অধ্যায়-৫: বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় শিখন-শেখানো পরিকল্পনা
১। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের শিখন-শেখানাে পরিকল্পনা প্রণয়নে আপনি কোন কোন বিষয় বিবেচনা করবেন তা আলোচনা করুন।
অথবা, পাঠ পরিকল্পনার প্রধান বিবেচ্য বিষয় সমূহ কী কী?
অথবা, একটি পাঠ পরিকল্পনা তৈরির সময় কী কী অপরিহার্য বিষয় বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন?
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের বিবেচ্য দিক :
পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিক বিবেচনা করা আবশ্যক। সাধারণত এক বিষয়ের শিখন-শেখানাে কার্যাবলি অন্য বিষয় থেকে ভিন্ন হয়ে থাকে। তদ্রুপ বিজ্ঞান বিষয়ের শিখন শেখানাে কার্যাবলি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় থেকে আলাদা। এ কারণে পাঠ পরিকল্পনায় পাঠ উপস্থাপন পর্বে অন্তর্ভূক্ত বিভিন্ন কার্যক্রম ভিন্ন হয়ে থাকে, যদিও পাঠ পকিল্পনার কাঠামােগত তেমন কোন পার্থক্য থাকে না। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের বিশেষ কিছু শিখন শেখানাে পদ্ধতি ও কৌশল, শিক্ষোপকরণ ইত্যাদির কারণে-পাঠ পরিকল্পনা প্রস্তুত করার সময় কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। যথা :
১) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে যথাযথ শিখন অর্জন করার সুযোগ :
শিক্ষার্থীর চিন্তা বা ধারণা প্রকাশের ক্ষেত্রে উৎসাহ প্রধান করা প্রয়ােজন। শিখন-শেখানাে কার্যক্রমে শিক্ষার্থীর চিন্তা বা ধারণা প্রকাশের সুযােগ রাখতে হবে। বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ের শিখন-শিক্ষণ কার্যক্রমে নিম্নলিখিত কৌশল সমূহ প্রয়ােগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যথাযথ শিখন সম্ভব।
ক) শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ প্রদান ও তাদের মতামত প্রকাশের সুযােগ রাখা :
শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইস্যুতে মতামত প্রধানে উৎসাহ প্রদান করলে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পারগতার স্তর সম্পর্কে অবগত হয়ে সেই অনুযাী পনক্ষেপ নিতে পারেন।এতে শিক্ষার্থীদের আত্নবিশ্বাস বুদ্ধি পায় এবং শিখতে আগ্রহী হয়। এর ফলে তাদের শিখন প্রক্রিয়া অর্থপূর্ণ ও জোরদার হয়।
খ) শিক্ষার্থীদেরকে ডায়ালগ /বিতর্ক করার সুযোগ প্রদান করা :
শিক্ষার্থীর বােঝার ক্ষমতাকে বিকশিত করার জন্য শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ইস্যুতে ডায়ালগ/বিতর্কের আয়ােজন করা যায়। শিক্ষার্থী যত বেশি আলোচনায় অংশগ্রহণ করবে তত বেশি তার মধ্যে জানার আকাঙ্ক্ষা তৈরি হবে এবং তত বেশি চ্যালেঞ্জ গ্রহণে সংকল্পবদ্ধ হবে।
গ) শিক্ষার্থীদেরকে চিন্তামুলক ও উন্মুক্ত প্রশ্ন করতে উৎসাহ দান করা :
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের চিন্তামূলক উন্মুক্ত প্রশ্ন করার সুযােগ দেয়া প্রয়ােজন। একজন শিক্ষার্থীর মতামতের ওপর অন্য শিক্ষার্থীদের অতিমত নেয়াও অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রণিকক্ষে নির্দিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন করতে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
