অধ্যায়: শিক্ষা ও গ্রন্থাগার, সেকশন-১.৮: গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা
ক্লাস-১০: গ্রন্থাগার স্টক টেকিং, ক্যাটালগ, আদর্শ গ্রন্থাগারের বিধিবিধান, এবং ডিজিটাল লাইব্রেরি
ক্লাসের আলোচিত বিষয়:
৭) স্টক টেকিং কী?
৮) গ্রন্থাগার স্টক টেকিং এর প্রয়োজনীয়তা কী?
৯) মজুত যাচাই বা স্টক টেকিং এর সুবিধাগুলো লিখুন।
১০) ক্যাটালগ কী? ক্যাটালগ কয় প্রকার ও কী কী? ক্যাটালগে কী কী বিষয় লিপিবদ্ধ থাকে?
১১) লাইব্রেরির ক্ষেত্রে ক্যাটালগ কেন প্রয়োজন হয়? এর সুবিধা ও অসুবিধা লিখুন।
১২) আদর্শ গ্রন্থাগারের বিধিবিধানসমুহ উল্লেখ করুন। লাইব্রেরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় লিখুন।
১৩) ডিজিটাল লাইব্রেরি কি? এর সুবিধা ও অসুবিধা লিখুন।
১৪) ডিজিটাল লাইব্রেরি এর পরিধি লিখুন।
১৫) ডিজিটাল লাইব্রেরি ও প্রচলিত লাইব্রেরির মধ্যে পার্থক্য লিখুন।
৭) স্টক টেকিং কী?
স্টক টেকিং বা মজুত যাচাই:
মজুত যাচাই বলতে কোন প্রতিষ্ঠানের সংগৃহীত সামগ্রীর অস্তিত্ব পরীক্ষা ও নিরীক্ষণকে বুঝিয়ে থাকে। গ্রন্থাগারের ক্ষেত্রে মজুত যাচাই বলতে একটি গ্রন্থাগারের সংগৃহীত গ্রন্থ, ডকুমেন্ট, সাময়িকী ও অন্যান্য উপকরণাদির অস্তিত্বের হিসাব করা হয়। অর্থাৎ গ্রন্থাগারের জন্য সংগৃহীত উপকরণাদি ঠিকমত আছে কিনা তা মজুত যাচাইয়ের মাধ্যমে জানা যায়।
৮) গ্রন্থাগার স্টক টেকিং এর প্রয়োজনীয়তা কী?
মজুত যাচাই বা স্টক টেকিং এর প্রয়োজনীয়তা:
- স্টক টেকিং এর মাধ্যমে নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া গ্রন্থগুলোকে শনাক্ত করা।
- কোন বই ভুলক্রমে অন্যকোন সেল্ফ বা আলমারীতে চলে গেছে কিনা সেই গ্রন্থগুলোকে শনাক্ত করা।
- বাতিলযোগ্য গ্রন্থগুলোকে শনাক্ত করা।
- নতুন নতুন কী ধরণের বই সংগ্রহে নেই তা যাচাই করে নতুন বই ক্রয় বা সংগ্রহের তালিকা তৈরি করা।
- পুরানো সংস্করণের বই পরিবর্তন করে নতুন সংস্করণ সংরক্ষণ করা।
৯) মজুত যাচাই বা স্টক টেকিং এর সুবিধাগুলো লিখুন।
মজুত যাচাই বা স্টক টেকিং এর সুবিধা:
- ক্যাটালগ হালফিল করা যায়।
- হারিয়ে যাওয়া তালিকা তৈরি করে তা সংশোধন করা যায়।
- হারিয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ ও চাহিদা আছে এমন গ্রন্থগুলো সংগ্রহ করা যায়।
- হারিয়ে যাওয়ার কারণগুলো উদঘাটন করে ভবিষ্যতে ক্ষতি কমানো যায়।
- পুরানো সংস্করণ ও চাহিদাহীন গ্রন্থ প্রয়োজন অনুযায়ী বাতিল করা যায়।
- স্থানচ্যুত গ্রন্থগুলোকে পুনর্বিন্যাস করা যায়।
- ছেঁড়া ফাটা গ্রন্থগুলোকে শনাক্ত করে বাঁধাইয়ের ব্যবস্থা করা যায়।
১০) ক্যাটালগ কী? ক্যাটালগ কয় প্রকার ও কী কী? ক্যাটালগে কী কী বিষয় লিপিবদ্ধ থাকে?
