শিক্ষার্থী কোন একটি নির্ধারিত যোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত সমুদয় ধারণা যেমন জানা, বুঝা, প্রয়োগ, বিশ্লেষণ ও সংশ্লেষণ করতে পারা এবং ঠিকমত করা হল কিনা তা যাচাইয়ের জন্য মূল্যায়ন করে নিশ্চিত হওয়ার নাম মোটামুটিভাবে পুরোপুরি শিখন। যেমন- এক থেকে শূন্যসহ নয় পর্যন্ত সংখ্যা প্রতীকগুলো ধারাবাহিকভাবে বলতে পারা, এর যে কোনটি শনাক্ত করতে পারা এবং এর পরিমাণগত দিক নির্ভুলভাবে ব্যাখ্যা করতে পারা, দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানে এগুলোকে ব্যবহার করতে পারাকে এ সংখ্যা প্রতীকগুলো চেনার পুরোপুরি শিখন বলা যায়।
পুরোপুরি শিখন
১৯৮৬ সালে প্রণীত যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল পুরোপুরি শিখন। যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে পুরোপুরি শিখন নিশ্চিত করার জন্য গতানুগতিক বক্তৃতা পদ্ধতি পরিহার করে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা বিকাশে সহায়ক এক বাএকাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করা (যেমন পর্যবেক্ষন, শ্রেণীকরণ, প্রদর্শন, পরীক্ষণ, সমস্যা সমাধান এবং অনুসন্ধানের খেলাধুলা ও শিক্ষা সফরের মাধ্যমে শিখন)। পুরোপুরি শিখন বলতে কোন একটি যোগ্যতার অন্তর্ভুক্ত জ্ঞান, দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গি এর সবগুলো সম্পর্কে নির্ভুলভাবে জানা ও সমস্যা সমাধানে যথার্থ প্রয়োগ করতে সমর্থ হওয়াকেই বুঝায়।
পুরোপুরি শিখন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম রচনায়, শিখন সামগ্রী প্রণয়নে, শিখন শেখানো পদ্ধতি নির্বাচন ও প্রয়োগে সহায়ক শিক্ষা উপকরণ সনাক্তকরণে পুরোপুরি যোগ্যতা অর্জন পরিমাপের জন্য যোগ্যতাভিত্তিক প্রশ্নপত্র প্রণয়ন প্রয়োগ ইত্যাদি সব কয়টি দিকে সমভাবে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। কারণ এর যে কোন ধাপে শৈথিল্য বা ঘাটতি থাকলে পুরোপুরি শিখন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না। সে কারণে যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রমের পুরোপুরি শিখন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অহেতুক বিষয়বস্তুর অবতারণা পরিহার করা হয়েছে।