ঘ) প্রাথমিক ধারণার বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদানের সুযােগ দেয়া :
শ্রেণিকক্ষে কোন শিক্ষার্থী কোন ধারণার অবতারণা করলে ত বিস্তারিত ব্যাখ্যা নিতে হবে। সে ক্ষেত্রে অন্য শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা দিতে হবে।
ঙ) অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করা :
শিক্ষার্থীরা দৈনন্দিন জীবনে নানা অভিজ্ঞতার মুখােমুখি হয়। সেগুলাে শিখন-শেখানাে কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা বিনিময় করার সুযােগ রাখতে হবে। পাঠ পরিকল্পনায় পূর্বে জানা বিষয় বলার বা অভিজ্ঞতা বিনিময় করার সুযােগ প্রদান করতে হবে।
২ . মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা :
সামাজিক মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে শিশুর উচ্চতর জ্ঞান স্তরের উন্নয়ন বা বিকাশ সাধিত হয়। সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিবেশ এর সাথে মিথস্ক্রিয়ার ফলে শিশু সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি নীতি এবং আচার আচরণ সম্পর্কে অবগত হয় ও সেগুলাের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে ওঠে। এভাবে সে সামাজিক মানুষে পরিণত হয় এবং সমাজের একজন সদস্য হিসাবে প্রতিষ্ঠা পায়। শিশুর বিকাশের জন্য পাঠ পরিকল্পনা করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীর মধ্যে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি, লিঙ্গ বা ভাষার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কোন ধরনের বিভাজন না করে এবং সমাজে বসবাসরত সকল ধরনের জনগােষ্ঠির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সমন্বিতভাবে উপস্থাপন করা উচিত।
৩. শ্রেণিকক্ষের বাইরের পরিবেশের সাথে মিথষ্ক্রিয়ার সুযােগ রাখা :
শিশু তার পরিবেশের সাথে মিথষ্ক্রিয়ার মাধ্যমে শেখে ও তার আচরণের পরিবর্তন হয়। শিশুর বিকাশের ক্ষেত্রে পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক স্তরে ছোট শিশুদের শিখন প্রক্রিয়াকে আরাে বেশি কার্যকর করার লক্ষ্যে পাঠ্য বইয়ের বিষয়বস্তুর সাথে সংগতি রেখে শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিতে হবে।
৪. সামাজিক শিখনের সুযােগ :
সামাজিক প্রেক্ষিতই শিখনের অনুঘটক। মানুষ একে অপরের নিকট হতে শিখে। মূলত পর্যবেক্ষণ,অনুকরণ ও মডেলিং এর মাধ্যমে একে অপরের নিকট হতে শিখতে পারে। মানুষ অনেক সময় অন্যের দ্বারা প্রভাবিত হয় এবংতাকে আদর্শ মেনে অনেক কিছু শেখে। মাজিক শিখনের সুযােগ সৃষ্টি করার জন্য বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় বিষয়ে পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নে নিশ্লোক্ত বিষয় বিবেচনা তে হবে।
ক) পর্যবেক্ষণের সুযােগ সৃষ্টি :
শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণের সুযােগ রাখতে হবে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের একে অপরের আচরণ পর্যবেক্ষণেৱ পরিবেশও তৈরি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের বাইরে নিয়ে বিভিন্ন বিষয় পর্যবেক্ষণ করাতে পারেন; শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন দলীয় ও ব্যক্তিগত কাজ প্রদান করতে পারেন এবং প্রত্যেকটি দল বা ব্যক্তির কাজ উপস্থাপন করার জন্য সময় নির্ধারণ করে দিতে পারেন।
