ভবিতব্য
–সাবেদ আল সাদ
আফতাবের মন খারাপ হলেই সে গঞ্জের সাইকেল গ্যারেজের সামনে এসে বসে থাকত। টিপু ভাইয়ের গ্যারেজ। গ্রামে বিদ্যুৎ এলেও চরাঞ্চলের রাস্তাঘাট এখনো তেমন উন্নত নয়। এখানে সাইকেলই প্রধান বাহন। বহুলোক সাইকেলে করে গঞ্জে আসে। তাদের সাইকেল টিপু ভাইয়ের গ্যারেজে রেখে বাজার-সওদা শেষে ফিরে যায়। ভাড়া দশ টাকা। টিপু ডাই রাত দশটা অব্দি সাইকেলের লিক ঝালাই সারাই করে। ভালোই চলছে টিপু ভাইয়ের।
ইন্টারে এবারও ডাব্বা, পরপর তিনবার ফেল। বাবা বকতেই পারে, কিন্তু সৎ মায়েল ঝ্যামটা আর লাঠিপেটা, সেটা কি সহ্য করা যায়!
বাবার বকুনি বিশেষ করে সৎ মায়ের অশ্রাব্য কথাবর্তায় মনটা ভেঙে পড়েছে আজ। তাই গোঁজ হয়ে বসে আছে টিপুর গ্যারেজের সামনে।
এই সংগ্রারে আরও তো চারজন ছেলেমেয়ে আছে, কিন্তু কই! তাদের বেলায় তো এসব নেই!
ডাক্তার-ইঞ্জিনিয়ার, উকিল-ব্যারিস্টার, অধ্যাপক- বৈজ্ঞানিক কত্তো কী হবার স্বপ্ন ছিলো!
ধুর! কিছুই হলো না।
একটু আগে বাবা পাশ দিয়েই গলিতে ঢুকলেন, আফতাবের দিকে তাকালেন কিন্তু কিছুই বললেন না। অভিমানে কেঁদে ফেলল আফতাব।
অনেকক্ষণ গোঁজ হয়ে পড়ে থাকল সে। কিছুটা থিতু হলে মাথায় একটা চিন্তাই এলো, নিজের জন্য কিছু একটা করতে হবে। সবার আগে টিপু ভাইয়ের কথা মনে হয় তার।
টিপু ভাই আমি কাজ শিখব। সাইকেলের লিক, ঝালাই সারাইয়ের কাজ। আপনি শেখাবেন?
টিপু আফতাবের দিকে একবার তাকালো-তারপর বিষ্ময়ে বলে উঠল, সে কীরে! আজ কী হয়েছে তোর!