বয়স্ক শিক্ষা - Proshikkhon

বয়স্ক শিক্ষা

Adult education and its purpose

আলোচ্য বিষয়:

  • বয়স্ক শিক্ষা কী?
  • বয়স্ক শিক্ষার উদ্দেশ্য
  • বয়স্ক শিক্ষার ভিত্তি
  • বাংলাদেশে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম
  • বয়স্ক শিক্ষার সমস্যা সমাধানের উপায় বা পন্থা

বয়স্ক শিক্ষা কী

বিদ্যালয়ে যাওয়ার বয়সে নিয়মিত আনুষ্ঠানিক শিক্ষায় যারা অংশ গ্রহণ করতে পারেনি, তাদের জন্য শিক্ষামূলক যেসব সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়, সাধারণভাবে তাকেই বয়স্ক শিক্ষা বলা হয়। বয়স্ক শিক্ষা হল প্রথাগত শিক্ষাক্রমের বাইরে বয়স্ক মানুষদের জন্য সংগঠিত সেই শিক্ষাব্যবস্থা, যা তাদের জীবনধারা বিকাশে সাহায্য করে। এককথায়, সমাজের বয়োজ্যেষ্ঠ ব্যাক্তিবর্গ যারা মৌলিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত তাদের জন্য বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থাকে বয়স্ক শিক্ষা বলে। সাধারণত, সরকারি ও বেসরকারি কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ের উদ্যেগেও বয়স্ক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয় যার ফলে বয়স্কদের জীবনমান উন্নয়ন করতে সহায়তা করা হয়।

পৃথিবীর উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশসমূহ তাদের নিজ সামর্থ অনুসারে নিরক্ষরতা দূরীকরণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য বিভিন্ন ধরণের কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সাক্ষরতা বৃদ্ধিতে বয়স্ক শিক্ষাকে মূল বিষয় হিসেবে বিবেচনায় রাখতে লক্ষ্য করা যায়। বাংলাদেশে বিভিন্ন শিক্ষা কমিশনসমূহের সুপারিশে বয়স্ক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।

বয়স্ক শিক্ষার সংজ্ঞা

বয়স্ক শিক্ষা সম্পর্কে কোঠারি কমিশনের বক্তব্য হলো- বয়স্ক শিক্ষা হল শিক্ষার জাতীয় প্রক্রিয়ায় একটি স্থায়ী বৃত্তি।

UNESCO (১৯৭৬)-এ রিপোর্ট অনুযায়ী বয়স্ক শিক্ষার অর্ন্তগত হবে- “All forms of education experience needed by men and women according to their varying interests and requirements, at their differing levels of comprehension and ability and in their changing role and responsibilities throughout life.”

বয়স্ক শিক্ষার কিছু সমস্যাও রয়েছে। যেমন-জীবন জীবিকা নির্বাহের পর নিয়মিতভাবে পড়াশুনার প্রতি তাদের আগ্রহ খুবই কম থাকে অন্যদিকে এই শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দের অভাব লক্ষ্য করা যায়।

বয়স্ক শিক্ষার উদ্দেশ্য

  • বয়স্কদের আয় বৃদ্ধি করে জীবনযাত্রার মান উন্নত করার জন্য পর্যাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্যাবলি, উন্নত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনে সাহায্য করা,
  • সামাজিক ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন করে জীবনের সমস্যা সমাধানে তাদের অধিকতর দক্ষ করে গড়ে তোলা।
  • কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করা,
  • আত্মউপলব্ধি ও আত্মসচেতনতা সৃষ্টি করা,
  • আর্থ-সামাজিক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে গাণিতিক দক্ষতা বৃদ্ধি;
  • পেশাগত চিন্তাশক্তি বৃদ্ধি ও বিকাশে সহায়তা করা,
  • জনগণের মৌলিক ও প্রযুক্তি দক্ষতার বিকাশ সাধন করা,
  • নেতৃত্ব প্রদানে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা,
  • সৃষ্টিশীল ও নান্দনিক প্রকাশ ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ,
  • তাদের বিকাশের সব বাধা দূর করে তাদেরকে সমাজের কাজকর্মের উপযোগী করে তোলা।

বয়স্ক শিক্ষার ভিত্তি

বয়স্ক শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল সামাজিক, আর্থিক ও শিক্ষাগত দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষকে সময়োপযোগী করে গড়ে তোলা। বয়স্ক শিক্ষার ভিত্তি অনুসারে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বয়স্ক শিক্ষার তিনটি অপরিহার্য ভিত্তি রয়েছে। সেগুলো হল-

১. কর্মভিত্তিক;

২. অংশগ্রহণভিত্তিক;

৩. জ্ঞানভিত্তিক।

বাংলাদেশে বয়স্ক শিক্ষা কার্যক্রম

বাংলাদেশে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে বয়স্ক শিক্ষার যে সকল কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায় সেগুলো হলো-

  • গণশিক্ষা কর্মসূচি (১১-৪৫ বছর বয়স);
  • বৃত্তিমূলক কার্যক্রম;
  • কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম;
  • গ্রামীণ সমাজ সেবা উন্নয়ন।
  • কর্মকালীন শিক্ষক প্রশিক্ষণ;
  • অবিরত পেশাগত উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ;
  • ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন সেন্টার।

বয়স্ক শিক্ষার সমস্যা সমাধানের উপায় বা পন্থা

  • বয়স্ক শিক্ষাকেন্দ্র স্থাপন করা।
  • বয়স্কদের উপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা।
  • বয়স উপযোগী পাঠ্যপুস্তক রচনা করা।
  • সৃজনশীল ও আকর্ষনীয় শিক্ষণ পদ্ধতি ও কৌশল অনুসরণ করা।
  • বয়স্কদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রশিক্ষক তৈরি করা।
  • এছাড়াও আংশিক সময়ের সাধারণ ও বৃত্তি শিক্ষার ব্যবস্থা করা।

বয়স্ক শিক্ষা সম্পর্কে আরও পোস্ট দেখুন

Comments (1)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!