অধ্যায়-০৬: গণিত শিক্ষোপকরণ
পাঠ-৬.১: গণিত শিক্ষোপকরণের ধারণা (প্রথম অংশ)
ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:
১. শিক্ষোপকরণ বলতে কী বোঝায়?
২. শিক্ষোপকরণের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করুন।
৩. গণিত শিক্ষায় শিক্ষোপকরণের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।
৪. গণিত শিক্ষোপকরণের বৈশিষ্ট্য কী?
৫. গণিত শিক্ষোপকরণের উপযোগিতা বিচারের বিবেচ্য দিকগুলো ব্যাখ্যা করুন।
৬. সহজলভ্য উপকরণ কী? সহজলভ্য স্থানীয় উপকরণের একটি তালিকা তৈরী করুন।
১. শিক্ষোপকরণ বলতে কী বোঝায়?
শিক্ষোপকরণ:
শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের জন্য বিষয়বস্তুগত জ্ঞান ছাড়া শিক্ষক অন্যান্য যে সকল জিনিস, বস্তু বা কৌশল ব্যবহার করেন যা শিক্ষাদানকে সহজবোধ্য, স্থায়ী ও আকর্ষণীয় করে তোলে, সেগুলোকে শিক্ষোপকরণ বলে। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে ব্যবহৃত সকল প্রকার উপাদানই হলো শিক্ষোপকরণ। শিক্ষোপকরণ ব্যবহারের মূল উদ্দেশ্য হলো পাঠের জন্য উদ্দেশ্য অর্জন।
২. শিক্ষোপকরণের শ্রেণিবিভাগ আলোচনা করুন।
বিভিন্ন ধরণের শিক্ষোপকরণ রয়েছে। শিক্ষোপকরণের শ্রেণিবিভাগ নিয়ে শিক্ষাবিদগণের মধ্যে ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়। নিম্নে বিভিন্ন প্রকার শিক্ষোপকরণ নিয়ে আলোচনা করা হলো:
দর্শনমূলক শিক্ষোপকরণ:
যেসব উপকরণ শিখনের বিষয়বস্তুকে দর্শনগ্রাহ্য করে তোলে অর্থাৎ আমাদের চোখ দিয়ে দেখতে পাই। যেমন- পোস্টার, ছবি, চার্ট, গ্লোব, বিভিন্ন মডেল, ম্যাপ, ম্যাগাজিন ,জার্নাল, বিভিন্ন প্রকার বোর্ড, পাঠ্যপুস্তক, পত্র-পত্রিকা, স্লাইড প্রজেক্টর, ওভারহেড প্রজেক্টর ইত্যাদি।
শ্রবণমূলক শিক্ষোপকরণ:
যেসব উপকরণ শিখনের বিষয়বস্তুকে শ্রবণযোগ্য করে অর্থাৎ আমরা কান দিয়ে শুনতে পাই সেগুলোই শ্রবণযোগ্য উপকরণ। যেমন-রেডিও, গ্রামোফোন, টেপরেকর্ডার, বিভিন্ন ধরনের বাস্তব বস্তু ও নমুনা, ছবি, মডেল, ফিল্মস্ট্রিপ ও স্লাইড প্রজেক্টর, ওভার হেড প্রজেক্টর, প্রাসঙ্গিক জিনিস- ফুল, বক্স, বোতল, পাতা, খবরের কাগজ, কম্পিউটার, যন্ত্রপাতি ইত্যাদি।
শ্রবণ-দর্শনমূলক শিক্ষোপকরণ:
যে সমস্ত শিক্ষোপকরণ একই সাথে শোনা ও দেখা যায় তাকে শ্রবণ-দর্শন মূলক শিক্ষোপকরণ বলা হয়। যেমন- টেলিভিশন, কম্পিউটার, ডিভিডি, ভিসিআর, সবাক চলচ্চিত্র ইত্যাদি।
কল্পীত প্রতীকীমূলক শিক্ষোপকরণ:
যে সমস্ত শিক্ষোপকরণ চোখে দেখা যায় না- কিন্তু শিক্ষকের কথা শুনে উপলব্ধি করা যায় এবং পাঠদান কাজে সহায়তা করে তাকে কাল্পনিক বা বাচনিক শিক্ষোপকরণ বলে। যেমন- গল্প বলে বা বিভিন্ন ধরনের উপমা ও যুক্তি প্রদান করে পাঠদান করা, রূপকথা শোনানো, যুক্তি প্রদর্শন করা ইত্যাদি ।
প্রতীকীমূলক শিক্ষোপকরণ:
পাঠ্যপুস্তকসহ শিক্ষাদানের জন্য মুদ্রিত হ্যান্ড-নোট, লিফলেট বা কোন নির্দেশনা- ইত্যাদি হচ্ছে প্রতীকী মূলক শিক্ষোপকরণ। এগুলো শিখন সামগ্রী নামেও পরিচিত। যেমন- গণিত সাময়িকী, গণিতের ইতিহাস সম্পর্কিত বই, গণিত বিষয়ক বুলেটিন, গণিত বা পরিসংখ্যান জাতীয় যে কোন সরকারী বা বেসরকারী পত্রিকা বুলেটিন ইত্যাদি।
অনুসন্ধানমূলক শিক্ষোপকরণ:
