেশ সময় সাপেক্ষ বলে বর্তমানে এই পদ্ধতির কিছুটা সংশোধন করে নির্দেশ অনুসারে আবিষ্কার  পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়।

২. গণিত শিক্ষাদানে আবিষ্কার পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা আলোচনা করুন।

আবিষ্কার পদ্ধতির সুবিধাঃ

১. আবিষ্কার পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা নিজেরা আবিষ্কারক হিসাবে স্বাধীনভাবে চিন্তা করার মাধ্যমে চিন্তার বিকাশ ঘটানোর সুযোগ পায়।

২. হাতে কলমে কাজ করে বলে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করার ফলে কাজের প্রতি আগ্রহ জন্মায়।

৩. আত্মনির্ভরশীলতার মনোভাব গঠন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, মনোযোগ বৃদ্ধি এবং শিখন স্থায়ী হয়।

৪. শিক্ষার্থীরা প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার মাধ্যমে আনন্দদায়ক পরিবেশে শেখার ফলে পাঠ্য বিষয় সহজেই মনে রাখতে সক্ষম হয়।

৫. নিজের গতিতে ভুল ও সংশোধনের মাধ্যমে শেখে তাই বিষয়বস্তুর গভীরতা উপলব্ধি করতে পারে।

৬. পারস্পারিক সহযোগিতায় শ্রেণিকক্ষে কাজ চলে বলে তাদের মাঝে একটা হৃদ্যতা গড়ে ওঠে ফলে সামাজিক গুণাবলী বিকশিত হয়।

৭. দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানে আত্মপ্রত্যয়ী হয়।

আবিষ্কার পদ্ধতির অসুবিধাঃ

১. এই পদ্ধতির বড় অসুবিধা হল তাত্ত্বিক দিক থেকে এটা সম্ভব হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা খুব বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়।

২. ঠিকমত অনুসরণ করতে না পারলে এই পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা কিছু শিখতে পারে না ফলে হতাশ হয়ে পড়তে পারে।

৩. শিক্ষার্থীর শিখন ভিন্নতার কারণে সাধারণ শ্রেণিকক্ষে এ পদ্ধতি অনুসরণ করা যায় না।

৪. অত্যন্ত দক্ষ ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষকের প্রয়োজন হয়।

৫. এই পদ্ধতি ঠিকমত অনুসরণ করতে না পারলে শিখতে তো পারবেই না বরং সময়ের অপচয় ঘটে।

৬. এই পদ্ধতি অত্যন্ত ব্যয় বহুল। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর জন্য অনেক উপকরণ ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!