খ) মডেল হিসেবে উপস্থাপন :
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়ের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বাস্তব ধারণা প্রদান করার জন্য মডেল হিসেবে সমাজের বিভিন্ন ধরনের ব্যক্তিকে শ্রেণিকক্ষে এনে তাদের নিকট থেকে সরাসরি জানার সুযােগ সৃষ্টি করতে হবে। ঐ সমস্ত প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গের জীবনী, তাঁরা কীভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠা পেলেন ইত্যাদি বিষয় আলােচনা করার মাধ্যমে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয়ে (যেমন নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য ইত্যাদি) আগ্রহী করে তুলতে পারেন। মূলত কীভাবে এ সমস্ত প্রথিতযশা ব্যক্তিবর্গ রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য প্রদান করেন এবং জাতীয় উন্নয়নে অবদান রেখেছেন তার একটি চিত্র শিক্ষার্থীর কাছে উপস্থাপন করবেন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর মধ্যেও আচরণিক পরিবর্তন ঘটানাে সম্ভব।
গ) বাস্তবভিত্তিক আলোচনার সূত্রপাত :
শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক সমাজে ঘটে যাওয়া সমসাময়িক ঘটনাকে পাঠের সাথে সম্পৃক্ত করে উপস্থাপন করতে পারেন। সমাজে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ইস্যু আলােচনা করা এবং তার সাথে শ্রেণিকক্ষের আলােচিত নির্ধারিত পাঠ্যসূচিকে সম্পৃক্ত করলে শিক্ষার্থীরা তাদের আত্মবিশ্বাস, আত্মবিশ্লেষণ ও দক্ষতা বাড়াতে সক্ষম হবে।
৫ .বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ :
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় শিখন-শেখানাে কার্যক্রমে বেশ কিছু পদ্ধতি এবং কৌশল অবলম্বন করা হয়।
৬. বাংলাদেশ বিশ্বপরিচয় বিষয়ের শিক্ষোপকরণ :
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয় শিখন-শেখানাে কার্যক্রমে কতিপয় শিক্ষোপকরণ ব্যবহার অধিকতর ফলপ্রসূ এবং যুক্তিসংগত। যেমন-বাস্তব গাছ-পালা, লতা-পাতা, ফল-ফুল, বিভিন্ন ছবি, চিত্র, চার্ট, মানচিত্র, গ্লোব, মডেল, ভিডিও প্রভৃতি শিক্ষোপকরণের ব্যবহার অধিক কার্যকরী। এ বিষয়ের পাঠপরিকল্পনা প্রণয়নের সময় শিখন-শেখানাে কার্যক্রম অধিক আকর্ষণীয় এবং কার্যকর করার জন্য উল্লেখিত শিক্ষাপণের মধ্য থেকে পাঠের সাথে সম্পর্কিত ও উপযুক্ত উপকরণটি শিক্ষককে বেছে নিতে হবে।
২। পাঠ পরিকল্পনা বলতে কী বুঝেন বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নে আপনি কী কোনো ধাপ অনুসরণ করেন? যদি করেন তবে সেগুলো আলোচনা করুন।
অথবা, পাঠ পরিকল্পনা কী? পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নে ধাপ অনুসরণের প্রয়োজন আছে কী? বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের আলোকে আপনার মতামত ব্যক্ত করুন।
অথবা, পাঠ পরিকল্পনার ধাপসমূহ বর্ণনা করুন।
