খিদে
-সাবেদ আল সাদ
সত্যিই আজকের রাতটা খুব দীর্ঘ মনে হচ্ছে মুন্নির। লোকটাকে গত পাঁচ বছরে একবারের জন্যও আলাদা শুইতে দেয়নি। সেই কিনা তিন সপ্তাহ নেই। পাশের জেলায় বদলি হলেও নিজের বাসা থেকেই অফিস করছিল শান্ত। কাজের ব্যস্ততায় মাসখানেক হলো একটি বাসা ভাড়া নিয়েছে। প্রথম প্রথম সপ্তাহান্তে মুন্নির কাছে এলেও তিন সপ্তাহে একবারও আসেনি লোকটা। ফোন করলেই নানা অজুহাতে এড়িয়ে যায়!
একটা অজানা আক্রোশে কেঁপে ওঠে মুন্নি। নিজের অফিস কোন মতে শেষ করেই বাস ধরল সে। চাকুরির নিকুচি করি! দেখা পেলেই হয়, তোর কলার ধরে হিড়হিড় করে টেনে আনবো বাসায়।
শান্তর অফিসে পৌঁছিতে সন্ধ্যা পেড়িয়ে গেছে। নাইটগার্ড ছাড়া অফিসে কেউ নেই তখন। ওর কাছেই ঠিকানাটা নিয়ে পা বাড়ালো মুন্নি। ঘোরের মধ্যে আছে সে। অফিসের কাছেই বাসা। কলিং বেল টিপল, একবার, দুইবার, তিনবারের পরে যে দরোজা খুলল, তাকে দেখেই ভূত দেখার মতো অবস্থা মুন্নির।
ভূত নয়, আমিই। পাঁচ বছর আগে প্রিয় বান্ধবী হয়েও আমার হাসবেন্ডকে রূপের জাদুতে ছিনিয়ে নিয়েছিলি। বিয়ে না করেও সংসার পেতেছিলি। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে তাকে তোর কবল থেকে মুক্ত করেছি। খান্নাসি মাগী, একটা নষ্টমেয়ে।
মাঝখানেই শান্ত উপস্থিত। মুন্নির সমস্ত রাগ গিয়ে পড়ল ওর উপরে। চোখাচোখি হতেই সে লিজার মতোই বলতে লাগল- লিজাই ঠিক! তুমি একটা রাক্ষসী, পাঁচ বছরে আমার আয়ু অর্ধেকে নামিয়েছো।
কী বলবে মুন্নি! তার চোখের সামনে তখন আসমুদ্র ক্ষুধা…