পেশাগত শিক্ষা (২য় খন্ড); শিখনের ক্ষেত্র - Proshikkhon

পেশাগত শিক্ষা (২য় খন্ড); শিখনের ক্ষেত্র

অধ্যায়-০১: শিক্ষার্থীর শিখন: শিখনের ক্ষেত্র ও শিখন তত্ত্ব

সেশন-০১: শিখনের ক্ষেত্র ও শিখন তত্ত্ব

ক্লাসের আলোচ্য বিষয়:

  • শিখনের ক্ষেত্র (Learning Domain) কী? শিখনের ক্ষেত্র কত প্রকার ও কী কী?
  • জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের উপক্ষেত্র কয়টি ও কী কী?
  • বেঞ্জামিন ব্লুমের তত্ত্বের আলোকে জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রগুলোর বর্নণা দিন।
  • আবেগীয় ক্ষেত্র কী?
  • আবেগীয় ক্ষেত্রের ৫টি উপ-ক্ষেত্র এর নামগুলো লিখুন।
  • মনোপেশীজ ক্ষেত্র কী?
  • মনোপেশীজ ক্ষেত্রের উপক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করুন।
  • জ্ঞানমূলক ক্ষেত্র-এর উপক্ষেত্রসমূহে ব্যবহৃত ক্রিয়াপদসমূহ।

শিখনের ক্ষেত্র (Learning Domain) কী? ডোমেইন কত প্রকার ও কী কী?

শিখনের ক্ষেত্র (Learning Domain):

শিক্ষা মানেই হচ্ছে আচরণের কাঙ্খিত পরিবর্তন। আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ প্রফেসর বেঞ্জামিন স্যামুয়েল ব্লুম ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মী মিলে ১৯৫৬ সালে ‘Taxonomy of Educational Objectives’ নামে একটি গ্রন্থ প্রকাশ করেন। উক্ত গ্রন্থে শিখনের আলাদা আলাদা ক্ষেত্র ( Learning Domain) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাঁদের মতে ব্যক্তি যেভাবে শেখে তা নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। তবে শিখনের উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্যবস্তু (Goal) নির্ধারণ করা গেলে তার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যক্তির শিখনের অগ্রগতি (Performance) পরিমাপ করা সম্ভব। ব্লুমের মতে একটি বিষয়বস্তু থেকে শিক্ষার্থী শুধু জ্ঞানই অর্জন করে না বরং ঐ জ্ঞান সংশ্লিষ্ট আরও অনেক দক্ষতা অর্জন করে থাকে।  ব্লুম শিখনের ক্ষেত্রকে ৩ ভাগে বিভক্ত করেছেন। শিখনের ক্ষেত্রগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগ করা হয়। যেমন-

১. বুদ্ধিবৃত্তিক বা জ্ঞানমূলক ক্ষেত্র (Cognitive Domain),

২. আবেগিক ক্ষেত্র (Affective Domain) এবং

৩. মনোপেশীজ ক্ষেত্র (Psychomotor Domain)।

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের উপক্ষেত্র কয়টি ও কী কী?

জ্ঞান এবং এর বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা জ্ঞানীয়ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। কোন টেক্সট (ছবি, অনুচ্ছেদ) দেখে, পড়ে বা শুনে সংশ্লিষ্ট টেক্সেটের তথ্য উপস্থাপন করা, স্মরণ করা বা তথ্য বিশ্লেষণ করার বিষয়টি জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের অন্তর্গত। এটিকে মানুষের মাথার সঙ্গে তুলনা করা যায়। কেননা চিন্তার কাজগুলো মানুষ মাথার দ্বারা করে থাকে।