যেসব উপকরণ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীরা অনুসন্ধানমূলক কার্য সম্পাদন করে থাকে এবং যা ব্যবহার করে তারা তাদের বিভিন্ন জিজ্ঞাসা বা সমস্যার সমাধানে উপনীত হতে পারে তাকে অনুসন্ধানমূলক উপকরণ বলে। যেমন: এ্যাবাকাস, ফুট স্কেল, মিটার স্কেল, চাঁদা (কোণ মাপনী), স্লাইড রুল, ক্যালকুলেটর, জ্যামিতি বক্স।
৩. গণিত শিক্ষায় শিক্ষোপকরণের প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করুন।
গণিত শিক্ষায় শিক্ষোপকরণের প্রয়োজনীয়তা বা উপযোগিতা :
- শিক্ষার্থীদের পাঠের বাস্তবভিত্তিক ধারণা প্রদান করা।
- বিষয়বস্তুর মূর্ত ধারণা দেওয়া যায় ফলে পাঠের শিখনফল অধিকতর ফলপ্রসু হয়।
- শিক্ষার্থীদের অনুমান ও চিন্তা করার ক্ষমতা সম্প্রসারিত হয়।
- পাঠ উপস্থাপনে বৈচিত্র্য আনা যায় ফলে এতে শিক্ষার্থীদের পাঠের প্রতি একঘেয়েমীও দূর হয়।
- শিক্ষার্থীরা পাঠের প্রতি মনোযোগী ও উৎসাহী হয়ে ওঠে।
- পাঠদানে সময় কম লাগে।
- শিক্ষকের পাঠ উপস্থাপন সাবলীল, আকর্ষণীয় ও প্রাণবন্ত হয়।
৪. গণিত শিক্ষোপকরণের বৈশিষ্ট্য কী?
গণিত শিক্ষোপকরণের বৈশিষ্ট্য:
গণিত শিখন-শেখানো কাজে শিক্ষোপকরণের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সেকারণে পাঠ উপস্থাপনের জন্য উপকরণ নির্বাচন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে তার গুণগত ও প্রায়োগিক দিক সমূহ বিবেচনা খুবেই জরুরি। গুণগত দিক বিচারের ক্ষেত্রে উপকরণের তিনটি বৈশিষ্ট্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করতে হয়। সেগুলো হলো:
(১) শিক্ষা উপকরণের উপযোগিতা,
(২) শিক্ষা উপকরণের নির্ভরযোগ্যতা, এবং
(৩) শিক্ষা উপকরণের সহজলভ্যতা।
৫. গণিত শিক্ষোপকরণের উপযোগিতা বিচারের বিবেচ্য দিকগুলো ব্যাখ্যা করুন।
গণিত শিক্ষোপকরণের উপযোগিতা বিচারের বিবেচ্য দিক:
- বিষয় সম্পৃক্তি বা পাঠ সংশ্লিষ্ট হওয়া যেমন- ত্রিভুজ পড়াতে গিয়ে সেট স্কয়ার অনুরূপভাবে বৃত্ত আলোচনা করতে গিয়ে গোলাকার কোন বস্তুকে প্রদর্শন করা যেতে পারে।
- নির্দিষ্ট শ্রেণির মান বিবেচনায় রাখা অর্থাৎ শিক্ষার্থীর স্তর ও বয়স উভয় বিষয়ই বিবেচনায় রাখা।
- দর্শনযোগ্যতা অর্থাৎ উপকরণের আকার, রঙের ব্যবহার ইত্যাদি বিবেচনায় রাখা।
- সময়োপযোগিতা অর্থাৎ পাঠের কোন পর্যায়ে কতটুকু সময় ধরে শিক্ষোপকরণটি ব্যবহার করতে হবে তা মাথায় রাখা।
- অভিনবতা ও আকর্ষণীয়তা সৃষ্টি করা।
- ব্যবহারিক উপযোগিতা থাকতে হবে। যেমন-যাতে শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপকরণ সহজেই ব্যবহার করতে পারে।
৬. সহজলভ্য উপকরণ কী? সহজলভ্য স্থানীয় উপকরণের একটি তালিকা তৈরী করুন।
সহজলভ্য উপকরণ:
যে সকল উপকরণ খুব সহজে স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা যায়, সেসকল উপকরণই হলো সহজলভ্য উপকরণ। এছাড়াও আমাদের চারপাশের পরিবেশে অসংখ্য দ্রব্যসামগ্রী, বাড়ীর অব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থী একসাথে মিলেমিশে সহজে তৈরি করা যায় এমন সকল ধরণের উপকরণই হলো সহজলভ্য উপকরণ। উপকরণের সহজলভ্যতা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে উপকরণ ব্যবহারে উৎসাহিত করে। শিক্ষক-শিক্ষার্থী মিলে এ জাতীয় উপকরণ প্রস্তুত করা যায় বলে এতে করে কোন বিষয় হাতে কলমে শেখার সুযোগ ঘটে।
সহজলভ্য স্থানীয় উপকরণ তালিকা:
- ফুল,
- পাতা,
- বিভিন্ন
- প্রকার ফলের বীজ,
- ফেলে দেয়া বোতলের ছিপি,
- কাঠের টুকরো,
- পাটকাঠি ইত্যাদি।
