What is a marking scheme? Sample marking scheme
শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা উন্নয়নের উপায়সমূহ
মার্কিং স্কিম কী:
প্রতি বিষয়ের প্রতিটি প্রশ্ন ও তার সম্ভাব্য উত্তর এবং উত্তর মূল্যায়ন নিদের্শিকা অর্থাৎ শিক্ষার্থী কর্তৃক লিখিত প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের প্রেক্ষিতে সে কত নম্বর পাবে তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা সম্বলিত ডকুমেন্ট হলো মার্কিং স্কিম।
মার্কিং স্কিম প্রণয়নের যৌক্তিকতা:
১. মূল্যায়ন নির্দেশিকা একটি সুস্পষ্ট ডকুমেন্ট বলে মূল্যায়ন যথার্থ হয়।
২. উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীগণ ইচ্ছে মাফিক মূল্যায়ন করতে পারেন না বলে মূল্যায়ন নিরেপেক্ষ হয়।
৩. মূল্যায়ন পক্ষপাতহীন হয়।
৪. কোন শিক্ষার্থী অধিক সুবিধা পাবেন পক্ষান্তরে কেউ বঞ্চিত হবেনা।
সাধারণভাবে বিভিন্ন পরীক্ষক কর্তৃক প্রদত্ত্ব নম্বরে পার্থক্য হবার কারণ:
- প্রশ্নপত্রে সু অভীক্ষার বৈশিষ্ট্য বজায় না থাকা;
- পরীক্ষকগণকে কোন মার্কিং স্কিম সরবরাহ না করা;
- পরীক্ষক কর্তৃক নির্দেশনা বুঝার ক্ষেত্রে অষ্পষ্টতা;
- উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য বরাদ্ধকৃত সময়ের স্বল্পতা;
- উত্তরপত্র মূল্যায়নকারী নির্বাচনের ত্রুটিজনিত কারণে সুযোগ্য পরীক্ষক নির্বাচিত না হওয়া।
উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীগণের জন্য অনুসরণীয় নির্দেশনা নিম্নরূপ:
মূল্যায়নকারীর জন্য মূল্যায়ন পূর্ব-করণীয়:
১. প্রতিটি অভীক্ষাপদ মনোযোগ দিয়ে পড়বেন।
২. উত্তরপত্র মূল্যায়নের আগে উত্তরপত্র মূল্যায়নকারীকে মার্কিং স্কিম ভাল করে পড়ে প্রতিটি অভীক্ষাপদের উত্তর এবং তার বিপরীতে কত নম্বর প্রদান করতে হবে, কী হবে তা নিশ্চিত হতে হবে।
২. মাকিং স্কিমে প্রতিটি অভীক্ষাপদের জন্য যে নির্দেশনা দেয়া হয়েছেÑতা অনুসরণ করতে হবে। উল্লেখ্য মূল্যায়নকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ের পাঠ্যবই ও তার বিষয়বস্তু, যোগ্যতা ইত্যাদি বিষয় সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা থাকতে হবে।
৩. এ বিষয়ে কোন অস্পষ্টতা দেখা দিলে তবে তা স্পষ্টীকরণের জন্য প্রধান পরীক্ষক/নেপ এর সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভীক্ষা পদ প্রণয়নকারীগণের সহায়তা নিতে হবে।
৪. কোন অভীক্ষাপদের উত্তর সম্পর্কে মূল্যায়নকারী নিশ্চিত না হয়ে কেবলমাত্র আন্দাজের উপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা যাবে না।
৫. উত্তরপত্র (খাতা) প্যাকেট সংগ্রহ করার পর প্যাকেটের ভিতর খাতার সংখ্যা গণনা করে দেখতে হবে। কোন প্রকার অসংগতি দেখা গেলে, খাতা সরবরাহকারীকে অবহিত করতে হবে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নকালীন সময়ে করণীয়:
১. মুল্যায়নকারীকে ধৈর্য সহকারে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করতে হবে।
২. মুল্যায়নকারী মুল্যায়নকালে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবেন। মূল্যায়নকারীকে সর্বদা মনে রাখতে হবে যে, তিনি বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।