আমাদের যে চিন্তন বা বুদ্ধিবৃত্তিক দক্ষতা যেমন- কোন কিছু মনে রাখতে পারা, পড়ে বা শুনে বুঝতে পারা, বিভিন্ন বিষয়ের মধ্যে তুলনা করতে পারা, ব্যাখ্যা করতে পারা ইত্যাদি দক্ষতাই হচ্ছে জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রের অংশ। জ্ঞানীয় বা বুদ্ধিবৃত্তিক ক্ষেত্র ব্যক্তি বা শিক্ষার্থীর জ্ঞান এবং এর বিকাশের সাথে সম্পর্কিত। সাধারণত একজন শিক্ষক শ্রেণি শিখন শেখানো কাজে শিক্ষার্থীর যেসব শিখন উদ্দেশ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকেন তার বেশির ভাগই জ্ঞানীয় ক্ষেত্রের অন্তর্ভূক্ত।

শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশের জন্য প্রয়োজন উ‪চতর চিন্তনমূলক শিখনের সুযোগ। চিন্তন প্রক্রিয়ার পার্থক্য অনুযায়ী একে আবার ৬টি উপভাগে ভাগ করা হয়েছে। যথা:

১. জ্ঞান (Knowledge),

২. বোধগম্যতা (Comprehension),

৩. প্রয়োগ (Application),

৪. বিশ্লেষণ (Analysis),

৫. সংশ্লেষণ (Synthesis), এবং

৬. মূল্যায়ন (Evaluation)।

বেঞ্জামিন ব্লুমের তত্তের আলোকে জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রগুলোর বর্নণা দিন।

নিম্নে বেঞ্জামিন ব্লুমের তত্তের আলোকে জ্ঞানমূলক ক্ষেত্রগুলোর বর্নণা করা হলো:

১. জ্ঞান (Knowledge): জ্ঞান হলো কোনো বিষয়ে তথ্য জেনে প্রয়োজনে স্মরণ করার সামর্থ্য। অর্থাৎ কোন বিষয়ের তথ্য, তত্ত্ব, সূত্র, সংজ্ঞা, নীতি ইত্যাদি মুখস্থ করে শিক্ষার্থী কতটুকু স্মরণ বা পুনর্ব্যক্ত করতে পারল তার সামর্থ্য বোঝায়।

২. বোধগম্যতা (Comprehension): বোধগম্যতা হলো কোন কিছু বোঝার সামর্থ্য। শিক্ষার্থী কোনো বিষয় শিখে তার অর্থ বা মূলভাব কতটুকু বুঝতে বা আয়ত্ত করতে পারল সেই সামর্থ্যকে বোঝায়।

৩. প্রয়োগ (Application): প্রয়োগ হলো কোনো বিষয় সম্পর্কে অর্জিত জ্ঞান বাস্তবে কাজে লাগানোর সামর্থ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর ব্যবহারিক জ্ঞানঅর্থাৎ কোনো বিষয়ের অর্জিত জ্ঞান ও বোধগম্যতাকে তারা বাস্তব ক্ষেত্রে কতটুকু কাজে লাগাতে পারছে তার সামর্থ্যকে বোঝা যায়।

৪. বিশ্লেষণ (Analysis): বিশ্লেষণ হলো কোনো বিষয় বা ঘটনার উপাদানগুলোকে অর্থপূর্ণভাবে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্রভাবে ভাগ করার সামর্থ্য। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীর শেখা কোনো বিষয়বস্তু, কোনো ঘটনা, রূপ, সূত্র, উপাদান, নীতি বা ধারণা ইত্যাদি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রূপে ভেঙে আন্তঃসম্পর্ক বজায় রেখে উপস্থাপন করার সামর্থ্যকে বোঝায়।

৫. সংশ্লেষণ (Synthesis): সংশ্লেষণ হলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত উপাদানের সমন্বয়ে কোনো বিষয় সম্পর্কে সামগ্রিক মত বা ধারণা বা সিদ্ধান্ত প্রদান করার সামর্থ্য। এর মাধ্যমে কোনো বিষয়ের উপাদানগত বিন্যাস ও গঠন অংশের সমন্বয় বিবেচনা করে কোনো সিদ্ধান্তে আসার সামর্থ্যকে বোঝায়।

৬. মূল্যায়ন (Evaluation): বস্তুর ধারণা বা মূল্য সম্পর্কে বিচার করাই হলো মূল্যায়ন। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থী কোন বিষয় সমালোচনা, পর্যালোচনা, যুক্তি, প্রমাণ এবং তাৎপর্যগত দিক বিচার বিশ্লেষণ করে তার মূল্য বা মান যাচাই করার সমার্থ্যকে বোঝায়।

আবেগীয় ক্ষেত্র (Affective Domain) কী? আবেগীয় ক্ষেত্রের উপ-ক্ষেত্র কয়টি ও কী কী?

