বাবা
-শাহাদত হোসেন সুজন
বাবার চেহারাটা ঠিক তেমন মনে পড়ে না
যতদূর মনে পড়ে, বাবা ছিল হালকা পাতলা গড়নের
মাথায় চুল ছিল না ঠিকই; কিন্তু মাথাটি ভরা ছিল
বুদ্ধিদীপ্ত চিন্তা চেতনায়…
কত দিন ভর দুপুর বেলায় বাঁশের পাটি বিছিয়ে
কখনো বা খড় বিছিয়ে উঠোন ভর্তি লোকের সমাগমে
কী মিষ্টি সুরেলা কণ্ঠে পুঁথি পাঠের আসর জমাতো…
হাতেম তাই, গহর বাদশা বানেছাপরী, সয়ভানমুল্লুক বদিউজ্জমান,
শাহানামা আর কত কিতাব তার ইয়াত্তা নেই…
বাবা কী শৈল্পিক বুননে আপন হাতে জাল বুনতো
আমি কত শতবার তা শেখার চেষ্টা করেছি; পারি নি…
বাবা ক্রমাগত গাঁথুনি দিয়ে জালের পূর্ণতা দিয়েছে
আমি পারি নি! পূর্ণতা কী সবাই দিতে পারে, তুমিই বলো বাবা?
এই জাল বিছিয়ে ডোবার জলে কত শত মাছ ধরেছি…
বলতে-আপন হাতে গড়া জিনিসের তুলনা নেই
হোক একটু মন্দ তুবু তার জুরি নেই…
প্রতিকূলতায় দৃঢ় চিত্তে কিভাবে দাঁড়াতে হয় বাবাকে দেখে শিখেছি
জীবনে হেরেছে পুরোটাই কিন্তু অন্যায়ের সঙ্গে কখনো আপোষ করেনি
ন্যায় অন্যায় ভালো মন্দ বিবেক মনুষ্যত্ব
শব্দগুলোর পরিচয় বাবার কাছেই পেয়েছি…
বাবা কোন ইট পাথুরে তৈরী কংক্রিট নয়
তবু পাশে দাঁড়ায় হিমালয় হয়ে
বাবা শ্রাবণের আকাশের কোন মেঘ নয়
তবু আমার অখন্ড আকাশে ছায়া দেয় আজীবন
বাবা মাথার উপর বটবৃক্ষের ছায়া প্রাণ জুড়ানো বাতাস…
বাবা তৃণলতার মতো জীবনের প্রতি প্রকষ্টে জড়িয়ে আছে
গুটিগুটি পা থেকে জীবন যুদ্ধের দৌড়ে শেষ রশি ছোঁয়া অবধি…
বাবা আজ দূর আকাশের নক্ষত্র
শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছো আমার দিকে
কাছে এসে প্রশান্তি দুহাত মাথায় রাখ
নিস্কুলশ হৃদয়টা দিয়ে একটু জড়িয়ে ধর…
বিনিদ্র রজনী কেটে যায় প্রতীক্ষায় চেয়ে পথ
বাবা যেন ফিরে আসে বাহক হোক সারথি রথ…
২৫ জুন ২০২১ উত্তরা, ঢাকা।