৩. শিক্ষার্থী অপ্রাসঙ্গিক/ ভুল উত্তরের জন্য কোন নম্বর পাবেনা।
৪. বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ে বানান ভুলের জন্য কোন নম্বর কর্তন করা সমীচীন হবেনা।
৫. অস্পষ্টতা কিংবা দূর্বোধ্যতার কারণে হাতের লেখা পড়তে না পারলে কোন স্কোর/নম্বর দেয়া যাবেনা।
৬. হাতের লেখা ভাল-মন্দের কারণে নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে কোন রকম হেরফের হবেনা। কেনন্ এখানে হাতের লেখার মান যাচাই করা হচ্ছেনা; শিক্ষার্থী প্রশ্নের উত্তর/তথ্য জানে কিনা, সেটিই মূল বিবেচ্য বিষয়।
৭. বহু নির্বাচনী প্রশ্নের জন্য প্রশ্নপত্রে যে নির্দেশনা প্রদান করা আছে তা যথাযথভাবে অনুসরণ করবেন।
৮. অভীক্ষার উত্তরের যথার্থ ও সুনির্দিষ্টতার দিকে লক্ষ রেখে মূল্যায়ন করতে হবে।
৯. প্রতিটি অভীক্ষা পদের (প্রশ্নের) উত্তর মূল্যায়ন করেছেন কিনা তা মূল্যায়নকারীকে যাচাই করতে হবে।
১০. প্রতিটি উত্তরের জন্য নির্দেশনা মোতাবেক নম্বর প্রদান করা হয়েছে কিনা তা পুনঃ নিরীক্ষা করতে হবে।
১১. নম্বর প্রদানের ক্ষেত্রে ঘষামাজা (ঙাবৎ ডৎরঃরহম) করা যাবে না। প্রয়োজনে একটানে কেটে সঠিক নম্বর বসিয়ে পাশে অনু স্বাক্ষর করতে হবে।
মূল্যায়নের পর করণীয় :
১. পরীক্ষার্থীর রোল নম্বর অনুযায়ী পরীক্ষিত উত্তরপত্রগুলো সাজাতে হবে।
২. প্রতিটি নম্বর ফর্দের নিচে মূল্যায়নকারীকে যথাস্থানে স্বাক্ষর করতে হবে । নম্বর ফর্দে নম্বর উত্তোলনে কোন প্রকার কাটাকাটি বা ঘষামাজা করা যাবে না। প্রয়োজনে একটানে কেটে সঠিক নম্বর বসিয়ে পাশে অনু স্বাক্ষর করতে হবে।
৩. সকল প্রকার গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে।
মূল্যায়নকারী যা যা করবেন না:
১. এক বসায় ৫-১০ টির বেশি উত্তরপত্র মূল্যায়ন করবেন না।
২. নিজের ব্যক্তিগত অভিমতের ভিত্তিতে উত্তর মূল্যায়ন করা যাবে না।
৩. উত্তরপত্র যেখানে সেখানে অযত্নে ফেলে রাখা যাবে না।
৪. অমনোযোগী হয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা যাবে না।
৫. অপরিস্কার লেখা দেখে অধৈর্য হওয়া যাবে না এবং সুন্দর লেখা বা অপরিস্কার লেখার জন্য অধিক/ কম নম্বর প্রদান করা যাবে না।
বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় বিষয়ের নমুনা মার্কিং স্কিম
(ক) বহুনির্বাচনী অভীক্ষা পদ:
বি: দ্র: প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১নম্বর করে পাবে। কোন অভীক্ষা পদের সঠিক উত্তরসহ একাধিক উত্তরে টিক চিহ্ন দিলে, শিক্ষার্থী কোন নম্বর পাবে না। সঠিক উত্তরের ডানে প্রদত্ত ঘরের ভিতরে, বামে, ডানে টিক দিলে উত্তর সঠিক হয়েছে হলে গন্য হবে।
অভীক্ষা পদ-১. টিউবয়েলের আর্সেনিকযুক্ত পানি দীর্ঘদিন পান করলে নিম্নের কোন রোগটি হতে পারে ? নম্বর-১
(ক) ডায়রিয়া
(খ) ক্যান্সার
(গ) সর্দি
(ঘ) যক্ষা
উত্তর: (খ) ক্যান্সার
অভীক্ষা পদ-২. শিশুশ্রম বন্ধ হলে কী হবে? নম্বর- ১
(ক) দেশের আয় বৃদ্ধি পাবে
(খ) শিশু পাচার বন্ধ হবে
(গ) শিশুদের অধিকার রক্ষা হবে
(ঘ) কলকারখানার উৎপাদন বাড়বে
উত্তর: (গ) শিশুদের অধিকার রক্ষা হবে
অভীক্ষা পদ-৩. তুমি বাড়ীর নিকটবর্তী মাঠে খেলতে যাবার পথে দেখলে এলাকার লোকজন মিলে ভা্গংা রাস্তা মেরামত করছে। এক্ষেত্রে তুমি কী করবে?