আবেগীয় ক্ষেত্র:

কোন বিষয় সম্পর্কে ব্যক্তির অনুভূতি, দৃষ্টিভঙ্গি বা আবেগ এক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। আবেগিক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের পরিবর্তন এবং যথাযথ গুণবিচার ও খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা বিকশিত হয়। শিখনের এই ক্ষেত্রটি ব্যক্তির আবেগ বা অনুভূতির সাথে সম্পর্কিত।মূলত শিখনের সাথে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাব, আবেগ, অনুভূতি, প্রশংসা করা এবং যথাযথ গুণবিচারকরার সামর্থ্যরে পরিবর্তন আবেগীয় ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত।

লিখিত কোন বর্ণনা থেকে প্রতিফলিত ভাবাবেগ, মূল্যবোধ ও দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সংল্লিষ্ট মূল্যবোধ দ্বারা পরিচালিত জীবনমান উন্নত করা Affective Domain এর অন্তর্ভূক্ত। এই ক্ষেত্রটিকে মানুষের হৃদয় বা মনের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কেননা ভাবাবেগের কাজটি মানুষের হৃদয় বা মন দ্বারা সংঘটিত হয়।

Krathwohl (১৯৬৪)-এর মতে, শিখনের জ্ঞানীয় ক্ষেত্রের মত আবেগীয় ক্ষেত্রও পর্যায়ক্রমিক স্তরে বিভক্ত। আবেগীয় ক্ষেত্রের ৫টি উপ-ক্ষেত্র রয়েছে, যেমন-

১. গ্রহণ করা (Reception),

২. প্রতিক্রিয়া করা (Responding),

৩. মূল্য আরোপ (Valuing),

৪. সংগঠন (Organizing), এবং

৫. মূল্যবোধের অন্তঃস্থকরণের (Internalizing values)।

আবেগীয় ক্ষেত্রের উপ-ক্ষেত্রসমূহের বর্ণনা দিন।

Krathwohl (১৯৬৪)-এর মতে, শিখনের জ্ঞানীয় ক্ষেত্রের মত আবেগীয় ক্ষেত্রও পর্যায়ক্রমিক স্তরে বিভক্ত। আবেগীয় ক্ষেত্রের ৫টি উপ-ক্ষেত্র রয়েছে, যেমন-

১. গ্রহণ করা (Reception):

কোনো কিছু শোনা, কোনো কিছুর প্রতি মনোনিবেশের ই‪ছা বা কোনো কিছু সম্পর্কে ব্যক্তির সচেতনতাকে বুঝায়। নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি বা মনোভাব কিংবা আবেগ বা অনুভূতি দিয়ে কোন কিছু গ্রহণ করা।

২. প্রতিক্রিয়া করা (Responding):

কোনো বিষয়ে ব্যক্তি বা শিক্ষার্থীর সক্রিয় অংশগ্রহণ বা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার প্রতি প্রতিক্রিয়া করার প্রবণতা। কাজের ফলাফল, প্রতিক্রিয়ায় সম্মতিদান, প্রতিক্রিয়ার ই‪ছা বা প্রতিক্রিয়ার প্রতি সš‧ষ্টির ওপর এ বিষয়টি নির্ভরশীল।

৩. মূল্য আরোপ (Valuing):

কোনো ঘটনা, বস্তু বা আচরণের ওপর মূল্য বা গুরুত্বারোপ করাকে বুঝায়। এটি সাধারণ গ্রহণযোগ্যতা থেকে শুরু করে জটিল অবস্থা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে থাকে। মূল্যারোপ ব্যক্তির মাঝে কতগুলো মূল্যবোধ অন্তঃস্থকরণের মাধ্যমে হয়ে থাকে, যা তার বাহ্যিক আচরণের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

