ডিপিএড প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষণবিজ্ঞান
অধ্যায়-০৭: প্রাথমিক বিজ্ঞানে পাঠ পরিকল্পনা
সেশন-৭.১: প্রাথমিক বিজ্ঞানে পাঠ সংগঠন ও পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন
১) প্রাথমিক বিজ্ঞানের পাঠ সংগঠন ও পাঠ পরিকল্পনা বলতে কী বোঝায়?
প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠ সংগঠন ও পাঠ পরিকল্পনাঃ
একটি পাঠকে ফলপ্রসূ করতে হলে শিক্ষককে প্রথমেই ঐ পাঠটি নিয়ে একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা পরিকল্পনা করে নিতে হয়। একটি পিরিয়ডে একজন শিক্ষক কী কী বিষয় অন্তর্ভুক্ত করবেন তা নিয়ে তাকে বর্তমানে চিন্তা করতে হয় না কারণ শিক্ষক সহায়িকা ও শিক্ষক সংস্করণে পাঠ বিভাজন করে দেয়া হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে তা নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের নিজেদেরকেই একটি অধ্যায়কে নির্দিষ্ট সংখ্যক পাঠে বিভাজন করে নিতে হবে। এরপর প্রতিটি পাঠকে ধরে এক একটি পাঠ পরিকল্পনা করতে হবে। একটি পাঠের পরিকল্পনায় থাকে- শিক্ষার্থীরা ঐ পাঠের মধ্য দিয়ে কোন শিখনফল আর্জন করবে, শিখনফল অর্জনের জন্য কতটুকু বিষয়বস্তু উপস্থাপিত হবে, শিক্ষার্থীরা কীভাবে শ্রেণিকাজে অংশগ্রহণ করবে, শিক্ষকের ভূমিকা কী থাকবে, কত সময় ধরে শ্রেণি কার্যক্রম চলবে, কী উপকরণ ব্যবহৃত হবে এবং কীভাবে শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিখন মূল্যায়ন করা হবে ইত্যাদি। অর্থাৎ একটি পাঠ পরিকল্পনা হলো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট শিখনফল অর্জনের জন্য পাঠ পরিচালনা করার বিস্তারিত একটি লিখিত রূপরেখা।
২) প্রাথমিক বিজ্ঞানের একটি অনুসন্ধানভিত্তিক পাঠের পাঠ পরিকল্পনায় কী কী উপাদান থাকে?
প্রাথমিক বিজ্ঞানের একটি অনুসন্ধানভিত্তিক পাঠের পাঠ পরিকল্পনায় নিচের উপাদানগুলো থাকবে-
ক) পাঠ পরিচিতিমূলক তথ্য ( শিক্ষক সংস্করণে নেই তবে শিক্ষকের নিজস্ব পাঠ পরিকল্পনা থাকা দরকার)
খ) পাঠ শিরোনাম
গ) শিখনফল
ঘ) উপকরণ
ঙ) শিখন-শেখানো কার্যাবলি ( এখানে উল্লেখ থাকবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর করণীয়)
- শিক্ষার্থীদের পাঠের জন্য প্রস্তুতকরণ/ ওরিয়েন্টেশন/ প্রেষণা সঞ্চার ও আজকের পাঠের সাথে সংযোগ স্থাপন
- শিক্ষার্থীদের অনুসন্ধানমূলক কাজের পরিচিতি ও নির্দেশনা
- শিক্ষার্থীদের কাজ চলাকালীন মূল্যায়ন কীভাবে হবে
- শিক্ষার্থীদের কাজ শেষে শিখনফল সংশ্লিষ্ট মূল ধারণাসমূহ উপস্থাপন, আলোচনা বা পঠন
চ) মূল্যায়ন ও পুনরালোচনা ( পরবর্তী পাঠের ব্যাপারে নির্দেশনাও থাকতে পারে)
৩) পাঠ পরিকল্পনার বিবেচ্য বিষয়সমূহ আলোচনা করুন।