(ক) অন্য রাস্তা দিয়ে খেলতে যাব
(খ) রাস্তা মেরামতের কাজে সাহায্য করব
(গ) রাস্তা মেরামতের কাজ দেখব
(ঘ) রাস্তা মেরামতে অন্যকে সাহায্য করতে বলবো
উত্তর: (খ) রাস্তা মেরামতের কাজে সাহায্য করব
(খ) কাঠামোবদ্ধ অভীক্ষা পদ (সিআরকিউ):
অভীক্ষা পদ -১. নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার ৫টি অবদান লিখ।
উত্তর: নারী উন্নয়নে বেগম রোকেয়ার ৫টি অবদান হল:
ক.মুসলিম নারীদেরকে শিক্ষিত (ও সচেতন) করার মাধ্যমে তাদের অধিকার আদায়ে সহায়তা দান।
খ.নারী সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য অনেক পুস্তক রচনা করা।
গ.নারী শিক্ষা প্রসারের জন্য মুসলিম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা।
ঘ.মুসলিম মহিলা ট্রেনিং স্কুল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নারীদেরকে আধুনিক রান্না, সেলাই ও সন্তান প্রতিপালনে দক্ষ হতে সহায়তা করেছিলেন।
ঙ.মুসলিম নারীদেরকে সমাজের কঠোর পর্দা প্রথা ভেঙ্গে সমাজে স্বাভাবিকভাবে চলার সুযোগ করে দেয়া।
নির্দেশনা: উত্তর কলামে প্রদত্ত উত্তরগুলোর যে কোন ৫ টি অথবা প্রদত্ত অভীক্ষার জন্য যথার্থ উত্তর লিখতে পারলে প্রতিটির জন্য ১ নম্বর করে পাবে। বানান ভুলের কারণে অর্থের পার্থক্য না হলে কোন নম্বর কাটা যাবে না।
অভীক্ষা পদ-২. তুমি সমাজের সকল শ্রমজীবি মানুষকে কেন শ্রদ্ধা করবে তার ৩ টি কারণ লিখ? উত্তর: আমি সমাজের সকল শ্রমজীবি মানুষকে শ্রদ্ধা করব। কারণ:
ক. সমাজে সুষ্ঠু ও সুন্দর জীবন যাপনের জন্য আমরা শ্রমজীবিদের ওপর নির্ভরশীল।
খ. শ্রমিকরাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি।
গ. শ্রমিককদের কারণেই সমাজ ও রাস্ট্রীয় কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে চলতে পারে।
ঘ. আমাদের প্রতিদিনের সকল কাজে কোন না কোনভাবে শ্রমিকদের ওপর নির্ভরশীল।
ঙ. কোন দেশের সার্বিক উন্নয়ন নির্ভর করে দেশের শ্রমিক শ্রেনীর সেবার মানের ওপর।
নির্দেশনা: উত্তর কলামে প্রদত্ত উত্তরগুলোর যে কোন ৩ টি অথবা প্রদত্ত অভীক্ষার জন্য যথার্থ উত্তর লিখতে পারলে প্রতিটির জন্য ১ নম্বর করে পাবে। বানান ভুলের কারণে অর্থের পার্থক্য না হলে কোন নম্বর কাটা যাবে না।
অভীক্ষা পদ -৩. তোমার শ্রেণিতে ক্লাশ ক্যাপ্টেন নির্বাচন করতে হবে। এক্ষেত্রে তুমি যাকে যোগ্য মনে করে ভোট দিবে তার পাঁচটি গুন উল্লেখ কর।
উত্তর: ক্লাশ ক্যাপ্টেন হবার জন্য নিম্নের ৫টি গুন থাকা প্রয়োজন। যথা:
১. সবার সাথে মিশতে পারা
২. স্পষ্ট ও সুন্দর করে কথা বলা
৩. দায়িত্বশীল
৪. সৎ ও ন্যায়বান
৫. পরোপকারী।
নির্দেশনা: উত্তর কলামে প্রদত্ত উত্তরগুলোর যে কোন ৫ টি অথবা প্রদত্ত অভীক্ষার জন্য যথার্থ যে কোন উত্তর লিখতে পারলে প্রতিটির জন্য ১ নম্বর করে পাবে। বানান ভুলের কারণে অর্থের পার্থক্য না হলে কোন নম্বর কাটা যাবে না।
