কাজ নেই তো খই ভাঁজি
-সাবেদ আল সাদ
কোলকাতা পিজি হাসপাতালের গাইনি বিভাগ সংলগ্ন চত্বরে একটি বিরাট গাছ। এই গরমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা অনেক রুগী সিরিয়াল দিয়ে গাছে ছায়ায় জুড়িয়ে নিচ্ছে। একজন মাঝবয়েসী স্ত্রীলোক লাল ব্লাউজের নিচ থেকে টিনের তোবড়ানো কৌটার মতো একটি স্তন বের করে কান্নারত বাচ্চার মুখে পুড়ে দিলেন।
হাতদুয়েক দূরে মাঝবয়েসী লোকটিই ওর হাসবেন্ড হবে মনে হচ্ছে।
লোকটি আমার দিকে পিটপিট করে তাকাচ্ছে। নির্ণয় করার চেষ্টা করছে আমি এ দেশের লোক কিনা। চোখেমুখে রাজ্যের বিরক্তি।
কাছে গিয়ে জিজ্ঞাস করলাম-
কোত্থেকে এসছেন?
বর্ধমান, চুরুলিয়া থেকে।
বেশ দূর, তবে অবাক হইনি। বর্ধমান থেকে প্রতিদিনই মানুষজন ট্রেনে করে অফিস করছে, এমনকি মালদা থেকেও। কে না জানে সারা ভারতে ট্রেন ব্যবস্থা খুব উন্নত। চুরুলিয়া খুব অনগ্রসর এলাকা, ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা নেই, তাই হয়তো এখানে আসা!
চুরুলিয়ার নজরুলকে চেনেন?
কোন নরজুল!
নরজুল না, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম।
চিনতে পারলাম না যে-
প্রতি বছর ওনার ওখানে মেলা বসে সাতদিন ব্যাপী। বক্তৃতা, গানবাজনা হয়! মানুষজন মেতে থাকে সাতদিন!
ওওও, চিনেছি চিনেছি। উনিতো বেঁচে নেই। শুনছি ওনার নাতিপুতিরা এসে গানবাজনা করে আবার চলে যায়। আমি যাইনি কখনো! আমরা একটু দূরে, ছাত্তোরে থাকিতো!
হুম! আপনি কি জানেন, উনি একজন বিখ্যাত মানুষ?
জেনে কী করব বাবু, কয়লার কাজ করি সারাদিন।
ওর স্ত্রীর দিকে তাকালাম। দাত কেলিয়ে স্বামীকে খিস্তি করছে। স্বামীর কানে যেতেই সেদিকে হুরমড়িয়ে ছুটল।