পাঠ পরিকল্পনার বিবেচ্য বিষয়ঃ
পাঠ শিরোনামঃ
এতে সাধারণত একজন শিক্ষকের পাঠ পরিচিতিমূলক তথ্যসমূহ থাকে অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানের নাম, শিক্ষকের নাম, বিষয়, শ্রেণি, শ্রেণিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা, সময় ও তারিখ।
শিখনফলঃ
শিখনফলসমূহ নির্বাচন করা হয়েছে শিক্ষাক্রম থেকে। এসসিটিবি কর্তৃক প্রণয়নকৃত শিক্ষক সহায়িকা/সংস্করণেও প্রতিটি পাঠের শিখনফল সন্নিবেশ করা হয়েছে। শিখনফলের পরেই দেয়া হয়েছে পাঠ পরিচালনায় কী কী উপকরণ দরকার হবে তার তালিকা।
শিখন-শেখানো কার্যাবলিঃ
শিখন-শেখানো কার্যাবলির শুরুতেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের পাঠে মনোযোগী বা প্রস্তুত করার জন্য শিখনবান্ধব পরিবেশ তৈরির কথা। পাঠের এই অংশটিতে প্রেষণা সঞ্চার কিংবা ওরিয়েন্টেশনও ( ধারণা পরিবর্তন মডেল অনুসারে) বলা যেতে পারে। শিখন-শেখানো কার্যাবলির পরেই রয়েছে শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বিষয়টি শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে যাতে অনুসন্ধানের মাধ্যমে শিখতে পারে সে জন্য পাঠ্যপুস্তকে প্রতিটি পাঠ অনুসন্ধানভিত্তিক এপ্রোচে সংগঠিত করে উপস্থাপন করা আছে। একটি পাঠের অনুসন্ধানমূলক কাজ মূলত শিক্ষার্থীরাই করবে। তবে শিক্ষক পরিষ্কার নির্দেশনা দেবেন শিক্ষার্থীরা কী পরবে (পর্যবেক্ষণ, তথ্য সংগ্রহ, চিন্তা করে ছক পূরণ ইত্যাদি) এবং কীভাবে তা করবে (একক, দলগত ভাবে)। শিক্ষার্থীদের কাজ চলাকালীন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের অর্জিত প্রক্রিয়াকরণ দক্ষতা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মূল্যবোধের মূল্যায়ন করবেন। শিক্ষার্থীদের কাজ শেষে শিক্ষক আজকের পাঠের মূল প্রশ্নটি পুনরাবৃত্তি করে শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে পারেন তার এর উত্তর খুঁজে পেয়েছে কিনা। শিক্ষার্থীদের কাজ (কাজের ফল নিয়ে আলোচনাও থাকতে পারে) সমাপ্ত হলে শিক্ষক আজকের পাঠের মূল ধারণাসমূহ নিজে ব্যাখ্যা করতে পারেন কিংবা পাঠ্যপুস্তক থেকে শিক্ষার্থীদের পড়তে বলবেন।
মূল্যায়ন ও পুনরালোচনাঃ
আজকের পাঠের শিখনফল অর্জিত
হলো কতটুকু তা জানতে শিক্ষক কিছু প্রশ্ন করবেন এবং এই প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে পুরো
পাঠের পুনরালোচনা সম্পন্ন হবে। এ পর্যায়ে এসে একটি পাঠের পরিকল্পনা শেষ হয়েছে শিক্ষক
সংস্করণে।
৪) একটি নমুনা পাঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে পানি দূষণের কারণ ও প্রভাব বর্ণনা করুন।
|