৪. সংগঠন (Organizing):

বিচার ক্ষমতার মাধ্যমে প্রাধান্য অনুযায়ী বিভিন্ন মূল্যবোধগুলোকে সংগঠিত করার দক্ষতা। এই দক্ষতার মাধ্যমে ব্যক্তি বিভিন্ন মূল্যবোধের মধ্যে দ্ব›দ্বগুলোকে সমাধানের মাধ্যমে নিজের মাঝে অনন্য মূল্যবোধের ধারণা সৃষ্টি করে। সংগঠন দক্ষতার মাধ্যমে ব্যক্তি মূল্যবোধগুলোর মধ্যে তুলনা ও সম্পর্ক নিরূপণ করতে পারে।

৫. মূল্যবোধের অন্তঃস্থকরণের (Internalizing values):

এটি এমন একটি মূল্যবোধ, যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। শিক্ষার উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও আবেগিক অভিযোজনের যোগ্যতা তৈরা করা।

মনোপেশীজ ক্ষেত্র (Psycho-motor Domain) কী? মনোপেশীজ ক্ষেত্রের উপ-ক্ষেত্র কয়টি ও কী কী?

মনোপেশীজ ক্ষেত্র:

শারীরিক দক্ষতা (Skills) সংক্রান্ত বিষয় মনোপেশীজ ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত। টেক্সেটে বর্ণিত তথ্য এবং তথ্য দ্বারা সংগঠিত মূল্যবোধ বা দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে অর্জিত দক্ষতার প্রয়োগ Psycho-motor Domain এর অন্তর্ভূক্ত (পারা)। এটিকে মানুষের শরীরের সঙ্গে তুলনা করা যায়। কেননা চিন্তার প্রতিফলন মানুষ শারীরিকভাবে ঘটিয়ে থাকে।

মনোপেশীজ ক্ষেত্রের উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য মন ও পেশী একসাথে কাজ করে। এটি অনেকটা হাতে কলমে কাজ করার সাথে সম্পর্কযুক্ত। একে সাধারণভাবে বলা হয় দক্ষতা। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের যেসব আচরণ পেশীজ ক্রিয়া বা কর্মের অন্তর্ভুক্ত এবং যার জন্য স্নায়ুপেশীজ সমন্বয় প্রয়োজন তাদেরকে মনোপেশীজ ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

Dave (১৯৭৪) এর মতে মনোপেশীজ ক্ষেত্রের কয়েকটি উপক্ষেত্র রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

১. নকলকরণ (Imitation),

২. নির্দেশনাভিত্তিক কাজ (Manipulation),

৩. সঠিকতা (Precision),

৪. সমন্বয়সাধন (Articulation), এবং

৫. স্বাভাবিকীকরণ (Naturalization)।

মনোপেশীজ ক্ষেত্রের উপক্ষেত্রগুলো উল্লেখ করুন।

Dave (১৯৭৪) এর মতে মনোপেশীজ ক্ষেত্রের কয়েকটি উপক্ষেত্র রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-

১. নকলকরণ (Imitation): সম্পাদিত কোন কাজ দেখে তা হুবহু করার চেষ্টা করা।

২. নির্দেশনাভিত্তিক কাজ (Manipulation): অনুকরণ না করে নির্দেশনা অনুযায়ী কোন কাজ করা।

৩. সঠিকতা (Precision): পূর্বে করা কোন কাজ নির্ভুলভাবে পুনরায় করা। কোন ক্রিয়া বা কাজকে তার অনুপাত ও সঠিকতা বজায় রেখে নিজের মত সম্পাদন করা।

৪. সমন্বয়সাধন (Articulation): বিভিন্ন কাজের মধ্যে সমন্বয় সাধন, ধারাবাহিকতা ও সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

৫. স্বাভাবিকীকরণ (Naturalization): স্বল্প শ্রম (কায়িক ও মানসিক) ও স্বল্প সময়ে কোন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা। এই স্তরে দক্ষতা স্বভাবের অংশ হওয়ায় অতি সহজেই কাজ সম্পাদন করা যায়।

