অনুগল্প-০২: কোন কূলে মোর ভিড়বে তরী - Proshikkhon

অনুগল্প-০২: কোন কূলে মোর ভিড়বে তরী

কোন কূলে মোর ভিড়বে তরী

-সাবেদ আল সাদ

তিনশ টাকাই আছে। এটাই নে, মাইরী ভেবেছিলাম মানিব্যাগে আছে। এখন দেখেছি তিনশই। বুঝিস তো! পাঁচ মাস গার্মেন্টস বন্ধ।

মুখে লাথি মারি শালা, টাকা নেই তো ডাকলি ক্যান!

হারামী!

বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!

মীনা বুঝতে পারে, তর্কে লাভ নেই। টাকাটা নিয়ে রাস্তায় নামল।

ঘরে অবুঝ ছেলেটা কাঁদছে।

ভালোই চলছিল বুয়ার কাজ করে। মাসে সব মিলিয়ে আট হাজার। আহারে করোনাই সব খেলো!

বুড়া স্বামী ভীষণ মারধর করে যেদিন বের করে দিলো সেদিন ছেলেটার বয়স দুই বছর। অনেক কেঁদেছিল সে। ঢাকায় ময়মনসিংহের কাজের বুয়াদের একটা শক্ত সিন্ডিকেট আছে। ময়মনসিংহের মেয়ে মিনার বুয়ার কাজটা তাই জুটে যায় তাড়াতাড়িই।

কিন্তু কে জানত, করোনায় সব লন্ডভন্ড হয়ে যাবে!

মীনা যে বাড়িতে কাজ করতো, অতপরঃ সে সিদ্ধান্ত নিলো সেখানেই একবার চেষ্টা করবে।

কে চায়, প্রতি রাতে খারাপ লোকদের কাছে শুইতে।

কলিং বেল বাজতেই খালাম্মা ডোর মিররে দেখলেন কে এলো!

মীনাকে দেখে খুশিই হলেন খালাম্মা।

খালাম্মা, আমার কাজটার খুব দরকার।

ভালোই হলো। তোর ফোন বন্ধ ছিলো ক্যান রে?

আমারও অসুবিধা। কাল থেকে কাজে আয়।

খুশিতে মীনার হৃদপিন্ডটা লাফিয়ে উঠল আকাশে। সাথে সাথে একটা দমকা কাশি।

খালাম্মা সিটকে গেলেন ছয় ফিট দূরে। নাকমুখ ঢেকে বললেন, আরে- তোরতো করোনারে! যা যা বের হ। সুস্থ হলে আসিস।মীনা মুখ ঢেকে বলল, খালাম্মা এমনি কাশি উঠেছে। তার আগেই দরোজা সশব্দে বন্ধ হয়ে গেলো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!