পাঠ পরিকল্পনা ও শিখন-শেখানোর জন্য শিক্ষকের বিদ্যালয়ের পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জল্যপূর্ণ বাৎসরিক, যান্মাসিক ,পাক্ষিক,বা টার্মভিত্তিক পরিকল্পনা থাকা প্রয়ােজন। এ পরিকল্পনার আওতায় শিক্ষক একটি পাঠ বা অধ্যায় শিখন-শেখানাের পরিকল্পনা করবেন ।একটি পাঠ বা অধ্যায়ের বিষয়বস্তু শিখন-শেখানাের জন্য শিক্ষকের এক বা একাধিক ক্লাস লাগতে পারে। বিদ্যালয়ের ক্লাস রুটিন অনুসরণ করে শিক্ষকের প্রাত্যহিক শিখন-শেখানাের মধ্য নিয়ে এসব পাঠ বা অধ্যায়ের শিখন সম্পন্ন হয়। শিক্ষকের এই প্রাত্যহিক শিখন-শেখানাের সার্বিক কার্যক্রমের রূপরেখাই হলাে পাঠ পরিকল্পনা।
পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের ধাপ :
পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের কাঠামােগত কোনাে ধরাবাঁধা রূপ নেই। তবে এটাও ঠিক যে, শিখন শেখানাে কাজটি সম্পূর্ণরূপে শিক্ষকের ইচ্ছা বা খেয়ালের উপর নির্ভর করে না। পাঠ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে শিক্ষককে অবশ্যই একটি যৌক্তিক ধারাক্রম অনুসরণ করতে হবে। ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যপুত্তককে কতগুলাে অধ্যায়ে ভাগ করে একেকটি অধ্যায়কে আবার কয়েকটি বিষয়বস্তুতে বিভাজন করা হয়েছে। প্রতিটি বিষয়বস্তুকে কীভাবে ২টি পাঠে বিভাজন করে এ উপস্থাপন করতে হবে তা পাঠ্যপুস্তকে নির্দেশনায় ও শিক্ষক সংস্করণে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা আছে। প্রতিটি পাঠ থেকে শিক্ষার্ণীরা কী শিখনফল অর্জন করবে, শিখনফল অর্জনের জন্য কতটুতু বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হবে, শিক্ষার্থীরা কীভাবে শ্রেণিকাজে অংশগ্রহণ করবে শিক্ষকের ভূমিকা কী হবে, কত সময় ধরে শ্রেণি কার্যক্রম চলবে, কী উপকরণ ব্যবহৃত হবে এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিখন মূল্যায়ন করা হবে ইত্যাদি শিক্ষক সংস্কণে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করা হয়েছে।
শিক্ষক সংস্করণে একটি পাঠের শুরুতেই পাঠ শিরােনাম রয়েছে। সাবারণত একজন শিক্ষকের নিজস্ব পাঠ পরিকল্পনায় প্রথমে পরিচিতিমূলক তথ্যসমূহ অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের নাম, শিক্ষকের নাম, বিষয়, শ্রেণি, শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, সময় ও তারিখ উল্লেখ থাকে। শিক্ষক সংস্করণ যেহেতু সকল শিক্ষকের জন্য তৈরি সেহেতু এখানে এ সকল তথ্য দেওয়া হয়নি। যাই হােক, পাঠ শিরােনামের পরে রয়েছে শিখনফল; এই শিখনফলসমূহ নির্বাচন করা হয়েছে শিক্ষাক্রম থেকে। শিখনফলের পরেই দেওয়া হয়েছে পাঠ পরিচালনায় কী কী উপকরণ দরকার হবে তার তালিকা। উপকরণের পরে আছে শিখন-শেখানাে কার্যাবলির বিস্তারিত বিবরণ। শিখন শেখানে কার্যাবলির শুরুতেই শিক্ষক পূর্বপাঠের আলােচনা থেকে বর্তমানের পাঠে এসেছেন। তবে শিক্ষার্থীদের পাঠের জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে শিখন পরিবেশ তৈরি করে শিক্ষক পাঠসংশ্লিষ্ট কোন ঘটনা, শিক্ষার্থীদের পূর্ব অভিজ্ঞতা, সংশ্লিষ্ট উপকরণ উপস্থাপন করে কিংবা শিক্ষার্থীদের পূর্বজ্ঞান যাচাইয়ের মাধ্যমে তার সাথে সম্পর্কিত করেও আজকের পাঠে নিয়ে যেতে পারেন।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের একটি পাঠের পাঠ পরিকল্পনায় নিচের উপাদানগুলাে থাকা গুরুত্বপূর্ণ:
ক. পাঠ পরিচিতিমূলক তথ্য (শিক্ষক সংস্করণে নেই তবে শিক্ষকের নিজস্ব পাঠ পরিকল্পনায় থাকা দরকার)