ক্যাটালগ হলো একটি গ্রন্থাগারের সংরক্ষিত গ্রন্থাবলীর সুষ্ঠু ও সুসংবদ্ধ তালিকা। এতে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি বা বিধান অনুসারে বইয়ের তালিকা প্রস্তুত করা হয়ে থাকে। এর উদ্দেশ্য হলো একটি লাইব্রেরিতে কোন কোন ধরনের কী কী পুস্তক এবং কোন কোন লেখকের কী কী পুস্তক আছে তা পাঠক এবং ব্যবহারকারীদের সামনে বিশেষ বিবরণের মাধ্যমে তুলে ধরা। ব্যবহারকারী ক্যাটালগের মাধ্যমে তার কাঙ্খিত বইপত্রের সন্ধান পায় বলে ক্যাটালগের অপর নাম হলো পুস্তক সম্ভারের চাবিকাঠি।
ক্যাটালগের প্রকারভেদ:
দৈহিক গঠন অনুযায়ী ক্যাটালগ ৩ প্রকার। যথা-
১। বুক ক্যাটালগ/রেজিস্টার ক্যাটালগ
২। শিফ ক্যাটালগ
৩। কার্ড ক্যাটালগ।
ক্যাটালগে যে যে বিষয় লিপিবদ্ধ থাকে:
- বই বা উপকরণের লেখকের নাম,
- শিরোনাম,
- উপ-শিরোনাম,
- সংস্করণ,
- প্রকাশের স্থান,
- প্রকাশক,
- প্রকাশের তারিখ,
- পৃষ্ঠা,
- সম্পাদক,
- অনুবাদক,
- সংগ্রাহক,
- সংকলক,
- যুগ্ম লেখক,
- বিষয় ও সম্ভাব্য তথ্যাবলি ইত্যাদি।
১১) লাইব্রেরির ক্ষেত্রে ক্যাটালগ কেন প্রয়োজন হয়? এর সুবিধা ও অসুবিধা লিখুন।
ক্যাটালগের প্রয়োজনীয়তা:
- ক্যাটালগের মাধ্যমে বইয়ের সঠিক পরিচিতি তুলে ধরতে,
- বইয়ের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে,
- দ্রুততম সময়ে অসংখ্য বইয়ের মধ্যে থেকে বই খুঁজে পেতে,
- গ্রন্থাগারিক ও ব্যবহারকারী উভয়ের সময় বাঁচাতে,
- সংশ্লিষ্ট লাইব্রেরিতে কোন কোন বই আছে না নেই সে সম্পর্কে অবগত হতে,
- গবেষণার কাজকে ত্বরান্বিত করতে।
ক্যাটালগের সুবিধা:
- ক্যাটালগের মাধ্যমে বইয়ের সঠিক পরিচিতি তুলে ধরা যায়।
- বইয়ের সঠিক অবস্থান জানা যায়।
- দ্রুততম সময়ে অসংখ্য বইয়ের মধ্যে থেকে বই খুঁজে পাওয়া যায়।
- গ্রন্থাগারিক ও ব্যবহারকারী উভয়ের সময় ও শ্রম লাঘব হয়।
- কোন কোন বই আছে না নেই সে সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়।
ক্যাটালগের অসুবিধা:
- গ্রন্থাগারিককে প্রচুর পরিশ্রম করতে হয়।
- দক্ষ গ্রন্থগারিকের পাশাপাশি দক্ষ জনবলের প্রয়োজন হয়।
- ক্যাটালগ হারিয়ে গেলে তাৎক্ষণিকভাবে সঠিক তথ্য প্রদানে সমস্যা হয়।
১২) আদর্শ গ্রন্থাগারের বিধিবিধানসমুহ উল্লেখ করুন। লাইব্রেরি ব্যবহারের ক্ষেত্রে কী কী বিষয় সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় লিখুন।
গ্রন্থাগার জ্ঞানচর্চার আদর্শ স্থান। কিভাবে লাইব্রেরি ব্যবহার করতে হয় সে সম্পর্কে কিছু বিধিবিধান থাকলে এর ব্যবহারকারীদের জন্য সুবিধা হয়। অনেক সময় এগুলো না জানার কারণে ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ বিব্রত বোধ করেন এবং লাইব্রেরি ব্যবহারে তাদের অনেক আগ্রহ কমে যায়। প্রতিটি গ্রন্থাগার সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালনার জন্য নিজস্ব নিয়মকানুন থাকা অত্যন্ত জরুরি যা সকলের জন্য প্রযোজ্য।
