প্রাথমিক গণিত (পিকে); অধ্যায়-৬ গণিত শিক্ষায় আইসিটি - Proshikkhon

প্রাথমিক গণিত (পিকে); অধ্যায়-৬ গণিত শিক্ষায় আইসিটি

অধ্যায়-০৬: গণিত শিক্ষোপকরণ

পাঠ-৬.২: গণিত শিক্ষায় আইসিটির ব্যবহার

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

১. গণিত শিক্ষায় ডিজিটাল কনটেন্ট এর ধারণা ব্যাখ্যা করুন। গণিত বিষয় শিক্ষাদানে ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করুন।

২. ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে কী কী উপকরণ প্রয়োজন হয়?

৩. একটি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ লিখুন।

৪. ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবহারের বিবেচ্য দিকগুলো বর্ণনা করুন।

৫. গণিত বিষয় পাঠদানে আইসিটির সীমাবদ্ধতা লিখুন।

১. গণিত শিক্ষায় ডিজিটাল কনটেন্ট এর ধারণা ব্যাখ্যা করুন। গণিত বিষয় শিক্ষাদানে ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করুন।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আইসিটি তথা প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। কেননা  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) ব্যবহারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রমে ডিজিটাল কনটেন্ট প্রদর্শন করে গণিত শিক্ষায় সহজেই শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করা যায়। ডিজিটাল কনটেন্ট হলো কম্পিউটার ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করে পাওয়ারপয়েন্ট স্লাইড ব্যবহারের মাধ্যমে আকর্ষণীয় ও কার্যকরভাবে পাঠ উপস্থাপন।

ডিজিটাল কনটেন্টের মাধ্যমে প্রচলিত শিক্ষা উপকরণের পাশাপাশি আইসিটি উপকরণের সমন্বয় করে পরিকল্পিতভাবে পাঠ উপস্থাপন করা যায়। মূলত: এটি অন্যান্য উপকরণের মতোই ডিজিটাল উপকরণ। এতে থাকে শিক্ষার্থীরা কী করবে তার নির্দেশনা; থাকে বিষয়কে সহজে উপস্থাপনের জন্য টেক্সট, চিত্র, এনিমেশন, ভিডিও ও অডিও। ডিজিটাল কনটেন্ট শিক্ষকের বিকল্প নয়; এটি শিখন-শেখানো কাজে শিক্ষকের সহায়ক মাত্র।

ডিজিটাল কনটেন্টের প্রয়োজনীয়তা:

  • গণিত বিষয় সংশ্লিষ্ট শিক্ষণীয় বিভিন্ন বিষয়বস্তুকে শিক্ষার্থীদের নিকট আরও বোধগম্য, মূর্ত ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায়।
  • পাঠদান কার্যক্রমকে প্রাণবন্ত এবং ফলপ্রসূ করা যায়।
  • বিমূর্ত বিষয়গুলোকে মূর্ত করে তোলা যায়।
  • বাস্তব চিত্র/ভিডিও দেখিয়ে এবং এনিমেশন ব্যবহার করে কঠিন বিষয়বস্তুকে সহজবোধ্য করা যায়।
  • প্রয়োজনীয় তথ্য, গ্রাফ, চিত্র খুব সহজে ব্যবহার করা যায় ফলে স্বল্প ও দ্রুততম সময়ে একক/জোড়ায়/দলীয় কাজ প্রদান করা যায়।
  • interactive ও collaborative শ্রেণি পরিবেশ তৈরি করা যায়।
  • অমনোযোগী ও পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মনোযোগী করে তোলা যায়।
  • বড় শ্রেণিকক্ষকে সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
  • একঘেয়েমী দূর করা যায়।
  • একসঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীকে আকর্ষণীয়ভাবে মূল্যায়ন করা যায়।

২. ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরিতে কী কী উপকরণ প্রয়োজন হয়?

ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ:

  • কম্পিউটার/ল্যাপটপ
  • ইন্টারনেট সংযোগ যেমন- ওয়াইফাই অথবা মোবাইল ডাটা,
  • ভিডিও/অডিও ডাউনলোড সফ্‌টওয়্যার যেমন- Atube catcher
  • মাল্টিমিডিয়া প্লেয়ার, Windows Media Player, VLC media player ইত্যাদি,
  • ইন্টারনেট ব্রাউজার যেমন- Mozilla firefox, Google Chrome ইত্যাদি।

. একটি ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ লিখুন।

ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ধাপ:

ধাপ ১- কম্পিউটার বা ল্যাপটপে একটি ফোল্ডার খোলা,

ধাপ ২- এম এস পাওয়ার পয়েন্ট ফাইল খুলে ফোল্ডারে সেভ করা,

ধাপ ৩- প্রয়োজনীয় স্লাইড সংযোজন করা,

ধাপ ৪- স্লাইডে প্রয়োজনীয় টেক্সট লেখা,

ধাপ ৪- প্রয়োজনীয় শেপ আনা/ইনসার্ট করা,

ধাপ ৫- ইন্টারনেট থেকে চিত্র ডাউনলোড করা,

ধাপ ৬- চিত্র স্লাইডে নিয়ে আসা,

ধাপ ৭- ভিডিও ডাউনলোড করা,

ধাপ ৮- ভিডিও স্লাইডে সংযুক্ত করা,

ধাপ ৯- স্লাইড এনিমেশন দেয়া,

ধাপ ১০- সেভ করা।

. ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ব্যবহারে বিবেচ্য দিকগুলো বর্ণনা করুন।

ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির বিবেচ্য:

  • ছবি/ভিডিও অবশ্যই বিষয় সংশ্লিষ্ট ও শিখনফলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
  • শিক্ষার্থীদের জীবন ঘনিষ্ঠ বা পরিচিত পরিবেশ প্রদর্শন করে এমন ছবি/ভিডিও হতে হবে।
  • রাষ্ট্রীয় আদর্শ, মূলনীতি, সামাজিক মূল্যবোধ, রীতি-নীতি, ধর্মীয়, রাজনৈতিক চেতনার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।
  • অপ্রয়োজনীয় ভিডিও/ছবি/অ্যানিমেশন ব্যবহার পরিহার করতে হবে।
  • পরিমিত এনিমেশন/ভিডিও/অডিও/চিত্র নির্বাচন করতে হবে।
  • উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী উপাদান (ছবি, ভিডিও, শব্দ/স্বর) টেক্সটের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি থাকতে হবে ।
  • ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা /হালকা রঙের রাখা ভাল তবে বিভিন্ন কালার ব্যবহার করলে সামঞ্জস্য রাখতে হবে। অহেতুক চাকচিক্য পরিহার করতে হবে।
  • টেক্সট-এর রঙ কালো/গাঢ় নীল রঙের হলে ভাল।
  • পেছনের বেঞ্চের শিক্ষার্থীরাও যাতে দেখতে পারে এরকম ফন্ট সাইজ নিতে হবে (৩৬+)
  • একটি স্লাইডে সাধারণত ৬ লাইনের বেশি লেখা পরিহার করতে হবে।
  • শিক্ষার্থীদের বয়স উপযোগী হবে।
  • শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধিৎসু করার মতো হবে।

. গণিত বিষয় পাঠদানে আইসিটির সীমাবদ্ধতা লিখুন।

গণিত বিষয় পাঠদানে আইসিটির সীমাবদ্ধতা :

১. ডিজিটাল শ্রেণিকক্ষের স্বল্পতা।

২. ইন্টারনেটের ধীরগতি ও উচ্চমূল্য বা সহজলভ্যতা।

৩. আইসিটি জ্ঞান প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক স্বল্পতা।

৪. পেডাগজির সাথে আইসিটির সমন্বয় ঘটাতে না পারা।

৫. ডিজিটাল কনটেন্ট এর উপর অধিক নির্ভরতা বা এর অতি ব্যবহার।

৬. ল্যাপটপ বা ডিজিটাল ডিভাইসের অপ্রতুলতায় (শিক্ষকদের নিজস্ব ডিভাইস না থাকা) নিয়মিত প্রযুক্তি ব্যবহার না থাকায় প্রযুক্তি ভীতি,

৭. কিছুক্ষেত্রে শিক্ষকদের ইতিবাচক মনোভাব না থাকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!