খ. পাঠ শিরােনাম
গ. শিখনফল
ঘ. উপকরণ
৬. শিখন-শেখানাে কার্যাবলি (এখানে উল্লেখ থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর করণীয়)
- শিক্ষার্থীদের পাঠের জন্য প্রস্ততকরণ/প্রেষণা সঞ্চার ও আজকের পাঠের সাথে সংযােগ স্থাপন
- শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে পাঠের মূল তথ্য উপস্থাপন
- বিষয়বস্তু পঠন (শিক্ষক বা শিক্ষার্থী কর্তৃক) ও পাঠ চলাকালে মূল্যায়ন
- শিক্ষার্থীদের কাজ
মূল্যায়ন ও পর্যলােচনা (পরবর্তী পাঠের ব্যাপারে নির্দেশনাও থাকতে পারে) ঠিক একইভাবে এই বিষয়বস্তুর ২য় পাঠ এসাে লিখি, আরও কিছু করি ও যাচাই করি অংশের পাঠ পরিকল্পনা কীভাবে হবে এবং কীভাবে শ্রেণিকক্ষে পরিচালিত হবে শিক্ষক সংস্করণে তা উল্লেখ আছে। এক্ষেত্রে বিশেষভাবে মনে রাখা প্রয়ােজন যে একটি গাইডলাইন। এ গাইডলাইন অনুসরণ করে শিক্ষক কর্তৃক অধিত আরও নানা পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করে পাঠ পরিচালনা করবেন। এ বিষয়টিও বিশেষ গুরত্বপূর্ণ যে, পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাঠগত অবস্থানের ভিন্নতাকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
শিক্ষক সংস্করণে পাঠের বিষয়বস্তুর আলোকে শিখন শেখানাে কার্যাবলি বিশ্লেষণ করে একটি কাঠামাে চিহ্নিত হয়েছে। উক্ত কাঠামাে অনুসরণ করে এবং শিক্ষক সংস্করণের শিখন-শেখানাে কার্যাবলিকে ভিত্তি করে নমুনা পাঠ পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কিছু সংশ্লিষ্ট প্রশ্ন, উপকরণ ও কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
উপরিউক্ত আলােচনা শেষে এ কথা বলা যায় যে, পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়নের কোনাে কাঠামােগত ধরাবাধা রূপরেখা না থাকলেও এক্ষেত্রে কিছু রীতি বা ধাপ অনুসরণ করতে হয়।
৩। পাঠ পরিকল্পনার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করুন।
অথবা, সুষ্ঠু শিখন শেখানাে কার্যাবলির পরিচালনায় পাঠ পরিকল্পনার গুরুত্ব লিপিবদ্ধ করুন।
শিক্ষণ-শেখানাে কার্যক্রমকে পরিচালনার জন্য পাঠ পরিকল্পনার গুরুত্ব অপরিহার্য। নিচে পাঠ পরিকল্পনার গুরুত্ব দেয়া হলো :
১. পাঠের বিষয় সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানা যায় ।
২. নির্দিষ্ট পাঠে শিক্ষার্থী কী শিখনফল অর্জন করবে তা পূর্বেই নির্ধারণ করতে পারেন।
৩. শিখনফল অর্জন করার জন্য শিক্ষক কী ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করবেন তা পূর্বেই নির্ধারণ করা যায় ।
৪. ক্লাসে শিক্ষক কী পদ্ধতিতে শিখনফল শেখাবেন তা পূর্বেই নির্ধারণ ও ব্যবহার করা যায়।
৫. শিখন-শেখানাে কার্যক্রমকে ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়।
৬. সময়ভিত্তিক পাঠ শেষ করা যায়।
৭. সফল শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়।
৮. উপকরণ সংগ্রহ, তৈরি ও ব্যবহার করা যায়।
৯. পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাময়মূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।
১০. পূর্ব থেকেই ছাত্র/ছাত্রীরা তাদের পাঠের বিষয় জানতে পারে ।
৪। পাঠ পরিকল্পনা উপস্থাপনের ধাপ বর্ণনা করুন।
অথবা, পাঠপরিকল্পনা তৈরির সময় কী কী বিষয়ের প্রতি লক্ষ রাখা প্রয়ােজন?
