অধ্যায়-০৭: গণিত শিখন মূল্যায়ন
পাঠ-৭.২: ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়ন পদ্ধতি ও উপকরণ
১. ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়ন কী?
২. সামষ্টিক মূল্যায়ন কী?
৩. ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের বিভিন্ন কৌশল ব্যাখ্যা করুন।
১. ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়ন কী?
ধারাবাহিক/গাঠনিক মূল্যায়ন:
শিক্ষায় মূল্যায়ন হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়ন শিখন শেখানো প্রক্রিয়ার নির্দেশনার একটি অংশ। বিদ্যালয়ে সারা বছরব্যাপী শিখন কার্যক্রম চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীদের শিখন অগ্রগতি এবং আচরণের নানামূখী বিকাশ সম্পর্কে জানার জন্য ধারাবাহিকভাবে মূল্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়াকে ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়ন বলে। অন্য কথায়, পাঠ চলাকালীন সময়ে শিক্ষার্থীর অর্জন ও অগ্রগতি যাচাই করাই হলো ধারাবাহিক বা গাঠনিক মূল্যায়ন। যেমন- পাঠ চলাকালীন প্রশ্ন করা, লিখিত বা মৌখিক অভীক্ষা, শ্রেণির কাজ, বাড়ির কাজ, কুইজ, চেক লিস্ট ইত্যাদি।
২. সামষ্টিক মূল্যায়ন কী?
সামষ্টিক মূল্যায়ন:
একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তে শিক্ষা প্রদানের পরে অর্জনের মাত্রা নির্ণয়ের লক্ষ্যে সামষ্টিক মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষাবর্ষের শেষে বা মাঝামাঝিতে বা সাময়িক পাঠদান প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পর শিক্ষার্থী কী কী যোগ্যতা অর্জন করল তা যাচাইয়ের জন্য যে মূল্যায়ন করা হয় তাকে সামষ্টিক মূল্যায়ন বলে। অর্থাৎ সামষ্টিক মূল্যায়ন হলো সেমিস্টার বা সাময়িক পরীক্ষা বা বার্ষিক পরীক্ষা বা পাবলিক পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষার্থীর মুল্যায়ন। বছরের কোন নির্দিষ্ট সময়ে শিক্ষার্থীর কৃতিত্ব সম্পর্কে অবহিত করাই এ ধরনের মুল্যায়নের উদ্দেশ্য।
৩. ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের বিভিন্ন কৌশল ব্যাখ্যা করুন।
ধারাবাহিক ও সামষ্টিক মূল্যায়নের জন্য বিভিন্ন ধরণের কৌশল ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সুনির্দিষ্টভাবে গাঠনিক মূল্যায়নের পদ্ধতি থেকে সামষ্টিক মূল্যায়নের পদ্ধতি পৃথক করা যায় না। পরীক্ষা শুধুমাত্র সামষ্টিক মূল্যায়নের জন্য ব্যবহার করা হয় না গাঠনিক মূল্যায়নেও ব্যবহার করা হয় তবে সেক্ষেত্রে সময়মত ফিডব্যাক দেয়া হয়। এক্ষেত্রে প্রধানত দু’ ধরনের পদ্ধতি লক্ষ্য করা যায়। তা হলো:
১. নির্বাচিত উত্তর হতে সঠিক উত্তর বাছাই পদ্ধতি এবং
২. গঠনমূলক উত্তর প্রদান বা পারদর্শিতাভিত্তিক ও প্রক্রিয়া ভিত্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতি।
১. নির্বাচিত উত্তর হতে সঠিক উত্তর বাছাই পদ্ধতি:
- বহু নির্বাচনী,
- সত্য-মিথ্যা নির্ণয়,
- মিল করা ইত্যাদি।
২. গঠনমূলক উত্তর প্রদান পদ্ধতি: এই পদ্ধতিতেও বিভিন্নভাবে মূল্যায়ন করা হয়। যেমন:
ক) সংক্ষিপ্ত গঠনমূলক উত্তর:
- শূন্যস্থানপূরণ,
- এক শব্দে উত্তর,
- বাক্যাংশে বা একবাক্যে উত্তর,
- সংক্ষিপ্ত উত্তর ইত্যাদি।
খ) পারদর্শিতাভিত্তিক মূল্যায়ন:
- মৌখিক উপস্থাপনা,
- প্রদর্শন করা,
- প্রকল্প প্রস্তুত ও উপস্থাপন ইত্যাদি।
গ) প্রক্রিয়াকেন্দ্রিক মূল্যায়ন:
- বিতর্ক,
- কুইজ,
- পর্যবেক্ষণ,
- সাক্ষাৎকার,
- পারস্পারিক মূল্যায়ন,
- পোর্টফোলিও ইত্যাদি।
