অধ্যায়-০১: আমাদের পরিবেশ
সেশন-১.২: উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস
- উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসসহ ছক প্রণয়ন করুন।
- উদাহরণসহ উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস করুন।
- অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? ৩টি করে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করুন।
- অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে ৫টি পার্থক্য লিখুন।
- একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য লিখুন।
উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাসসহ ছক প্রণয়ন করুন।
উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস:
উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস হলো বিচিত্র উদ্ভিদরাজিকে (পাঁচ লক্ষ প্রজাতির উদ্ভিদকে) সহজে, অল্প পরিশ্রমে এবং অল্প সময়ে সঠিক ভাবে জানার জন্য একটি বিন্যাস পদ্ধতি।নিম্নে ছকের মাধ্যমে উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস দেয়া হলো-

উদাহরণসহ উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস করুন।
উদাহরণসহ উদ্ভিদের শ্রেণিবিন্যাস:
ফুলের উপর ভিত্তি করে উদ্ভিদকে প্রধানত দুই শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন-
১) অপুষ্পক উদ্ভিদ এবং
২) সপুষ্পক উদ্ভিদ
১) অপুষ্পক উদ্ভিদঃ
এদের ফুল হয় না। ফুল হয় না বলে এদের বীজ ও ফল হয় না। রেণু দিয়ে এদের বংশ বৃদ্ধি ঘটে। যেমন- স্পাইরোগাইরা,অ্যাগারিকাস,ক্লোরেলা ইত্যাদি।
উদ্ভিদের মূল,কাণ্ড ও পাতার উপর ভিত্তি করে অপুষ্পক উদ্ভিদকে আবার তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা-ক) সমাঙ্গবর্গ, খ) মসবর্গ এবং গ) ফার্ণবর্গ।
ক) সমাঙ্গবর্গঃ
যেসব উদ্ভিদের দেহকে মূল,কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায় না সেসব উদ্ভিদকে সমাঙ্গবর্গ উদ্ভিদ বলে। এ দলের উদ্ভিদ্গুলো এককোষী বা বহুকোষী এবং ক্লোরোফিলযুক্ত বা ক্লোরোফিলবিহীন হয়ে থাকে। এদের কোন পরিবহণ তন্ত্র নেই। খাদ্য তৈরির সক্ষমতার উপর ভিত্তি করে সমাঙ্গবর্গীয় উদ্ভিদকে পুনরায় দুই শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যথা- ১) শৈবাল এবং ২) ছত্রাক
১) শৈবাল:
বাড়ির পাশে আবদ্ধ জলাশয়ে,জমে থাকা বৃষ্টির পানি, নর্দমা, কলের পাড়ে স্যাঁতসেঁতে মাটিতে সবুজ জাতীয় উদ্ভিদকে শৈবাল বলে। এদের দেহে সালোক সংশ্লেষণের বর্ণ কণিকা থাকে। এরা স্বভোজী। সূর্যালোক এদের জন্য অপরিহার্য। এরা এককোষী বা বহুকোষী হয়ে থাকে। যেমন- স্পাইরোগাইরা ও ক্লোরেলা।
২) ছত্রাক:
পঁচা, স্যাঁতসেঁতে জায়গা ভ্যাপসা আবহাওয়ায় ব্যাঙের ছাতার মতো ও বাসি, পচা রুটির উপর তুলার অংশের মতো একপ্রকার বস্তু দেখা যায়, এদেরকে ছত্রাক বলে। এদের দেহে সালোক সংশ্লেষণের বর্ণকণিকা ক্লোরোফিল থাকে না, তাই এরা বর্ণহীন। এরা পরভোজী বা মৃতভোজী। সূর্যালোক এদের জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন-অ্যারিকাস ও মিউকর।
খ) মসবর্গঃ
এই জাতীয় উদ্ভিদের দেহে কাণ্ড ও পাতাকে পৃথকভাবে শনাক্ত করা যায়। আর সুগঠিত মূলের পরিবর্তে রাইজয়েড থাকে। দেহে ক্লোরোফিল থাকার জন্য নিজের খাদ্য নিজে প্রস্তুত করতে পারে। এরা ছায়াযুক্ত স্যাঁতসেঁতে মাটি, পুরানো দেয়াল ও ছাদে, পুরানো গাছের কান্ড ইত্যাদির উপর জন্মে। যেমন- মস।
গ) ফার্নবর্গঃ
এসব উদ্ভিদের দেহ, কাণ্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। এ জাতীয় উদ্ভিদ নিজেরা খাদ্য প্রস্তুত করতে পারে। এরা স্যাঁতসেঁতে ছায়াযুক্ত স্থান এবং পুরানো দেয়ালে জন্মে। ছায়াযুক্ত অপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে এরা সর্বাপেক্ষা উন্নত। যেমন- ঢেঁকিশাক।