অথবা, পাঠ পরিকল্পনার লক্ষণীয় দিকসমূহ কী কী? এর ধাপসমূহ উল্লেখ করুন।
উপস্থাপনের ধাপ :
১. শিক্ষার্থীদের ৪টি দলে বিভক্ত করব। প্রত্যেক দলকে তাদের দেখা পরিবেশ দূষণের কিছু কারণ লিখতে দেব। প্রত্যেক দল থেকে একজন শিক্ষার্থী সে সকল কারণ উপস্থাপন করবে। অন্য দলের শিক্ষার্থীরা মতামত দেবে।
২. বাস্তব ছবি ও প্রজেক্টরে/মাল্টিমিডিয়ায় প্রদর্শন করে আজকের পাঠ উপস্থাপন করব। বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের অনুধাবনের জন্য প্রয়ােজনীয় ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করব। ব্যাখ্যা বিশ্লেষণে বাস্তব উদাহরণ দেব এবং সাদৃশ্য-বৈসাদৃশ্য, রূপক, প্রদর্শন, প্রশ্নকরণ শিক্ষোপকরণ, পরিমিতি ও শালীন রসিকতা ইত্যাদি ব্যবহার করব।
৩. বিশেষ বৈশিষ্ট্যের শিক্ষার্থীসহ সকল শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে কাজ সম্পাদন করব।
৪. সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তরের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি যাচাই করব। বিশেষ বৈশিষ্ট্যের শিক্ষার্থীসহ অন্যদের ধারণা অস্পষ্ট থাকলে পুনরায় আলােচনা করব ও প্রয়ােজনীয় ব্যাখ্যা দেব।
৫. পাঠের সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করব।
৫। দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা ও পাক্ষিক পাঠ পরিকল্পনার সম্পর্ক বর্ণনা করুন।
যে কোনাে কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য কার্যকর পরিকল্পনার প্রয়ােজন হয়। পাঠদান মূলত একটি জটিল কাজ। তাই শ্রেণিতে শিখন-শেখানাে কার্যক্রম সুষ্ঠ ও ফলদায়কভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে প্রতিদিনের জন্য পাঠ পরিকল্পনার গুরুত্ব অনস্কীকার্য। পাক্ষিক পাঠ পরিকল্পনার ভিত্তিতে দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, বিষয় ও বিষয়বস্তুর প্রকৃতি শ্রেণিঘণ্টা, শিক্ষার্থীকে কতটা সময় দেয়া হবে তা একটি কার্যকর পাঠ পরিকল্পনায় বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই শ্রেণিকক্ষে শিখন শেখানাে কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সার্থকভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে দৈনিক পাঠ পরিকল্পা প্রণয়নের প্রয়ােজনীয়তা অনস্বীকার্য। শিক্ষার্থীর শিখন চাহিদার স্তর অনুযায়ী শিখন-শেখানাে কাজ পরিচালনা করা একজন শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ করণীয়। এজন্য একজন শিক্ষককে একট নির্দিষ্ট মেয়াদি কাজের পরিকল্পনা করতে হবে। শিক্ষার্থীর শিখন চাহিদার স্তর অনুযায়ী ১৫ দিনের জন্য নির্ধারিত পাঠসমূহের ভিত্তিতে কাজ ও উপকরণ নির্ধারণ করে পাক্ষিক পাঠ পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনায় উল্লেখিত যােগ্যতা/শিখনফলের ভিত্তিতে পাক্ষিক মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী পাক্ষিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়। পাক্ষিক পাঠ পরিকল্পনা থেকেই দৈনিক পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয় এবং ১৫ দিন পর এ দু’টি পরিকল্পনার সমন্বয় করা হয়ে থাকে।
৬। বেসলাইন মূল্যায়ন কী? কখন ও কীভাবে বেসলাইন মূল্যায়ন করবেন ।
