অনুগল্প-১০: বাবা পারতেন - Proshikkhon

অনুগল্প-১০: বাবা পারতেন

বাবা পারতেন

সাবেদ আল সাদ

পলিথিনের উপর দিয়ে ভেজা পায়ে হাটছি। পথ ফুরাতে চায় না। গতি বাড়ালেই পিছলে পরে যাচ্ছি দরাম করে। বাবার আবারও আনন্দচিৎকার,

কীরে, আয়!

বাবা একটা পাহাড়ের টিলায় বসে আছেন।

অনেকগুলো সাদা মানব তাকে ঘিরে নাচানাচি করছেন। তাই বোধহয় এই আনন্দচিৎকার।

বাবা জীবদ্দশায় ছিলেন একজন পরোপকারী, একনিষ্ঠ, নির্ভেজাল সাধু মানুষ। আমাকেও বানাতে চেয়েছিলেন। পারিনি! চেষ্টা যে করিনি তা নয়! যেটুকু পেয়েছি তাইবা কম কিসে! কারো ক্ষতি করতে ইচ্ছে করে না, কারো কষ্ট দেখলে মনটা ভড়কে যায়।

কিন্তু বাবার মতো হতে পারিনি।

বাবার মনের শক্তি ছিলো জমাট পাথরের মতো শক্ত, চোখ ছিলো অতসী কাঁচের মতো স্বচ্ছ। উজ্জ্বল প্রশান্ত মুখ। আহা সাধুই বটে! ঠিক যেন জালালুদ্দিন রুমি, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ কিংবা স্বামী বিবেকানন্দের মতো।

এদেরও আমি রপ্ত করেছি বই পড়ে।

বইয়ে পড়েছি আমেরিকার থাউজান্ড পার্কে স্বামীজি দাঁড়িয়ে আছে। মাথা ভর্তি চুল, অদ্ভুত সুন্দর চোখ।

বিশ্ব ধর্ম মহাসভায় ব্রাদার্স এন্ড সিস্টার বলে যখন শুরু করলেন, উপস্থিত সবাই যেন স্তব্ধ, মন্ত্রমুগ্ধ! অ মঙ্ক ফ্রম দ্যা ইস্ট।

আহঃ ওই রকম সাহস, মেধা, বাগ্মিতা কতজনের আছে!

বাবা হতে পারতেন, কিন্তু তার আগেই তিনি চলে গেলেন।

তার এ অভাব পূরণ করার শক্তি- সাহস কোনোটাই আমার নেই। বাবার ফের চিৎকারে চিন্তায় ছেদ পড়ল। কিন্তু পৌঁছবো কী করে। অনন্তকাল শুধু হাটছিই, তাও আবার পলিথিনের উপর দিয়ে। অনেক কষ্টে টিলার নিচে গিয়ে দাঁড়ালাম। আর ঘুমটাও ভেঙে গেলো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!