২) সপুষ্পক উদ্ভিদঃ
যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। এদের দেহকে মুল, কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। বীজের গঠনের উপর ভিত্তি করে সপুষ্পক উদ্ভিদকে দুই ভাবে বিভক্ত করা হয়েছে। যথা- ক) নগ্নবীজী উদ্ভিদ এবং খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদ।
ক) নগ্নবীজী উদ্ভিদঃ
এসব উদ্ভিদের সত্যিকার ফুল হয় না অর্থাৎ এদের ফুলে গর্ভাশয় থাকে না। গর্ভাশয় থাকে না বলে এদের ফল হয় না আর ফল হয় না বলে বীজ নগ্ন অবস্থাতে থাকে। যেমন-সাইকাস, পাইন গাছ।
খ) আবৃতবীজী উদ্ভিদঃ
যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয়, ফল হয় এবং বীজ ফলের মধ্যে আবৃত অবস্থায় থাকে তাদেরকে আবৃতবীজী উদ্ভিদ বলে। সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে এরা সর্বাপেক্ষা উন্নত শ্রেণির। যেমন-আম, জাম, পেয়ারা ইত্যাদি। আবৃতবীজী উদ্ভিদ আবার দুই প্রকার। যথা-১) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ এবং ২)একবীজপত্রী উদ্ভিদ
১) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ:
যেসব উদ্ভিদের বীজে দুইটি বীজপত্র থাকে তাকে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। যেমন-আম, জাম, বাদাম, শিম, ছোলা প্রভৃতি।
২) একবীজপত্রী উদ্ভিদ:
যে উদ্ভিদের বীজে একটিমাত্র বীজপত্র থাকে, সেই উদ্ভিদকে একবীজপত্রী উদ্ভিদ বলা হয়। উদাহরণ- ধান, গম, ভুট্টা, নারকেল ইত্যাদি।
অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদ কাকে বলে? ৩টি করে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করুন।
অপুষ্পক উদ্ভিদঃ
এদের ফুল হয় না। ফুল হয় না বলে এদের বীজ ও ফল হয় না। রেণু দিয়ে এদের বংশ বৃদ্ধি ঘটে। যেমন-
i) স্পাইরোগাইরা,
ii) অ্যাগারিকাস,
iii) ক্লোরেলা ইত্যাদি।
সপুষ্পক উদ্ভিদঃ
যে সকল উদ্ভিদের ফুল হয় তাদেরকে সপুষ্পক উদ্ভিদ বলে। এদের দেহকে মুল,কান্ড ও পাতায় বিভক্ত করা যায়। যেমন-
i) পাইন,
ii) ধান,
iii) শিম ইত্যাদি।
অপুষ্পক উদ্ভিদ ও সপুষ্পক উদ্ভিদের মধ্যে ৫টি পার্থক্য লিখুন।
অপুষ্পক ও সপুষ্পক উদ্ভিদের পার্থক্য দেওয়া হলো:
| অপুষ্পক | সপুষ্পক |
| ১. এদের ফুল ও ফল হয় না। | ১. এদের ফুল ও ফল হয়। |
| ২. এ ধরনের উদ্ভিদের মূল,কাণ্ড ও পাতা নেই। | ২. এ ধরনের উদ্ভিদের মূল,কাণ্ড ও পাতা আছে। |
| ৩. অপুষ্পক উদ্ভিদ সাধারণত নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে না। | ৩. সপুষ্পক উদ্ভিদ সাধারণত নিজের খাদ্য নিজে তৈরি করতে পারে। |
| ৪. এসব উদ্ভিদের মূল মাটির গভীরে যায় না। | ৪. এসব উদ্ভিদের মূল মাটির গভীরে প্রবেশ করে। |
| ৫. এরা আকার-আকৃতিতে ছোট ও নরম। | ৫. এরা আকার-আকৃতিতে বড় ও শক্ত। |
একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য লিখুন।
একবীজপত্রী ও দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের মধ্যে পার্থক্য:
| একবীজপত্রী | দ্বিবীজপত্রী |
| ১) যেসব উদ্ভিদের বীজে একটি মাত্র বীজপত্র থাকে তাকে একবীজ পত্রী উদ্ভিদ বলে। | ১) যেসব উদ্ভিদের বীজে দুইটি বীজপত্র থাকে তাকে দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদ বলে। |
| ২) প্রধান মূল থাকে। | ২) গুচ্ছমূল থাকে। |
| ৩) ধান, গম, ভুট্টা প্রভৃতি একবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ। | ৩) ছোলা, মটর, শিম, প্রভৃতি দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের উদাহরণ। |
| ৪) একবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজের খোসা ছাড়ানো খুব সহজ নয়। | ৪) দ্বিবীজপত্রী উদ্ভিদের বীজের খোসা ছাড়ানো অপেক্ষাকৃত সহজ। |