শ্রেণিঃ ৩য় বিষয়ঃ প্রাথমিক বিজ্ঞান পাঠের শিরোনামঃ পানি দূষণ শিখনফলঃ ৩.২.১ পানীয় জল ও পানের অযোগ্য জল চিহ্নিত করতে পারবে। ৩.৩.১ মানুষের জন্য পানির গুরুত্ব বর্ণনা করতে পারবে। উপকরণঃ পানি দূষণের চার্ট,পুকুর বা ডোবা, বোর্ড বই |
||||||||
শিখন শেখানো কার্যাবলি |
||||||||
প্রস্তুতি |
ক) কুশল বিনিময়ঃ শিক্ষার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করব এবং শিখন সহায়ক নিয়াপদ পরিবেশ সৃষ্টি করব। খ) পূর্বজ্ঞান যাচাই ও পাঠ ঘোষণাঃ নিম্নের প্রশ্নের মাধ্যমে পূর্বজ্ঞান যাচাই করব। ১) আমরা স্বাদু পানি কোথা থেকে পাই? ২) কোন ধরনের পানি মানুষের জন্য নিরাপদ বা অনিরাপদ? শিক্ষার্থীরা প্রশ্নের উত্তর দেবে। শিক্ষার্থীদের উত্তরের সূত্র ধরে বোর্ডে পাঠ শিরোনাম লিখব “পানি দূষণ” এবং শিক্ষার্থীদের পাঠ শিরোনাম খাতায় লিখবে। |
০৭ মিনিট |
||||||
উপস্থাপন |
১) অনুসন্ধানে আমন্ত্রণঃ বোর্ডে পাঠের মূল প্রশ্ন লিখব-“ পানি কীভাবে দূষিত হয়? দূষিত পানির প্রভাবে কী হতে পারে? · শিক্ষার্থীরা মূল প্রশ্নের আলোকে উত্তর দেবে। ২) অনুসন্ধানঃ · বোর্ডে পাঠ্যপুস্তকের পৃষ্ঠা ২৮ এর ছকটি আঁকব এবং শিক্ষার্থীদের তা আঁকতে বলবো।
· শিক্ষার্থীদের ৪/৫ টি দলে ভাগ করে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বিদ্যালয়ের আশেপাশে ডোবা বা দূষিত পানির উৎসের কাছে নিয়ে যাব এবং দূষিত পানি পর্যবেক্ষণ করে তা ছকে লিখতে বলবো। · শিক্ষার্থীদের কার্য সম্পাদনে সহায়তা করবো। · পর্যবেক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিদ্যালয়ে ফিরে আসবো। · শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে পানি দূষণের একটি চার্ট দেখাব। এবং · দলের মতামতের ভিত্তিতে বোর্ডের ছকটি পূরণ করব। · বোর্ডে আরও একটি ছক আঁকবো এবং শিক্ষার্থীদের তা খাতাতে আঁকতে বলবো।
৩) সারসংক্ষেপঃ শিক্ষার্থীদের পুনরায় জিজ্ঞাসা করবো “পানি কী কী কারণে দূষিত হয় এবং দূষিত পানি পান করলে বা ব্যবহার করলে আমাদের কী ধরনের রোগ হতে পারে?’’ দলের আলোচনার সাপেক্ষে বোর্ডে আঁকা ছকটি পূরণ করবো এবং পানি দূষণের কারণ ও এর প্রভাব সম্পর্কে সারসংক্ষেপ করবো। ৪) পাঠ্যপুস্তকের সাথে সংযোগ স্থাপনঃ তৃতীয় শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বইয়ের পৃষ্ঠা ২৮ নীরবে পড়তে বলবো। |
মিনিট |
||||||
মূল্যায়ন |
নিম্নের প্রশ্নের মাধ্যমে মূল্যায়ন করব:ক) পানি দূষণের তিনটি কারণ উল্লেখ কর। খ) মানুষ দূষিত পানি পান করলে কী রোগ হতে পারে? |
১০ মিনিট |
||||||
|
পাঠ সমাপ্তি ও শ্রেণিকক্ষ ত্যাগঃ বোর্ড পরিষ্কার করে শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে শ্রেণিকক্ষ ত্যাগ করবো। |
||||||||
