বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (শিক্ষণবিজ্ঞান), অধ্যায়-২ - Proshikkhon

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (শিক্ষণবিজ্ঞান), অধ্যায়-২

Bangladesh & Global Studies Teaching

অধ্যায়-২: প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক স্তরে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় শিক্ষাক্রম

১. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা কি?

আনন্দময় ও শিশু বান্ধব পরিবেশে প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার বয়সী (৫+বছর) শিশুদের বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী শারীরিক-মানসিক, আবেগিক, সামাজিক, নান্দনিক, বুদ্ধিবৃত্তিয় ও ভাষাবৃত্তীয় তথা সার্বিক বিকাশে সহায়তা দিয়ে আজীবন শিখনের ভিত্তি রচনা করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার অঙ্গনে তাদের আনন্দ ও স্বতস্ফূর্ত অভিষেক ঘটানো এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় সংশ্লিষ্ট উপাদান প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় স্থান পেয়েছে।

২. প্রাক- প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে বাস্তবায়িতব্য কাজসমূহকে কিসের ভিত্তিতে কয় ভাগে ভাগ করা হয়?

প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার নির্ধারিত শিখনফল সমূহ অর্জনের নিমিত্তে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। বছরব্যাপী প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষে বাস্তবায়িতব্য বিভিন্ন বিভিন্ন কাজসমূহকে তাদের ধরনের উপর ভিত্তি করে আটটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। কাজসমূহ হলো:

১. পরিচিতি ও দৈনিক সমাবেশ ;
২. ব্যায়াম ;
৩. সৃজনশীল কাজ (ছড়া, গান ,অভিনয়, চারু কাজ এবং কারুকাজ ) ;
৪. ভাষার কাজ (শোনা, বলা ,পড়া, প্রাক-পঠন, লেখা: প্রাক লিখন) ;
৫. গণিতের কাজ(প্রাক গাণিতিক ধারণা সংখ্যার ধারণা যোগ ও বিয়োগের ধারণা) ;
৬. খেলা(ইচ্ছেমতো খেলা ও নির্দেশনার খেলা) ;
৭. অন্যান্য কাজ (পরিবেশ ,বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ও প্রজেক্ট ওয়ার্ক) ;
৮. সমাপনী কাজ।

৩. প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য কি?

প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য হলো- আনন্দময় ও শিশু বান্ধব পরিবেশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার বয়সী শিশুদের (৫+বছর) বয়স ও সামর্থ্য অনুযায়ী শারীরিক, মানসিক ,আবেগিক, সামাজিক, নান্দনিক, বুদ্ধিবৃত্তীয় ও ভাষাবৃত্তীয় তথা তার সার্বিক বিকাশে সহায়তা দিয়ে আজীবন শিখনের ভিত্তি রচনা করা এবং প্রাথমিক শিক্ষার অঙ্গনে তাদের সানন্দ ও স্বতস্ফূর্ত অভিষেক ঘটানো।

৪. শিখনফল ও প্রান্তিক যোগ্যতার পরস্পর সম্পর্ক সংক্ষিপ্তভাবে উল্লেখ করুন।

কোন একটি নির্দিষ্ট পাঠের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীর আচরণের কোন কোন দিকের পরিবর্তন হবে অর্থাৎ শিক্ষার্থী কি জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি অর্জন করবে তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করাকে বলে শিখনফল। প্রাথমিক স্তরে বিভিন্ন শ্রেণীর শ্রেণীভিত্তিক অর্জন উপযোগী যোগ্যতাগুলোকে ভেঙ্গে শিখনফল করা হয়।
শিখনফলকে আচরণিক উদ্দেশ্যও বলা হয়। বিষয়ভিত্তিক শিখনফলগুলোকে প্রতিফলিত করেই বিভিন্ন বিষয়ের বিষয়বস্তুর রূপরেখা প্রণয়ন ও পাঠ্যপুস্তক লেখা হয়। শিখনফলও মূল্যায়ন করতে হয়। শিক্ষার্থীরা যদি সবগুলো শিখনফল অর্জন করতে পারে, তবে বলা যাবে যে তারা প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাই বলা যায় যে, শিখনফল ও প্রান্তিক যোগ্যতা একে অপরের পরিপূরক।

৫. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলো ব্যাখ্যা করুন।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রাক প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্যগুলো নিম্নরূপ:

ক. আনন্দময় ও শিশু বান্ধব পরিবেশে বিভিন্ন খেলা ও কাজের মাধ্যমে শিশুর সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা।
খ.শেখার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি।
গ. শিশুকে পারিবারিক, সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন করা। ঘ. নিজস্ব সাংস্কৃতিক আচার, কৃষ্টি, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয়ের পাশাপাশি এর চর্চায় উৎসাহিত করা ।
ঙ. নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সামাজিক রীতিনীতি বিকাশে সহায়তা করা।
চ. স্বাস্থ্য সচেতনতা ও নিরাপত্তা বিধানে সহায়তা করা।
ছ. শিশুর আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদা বিকাশে সহায়তা করা এবং নিজের কাজ নিজে করতে উদ্বুদ্ধ করা।
জ. শিশুর আবেগ বুঝতে পারা ও তার যথাযথ প্রকাশে সহায়তা করা।
ঝ. শিশুকে পারস্পরিক সমঝোতা, সহযোগিতা, সহমর্মিতা ভাগাভাগি করতে সহায়তা ও উদ্বুদ্ধ করা।
ঞ. শিশুকে প্রশ্ন করতে আগ্রহী করে তোলা ও মতামত প্রকাশের উৎসাহিত করা।

৬. শিক্ষাক্রম ও এবং প্রান্তিক যোগ্যতা কী? বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের দুটি প্রান্তিক যোগ্যতা লিখুন।

শিক্ষাক্রম:

শিক্ষাক্রম হল কোন স্তরের শিক্ষার একটি সার্বিক পরিকল্পনা। শিশুর শিক্ষালাভের সামগ্রিক আয়োজনে শিক্ষাক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষাক্রমে শিক্ষার লক্ষ্য ,উদ্দেশ্য, শিখনফল, বিষয়বস্তু ,শিখন শেখানো প্রক্রিয়া, মূল্যায়ন পদ্ধতি ইত্যাদি উল্লেখ থাকে। বাংলাদেশে প্রাথমিক স্তরে বর্তমানে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম চালু আছে।

প্রান্তিক যোগ্যতা:

৫ বছর মেয়াদী প্রাথমিক শিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা যেসব যোগ্যতাগুলো (জ্ঞান, দক্ষতা, ও দৃষ্টিভঙ্গি) অর্জন করবে বলে আশা করা যায় সেগুলোকে প্রাথমিক শিক্ষার প্রান্তিক যোগ্যতা বলা হয়। প্রাথমিক স্তরে শিশুদের জন্য ২৯ টি প্রান্তিক যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৬ টি বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এর সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের দুটি প্রান্তিক যোগ্যতা:

১. মানবাধিকার, আন্তর্জাতিকতাবোধ, বিশ্বভ্রাতৃত্ব ও বিশ্বসংস্কৃৃতির প্রতি আগ্রহী ও শ্রদ্ধাশীল হওয়া।
২. স্বাধীন ও মুক্তচিন্তায় উৎসাহিত হওয়া এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুশীলন করা।

বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় (পিকে) অধ্যায়-১ : বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় শিক্ষণ পড়তে এই লিংকে প্রেস করুন।

error: Content is protected !!