আদর্শ গ্রন্থাগারের বিধিবিধান ও লাইব্রেরি ব্যবহারের নিয়মাবলী:
১) গ্রন্থাগারের নাম: গ্রন্থাগারের নিজস্ব নাম থাকবে।
২) সময়সূচি: পাঠকদের চাহিদার প্রতি লক্ষ্য রেখে বিশেষ করে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্লাসের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সময়সূচি করা যেতে পারে। সময়সূচি যাই হোক গ্রন্থাগার বন্ধ হওয়ার ৩০ মিনিট পূর্বেই লেনদেন সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
৩) ছুটি: অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ন্যায় গ্রন্থাগারেও সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনবোধে প্রচলিত সাপ্তাহিক ছুটির দিন না করে অন্য যে কোন দিন ছুটি ধার্য করতে পারে।
৪) প্রবেশাধিকার: গ্রন্থাগারের সকল সদস্যেরই প্রবেশাধিকার স্বীকৃত। এর বাইরে কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে প্রবেশের অনুমতি দিতে পারেন।
৫) বয়স: বয়স্কদের জন্য কোন বয়সসীমা নেই। তবে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বয়সসীমা থাকা উচিত।
৬) বই ধার বা লেন-দেন সম্পর্কিত-
ক) সদস্য হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিকে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে।
খ) প্রত্যেক সদস্যকে সদস্যকার্ড বা গ্রাহককার্ড ইস্যু করতে হবে।
গ) বই ইস্যু করার সময় সদস্যকার্ড অবশ্যই কাউন্টারে দেখাতে হবে।
ঘ) সদস্যকার্ড হারিয়ে গেলে অনতিবিলম্বে কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে এবং ডুপ্লিকেট কার্ড ইস্যু করার জন্য আবেদন জানাতে হবে। নিয়মানুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা দিলে কর্তৃপক্ষ ডুপ্লিকেট কার্ড ইস্যু করবেন।
ঙ) নির্দিষ্ট পরিমাণ বই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইস্যু করা হবে।
চ) নির্ধারিত সময়ে বই জমা না দিলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য নির্ধারিত হারে জরিমানা দিতে পাঠক বাধ্য থাকবেন।
ছ) ইস্যুকৃত বই সর্বোচ্চ এক থেকে দুই বার রিনিউ করা হবে এবং রিনিউ করার সময় অবশ্যই কাউন্টারে জমা দিতে হবে।
জ) বই ক্ষতি সাধিত হলে নতুন বই ক্রয় করে দিতে হবে বা বর্তমান বাজারমূল্যে দ্বিগুণ মূল্য পরিশোধ করতে পাঠক বাধ্য থাকবেন।
ঝ) রেফারেন্স ও দুষ্প্রাপ্য বই, পত্রিকা ও সাময়িকী ইস্যু করা হবে না।
ঞ) গ্রন্থাগারিক কোন কারণ না দেখিয়েই যে কোন বই ইস্যু বন্ধ করে দিতে পারেন বা ইস্যুকৃত বই ডিউ ডেট এর পূর্বেই সদস্যদের কাছ থেকে ফেরত চাইতে পারেন এবং এক্ষেত্রে সদস্যগণ ফেরত দিতে বাধ্য থাকবেন।
৭) সাধারণ বিধি :