কোনাে বিষয়ের উদ্দেশ্যাবলির কতটুকু শিক্ষার্থীরা আয়ত্ত করতে পেরেছে তা নিরূপণের জন্য নিরবিচ্ছিন্নভাবে শিক্ষার্থী সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, বিচার-বিশ্লেষণ ও প্রাপ্ত ফলাফলের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে বেসলাইন মূল্যায়ন বলা হয়। শিক্ষার্থীর মূল্যায়নে উদ্দেশ্যে মূল্যায়নের পূর্বে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে শিশুদের সাথে মতবিনিময় করে ভীতিহীন পরিবেশ সৃষ্টি করবেন। শিক্ষক একজন একজন করে শিক্ষার্থীকে কাছে এনে (One to one approach) মূল্যায়ন করবেন। নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়ার আলােকে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকে বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে টুলস (প্রশ্ন) প্রণয়ন বেসলাইন মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে ।
৭। বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের বেসলাইন মূল্যায়নের নিয়মাবলি লিখুন।
অথবা, “বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের (৩য় শ্রেণির) বেসলাইন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া ও নিয়মাবলি উল্লেখ করুন।
বেসলাইন মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর পাঠগত অবস্থান নির্ণয়ই মূখ্য। তাই বেসলাইন মূল্যায়ন শ্রেণিভিত্তিক অর্জনােপযােগী যােগ্যতার আলােকে হলে শিক্ষার্থীর প্রকৃত পাঠগত অবস্থান জানা যায়। কিন্তু শ্রেণির জন্য নির্ধারিত অর্জন উপযােগী যােগ্যতার সবগুলােকে ক্রাইটেরিয়া বিবেচনা করে বেসলাইন মূল্যায়ন সময় সাপেক্ষ ও জটিল। সেজন্য শ্রেণিভিত্তিক অর্জন উপযােগী যােগ্যতাগুলাে থেকে বিশেষ বিবেচনাপ্রসূত স্বল্প সংখ্যক অর্জন উপযােগী যােগ্যতার আলােকে ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে বেসলাইন মূল্যায়ন করা হয়। বেসলাইন মূল্যায়ন যেহেতু বছরের শুরুর দিকে সম্পন্ন হয় সেহেতু ১ম শ্রেণির অর্জন উপযােগী যােগ্যতার আলােকে ২য় শ্রেণির শিক্ষার্থীর বেসলাইন মূল্যায়ন করা। ঠিক একইভাবে পূর্ববর্তী শ্রেণির অর্জন উপযােগী যােগ্যতার আলােকে পরবর্তী শ্রেণির বেসলাইন মূল্যায়ন করতে হবে। ২য় ও ৩য় শ্রেণির জন্য ৬টি করে এবং ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির জন্য ৮টি করে ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণপূর্বক বেসলাইন মূল্যায়ন তথ্য সংগ্রহ ছক তৈরি করা এবং ক্রাইটেরিয়া অনুযায়ী মূল্যায়ন টুলস তৈরি করে বেসলাইন মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বেসলাইন মূল্যায়ন অবশ্যই One to One অ্যাপ্রােচে করতে হবে। শিক্ষক একজন একজন করে শিক্ষার্থীকে কাছে এনে নির্ধারিত টুলস ব্যবহার করে মূল্যায়ন করবেন। টুলস ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে মূল্যায়ন করতে হবে। শিক্ষার্থী উত্তর দিতে পারলে সংশ্লিষ্ট ঘরে টিক চিহ্ন দিতে হবে। আর উত্তর দিতে না পারলে সংশ্লিষ্ট ঘরে ক্রস চিহ্ন দিতে হবে। বেইসলাইন মূল্যায়নের মাধ্যমে ছকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের পাঠগত অবস্থানের ৩টি দলে ভাগ করা। যেসকল শিক্ষার্থী ৬টির মধ্যে সর্বোচ্চ যেকোন ২টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তারা একটি দলে, যারা ৬টির মধ্যে সর্বোচ্চ যে কোন ৪টির উত্তর দিতে পারবে তারা একটি দলে ও যারা ৬টি বা যে কোন ৫টি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে তারা একটি দলে। নির্ধারিত ক্রাইটেরিয়ার আলােকে সংশ্লিষ্ট শ্রেণির পাঠ্যপুস্তকের বিষয়বস্তুর ভিত্তিতে টুলস (প্রশ্ন) প্রনয়ন করে মূল্যায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।