উল্লেখ্য, শিখনের তিনটি ক্ষেত্রের মধ্যে Cognitive Domain এর অন্তর্গত অর্জনসমূহ (Achievement) কাগজে-কলমে পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা সম্ভব। অন্যদিকে, Psycho-motor Domain ও Affective Domain এর অন্তর্গত অর্জনসমূহ গতানুগতিক পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট Domain দুইটির অন্তর্গত অর্জন মূল্যায়ন করার জন্য শিক্ষার্থীর আচরনিক পরিবর্তনের ধারাবাহিক দক্ষতা প্রদর্শন পরিমাপ করতে হবে, যা বিদ্যালয়ভিত্তিক মূল্যায়ন প্রক্রিয়া দ্বারা সম্ভব।

জ্ঞানমূলক ক্ষেত্র -এর বিভিন্ন উপ-ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ক্রিয়াপদ (Action Verbs) সমূহের তালিকা:

প্রিয় শিক্ষকবৃন্দ, এই ক্রিয়াপদগুলো জানা থাকলে আপনি সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করতে পারবেন পাশাপাশি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে সক্ষম হবেন। সুতরাং পরীক্ষার জন্য নয় বরং ভালভাবে মনযোগ দিয়ে পড়ুন যাতে আপনার শিক্ষকতা পেশায় কাজে লাগাতে পারেন।

১. জ্ঞান:

কে, কী, কখন, কোথায়, কোনটি, নাম কর, তালিকা কর, মনে কর, বানান কর, উল্লেখ কর, সংজ্ঞা দাও, শনাক্ত কর, স্মরণ কর, স্বীকৃতি দাও ইত্যাদি।

২. উপলব্ধি:

ব্যাখ্যা কর, পার্থক্য নির্ণয় কর, কারণ দর্শাও, দৃষ্টান্ত দাও, প্রদর্শন কর, তুলনা কর, মতামত দাও, উপসংহার টান, প্রমাণ কর, পৃথক কর, অঙ্কন কর, উদাহরণসহ ব্যাখ্যা কর, নিজের ভাষায় বল, অনুবাদ কর, পূনর্বিন্যাস কর, মন্তব্য কর ইত্যাদি।

৩. প্রয়োগ:

তৈরি কর, নির্মাণ কর, পরীক্ষা কর, চিহ্নিত কর, কাজ দেখাও, বাছাই কর, প্রয়োগ কর, শ্রেণিবিন্যাস কর, বর্ধন কর, সম্প্রসারণ কর, উন্নয়ন কর, সম্পর্ক নির্ণয় কর, পূনর্গঠন কর, ব্যবহার কর, সমাধান কর ইত্যাদি।

৪. বিশ্লেষণ:

জরিপ কর, অংশগ্রহন কর, পার্থক্য নিরূপন কর, সরল কর, ভাগ কর, সম্বন্ধ নির্ণয় কর, অনুমান কর, শ্রেণিবিন্যাস কর, তুলনা কর, চিহ্নিত কর, অনুমান কর, সিদ্ধান্ত কর, আন্দাজ কর ইত্যাদি।

৫. সংশ্লেষণ:

সংকলন কর, সংশোধন কর, নকশা তৈরি কর, রচনা কর, সমাধান কর, পরিবর্তন কর, অনুমান কর, উদ্ভাবন কর, তৈরি কর, আলোচনা কর, কী ঘটবে বল, সংবদ্ধ কর, নির্মাণ কর, সর্বায়ন কর, গঠন কর, সংশ্লেষ কর, বিস্তার কর, সার সংক্ষেপ বা সারাংশ কর, উপসংহার টান, লিখিতভাবে প্রকাশ কর ইত্যাদি।

৬. মূল্যায়ন:

সিদ্ধান্ত দাও, মতামত দাও, সুপারিশ কর, স্বপক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি দাও, পরিমাপ কর, অগ্রগণ্যতা বিচার কর, মূল্যায়ন কর, আন্দাজ কর, বিচার কর, মানবিশিষ্ট কর ইত্যাদি।

এই বিষয়ের আরও পোস্ট দেখুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!