ক) গ্রন্থাগার কমিটি বা গ্রন্থাগারিক যে কোন ব্যক্তিকে কোন কারণ না দেখিয়েই গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করতে পারেন বা বিশেষ সুযোগ দিতে পারেন।
খ) প্রত্যেক পাঠক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাধ্য থাকবেন। তাদের আচরণ হবে ভদ্র ও সুন্দর।
৮) সদস্যকার্ড/গ্রাহককার্ড হস্তান্তরযোগ্য নয়।
৯) পোষা প্রাণী নিয়ে গ্রন্থাগারে প্রবেশ নিষিদ্ধ।
১০) লাঠি, ছাতা, বক্স, ফাইল, ব্যক্তিগত বই বা অন্য যে কোন বস্তু গ্রন্থাগারের বা পাঠ কক্ষের ভিতরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। কাউন্টারে জমা দিতে হবে।
১১) গ্রন্থাগারের ভিতরে ঘুমানো নিষিদ্ধ।
১২) গ্রন্থাগারের ভেতরে ধূমপানসহ অন্যান্য খাবার নিষিদ্ধ এবং নীরবতা পালন বাঞ্ছনীয়।
১৩) বই বা অন্য যে কোন সামগ্রীর কোন ধরনের ক্ষতি করা যাবে না। যদি কোন ধরনের ক্ষতি হয় তাহলে ক্ষতিপূরণ দিতে বাধ্য থাকবেন।
১৩) ডিজিটাল লাইব্রেরি কি? এর সুবিধা ও অসুবিধা লিখুন।
লাইব্রেরি হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে মুদ্রিত বই, সাময়িকী, বিভিন্ন প্রকার শিক্ষণ-শেখানো সামগ্রীকে সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করে পাঠকের ব্যবহার-উপযোগী করে রাখা হয়। আর ডিজিটাল লাইব্রেরি হলো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে একত্রে সংগঠিত ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যন্ত্রের সহায়তায় সহজলভ্য উপকরণসমূহের সমষ্টি। অর্থাৎ ইন্টারনেট ও প্রযুক্তি মাধ্যমে ব্যবহার উপযোগী লাইব্রেরিকে ডিজিটাল লাইব্রেরি বলা হয়। পাঠক ইন্টারনেট ব্যবহার করে খুব সহজেই ডিজিটাল লাইব্রেরিতে প্রবেশ করে তার প্রয়োজনীয় বই, জার্নাল, পত্রিকা, মানচিত্র, অডিও এবং ভিডিও ফাইল ইত্যাদি খুঁজে পায়।
ডিজিটাল লাইব্রেরির সুবিধা:
- যখন ইচ্ছে তখন ব্যবহার করা যায় অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা খোলা থাকে।
- বাসা, অফিস ও ভ্রমণকালিন সময়েও অনায়ানে ব্যবহার করা যায়।
- অনলাইনের সাহায্যে বই, জার্নাল, পত্র-পত্রিকা বা সাময়িকী ইত্যাদিতে প্রবেশাধিকারের সুবিধা থাকে।
- প্রচলিত লাইব্রেরির চেয়ে ডিজিটাল লাইব্রেরিতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লাইব্রেরি সার্ভিস চার্জেই বই সংগ্রহ করা যায়।
- সফ্ট কপি হওয়ায় অনলাইনে যে কোনো ডকুমেন্ট গ্রহণ ও শেয়ার করা যায়।
- প্রকাশকদের কাছ থেকে প্রকাশনাবিষয়ক আগাম সংবাদ পাওয়া যায়।
- অনলাইন ক্যাটালগ সুবিধা থাকায় ব্যবহারকারী নিজেই বই খুঁজে পেতে পারে, লাইব্রেরিয়ানের সাহায্য দরকার হয় না।
- প্রয়োজনে প্রিন্ট করে নেওয়া যায় অথবা ডাউনলোড করে স্থায়ীভাবে সংরক্ষণ করা যায়।
ডিজিটাল লাইব্রেরির অসুবিধা:
- ভাইরাসের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ বা ফাইল নষ্ট হতে পারে।
- তথ্যের গুণগত মানে দূর্বলতা থাকতে পারে।
- প্রযুক্তিগত রেডিয়েশনের কারণে স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি থাকে।
- প্রিন্ট করা বই পড়ার মতো আরামদায়ক নাও লাগতে পারে।
১৪) ডিজিটাল লাইব্রেরি এর পরিধি লিখুন।
ডিজিটাল লাইব্রেরি এর পরিধি:
- সশরীরে যেতে হয় না,
- ২৪/৭ ঘন্টা সেবা পাওয়া যায়,
- বিভিন্ন মাধ্যমে প্রবেশ করা যায়। যেমন- কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ফ্যাবলেট, স্মার্ট ফোন এবং ই-বুক রিডার ডিভাইস।
- তথ্যের অবাধ প্রবাহ,
- সংরক্ষণযোগ্য,
- সহজে প্রবেশযোগ্য।
১৫) ডিজিটাল লাইব্রেরি ও প্রচলিত লাইব্রেরির মধ্যে পার্থক্য লিখুন।
ডিজিটাল লাইব্রেরি ও প্রচলিত লাইব্রেরির মধ্যে পার্থক্য:
| ডিজিটাল লাইব্রেরি | প্রচলিত লাইব্রেরি |
| ১. ডিজিটাল লাইব্রেরি হলো ইলেকট্রনিক মাধ্যমে একত্রে সংগঠিত ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যন্ত্রের সহায়তায় সহজলভ্য উপকরণসমূহের সমষ্টি যা অনলাইন পাঠকের ব্যবহার-উপযোগী করে রাখা হয়। | ১. প্রচলিত লাইব্রেরি হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে মুদ্রিত বই, সাময়িকী, বিভিন্ন প্রকার শিক্ষণ-শেখানো সামগ্রীকে সুশৃঙ্খলভাবে সংরক্ষণ করে পাঠকের ব্যবহার-উপযোগী করে রাখা হয়। |
| ২. গ্রন্থাবলী ও সামগ্রীর সফ্টকপি রাখা হয়। | ২. গ্রন্থাবলী ও সামগ্রীর প্রকাশিত কপি রাখা হয়। |
| ৩. বর্ণক্রমিকভাবে ক্যাটালগ তৈরি করা থাকে। | ৩. কার্ডের উপর গ্রন্থকারের নাম, প্রকাশক ইত্যাদির অন্তর্ভূক্ত করে ক্যাটালগ তৈরি করা থাকে। |
| ৪. হাইপারলিংক, কী-ওয়ার্ড ইত্যাদিতে বিন্যস্ত করা থাকে ফলে সহজেই একই ধরণের তথ্য সম্পর্কিত নির্দেশ করে। | ৪. একই ধরণের গ্রন্থের তাক বা শেল্ফ আলাদা করা থাকে যাতে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। যেমন- সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ইত্যাদি। |
| ৫. স্ব-শরীরে লাইব্রেরিতে যেতে হয় না। যেকোন স্থান থেকে যেকোন সময় প্রবেশ করা যায়। | ৫. পাঠক বা ব্যবহারকারীকে স্ব-শরীরে লাইব্রেরিতে যেতে হয়। |
| ৬. সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে না। | ৬. সাধারণত সাপ্তাহিক বন্ধ থাকে। |
| ৭. ইন্টারনেট সংযোগ ও ডিজিটাল ডিভাইস প্রয়োজন হয় যা ক্রয় করতে হয়। | ৭. কোন ডিভাইস বা ইন্টারনেট প্রয়োজন হয় না। |
| ৮. ডিজিটাল সাক্ষর হতে হয় ফলে প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা নেই এমন পাঠক ব্যবহার করতে পারে না। | ৮. ডিজিটাল সাক্ষর বা প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণার দরকার থাকে না। |


