গ্রাফিতি
-সাবেদ আল সাদ
বন্ধু স্বপনের সাথে টিএসসিতে আড্ডা দিয়ে উঠি উঠি করছি।
আরে! সেই মেয়েটি না! সেদিন যাকে এয়ারপোর্টে নামিয়ে দিয়েছিলাম।
স্লামালেকুম ভাই। আজকেও দেখি আছেন।
হুম। আপনিও তো এসেছেন।
আসিতো সব সময়। প্রাণের ভার্সিটি, না আসলে যে কটা ভাত খাই তাও তো হজম হতে চায় না।
কী এখনই উঠবেন? সবেতো বিকেল পাঁচটা। সময় থাকলে চলুন একটা জিনিস দেখাই।
মেয়েটির চাঁচাছোলা কথায় আমি মন্ত্রমুগ্ধ হই ঠিক সেদিনের মতোই।
ওকে চলুন।
বেশি দূর যেতে হলো না, রোকেয়া হলের গেট থেকে একটু দূরেই দাঁড়ালো মেয়েটি। দেওয়াল দেখিয়ে বলল- দেখুন। দেখলাম, দেওয়ালে তেলরঙ দিয়ে আঁকা একটা রক্তাক্ত লাশ, বুকে ঝালমুড়ি বিক্রি করার একটা ঝাঁপি পড়ে আছে আড়াআড়িভাবে। পাশে লেখা, রুখে দাঁড়াও জব্বার!
ওটা বাবার গ্রাফিতি।
সেদিন বলেছিল-ছাত্রদের দুপক্ষের পাল্টাপাল্টি গোলাগুলিতে নিহত হয়েছেন।
জানেন? এই চানাচুরওয়ালাই আমার বাবা। আর বাবার এই গ্রাফিতিটাই আমাকে এখানে এনে দাঁড় করিয়েছে। এটা আমার সংগ্রাম। এটাকে আমি স্টেবলিসড করবই।
খুব উত্তেজিত সে।
অবশ্যই করবেন, বাট অতটা ইমোশনাল হবেন না।
মেয়েটি আমার দিকে তাকালো-ইমোশন?
আপনার ইমোশন নেই, এই দেওয়ালের ইমোশন নেই, এই যে গুলিবিদ্ধ বাবা তার ইমোশন নেই। এই ইমোশনটাই আমার মোশান।
আমি ঠিকই বাবাকে ওইখান থেকে টেনে তুলবোই। প্রয়োজনে আমি পিএমের কাছে যাবো।
এমন চারিত্রিক দৃঢ়তা যার সে অবশ্যই পারবে।
আমিও দৃঢ়ভাবেই বললাম, ওকে, আজ থেকে আমিও তোমার সাথে আছি।
তাহলে আমার হাতটা শক্তভাবে ধরুন।এসো…